30/07/2025
রুম্পা বলল, “আগে ৫৬ কেজি ছিলাম। এখন দেখি ৬৬! খাওয়াও কমে গেছে, তাও ওজন বাড়ছে কেন?”
আমি জিজ্ঞেস করলাম, “পিরিয়ড কেমন হয়?”
বলল, “একেকবার একেক রকম। কখনো ৩ দিনেই শেষ, আবার কখনো ৭ দিন চলেই যায়। ঘুম ঠিকঠাক হয় না। একটুতেই মুড খারাপ হয়।”
এই কথাগুলা আমি প্রায়ই শুনি।
অবাক করার মতো বিষয় হলো—অনেকেই জানেন না, মেয়েদের ওজন বাড়ার সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হলো পিরিয়ড সাইকেলের অসামঞ্জস্যতা।
হ্যাঁ, আপনি ঠিকই শুনেছেন।
খালি চিনি খাওয়ার কারণে না, খালি ভাত খাওয়ার কারণে না — অনেক সময় পিরিয়ড অনিয়মিত হওয়াই আপনার শরীরে জমা চর্বির মূল হোতা।
আপনার শরীর প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট হরমোনাল রিদমে চলে —
● ফলিকুলার ফেইজে এস্ট্রোজেন বাড়ে
● ওভুলেশনের সময় হরমোন পিক হয়
● তারপর লুটিয়াল ফেইজে প্রোজেস্টেরন বাড়ে
এই চক্রে যদি কোথাও গন্ডগোল হয়, মানে আপনার হরমোনগুলো ঠিকমতো উঠানামা না করে, তখনই শুরু হয় সমস্যার আসল গল্প।
যেটা ভাবছেন সহজ, আসলে গল্পটা অনেক জটিল।
প্রথমত, যখন প্রোজেস্টেরন ঠিকমতো তৈরি হয় না, তখন কর্টিসল (স্ট্রেস হরমোন) বেড়ে যায়।
এটা ঘুম নষ্ট করে, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়ায়, আর আপনাকে সারাদিন “খেতে ইচ্ছা করছে” টাইপ ফিলিংয়ে ফেলে।
ফলে শরীর চিনি চায়, আপনি বেশি খেয়ে ফেলেন। ওজন বাড়ে।
দ্বিতীয়ত, মাসিক অনিয়মিত মানে ওভুলেশন অনিয়মিত।
ওভুলেশন না হলে শরীরে প্রাকৃতিকভাবে মেটাবলিজম স্পাইক হয় না।
মানে, যেই হরমোন আপনাকে ‘ফ্যাট বার্নিং মোডে’ রাখে, সেটাই কাজ করছে না!
তৃতীয়ত, অনেক মেয়ে পিরিয়ড অনিয়মিত হলে কম খাওয়া শুরু করে, ভয়ে ডায়েট করে।
কিন্তু জানেন কি, অতিরিক্ত ক্যালোরি ডেফিসিট আবার হরমোন আরও খারাপ করে দেয়।
শরীর ভাবে আপনি দুর্ভিক্ষে পড়েছেন। তাই সে আর ওভুলেশন করে না।
একটা দুষ্টচক্রে আপনি আটকে যান — যত কম খান, তত হরমোন খারাপ হয়, তত বেশি ফ্যাট জমে।
এই কারণেই বলি:
“শরীর একদিনে ভাঙে না, ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যায়।”
আর সেই ক্ষয়ের শুরু হয় মাসিক চক্রের দিকে নজর না দেওয়ার মধ্য দিয়ে।
কি উপায় এখন?
১. প্রতি মাসে আপনার পিরিয়ডের সময়, রঙ, পরিমাণ, এবং ব্যথা কেমন হচ্ছে সেটা লিখে রাখুন।
২. আপনার ওজন যদি বাড়ে, অথচ খাবার আগের মতোই থাকে, প্রথমেই CBC, TSH, LH, FSH, এবং প্রোজেস্টেরন লেভেল পরীক্ষা করান।
৩. রাত জাগা কমান। PCOS, হাইপ্রোল্যাকটিনেমিয়া, বা হাইপোথাইরয়েডিজমে রাত জাগা বিষের মতো।
৪. শুধুমাত্র “খাবার কমিয়ে” ওজন কমানোর চিন্তা বাদ দিন।
৫. শারীরিক এক্সারসাইজ, ঘুম, হাই প্রোটিন ডায়েট, আর ফাইবার-ভিত্তিক খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন।
সবচেয়ে বড় কথা, বুঝতে শিখুন আপনার শরীর কী বলছে।
ওজন বেড়েছে মানেই “কম খাই, বেশি হাঁটি” — এই গৎবাঁধা সমাধান হয়তো আপনার জন্য কাজ করবে না।
সমস্যা শুধু হরমোনে না, হরমোনের পিছনে থাকা লাইফস্টাইল মূল কারণ।
আপনি যদি নিজের শরীরকে বুঝতে না শেখেন, তাহলে ওজন, হরমোন, এবং পিরিয়ড সবই ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
চেষ্টা করুন, বদলে ফেলুন নিজেকে।
লেখা: পুষ্টিবিদ মঈন
#পিরিয়ডসমস্যা #হরমোনডায়েট #বাংলাদেশ #পুষ্টিবিদমঈন #পুষ্টিবিদ_মঈন