10/04/2026
ডাক্তার দেখাবো না কবিরাজ?
জ্বর হলে শরীর গরম হয়, হাঁচি-কাশি ঠান্ডা লাগার লক্ষণ, ডায়বেটিস হলে ঘন ঘন প্রস্রাব পায় – এসবই আমরা জানি।
শারীরিক রোগের লক্ষণ যা শরীরে প্রকাশ পায় তার কম বেশি সব আমরা জানি।
কিন্তু মানসিক রোগ হলে সেটা কিভাবে প্রকাশ পায় তা কি আমরা জানি?
মানসিক রোগ মানুষের আচরণ, ব্যবহার এমনকি ব্যক্তিত্বেও পরিবর্তন আনতে পারে।
আর এসব রোগের লক্ষণ সম্পর্কে জানা না থাকলে মানসিক রোগকে জ্বীন ভূতের আছর ভাবা অসম্ভব কিছু নয়।
মানসিক রোগের লক্ষণ বিভিন্ন মানুষে বিভিন্ন ভাবে দেখা দিতে পারে।
বয়স, আর্থ-সামাজিক অবস্থা, নারী-পুরুষ ভেদে একই রোগ ভিন্ন ভিন্ন রূপে প্রকাশ পেতে পারে।
কিছু জটিল মানসিক রোগের লক্ষণগুলো হতে পারে –
- অহেতুক সন্দেহ করা, হঠাৎ করে কেউ মেরে ফেলতে চাইছে, ক্ষতি করতে চাইছে, কালো জাদু করছে এরূপ কথাবার্তা বলা
- কারো মধ্যে হঠাৎ করে কোন বিশেষ ক্ষমতা এসে গিয়েছে এমন কথা বলা, নিজেকে খুব বড় মনে করা , শরীরে অনেক শক্তি অভূভিব করা
- হঠাৎ করে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কথা বলা বা একদমই চুপচাপ হয়ে যাওয়া
- অতিরিক্ত কাজ করতে চাওয়া, বা একদমই সামাজিক যোগাযোগ কমিয়ে দেওয়া।
- একই চিন্তা বারবার আসা, চাইলেও বন্ধ করতে না পারা
- একা একা কথা বলা
- কানে গায়েবিভাবে কথা শোনা, বা চোখে অদৃশ্য কিছু দেখতে পাওয়া
- একদমই এলোমেলো কথা বলা বা কাজ করা
মানসিক রোগের লক্ষণের ব্যাপকতা ও বৈচিত্রতা অনেক বেশি। যা সম্পর্কে জানা না থাকলে একে অতিপ্রাকৃত কিছু ভেবে ফেলা যায়।
তাই তো মানসিক রোগে আক্রান্ত অধিকাংশ রোগী ডাক্তারের কাছে আসার পূর্বে কবিরাজ বা ওঝার দ্বারস্থ হয়ে আসেন।
যদি আপনার পরিচিতজনের মধ্যে আচরণের কিছু পরিবর্তন দেখতে পান, তাহলে অবশ্যই একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
কারণ রোগের চিকিৎসা যত দেরিতে শুরু হবে, রোগ ততই জটিল আকার ধারণ করতে থাকবে।
দ্রুত লক্ষণ শনাক্ত করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে চিকিৎসা শুরু করাই আনতে পারে রোগীর জন্য সুফল।
তাই যেমনভাবে আমরা শারীরিক বিভিন্ন রোগের লক্ষণ সম্পর্কে ধারণা রাখি, ঠিক তেমন ভাবে মানসিক রোগের লক্ষণ গুলো সম্পর্কেও ধারণা থাকা প্রয়োজন।