14/04/2026
Alkaline water!
রোগমুক্ত থাকতে চান?
অ্যালক্যালাইন পানি পান করুন
মানবদেহের জন্য পানি অপরিহার্য। পানি ছাড়া বেঁচে থাকা অসম্ভব । তাই সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে বিশুদ্ধ এবং পানির প্রাকৃতিক উপাদানসমৃদ্ধ পানীয় জলের বিকল্প নেই। সুস্বাস্থ্য, অধিক কর্মদক্ষতা, ভালো ত্বক, ওজন কমানো এবং শারিরিক বিভিন্ন জটিলতা প্রতিরোধে পানি পানের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পানযোগ্য পানির বেশকিছু উৎস আছে। এগুলো হলো- গভীর নলকূপ, কুয়া, প্রাকৃতিক ঝর্ণা, নদী ও বৃষ্টির পানি। তবে এসব উৎসের পানি হতে হবে বিশুদ্ধ এবং এতে থাকতে হবে পাকৃতিক উপাদান। বর্তমানে জমি চাষে অতিরিক্ত কীটনাশক এবং কলকারখানায় বিষাক্ত কেমিক্যাল ব্যবহারের ফলে নদী, সমুদ্র, নলকূপ ও কুয়ার পানি আর বিশুদ্ধ অবস্থায় নেই। আমরা বলছি পানি বিশুদ্ধ এবং সেইসাথে পানির সঠিক উপাদান বা অ্যালক্যালাইন পর্যায়ের কথা।
অ্যালক্যালাইন পানিতে থাকা উপাদানগুলো উল্লেখের আগে পানি সম্পর্কে মোটামোটি আকারে কিছু বৈজ্ঞানিক তথ্য জেনে নেয়া প্রয়োজন।
পানি একটি রাসায়নিক পদার্থ, যার সংকেত হল H2O। পানির একেকটি অণু একটি অক্সিজেন পরমাণু এবং দু'টি হাইড্রোজেন পরমাণুর সমযোজী বন্ধনে গঠিত। রাসায়নিক যৌগের নামকরণ অনুসারে পানির বিজ্ঞানসম্মত নাম dihydrogen monoxide (ডাইহাইড্রোজেন মোনক্সাইড)। কিন্তু এই নামটি কোথাও ব্যবহার হয় না। পান করার পর শরীর থেকে ঘাম, মূত্র এবং নিশ্বাসের সঙ্গে পানি বর্জ্য আকারে বের হয়ে যায়। পানি উপকারী বলে মাত্রাতিরিক্ত পানি পান করাটাও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ গাøস পানি পান করা উচিত, যা প্রায়দুই লিটার হতে পারে।
অ্যালক্যালাইন পানির উপাদান সমূহ:
অ্যালক্যালাইন পানিতে অবশ্যই সোডিয়াম ((Na), পটাশিয়াম (K), ক্যালশিয়াম (Ca) ও ম্যাগনেশিয়াম (Mg) থাকতে হবে। এই চারটি উপাদান ছাড়া পানি কখনো অ্যালক্যালাইনসমৃদ্ধ হবে না।
প্রাকৃতিক অ্যালক্যালাইন পানি পাওয়া না গেলেও দুইভাবে পানিকে অ্যালক্যালাইনসমৃদ্ধ করা যাবে। প্রথমত, ওয়াটার আয়োনাইজার মেশিনের মাধ্যমে অত্যন্ত উৎকৃষ্ট অ্যালক্যলাইন পানি পাওয়া যায়। মেশিনটি পানির ট্যাপের সাথে সংযুক্ত করে দিলেই অটোমেটিক্যালি অ্যালক্যালাইন পানি তৈরী হবে। এই পানি শরীরে ওষুধ হিসাবে কাজ করে।
দ্বিতীয়ত, বিশুদ্ধ পানির সাথে কিছু উপাদান মিশিয়ে অ্যালক্যালাইন পানি তৈরী করা যায়। ২.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানিতে একটি মাঝারি সাইজের লেবুর রস এবং চা চমুচের চার ভাগের একভাগ হিমালয়া পিঙ্ক লবণ (এই লবণেসোডিয়াম, পটাশিয়াম , ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামসহ ৮৪ ধরণের মিনারেল উপস্থিত) ভালভাবে মিশিয়ে নিলেই প্রস্তুত হয়ে যাবে অ্যালক্যালাইন পানি। সাধারণ পানির চেয়ে এই পানি পান অনেক স্বাস্থ্যকর। এই পানি পানের ফলে শরীরের অ্যাসিডিক স্কেল কমিয়ে অ্যালক্যালাইন বা রক্তের পিএইচ লেভেল উন্নত হয়।
পিএইচ (PH):
পিএইচ (PH) হলো কোনো তরল পদার্থের অ্যাসিড (H+) এবং অ্যালক্যালাইন (OH-) পর্যায় নির্ণয় স্কেল। যা শূন্য থেকে ৭-এর নিচে থাকলে অ্যাসিডিক এবং ৭-এর ওপর থেকে ১৪ পর্যন্ত অ্যালক্যালাইন। কারো রক্তের পিএইচ লেভেল যদি ৭-এর নিচে নেমে যায় তবে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। যদি 6.8এর নিচে নেমে যায় তবে জ্ঞান হারাতে পারে, এমনকি কোমায় চলে যেতে পারে।
রক্তের পিএইচ-7.35 এর নিচে নেমে যাওয়া মানে আপনি অসুস্থতার দিকে এগিয়ে চলেছেন। দুঃখজনক বিষয় হলো, আমরা সারাদিন যা কিছু খাই তার ৮০% ভাগ খাদ্যই অ্যাসিডধর্মী (পজিটিভ আয়ন সমৃদ্ধ)। ক্ষতিকর তেলে ভাজা পোড়া, ফাস্টফুড, জাংকফুড, সফট/এনার্জি ড্রিংস- সবই অ্যাসিডধর্মী খাদ্য যা আমাদের শরীরের রাসায়নিক বিক্রিয়াকে ভারসাম্যহীন করে তুলে। পিএইচ ব্যালেন্সকে ক্ষতিগ্রস্ত করে বডি কেমিস্ট্রিকে অসুস্থতার দিকে নিয়ে যায়। একারণে শরীরে চর্বি জমা, স্থূলতা, হার্টের ধমনী ব্লকেজ, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের আশঙ্কা মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দেয়। কাঁচা শাক-সবজি বিশেষ করে সবুজ পাতা ওয়ালা শাক-সবজি, শসা, খিরা, লাউ প্রভৃতি সবজি, ফর এবং সালাদ শরীরের পিএইচকে অ্যাসিডিক থেকে রক্ষা করে এবং আদর্শ অ্যালকালাইন পর্যায়ে Noe Nee.
Cancer Cells অ্যাসিডিক পর্যায়ে দ্রুত বৃদ্ধি হয়, কিন্তু অ্যালকালাইন পর্যায় বৃদ্ধি হ্রাস পায়। মানব দেহকে যদি সবসময় অ্যালকালাইনের আদর্শ পর্যায়ে রাখা যায় তবে ক্যান্সার থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। কেননা ক্যান্সার কোষ অক্সিজেন পরিবেশে can’t survive. আক্রান্ত এলাকায় রক্ত চলাচল নিরবচ্ছিন্ন রাখা বা বাড়ানো অর্থাৎ অ্যালকালাইন বৈশিষ্ট্যের রক্ত (যা অক্সিজেন সমৃদ্ধ) ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে ও প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখা দরকার, যখনই শরীরে পানি স্বল্পতা দেখা দেয়, তখনই শরীরের কোটি কোটি কোষ অ্যাসিডিক হতে শুরু করে। পিপাসা লাগা মানেই পানির স্বল্পতা। সুতরাং শরীরের একশত ট্রিলিয়ান কোষকে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় কর্মক্ষম রাখতে, রক্তপ্রবাহ সমুন্নত রাখতে, ব্রেনে ও চোখে পানির প্রবাহ যথার্থ রাখতে, কিডনি এবং হৃৎপিণ্ডকে সচল রাখতে আদর্শ পরিমাণ পানি আপনাকে পান করতেই হবে।
অ্যালক্যালাইন পানি পানের উপকারিতাঃ
১। অ্যালকালাইন পানি শরীরে অ্যাসিড ও অ্যালক্যালাইনের সমতা আনে ।
২। অ্যালকালাইন পানিতে অ্যাসিড দ্রুত দ্রবীভূত হওয়ায় শরীরের দুষিত বা বর্জ্য পদার্থ যথার্থভাবে নিষ্কাশন হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
৩। এই পানি ডায়াবেটিস, হার্ট ও মস্তিষ্ক জনিত রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ইউরিক অ্যাসিডসহ বিভিন্ন রকম জটিল রোগ নিয়ন্ত্রন করে।
৪। অ্যালকালাইন পানি নিয়মিত পানে রক্তে লিপিড ও উচ্চ রক্ত চাপ কমায়।
৫। কোষ্ঠ্যকাঠিন্য, ডায়রিয়া, পাকস্থলী ও অন্ত্রের যাবতীয় সমস্যা দূর করে।
৬। আর্থ্রাইটিস (বাতজনিত রোগ) নিয়ন্ত্রন করে এবং যেসব রোগ অত্যধিক অ্যাসিডের কারনে শরীরে বাসা বাঁধে সেগুলো নিয়ন্ত্রন করে।
৭। অ্যালকাইন পানি নিয়মিত পান বাধর্ক্য জনিত শারিরিক ও মানসিক রোগসমূহ প্রিতিরোধ করে।
৮। চোখে ছানি পড়া, ধমনী গাত্রে চর্বি জমা প্রতিরোধ করে।
৯। শরিরে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সবরাহের কারণে পর্যাপ্ত ঘুম হয়।
১০। গর্ভকালিন নিয়মিত এই পানি পান করলে মা ও শিশু উভয়েই উপকৃত হয়।
Dr. Mujibur Rahman M.D
Cardiologist & Naturopath