18/02/2026
রোজার মাস সবার জন্য শুধু ধর্মীয় অনুশীলন নয় এটা জীবনযাপনের একটি বিশেষ সময়ও।হঠাৎ করে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, ঘুমের সময় পরিবর্তন, খাবারের রুটিন বদলে যাওয়া এসব কারণে শরীরের ওপর একধরনের চাপ পড়ে। তাই রোজা শুরু হওয়ার আগে যদি আমরা একটু সচেতনভাবে শরীর-মনকে প্রস্তুত করি, তাহলে পুরো মাসটাই অনেক বেশি স্বস্তিতে কাটানো সম্ভব। অনেকেই রোজার প্রথম কয়েকদিন মাথা ব্যথা, দুর্বলতা, অ্যাসিডিটি বা অতিরিক্ত ক্লান্তিতে ভোগেন এসবের বেশিরভাগই আসলে অপ্রস্তুত শরীরের প্রতিক্রিয়া। তাই রোজা শুরুর আগে ৭ দিনের একটি ছোট হেলথ প্রিপারেশন প্ল্যান মেনে চললে শরীর ধীরে ধীরে নতুন রুটিনে মানিয়ে নিতে পারে।
1️⃣ রাত জাগা কমানোর চেষ্টা করুন। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও জাগার অভ্যাস করুন। অন্তত ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন। কারণ হঠাৎ ঘুমের সময় বদলালে মাথা ব্যথা ও ক্লান্তি বাড়তে পারে।
2️⃣ হঠাৎ করে চা/কফি বন্ধ করলে মাথা ব্যথা হতে পারে, তাই ধীরে ধীরে এগুলো কমানোর চেষ্টা করুন। অতিরিক্ত মিষ্টি, সফট ড্রিংক, প্যাকেটজাত জুস খাওয়া ছেড়ে দিন। এতে রোজার প্রথম দিকের মাথা ঝিমঝিম বা বিরক্তিভাব কম হবে।
3️⃣ সারাদিনে ৮-১০ গ্লাস পানি খাওয়ার লক্ষ্য ঠিক করুন। একসাথে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার পানি পান করুন।
4️⃣ প্রতিদিন ২০-৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা স্ট্রেচিং করুন। অতিরিক্ত ভারী ব্যায়াম করার প্রয়োজন নেই। ব্যায়াম শরীরের মেটাবলিজম ঠিক রাখতে সাহায্য করে
5️⃣ রাতের খাবার একটু আগে খাওয়ার চেষ্টা করুন। সকালের নাশতা একটু দেরিতে করুন। এতে শরীর ধীরে ধীরে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার সাথে মানিয়ে নিতে পারবে।
6️⃣ যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েড বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ আছে তারা ডাক্তারের পরামর্শ নিন। নিয়মিত ওষুধ খেলে ডোজের সময় নিয়ে আগেই আলোচনা করুন। প্রয়োজন হলে ব্লাড সুগার/প্রেশার চেক করুন
7️⃣ বেশি ভাজাপোড়া, ফাস্ট ফুড খাওয়া কমান।আঁশযুক্ত খাবার (শাকসবজি, ফল, ডাল) বাড়ান। খাদ্য তালিকায় প্রোটিন (ডিম, মাছ, মুরগি, ডাল) যুক্ত করুন। এতে রোজার সময় কোষ্ঠকাঠিন্য ও গ্যাস্ট্রিকের ঝুঁকি কমবে।