24/12/2017
ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ধূমপানের কুফল হিসেবে ফুসফুসের ক্যান্সার, হার্টের রক্তনালী সরু হয়ে হার্ট এ্যাটাকের ঝুঁকি বৃদ্ধি, মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে বাধা, যৌন ক্ষমতা হ্রাসসহ নানা ক্ষতিকর দিক রয়েছে ধূমপানের।
অনেকেই ধূমপান নামক এই ঘাতককে চিরতরে নির্বাসনে দিতে চান কিন্তু নানা কারণে ধূমপান আর ছাড়া হয় না। বিশেষজ্ঞগণ ধূমপানের আসক্তি থেকে নিজেকে রক্ষার ১৩টি উপায় বলে দিয়েছেন। এসব অনুসরণ করলে অবশ্যই ধূমপান ছাড়া সম্ভব।
এই ১৩টি উপায় হচ্ছে-
০ প্রথমে সিদ্ধান্ত নিন কেন ধূমপান ছাড়া আপনার জন্য জরুরী। অর্থ্যাৎ কি কারণে ধূমপান ছাড়তে চান। যেমন ক্যান্সার ও হার্ট এ্যাটাকের ঝুঁকি কামাতে।
০ কোন ধরনের থেরাপি বা মেডিকেশন ছাড়া ধূমপান ছাড়া ঠিক নয়। কারণ সিগারেটের নিকোটিনের ওপর ব্রেইন অনেক ক্ষেত্রে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ছেড়ে দিলেই নানা উপসর্গ শুরু হয়। তাই সিগারেটের বিকল্প থেরাপির কথা চিন্তা করতে হবে।
০ নিকোটিনের বিকল্প গাম, লজেন্স ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে।
০ নিকোটিনের বিকল্প ওষুধ সেবন করা যেতে পারে।
০ একা একা ধূমপান না ছেড়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্য (যদি ধূমপায়ী থাকেন), বন্ধু-বান্ধব ও সহকর্মীদের উৎসাহিত করে একসঙ্গে ধূমপান ত্যাগের ঘোষণা দিন।
০ মানসিক চাপ কমাতে চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে হালকা ম্যাসাজ নিন।
০ অ্যালকোহল পরিহার করুন।
০ মনোযোগ অন্যদিকে নিতে ঘর পরিষ্কার করতে চেষ্টা করুন।
০ ধূমপান ত্যাগের জন্য বার বার চেষ্টা করুন। একবার ছেড়ে দিলে দ্বিতীয় বার আর ধূমপান করবেন না।
০ নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
০ প্রচুর পরিমাণ সবুজ শাক-সবজি ও রঙিন ফলমুল খান।
০ ধূমপান বন্ধ করে যে আর্থিক সাশ্রয় আপনার হবে তার একটা অংশ হালকা বিনোদনে ব্যয় করুন।
০ আর ধূমপান ছাড়ুন বন্ধু-বান্ধব বা প্রেমিককে খুশী করার জন্য নয়, বরং আপনার সুস্বাস্থ্যের জন্যই এটা করেছেন। এমন জোরালো অবস্থান নিন।
তবে ধুমপান ছাড়া কোনো সহজ কাজ নয়। যারা ১৫-২০ বছর ধরে ধুমপান করছেন তাদের জন্যে ধুমপান ছাড়া খুব ই কঠিন কাজ। কিন্তু কাজটা অসম্ভব নয়। ধুমপানের কারনে সামাজীক এবং পারিবারিক কি ধরনের ক্ষতি হতে পারে তা অনুধাবন এবং পারিপার্শিক সমর্থন নিয়ে ধুমপান ছাড়া যায়।
কিভাবে ধুমপানের এই আসক্তি থেকে মুক্তি পাবেন তার ধাপে ধাপে বর্ননা দেয়া হল।
- প্রথমে ধুমপান কেনো ছাড়বেন তা খুজে বের করুন। প্রতিটি মানুষ ই ভিন্ন, তাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ন কারনটি ই বেছে নিন ধুমপান ছারার জন্যে। এটা হতে পারে আপনার সন্তান এবং পরিবারের ক্ষতির কথা মাথায় রেখে অথবা ধুমপানের শারিরিক কূফলের কথা মাথায় রেখে। একটা পরিষ্কার লক্ষ্য ধুমপান ছারার জন্যে সবচেয়ে বেশি কাজে দেয়।
- যেদিন ধুমপান ছাড়বেন তার তারিখ নির্ধারন করুন, তবে এটা ১ সপ্তাহের বেশি যেন না হয় কারন বেশি দিন হলে আপনি হয়ত বারবার তারিখ পরিবর্তন করবেন। এই ৭ দিনে ধিরে ধিরে ধুমপানের পরিমান কমিয়ে দিন। যদি আপনি এই কয়দিন এই ভেবে বেশি ধুমপান করেন যে আর তো কখনো করবো না তাহলে যেদিন ধুমপান ছাড়বেন সেইদিন আপনার মন বেকে বসবে।
- আপনি যে ধুমপান ছাড়বেন সেটা সবার সাথে শেয়ার করুন। পরিবার এবং বন্ধুদের কাছে শেয়ার করলে আপনার দায়বদ্ধতা বাড়বে এবং তাদের কাছে ব্যাখ্যা করার সুযোগ পাবেন যে আপনি তাদের কাছ থেকে কি চান, সাধারনত হয়ত চাইবেন কেউ যেনো আপনার সামনে ধুমপান না করে। কোনো বন্ধুকে আপনার সাথেই ধুমপান ছাড়তে উদ্বূদ্ধ করুন। সবার সাপোর্ট ধুমপান ছাড়তে অনেকখানি সহায়তা করে।
- লিখে রাখুন বা মনে রাখুন কখন আপনি ধুমপান করেন। হতে পারে সেটা খাওয়ার পড় অথবা কাজের বিরতির সময়ে। আপনি যখন মনে রাখবেন আপনার ধুমপান করার সময় কখন, তখন আপনি সেই সময় আসার আগেই নিজের মনকে মোটিভেট করতে পারবেন অন্য কোনো কাজের জন্যে।
- যেদিন ধুমপান ছাড়বেন, সেদিন আপনার রুটিন পরিবর্তন করুন। সেই হবে একটা নতুন দিন যা আপনাকে স্বাস্থের প্রতি যত্নবান হতে শেখাবে, তাই নিজেকে দাড় করান পুর্বের ভুল ত্রুটি শুধরিয়ে। যদি আপনার পূর্বের রুটিন থাকে এরকম, আপনি হাটতে বের হবেন, আপনার কুকুর কে নিয়ে হাটবেন এবং সকালের নাস্তার আগে একটা সিগারেট খাবেন, তাহলে এই রুটিন পরিবর্তন করুন। ঠিক করুন এভাবে, আপনি আপনার কুকুর কে নিয়ে হাটবেন, এবং বাসায় ফিরেই গোসল করে নিবেন গরমের ভাবটা দূর করার জন্যে।
- নতুন কিছু করুন এবং নিজেকে ব্যাস্ত রাখুন। এমন কিছু যা আপনাকে শারিরিক ভাবে ধুমপান থেকে বিরত রাখে। কিছু উদাহরন হতে পারে সাতার কাটা, ইয়োগা, ভিডিও গেইম খেলা ইত্যাদী। এমন কিছু যায়গায় বেশি সময় ব্যায় করুন যেখানে ধুমপান নিষিদ্ধ যেমন পশুদের আবাস অথবা শিশুদের হাসপাতাল ইত্যাদী।
- ধুমপান ছাড়ার পর আপনার মনের ইচ্ছাকে লিখে রাখুন। ধুমপান ছাড়ার প্রথম ১ সপ্তাহের ফিলিংস খুব ই খারাপ হবে, তাই এমন ভাবে লিখুন যাতে আপনার আবেগ বা অনুভূতি আপনাকে স্পর্শ করতে না পারে, আপনার সাফল্য এবং মেজাজ যাতে একটা উন্নতির পথে নিয়ে যায় সেভাবে লিখুন। কয়েকমাস ধরে এভাবে লিখলে দেখবেন আপনার লেখায় পরিবর্তন এসেছে এবং ধুমপান না করে আপনি ভাল আছেন সেটা আপনি লিখছেন। যদি আপনি কখোনো আবার ধুমপান শুরুও করেন, এই নোটগুলো আপনাকে সাহাজ্য করবে ধুমপান না করার জন্যে।
- নিজেকে প্রতিদিন পুরষ্কৃত করুন ধুমপান না করার জন্যে। একটি জাড় বা মাটির ব্যাংকে টাকা জমান প্রতিদিন যে টাকা আপনি ধুমপানের জন্যে ব্যয় করতেন। কিছুদিন পর দেখবেন এতো বেশি টাকা জমে গেছে যেটা দিয়ে আপনি হয়ত খেলাধুলার কিছু কিনতে পারছেন অথবা নিজের শারিরিক আরামের জন্যে কোনো কিছু কিনতে পারছেন।