Dr.ATM. Azharul Haque

Dr.ATM. Azharul Haque Child Specialist Doctor

আমরা অনেকেই মনে করি, বাচ্চাকে বেশি শাসন না করলে সে “বিগড়ে যাবে”। তাই ছোট ভুলেও রাগ, বকা, চিৎকার—এটাই যেন আমাদের স্বাভাব...
16/01/2026

আমরা অনেকেই মনে করি, বাচ্চাকে বেশি শাসন না করলে সে “বিগড়ে যাবে”। তাই ছোট ভুলেও রাগ, বকা, চিৎকার—এটাই যেন আমাদের স্বাভাবিক অভ্যাস।
কিন্তু আপনি কি জানেন, এই বারবার বকা খাওয়ানো শিশুর মস্তিষ্কের গঠনে স্থায়ী পরিবর্তন ঘটাতে পারে?

এটা শুধু মানসিক কষ্ট নয়—এটা সরাসরি শিশুর ব্রেইন ডেভেলপমেন্টে আঘাত করে।
---

🧠 ১. শিশুর মস্তিষ্কে ‘ভয়’ এর হরমোন বেড়ে যায়

বারবার বকা, চিৎকার ও অপমানের ফলে শিশুর শরীরে বেড়ে যায় কর্টিসল (Stress Hormone)। এই হরমোন দীর্ঘদিন বেশি থাকলে—

শিশুর স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যায়

শেখার আগ্রহ কমে যায়

সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে

অর্থাৎ, শিশুটি ধীরে ধীরে মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে।
---

💔 ২. শিশুর আত্মবিশ্বাস ধ্বংস হয়ে যায়

যে শিশুকে প্রতিদিন বলা হয়—

“তুই কিছু পারবি না”

“তুই ভালো না”

“তোর দ্বারা কিছু হবে না”

সে ধীরে ধীরে এগুলোই নিজের পরিচয় হিসেবে বিশ্বাস করতে শুরু করে।
ফলাফল—

শিশু নিজেকে তুচ্ছ মনে করে

নতুন কিছু চেষ্টা করতে ভয় পায়

বড় হয়েও সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পায়

এই ভয় তাকে সারাজীবন পিছু তাড়া করে।
---

😞 ৩. উদ্বেগ ও বিষণ্ণতায় (Anxiety & Depression) ভোগে

গবেষণায় দেখা গেছে—
যেসব শিশু নিয়মিত বকা ও মানসিক চাপের মধ্যে বড় হয়, তাদের ভেতরে—

ডিপ্রেশন

অতিরিক্ত ভয়

ঘুমের সমস্যা

অকারণ রাগ
এই সমস্যাগুলো অনেক বেশি দেখা যায়।

অনেক সময় তারা নিজের কষ্ট কাউকে বলতেও পারে না—ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়ে।
---

🗣️ ৪. শিশু সত্য বলা বন্ধ করে দেয়

বারবার বকা খাওয়া শিশুরা ধীরে ধীরে শেখে— “সত্য বললে শাস্তি, মিথ্যা বললে বাঁচা।”

ফলে তারা—

মিথ্যা বলা শিখে যায়

বাবা–মার সাথে দূরত্ব তৈরি করে

নিজের অনুভূতি গোপন রাখতে শেখে

একসময় বাবা–মা আর সন্তানের মধ্যে বিশ্বাসটাই হারিয়ে যায়।
---

🌱 ৫. শিশু ভয়ে নয়, ভালোবাসায় বদলায়

শিশুর সবচেয়ে বড় চাহিদা হলো— ✅ নিরাপত্তা
✅ ভালোবাসা
✅ বোঝাপড়া

যে শিশু ভালোবাসা ও উৎসাহ পায়, সে ভুল করলেও শেখে, সামনে এগোতে পারে।
কিন্তু যে শিশু শুধু ভয় পায়, সে শুধু ভুল লুকাতে শেখে—ভালো মানুষ হতে শেখে না।
---

✅ তাহলে একজন সচেতন অভিভাবক হিসেবে আমরা কী করবো?

চিৎকার নয়, শান্তভাবে বোঝাবো

ভুলে শাস্তি নয়, শিক্ষা দেবো

তুলনা নয়, উৎসাহ দেবো

অপমান নয়, আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলবো

একটা কথা মনে রাখবেন—
“আজকের শিশুই আগামীর বাংলাদেশ।”

আপনার একটি কথাই আপনার সন্তানের পুরো জীবন বদলে দিতে পারে—ভালো দিকেও, খারাপ দিকেও।
---

❤️ শেষ কথা

একটি শিশুর কাছে বাবা–মাই তার পুরো পৃথিবী।
আপনার মুখের একটি কঠিন কথা তার মনে গভীর ক্ষত তৈরি করতে পারে, আবার একটি মমতার কথা তার ভেতরে পাহাড়সম আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে পারে।

আজ যে শিশুটি বারবার বকা খাচ্ছে, অপমান সহ্য করছে—
সে শুধু আজ কাঁদছে না, সে কাঁদছে তার ভবিষ্যৎ নিয়েও।

আমরা যেন এমন বাবা–মা না হই,
যাদের কারণে সন্তানের মনে এই প্রশ্ন জন্মায়—
“আমাকে বকা ছাড়া ভালোবাসা কি কেউ করবে না?”

আসুন, ভয় দিয়ে নয় — ভালোবাসা দিয়ে মানুষ গড়ি।
চিৎকার দিয়ে নয় — সময় দিয়ে সন্তান গড়ি।
শাস্তি দিয়ে নয় — বিশ্বাস দিয়ে ভবিষ্যৎ গড়ি।

কারণ, একটি সুন্দর আগামী শুরু হয়—
একটি নিরাপদ শৈশব থেকে। 🌸
©




16/12/2025
সবাইকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।
15/12/2025

সবাইকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।

কলিস ফ্রাকচার।  সুন্দরবনের গেট টুগেদার অসমাপ্ত রেখে আজ ১৪/১২/২০২৫ তারিখ সকালে ঢাকায় ফিরলাম।  কপালে যা আছে,  তা খন্ডানোর ...
14/12/2025

কলিস ফ্রাকচার। সুন্দরবনের গেট টুগেদার অসমাপ্ত রেখে আজ ১৪/১২/২০২৫ তারিখ সকালে ঢাকায় ফিরলাম। কপালে যা আছে, তা খন্ডানোর ক্ষমতা কারও নাই।

সুন্দরবনে গণজোয়ার আজ ১৩/১২/২০২৫ তারিখ সকালে।
13/12/2025

সুন্দরবনে গণজোয়ার আজ ১৩/১২/২০২৫ তারিখ সকালে।

এমভি আকুঞ্জি -১ জাহাজে চেপে সুন্দরবন ভ্রমন ১১/১২/২০২৫ -১৪/১২/২০২৫।
12/12/2025

এমভি আকুঞ্জি -১ জাহাজে চেপে সুন্দরবন ভ্রমন ১১/১২/২০২৫ -১৪/১২/২০২৫।

সুন্দরবনে আন্দারমানিকে ঘোরাঘুরি আজ ১২/১২/২০২৫ তারিখ।
12/12/2025

সুন্দরবনে আন্দারমানিকে ঘোরাঘুরি আজ ১২/১২/২০২৫ তারিখ।

টিনএজ সন্তানের সাথে সুন্দর সম্পর্ক গড়ার উপায়💁‍♀️টিনএজ মানেই শুধু জেদ, রাগ, দরজা বন্ধ করে থাকা আর “আমাকে কেউ বোঝে না”, এই...
07/12/2025

টিনএজ সন্তানের সাথে সুন্দর সম্পর্ক গড়ার উপায়💁‍♀️

টিনএজ মানেই শুধু জেদ, রাগ, দরজা বন্ধ করে থাকা আর “আমাকে কেউ বোঝে না”, এই ভাবনা নয়। বাস্তবে টিনএজ হলো একটি সন্তানের জীবনের সবচেয়ে সংবেদনশীল ও নিউরোলজিকালি পরিবর্তনশীল সময়। এই সময় বাবা-মার আচরণ যদি ভুল হয়, তাহলে সম্পর্ক ভেঙে যেতে পারে। আর ঠিকভাবে বুঝলে, এই সময়টাই সম্পর্ক সবচেয়ে গভীর হয়।

আজ আমরা জানবো, টিনএজ ব্রেইনে আসলে কী ঘটে, কেন তারা হঠাৎ বদলে যায়, এবং নিউরোসায়েন্স অনুযায়ী বাবা-মা কী করলে সম্পর্ক সুন্দর থাকে

টিনএজ ব্রেইনে কী পরিবর্তন হয়?🤷‍♀️

টিনএজ বয়সে শিশুর ব্রেইনের ৩টি অংশ সবচেয়ে বেশি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়, চলুন জেনে নেই

Amygdala (আবেগের কেন্দ্র)
এটি ভয়, রাগ, উত্তেজনা, অপমান—সব ইমোশন নিয়ন্ত্রণ করে।টিনএজে এই অংশটি অতিসংবেদনশীল হয়ে যায়।তাই অল্প কথায় তারা খুব রেগে যায়, অপমান বোধ করে, কেঁদে ফেলে। আবেগ থাকে একদম সর্বোচ্চ।

Prefrontal Cortex (বুদ্ধি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার কেন্দ্র)
এই অংশটি ২০–২৫ বছর বয়স পর্যন্ত পুরোপুরি বিকশিত হয় না। তাই তারা ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়, ভুল বুঝে, ভবিষ্যৎ ভাবতে পারে না।

Dopamine System (রিওয়ার্ড ও আনন্দ কেন্দ্র)
এই বয়সে ডোপামিন কম সেনসিটিভ থাকে। তাই তারা নতুন রিস্ক, উত্তেজনা, মোবাইল, গেম, রিলস, প্রেম, এসবের দিকে বেশি ঝোঁকে।

“সে ইচ্ছা করে খারাপ করছে” ব্যাপার টা ঠিক না। আসলে তার ব্রেইন এখনো পুরোপুরি পরিণত হয়নি।

কেন টিনএজ সন্তান বাবা-মা থেকে দূরে যেতে চায়?
কারন তারা স্বাধীনতা চায়, নিজের আইডেন্টিটি খুঁজে, বারবার তুলনা সহ্য করতে পারে না, কানেকশন চায়, অথচ জাজমেন্ট পায়, বোঝা চায়, অথচ বকুনি পায়। এই কারণেই তারা নীরব হয়ে যায়, রেগে যায় বা রিবেল করে।

নিউরোসায়েন্স অনুযায়ী টিনএজ সন্তানের সাথে সম্পর্ক সুন্দর রাখার ৭টি চাবিকাঠি জানি চলুন।

১। আগে কানেকশন, পরে কারেকশন
ব্রেইন তখনই শেখে যখন সে নিজেকে “সেইফ” মনে করে।আগে তার কথা শুনুন, পরে উপদেশ দিন।

২। রাগের সময় কথা বলবেন না
রাগের সময় Amygdala সক্রিয় থাকে, Prefrontal Cortex বন্ধ থাকে। তখন উপদেশ ঢোকে না, শুধু আঘাত লাগে। এই সময় কথা বাড়ালে, সন্তান আর আপনি দুজনি ভুল করতে পারেন।

৩। তুলনা বন্ধ করুন
তুলনা ব্রেইনে “threat signal” তৈরি করে। আত্মসম্মান ভেঙ্গে দেয়। একটা সময় " এর তার পা ধোঁয়া পানির গল্প শুনতে শুনতে" বিরক্ত হয়। নিজের আত্মবিশ্বাস একদম ভেঙে যায়।

৪। ছোট সিদ্ধান্তের স্বাধীনতা দিন
নিজের জামা, বন্ধু, শখ,এগুলোতে স্বাধীনতা দিলে “control center” শক্তিশালী হয়। এতে সে ভাবে আমার সিদ্ধান্তের গুরুত্ব আছে।

৫। চোখে চোখ রেখে কথা বলুন
এতে Oxytocin (bonding hormone) তৈরি হয়
সম্পর্ক গভীর হয়। ওরা নিরাপদ বোধ করে।

৬। “তুমি খারাপ” না বলে। “এই কাজটি ঠিক হয়নি” বলুন। তার ব্যক্তিত্ব নয়, আচরণ সংশোধন করুন।

৭। প্রতিদিন ২০ মিনিট ডিভাইসবিহীন সময় দিন
এই ২০ মিনিটই আপনার সন্তানের মানসিক অক্সিজেন।ওই সময় টা খুব উপভোগ করুন। ওর গল্প শুনুন, নিজে বলুন। এতে দারুন এক অভ্যাস তৈরি হয়। আপনার কাছে কিছু আর লুকাবেনা।

বাবা-মার কিছু আচরণ যা টিনএজ ব্রেইনকে স্থায়ীভাবে আঘাত করে, এগুলো এড়িয়ে চলুন: অপমান করে কথা বলা, সবার সামনে শাসন করা, আবেগকে হালকা করে দেখা, “আমরা যা বলি তাই করো” এই ভবা সবসময় বজায় রাখা,ভয় দেখিয়ে বড় করা। এগুলো শিশুর ব্রেইনে Anxiety, Depression ও Low self-esteem তৈরি করতে পারে।

সত্যিটা হলো, টিনএজ সন্তানদের সবচেয়ে বেশি দরকার: বোঝাপড়া, সম্মান, ইমোশনাল সেইফটি, নিঃশর্ত গ্রহণযোগ্যতা।এই বয়সে আপনি যদি তার “safe zone” হতে পারেন,তাহলে ভবিষ্যতে সে পৃথিবীর যেকোনো ঝড় সামলাতে পারবে।

আপনার সন্তান এখন “খারাপ” হচ্ছে না।সে “ভিন্নভাবে গড়ে উঠছে”। আপনি যদি নিউরোলজিকালি তাকে বুঝতে শিখেন,তাহলে সম্পর্ক কখনো নষ্ট হবে না বরং আরও গভীর হবে।❤️

টিনএজ সন্তানদের একটু সামলে নিন। টিনএজ সন্তানদের নিয়ে আমার অনেক পোস্ট ও সিরিজ করা আছে। চাইলে পড়তে পারেন। উপকৃত হবেন।

ছবিতে আমার ননদের ছেলে, আমাদের পরিবারের টিনএজ সন্তান। কোথায় গেলে ঘুরতে ওকে নিয়ে যাই রিফ্রেশ করার জন্য। বন্ধুত্ব সম্পর্কটার যত্ন নিচ্ছি, যাতে ভুল পথে পা না বাড়ায়।

ধন্যবাদ 🙏
কপিড

18/09/2025

একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ভালো সংবাদ।

এখন থেকে প্রতিদিন জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে হার্ট অ্যাটাকের সর্বাধুনিক চিকিৎসা প্রাইমারি পিসিআই সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিনামূল্যে হবে। শুধু তা-ই না, সরকারি টাকায় রিং দেওয়া হচ্ছে।

প্রাইমারি পিসিআই হলো হার্ট অ্যাটাকের (Acute STEMI) ১২ ঘন্টার মধ্যে ক্যাথ ল্যাবে নিয়ে গিয়ে ব্লক হয়ে যাওয়া রক্তনালীর ব্লক খুলে দেওয়ার চিকিৎসা। সাধারণত রিং স্থাপনের মাধ্যমে এটি করা হয়।

শুধু হৃদরোগ চিকিৎসায় নয়, সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে এটি একটি চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন।

অন্য সুপার স্পেশালিটির ব্যাপারে বলতে পারব না, তবে কার্ডিওলজির কথা বলতে পারব। হার্টের প্রায় সকল চিকিৎসা বাংলাদেশে হয়। বেশ মানসম্পন্নই হয়। অন্তত ইন্ডিয়ার সঙ্গে অবশ্যই তুলনীয়।

আমার অনুরোধ থাকবে, জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের এই চমৎকার যুগোপযোগী কাজটি আপনারা সবাই প্রচার করবেন। অনেক মানুষজন শুধু না জানার কারণে এই আধুনিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবে। এবং কেউ কেউ মারা যাবে। যারা অসম্পূর্ণ চিকিৎসা পাবে তারা আজীবন ধুঁকবে নানা জটিলতায়। সবাই যেন জানে তাদের জন্য একটি ভরসার জায়গা রয়েছে। হার্ট অ্যাটাকের ১২ ঘন্টার মধ্যে যেন তারা আসতে পারে। ক্ষেত্রবিশেষে প্রাইমারি পিসিআই ২৪ ঘন্টার মধ্যে করা যায়।

সবচেয়ে বড়ো রিলিফ, টাকা পয়সার কোনো চিন্তা করতে হচ্ছে না। সবকিছুই বিনামূল্যে। প্রাইভেটে এই সার্ভিস নিতে ২-৪ লাখ টাকা খুব হরহামেশাই লাগে।

ডা. মারুফ রায়হান খান
৩৯ তম বিসিএস,
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ।

(আত্মীয় স্বজন ও পরিচিতদের জানাতে পারেন)
কপি পেস্ট।

01/08/2025

🛑 ভয়াবহ ভাইরাস জ্বর ছড়িয়ে পড়ছে — সতর্ক থাকুন, সচেতন হোন!

সম্প্রতি এক ধরনের নতুন ভাইরাস জ্বর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। যদিও এটি ডেংগু বা চিকুনগুনিয়া নয়, তবুও এর উপসর্গ বেশ মারাত্মক এবং অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন—বিশেষ করে ছোট বাচ্চারা বেশি ঝুঁকিতে।

🎗 বাবা-মায়েদের জন্য জরুরি বার্তা: সন্তান অসুস্থ হলে প্রথমেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বেন না। আপনার সাহসই হবে সন্তানের জন্য সবচেয়ে বড় শক্তি। আপনি সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকলে সন্তানের সেবা করাও সহজ হবে।

🧠 অসুস্থ শিশুর যত্নে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার দিন। মনে রাখবেন—খাবারের বিকল্প কোনো ওষুধ নেই।
⛔ যদি খেতে না চায়, জোর করবেন না; অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ানোর চেষ্টা করুন।
🤢 বমি হলে ডাক্তারের পরামর্শে বমির ওষুধ ব্যবহার করুন।

📌 ভাইরাস জ্বরের সাধারণ লক্ষণ:
🔥 হঠাৎ উচ্চ জ্বর (১০৩°–১০৪°F)
😣 সারা শরীরে ব্যথা—মাথা, চোখ, পিঠ ও জয়েন্টে
🥴 মাথা ঘোরা, দুর্বলতা
💔 রক্তচাপ কমে যাওয়া
🛌 জ্বর কমলেও দীর্ঘ সময় শরীর দুর্বল থাকা

✅ যা করবেন – করণীয় ও পরামর্শ:

🍽️ খাবারে রাখুন:
✔ ভিটামিন সি: মাল্টা, কমলা, পেয়ারা, আমলকি
✔ জিঙ্ক ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: কলা, পাকা পেঁপে, ডিমের কুসুম
✔ প্রোটিন: সিদ্ধ ডিম, চিকেন স্যুপ, ডাল, খিচুড়ি, মাছ
💧 প্রচুর পানি পান করুন (দিনে অন্তত ৩ লিটার); স্যালাইন বা লেবুর শরবত খেতে পারেন
⚠️ চিনি এড়িয়ে চলুন

🧊 ব্যথা ও জ্বর কমাতে:
✔ ডাক্তারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্যারাসিটামল
✔ গরম পানির সেঁক বা হালকা ম্যাসাজ
✔ আদা, তুলসি ও মধু দিয়ে হালকা গরম পানীয়

💆 জ্বরের পর শরীরের ব্যথা কমাতে:
✔ গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে শরীর মুছানো
✔ হালকা স্ট্রেচিং বা ধীরগতিতে হাঁটা
✔ ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত খাবার: কলা, ভেজানো বাদাম
✔ নারকেল তেল বা পুদিনার তেল দিয়ে হালকা মালিশ

🚨 চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন যদি:

বারবার জ্বর ফিরে আসে

রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়

খাওয়া বন্ধ হয়ে যায় বা অজ্ঞান ভাব দেখা দেয়

হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক হয়

🧘‍♀️ মনে রাখবেন:
জ্বর চলে গেলেও শরীর দুর্বল থাকে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, সঠিক খাবার এবং প্রচুর পানি পান—এই তিনটাই দ্রুত সুস্থ হওয়ার মূল চাবিকাঠি।

🤝 কাছের মানুষ বা আশপাশে কেউ আক্রান্ত হলে এই পোস্টটি শেয়ার করে সচেতন করুন।

দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য - আমাদের দেশেই লক্ষাধিক প্রাণ রক্ষা করেছে এমন একটি উদ্ভাবনী যন্ত্র তৈরি হয়েছে, অথচ আমরা অনেকেই এ ...
02/07/2025

দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য - আমাদের দেশেই লক্ষাধিক প্রাণ রক্ষা করেছে এমন একটি উদ্ভাবনী যন্ত্র তৈরি হয়েছে, অথচ আমরা অনেকেই এ সম্পর্কে জানি না!
নিজে জানুন এবং অন্যকেও জানান।

বিস্তারিত 👇

একটি পরিবারে নতুন সদস্যের আগমন ঘটেছে, কিন্তু তবুও খুশি হওয়ার উপায় নেই। সদ্য সন্তানপ্রসবা মায়ের জীবন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে সংকটাপন্ন। এমন দৃশ্য একসময় হরহামেশাই দেখা যেতো, কিন্তু বর্তমানে নতুন মায়েদের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে মৃত্যুহার অনেক কমে গিয়েছে। ডাক্তার সায়েবা খাতুনের উদ্ভাবন ‘Condom Catheter Tamponade’ এর বদৌলতে পৃথিবী জুড়ে লক্ষ লক্ষ নতুন মায়েদের জীবন বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে।
২০০০ সালে, ডাক্তার সায়েবা আক্তার ঢাকা মেডিকেল কলেজের গাইনোকলজি এবং অবস্টেট্রিকস ডিপার্টমেন্টের চেয়ার ছিলেন। তিনি খেয়াল করেন, অনেক নারী সন্তান প্রসবের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে মারা যাচ্ছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে বলা হয় ‘Postpartum Hemorrhage’। মারাত্মক পর্যায়ের Postpartum Hemorrhage এ রোগীর দেহ থেকে দুই লিটার পর্যন্ত রক্ত ক্ষরিত হয়। ফলে, রোগী মৃত্যুবরণ করে।
ডাক্তার সায়েবা আক্তার এই সমস্যার একটি সহজ এবং সাশ্রয়ী সমাধান খুঁজে বের করেন। বর্তমানে এই পদ্ধতি সারাবিশ্বে ‘Condom Catheter Tamponade’ কিংবা ‘Sayeba’s Method’ নামে পরিচিত। দেহের যে অংশে রক্তক্ষরণ হয়, সেখানে চাপ প্রয়োগ করলে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়ে যায়। এই পদ্ধতিটিও এই মূলনীতি মেনেই কাজ করে। এই পদ্ধতিতে জরায়ুতে চাপ প্রয়োগ করার ফলে, রক্তক্ষরণ কিছু সময়ের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়। Condom Catheter Tamponade পদ্ধতির জন্য প্রয়োজন হয় একটি ক্যাথেটার, একটি কনডম, কিছুটা মেডিকাল স্ট্রিং, স্যালাইন সেট এবং স্যালাইন ফ্লুইড। কনডমটিকে ক্যাথেটারের একপ্রান্তে যুক্ত করে আরেকপ্রান্তে স্যালাইন সলিউশন স্যালাইন সেটের মাধ্যমে সংযুক্ত করা হয়। এরপর কনডমটি জরায়ুতে প্রবেশ করানো হয়, এটি স্যালাইন সলিউশনে পূর্ণ থাকায় জরায়ুতে চাপ বজায় রাখে, ফলে ১০ মিনিটের মধ্যেই রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়ে যায়।
বাংলাদেশে ৩১% মাতৃত্বকালীন মৃত্যু রক্তক্ষরণের কারণে হলেও, এই আবিষ্কারের পর তা কমে এসেছে ব্যাপকহারে। ডাক্তার সায়েবার এই উদ্ভাবন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশ হওয়ার পর বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং কানাডার মতো দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। ডাক্তার সায়েবা আক্তার এই উদ্ভাবনের জন্য ইংল্যান্ডের রয়্যাল কলেজ থেকে পুরষ্কৃত হয়েছেন।
ডাক্তার সায়েবা আক্তারের এই উদ্ভাবনের কারণে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মায়ের প্রাণ রক্ষা পাচ্ছে অকালমৃত্যু থেকে, চিকিৎসা বিজ্ঞানের মাইলফলক হয়েই থাকবে তার এই আবিষ্কার।

Tawfique Hasan
Team Science Bee

29/06/2025

Address

Mirpur/1
Dhaka
DHAKA-1216

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr.ATM. Azharul Haque posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram

Category