14/07/2025
আজকের টিপস – অনিয়মিত মাসিক ও সাদাস্রাবের আদর্শ চিকিৎসা!অনিয়মিত মাসিকঃ
প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্কা নারীদের প্রতি মাসে একটা পিরিয়ড হয়, যাকে আমরা মাসিক, পিরিয়ড, ঋতু, মিনস, বিভিন্ন নামে বলে থাকি। এই মাসিক সব মহিলারই একটা নির্দিষ্ট সময় থেকে আরেকটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত প্রতি মাসে নিয়মিত হতে হবে। এই নিয়ে আজকের টিপস – অনিয়মিত মাসিক ও সাদাস্রাবের আদর্শ চিকিৎসা!অনিয়মিত মাসিকঃ
মাসিক হওয়ার নির্দিস্ট সময়কাল ৩ থেকে ৭ দিন অবদি। এখন কারো যদি ১-২ দিন অথবা ৮-১০-১৫ দিন চলতে থাকে, এই কম হওয়া বা বেশীদিন হওয়াকেই অনিয়মিত মাসিক বলে।
আবার, মাসিকের স্রাব হওয়ারও একটা পরিমান আছে। কারো কারো কয়েক ফোটা দেখা যায়, বা প্রথম দিন কিছুটা পরিমান মত দেখা গেলেও, পরদিন থেকে সামান্য কয়েক ফোটা দেখা দেয়, একদিন বা আধাদিন বিরতি দিয়ে আবার দেখা যায়। অথবা এত পরিমানে রক্তস্রাব হয় যে, মনে ভয় দেখা দেয়। এবং মনে হয় এত পরিমানে রক্তস্রাব হওয়া হয়ত উচিত নয়।
হ্যাঁ! ঠিকই বলেছেন। বেশী পরিমান রক্তস্রাব হলে, রক্ত স্বল্পতাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।
আবার কম পরিমানে স্রাব হলেও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। তাই মাসিকজনিত সমস্যার কারনে সৃস্ট রোগ হতে বাঁচার জন্য, আপনাকে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের শরনাপন্ন হতে হবে। না হয় – রক্তস্বল্পতা , ক্যালসিয়ামের ঘাটতি, হাড়ক্ষয়, বন্ধাত্ব, নিদ্রাহীনতা, ক্ষুদামান্দা, সাদাস্রাব, রোগা শারীরিক ঘটন সহ বিভিন্ন সমস্যা আপনার দেহে বাসা বাঁধবে।
সাদাস্রাবঃ
সাদাস্রাব মহিলাদের অন্যতম একটা জটিল রোগ, যা একজন স্বাস্থ্যবান নারীকে কয়েক মাসের মধ্যেই দৈহিক বিপর্যয় ঘটিয়ে দিতে পারে। গাল ভেঙ্গে যায়, মেজাজ খিটখিটে হয়, সারাদিন ঘুম ঘুম ভাব, বিছানায় শুয়ে থাকতে মন চায়, সামান্য কোন অসুখে কাতর হয়ে যায় ইত্যাদি।
একসময় দেখা যায়, কয়েকদিন আগেও যে মহিলা বা মেয়েটি অনেক সুন্দরী ছিল, কয়েক দিন বা মাসের মধ্যে কি অবস্থা হয়েছে! যা আফসোস করার মতো।
এ ক্ষেত্রে রোগী যদি সচেতন না হয়, তাহলে তার অভিবাবক বিষয়টা খেয়াল করতে হবে। কারন, এই সমস্যাটা মুলত টিনএজ মেয়েদের হলে, তারা বুঝতেই পারেনা – কেন এমন হচ্ছে।
অভিবাবক যদি সময়মত লক্ষ্য না রাখেন, তাহলে দিনদিন অবস্থা খারাপের দিকে যেতে পারে।
কি করবেনঃ
যখনই বুঝতে পারবেন, আপনার মাসিক নিয়মিত হচ্ছেনা, বা রক্তস্রাবে কম বা বেশী হচ্ছে, অথবা সাদাস্রাব যাচ্ছে।
সাথে সাথে একজন স্পেশালিস্ট মহিলা ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন।
১-২ মাস ঔষধ চালিয়ে যাবেন, যতক্ষন পর্যন্ত সুস্থ্য না হয়েছেন।
একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রাখা স্বাভাবিকভাবে আপনার মাসিক চক্র নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করতে পারে। এখানে কিছু টিপস রয়েছে:
নিয়মিত যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন করতে পারেন।
নিয়মিত হালকা শারীরিক ব্যায়াম করতে পারেন।
বেশি বেশি কাঁচা পেঁপে খাওয়ার চেষ্টা করেন।
একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য অভ্যাস বজায় রাখুন। (প্রচুর ফল, শাকসবজি এবং দানা শস্য )
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন।
পর্যাপ্ত ঘুম পান নিশ্চিত করুন।
ধূমপান এবং অত্যধিক অ্যালকোহল সেবন এড়িয়ে চলুন।
অনিয়মিত মাসিকের ঔষধ | মাসিক নিয়মিত করার ট্যাবলেট এর নাম
নরমেনস ট্যাবলেট
হেমোফিক্স এফজেড ট্যাবলেট (আয়রন সাপ্লিমেন্ট)
এলজিন ট্যাবলেট (যদি পেটে ব্যথা থাকে)
রেসোনিক্স ২০ ক্যাপসুল (যদি গ্যাস থাকে)
ঔষধ খাবার নিয়ম
নরমেনস ট্যাবলেট
খাওয়ার নিয়ম: নরমেনস ট্যাবলেট রেনেটা লিমিটেড কোম্পানির একটি ওষুধ। যার গ্রুপ নাম হল নরইথিস্টেরন এসিট্যাট।
এটি অনিয়মিত মাসিক হওয়ার প্রথম দিন থেকে টানা ২১ দিন খেতে হবে। অর্থাৎ যেদিন আপনার প্রথম মাসিক হবে সেদিন থেকে একটানা ২১ দিন সেবন করতে হবে। এরপর আপনাকে ৭ দিন বন্ধ রাখতে হবে খাওয়া। এরপর আপনাকে আবার একটা নাই ২১ দিন খেতে হবে। আবার ৭ দিন বিরতিতে যেতে হবে। তারপর আবার ২১ দিন খেতে হবে। অর্থাৎ সহজ কথায় ২১+৭+২১+৭+২১ এখানে ৭ দিন বিরতি আর ২১ দিন হল খাওয়া। এভাবে তিন মাস সেবন করতে হবে। ওষুধ খাওয়া চলাকালীন মাসিক হোক আর না হোক আপনাকে সেটা কন্টিনিউ করতে হবে। তাহলে একটা সময় পর আপনার পিরিয়ড চক্র নিয়মের মধ্যে চলে আসবে। এর সাথে আপনাকে সহায়ক ওষুধ হিসেবে কিছু ওষুধ খাওয়া লাগতে পারে। অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খেতে হবে।
হেমোফিক্স এফজেড ট্যাবলেট (আয়রন সাপ্লিমেন্ট)
খাওয়ার নিয়ম: প্রতিদিন রাতে খাওয়ার পর ভরা পেটে একটি করে ট্যাবলেট খেতে হবে। এভাবে দুই থেকে তিন মাস খেতে হবে।
এলজিন ট্যাবলেট (যদি পেটে ব্যথা থাকে)
খাওয়ার নিয়ম: মাসিক নিয়মিত করার ট্যাবলেট খাওয়ার সময় যদি পেট ব্যথা থাকে তাহলে এলজিন ট্যাবলেটটা আপনাকে সেবন করতে হবে। প্রতিদিন সকালে, বিকালে এবং রাতে একটি করে ট্যাবলেট খাওয়ার পর ভরা পেটে সেবন করতে হবে। যতদিন পেট ব্যথা থাকবে ততদিন এটি সেবন করবেন।
রেসোনিস্র ২০ ক্যাপসুল (যদি গ্যাস থাকে)
খাওয়ার নিয়ম: যদি আপনার গ্যাস সমস্যা হয় তাহলে এই ক্যাপসুল খেতে পারেন। সকালে এবং রাতে খাওয়ার পূর্বে খেতে হবে। ৩০ মিনিট থেকে ৬০ মিনিট পূর্বে সেবন করতে হবে।
উপদেশঃ
স্যানিটারী নেপকিন ব্যাবহার করতে হবে। যোনী পরিস্কার রাখতে হবে। প্রতিবার প্রশ্রাব ও পায়খানার পর সুতি কাপড় বা টিস্যু দিয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। ঘামলে ঘামগুলো ভালভাবে পরিস্কার কাপড় বা টিস্যু দিয়ে মুছতে হবে।
উপকৃত হলে, সবাইকে শেয়ার করবেন। অনিয়মিত মাসিক ও সাদাস্রাবের আদর্শ চিকিৎসা নিয়ে আজকের লেখা স্বার্থক হবে, যদি উপদেশগুলো মেনে চলেন।
বিশেষ সতর্কীকরণঃ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ঔষধ সেবন করবেন না। অবশ্যই কারণ ও করণীয় সম্পর্কে জেনে নিবেন। তারপর অনিয়মিত মাসিকের ঔষধ খাবেন। নতুবা এই সমস্যার সমাধান হবে না।