05/12/2025
আমাদের ব্যস্ত জীবনে আমরা অনেক সময়ই রোদ থেকে দূরে থাকি-অফিস, বাসা, বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের ভেতরেই দিনের বেশিরভাগ সময় কেটে যায়।
একটু সময় বের করে প্রতিদিন মাত্র ১৫ মিনিট রোদে দাঁড়ালেই শরীরের সাথে আপনার মনও পেতে পারে উপকার!
কেন রোদে থাকা মন ভালো রাখে?
➤ ভিটামিন D তৈরি হয়:
সূর্যের ইউভি-বি রশ্মি ত্বকে লেগে ভিটামিন D তৈরি করতে সাহায্য করে, যা হাড় ও দাঁতের জন্যই নয়, মানসিক সুস্থতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
ভিটামিন D-র ঘাটতি হলে মেজাজ খারাপ, মন খারাপ, দুশ্চিন্তায় পড়া, এবং ডিপ্রেশন-এর ঝুঁকি বাড়তে পারে।
➤ মুড বুস্টার:
রোদ আমাদের মস্তিষ্কে Serotonin (সেরোটোনিন) বাড়াতে সাহায্য করে, যে হরমোন মুড ভালো রাখে, মন হালকা করে এবং ডিপ্রেশন-উদ্বেগ কমাতে দারুন ভূমিকা রাখে।
➤ ডিপ্রেশন ঝুঁকি কমাতে পারে :
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন একটু হলেও রোদে থাকেন, তাদের মধ্যে ডিপ্রেশনের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় অনেক কম।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ঠিকমতো সূর্যের আলো পান না এবং যাদের ভিটামিন D কম, তাদের মধ্যে ডিপ্রেশন বেশি দেখা যায়। আর যারা নিয়মিত রোদে থাকেন, তাদের ডিপ্রেশনের মাত্রা অনেক কম। (PMC)
আরেক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পর্যাপ্ত সূর্যালোক পাওয়া মানুষদের মধ্যে ডিপ্রেশন হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ২৭% পর্যন্ত কম। (PubMed)
আরও কিছু স্টাডিতে পাওয়া গেছে, প্রতিদিন সামান্য সময় রোদে থাকা বা বাইরে হাঁটা, মুড ভালো রাখা, ঘুম ঠিক রাখা এবং মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে দারুণভাবে সাহায্য করে। (MDPI)
✓ রোদে যাওয়ার সঠিক উপায়:
→ ভোর ১০টা – বিকেল ৩টার মধ্যে ১০-১৫ মিনিট রোদে থাকাই সবচেয়ে ভালো, এতে ভিটামিন D ভালো পাওয়া যায়।
→ হাতে ও পায়ে (অথবা গায়ের কিছু অংশ) রোদ লাগলে ভিটামিন D বেশি তৈরি হয়।
→ দেহ বা ত্বকে সরাসরি রোদ লাগাতে হবে। জানালা দিয়ে আসা রোদ থেকে আপনি ভিটামিন D পাবেন না।
তাই থেকেই চেষ্টা করুন কাজের ফাঁকে একটু বের হোন, হাঁটুন, হাত-পায়ে রোদ লাগান, আপনার মন স্বাভাবিকভাবেই ভালো হয়ে যাবে।