26/12/2025
❄️ শীতে গোসল: শিশুর জন্য নিরাপদ নাকি ক্ষতিকর? 🛁👶
“শীতে বাচ্চাকে গোসল করালে ঠান্ডা লেগে যাবে”—এই ভয়টাই সবচেয়ে বেশি কাজ করে মায়েদের মনে। তাই অনেক পরিবারে শীতকাল এলেই বাচ্চার গোসল কমিয়ে দেওয়া হয় বা ২–৩ দিন পর পর করানো হয়।
কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে—
👉 গোসল করানো নয়, ভুল নিয়মেই বাচ্চা বেশি অসুস্থ হয়।
❌ প্রচলিত ভুল ধারণা
শীতে গোসল করালে সর্দি-জ্বর, নিউমোনিয়া হয়।
✅ চিকিৎসাবিজ্ঞানের সত্য
সর্দি-কাশি বা জ্বর হয় ভাইরাস সংক্রমণ থেকে, গোসল থেকে নয়। বরং শরীরে জমে থাকা ঘাম, ধুলোবালি ও জীবাণু নিয়মিত পরিষ্কার না হলে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়ে।
🌿 কেন শীতেও শিশুর নিয়মিত গোসল জরুরি?
🔹 জীবাণু ও ভাইরাস দূর করে
শিশুরা সারাদিন খেলাধুলা করে, ঘামে, ময়লা লাগে। গোসল না করালে এসব জীবাণু ত্বকে জমে থাকে, যা ঠান্ডা-কাশি ও ত্বকের সমস্যার কারণ হতে পারে।
🔹নাক বন্ধ ও শ্বাসকষ্ট কমায়
শীতে অনেক শিশুর নাক বন্ধ থাকে (Stuffy Nose)।
🛁 কুসুম গরম পানিতে গোসল করলে যে বাষ্প তৈরি হয়, তা প্রাকৃতিকভাবে নাক পরিষ্কার করে এবং শ্বাস নিতে আরাম দেয়।
🔹 ত্বক শুষ্ক হওয়া থেকে রক্ষা করে
শীতে গোসল বন্ধ রাখলে ত্বক বেশি রুক্ষ ও শুষ্ক হয়। এতে—
❌ চুলকানি
❌ র্যাশ
❌ একজিমার ঝুঁকি বাড়ে
গোসলের পর ভালো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে শিশুর ত্বক থাকে নরম ও সুরক্ষিত।
🔹 শিশুর ঘুম ভালো হয়
কুসুম গরম পানিতে গোসল শিশুর শরীরকে রিল্যাক্স করে।
👉 ফলে রাতে শিশুর ঘুম গভীর ও শান্ত হয়, কান্না কমে।
✅ শীতে শিশুকে গোসল করানোর সঠিক নিয়ম
✔ সময়: দুপুর ১২টা – ১টার মধ্যে (রোদ থাকা অবস্থায়)
✔ পানির তাপমাত্রা: কুসুম গরম (হাত ডুবিয়ে আরাম লাগবে এমন)
✔ সময়কাল: ৫–১০ মিনিটের বেশি নয়
✔ পরিবেশ: ঠান্ডা বাতাস যেন না লাগে, দরজা-জানালা বন্ধ রাখুন
✔ গোসল শেষে: দ্রুত তোয়ালে দিয়ে শুকিয়ে নিন
✔ ময়েশ্চারাইজার: গোসলের ৩ মিনিটের মধ্যেই লাগান
⚠️ কখন গোসল না করানোই ভালো?
যদি শিশুর—
❌ জ্বর বেশি থাকে
❌ নিউমোনিয়া বা গুরুতর শ্বাসকষ্ট থাকে
❌ ডাক্তার গোসল নিষেধ করেন
তাহলে সেই দিন গোসল না করিয়ে স্পঞ্জ বাথ করাতে পারেন।
#শিশুযত্ন
#শীতেরযত্ন