Dr.Saidur Rahman Riad

Dr.Saidur Rahman Riad Doctor

23/12/2025

এই শীতে গ্রাম অঞ্চলে খেজুর রস খাওয়া থেকে সাবধান.....

🔹 মনে রাখবেন
❗ নিপাহ ভাইরাসের কোনো নির্দিষ্ট ভ্যাকসিন বা চিকিৎসা এখনো নেই
❗ মৃত্যুহার 40–75% পর্যন্ত হতে পারে
❗ দ্রুত শনাক্তকরণ ও আইসোলেশন খুব জরুরি

নিপাহ ভাইরাস (Nipah virus) – কি ও কীভাবে ছড়ায় :

🔹 নিপাহ ভাইরাস কী?
নিপাহ ভাইরাস একটি জুনোটিক ভাইরাস—অর্থাৎ প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। এটি মানুষে মারাত্মক অসুস্থতা যেমন এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কে প্রদাহ) ও শ্বাসকষ্ট ঘটাতে পারে।

🔹 নিপাহ ভাইরাসের কারণ (Cause)
নিপাহ ভাইরাসের প্রাকৃতিক বাহক (reservoir) হলো
👉 ফলখেকো বাদুড় (Pteropus species / Flying fox)
বাদুড় নিজে অসুস্থ না হলেও তাদের লালা, মূত্র ও মলে ভাইরাস থাকে।

🔹 নিপাহ ভাইরাস কীভাবে ছড়ায়? (Mode of Transmission):

1️⃣ বাদুড় থেকে মানুষ
বাদুড় খাওয়া বা লালা পড়া কাঁচা খেজুরের রস (date palm sap) পান করলে
বাদুড় কামড়ালে বা আঁচড় দিলে
বাদুড় দ্বারা দূষিত ফল খেলে

👉 বাংলাদেশে সবচেয়ে সাধারণ পথ: কাঁচা খেজুরের রস

2️⃣ প্রাণী থেকে মানুষ
শূকর (Pig) নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে
আক্রান্ত শূকরের সংস্পর্শে এলে (খামার, জবাই) মানুষ আক্রান্ত হতে পারে

3️⃣ মানুষ থেকে মানুষ
আক্রান্ত ব্যক্তির লালা, কাশি, হাঁচি, শ্বাসনালি নিঃসরণ
রক্ত বা শরীরের তরল
রোগীর ঘনিষ্ঠ পরিচর্যা (পরিবারের সদস্য, নার্স, ডাক্তার)

👉 এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক কারণ হাসপাতাল ও পরিবারে দ্রুত ছড়াতে পারে

🔹 ঝুঁকিপূর্ণ কারা?
কাঁচা খেজুরের রস পানকারী
রোগীর পরিচর্যাকারী
স্বাস্থ্যকর্মী
গ্রামীণ এলাকার মানুষ
শিশু ও বৃদ্ধ

🔹 প্রতিরোধ (Prevention)
✅ কাঁচা খেজুরের রস পান না করা
✅ ফল ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া
✅ বাদুড়/অসুস্থ প্রাণীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা
✅ রোগীর সংস্পর্শে গেলে মাস্ক, গ্লাভস ব্যবহার
✅ হাত সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধোয়া

 #জন্মের পর শিশুদের যক্ষা রোগের টিকা দিতে ভুলে গেলে কি করবেন??💉   টিকা যক্ষা রোগ থেকে রক্ষা করে। জন্মের পর যত দ্রুত সম্ভ...
19/10/2025

#জন্মের পর শিশুদের যক্ষা রোগের টিকা দিতে ভুলে গেলে কি করবেন??

💉 টিকা যক্ষা রোগ থেকে রক্ষা করে। জন্মের পর যত দ্রুত সম্ভব (BCG) বিসিজি টিকা দেওয়া উচিত। জন্মের পর পর নিতে না পারলে ৬ সপ্তাহ বয়সে BCG টিকা অবশ্যই দিতে হবে। বাম বাহুর উপরের অংশে চামড়ার নিচে(Intradermal) ০.০৫ মি.লি এক ডোজ দেওয়া হয়।

BCG টিকা দেওয়ার পর স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া গুলো অভিভাবককে অবশ্যই জানাতে হবে যে-- টিকা দেওয়ার ২ সপ্তাহ পর, টিকার স্থান ফুলে যাবে। আরও ২/৩ সপ্তাহ পর শক্ত দানা, গুটি, ক্ষত বা ঘা হতে পারে। ধীরে ধীরে এই ঘা শুকিয়ে যায়। এতে স্থায়ী দাগ ( ) হয়ে যায়। দাগ বা Scar mark বুঝায় টিকা সফল ভাবে কাজ করেছে।

BCG টিকা দেওয়ার পর দাগ না হলে ৩ মাস পযন্ত অপেক্ষা করতে হবে। অনেক সময় টিকা নেওয়ার কিছুদিন পর দাগ বা Scar মার্ক হয়। তাই টিকা নেওয়ার পর ৩ মাসের মধ্যে scar mark না হলে এরপর আবার নিতে হবে।

কোনো ওষুধ বা তেল ক্ষত তে দেওয়া যাবে না।নিজে নিজেই এই ক্ষত শুখিয়ে যাবে।

BCG টিকা অনেক গভীরে প্রবেশ করলে বা টিকা বেশি দেওয়া হলে BCG টিকা এর জায়গায় পাশ্বপ্রতিক্রিয়া প্রদাহ বা গভীর ফোড়া হতে পারে।

একদিনের জ্বর।দ্বিতীয় দিনেই ঠোঁট ফুলে গেছে, মুখে ঘা, চোখ ফুলে বন্ধ হয়ে আসছে।আমরা ভাবলাম — সাসপেক্টেড ড্রাগ রিএকশন।রোগীর ই...
17/10/2025

একদিনের জ্বর।
দ্বিতীয় দিনেই ঠোঁট ফুলে গেছে, মুখে ঘা, চোখ ফুলে বন্ধ হয়ে আসছে।
আমরা ভাবলাম — সাসপেক্টেড ড্রাগ রিএকশন।

রোগীর ইতিহাস ঘেঁটে খুঁজে বের করার চেষ্টা করলাম — কোন ওষুধ খেয়েছিল?
কেউ বলল, “স্যার, কিছুই খায়নি!”
শেষে অনেক জিজ্ঞেস করার পর জানা গেলো —

> “জ্বর উঠছিল, তাই একটা নাপা খাইছি...”

রোগীকে ভর্তি নিলাম।
পরের দিন শরীরজুড়ে বুলাস লেশন (bullous lesion — অনেকেই বলে ‘ফুসকুড়ি’)।
চামড়ার উপর ফোসকার মতো ঘা, যেন প্রতিটা ছোঁয়া আগুনের মতো লাগে।

ড্রাগ রিএকশনও এমন হতে পারে, আবার কিছু ইমিউন ডিজিজেও এমন হয়।
কিন্তু বয়স, উপসর্গ কিছুই মেলে না।
আমরা বিভ্রান্ত।

শেষমেশ স্কিন ডিপার্টমেন্টে পাঠালাম।
তারা দিলেন বায়োপসি ও DIF (Direct Immunofluorescence) টেস্ট।

রিপোর্ট হাতে এলো।
সবাই নিঃশব্দ।

কারণ?

> নাপা।

হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন — Paracetamol (নাপা)-এর মারাত্মক ড্রাগ রিএকশন।

আমরা সবাই অবাক।
যে ওষুধ মানুষ মুড়ির মতো খায়,
যে ওষুধ প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ওষুধের দোকান থেকে কিনে নেয়,
সেই “নিরীহ” নাপাই এক ছেলেকে মৃত্যুর দুয়ারে ঠেলে দিয়েছে।

এমন ঘটনা খুব বিরল,
কিন্তু ঘটে— আর ঘটলেই জীবনটা উল্টে যায়।

সতর্ক থাকুন

কোনো ওষুধই “নিরীহ” নয় — কারও কারও শরীরে সেটা “বিষ” হয়ে যায়।

সামান্য জ্বরেও ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাবেন না।

শেয়ার করুন, যেন মানুষ বুঝে—
সবচেয়ে পরিচিত ওষুধটাও কখনো কখনো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে।

মুড়ির মতো নাপা খাওয়া আমাদের অভ্যাস হয়ে গেছে।
©

টাইফয়েড ভ্যাক্সিন নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহবান বিশেষজ্ঞদের--------ফেসবুকে টাইফয়েড ভ্যাকসিন সংক্রান্ত একটি লেখা ভাইরাল হ...
16/10/2025

টাইফয়েড ভ্যাক্সিন নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহবান বিশেষজ্ঞদের
--------
ফেসবুকে টাইফয়েড ভ্যাকসিন সংক্রান্ত একটি লেখা ভাইরাল হয়েছে। লেখাটি যিনি লিখেছেন তিনি চিকিৎসক বা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ নন এবং ডিজিজ এপিডেমিওলজি সম্পর্কে তার কোন ধারনা নেই। তার ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে পরে বলছি, প্রথমে তার লেখার দাবিগুলো ডিবাংক করি।

লেখক দাবী করেছেন আইসিডিডিআরবি নাকি গবেষণায় পেয়েছে দেশে টাইফয়েড আক্রান্তের হার ১% এবং সেখান থেকে বলতে চেয়েছেন ১০০ জনে ৯৯ জনেরই প্রাকৃতিকভাবে টাইফয়েড হয়না। প্রথমত,
আইসিডিডিআরবি এ ধরনের কোন গবেষণা করেনি। এটা আমার কথা না, জানিয়েছেন উক্ত প্রতিষ্ঠানের এসিস্টেন্ট সায়েন্টিস্ট ডা: গাজী সালাহউদ্দীন মামুন। বরং তাদের ACORN-HAI গবেষণায় তারা দেখেছেন ২ বছরে (২০২৩-২৪) হাসপাতালে ডায়রিয়া ও অন্যান্য ইনফেকশন নিয়ে ভর্তি হওয়া ৮২৯ জন রোগীর মাঝে ২৪৯ জনের (৩০% এর বেশি) রক্তে টাইফয়েড জীবানু বিদ্যমান।

এ সংক্রান্ত সবচেয়ে বড় গবেষণাটি হয়েছে বাংলাদেশ, নেপাল ও পাকিস্তান এই তিন দেশ মিলিয়ে "এশিয়া প্রজেক্ট"-এ। ২০১৬-২০১৯ সাল পর্যন্ত ঢাকার ২টি হাসপাতালের আউটডোরে যারা ৩ বা তার চেয়ে বেশি দিনের জ্বর নিয়ে এসেছে, ইনডোরে যারা সম্ভাব্য টাইফয়েড জ্বর নিয়ে ভর্তি হয়েছেন এবং কোন রকম আঘাত ছাড়া ক্ষুদ্রান্তের ছিদ্র নিয়ে ভর্তি হয়েছেন এবং এমন ১৭,৪৪১ জনের মাঝে ৪৮৭৩ জনের (২৮%) রক্তে নিশ্চিতভাবে টাইফয়েডের জীবানু পাওয়া গেছে।

নেপালে ২২% এবং পাকিস্তানে ২৫% লোকের ক্ষেত্রে টাইফয়েডের জীবাণু পাওয়া গেছে। এই গবেষণায় আরও বলেছে বাংলাদেশে সমগ্র জনগোষ্ঠীতে নতুনভাবে টাইফয়েড (ইনসিডেন্স) রোগে আক্রান্তের হার প্রতি লাখে ৯১৩ জন (~১%)। ভাইরাল লেখাটির লেখক মূলত এই হিসাবটিই দিয়েছেন। এবং এখান থেকেই দাবী করেছেন ৯৯% লোক টাইফয়েড আক্রান্ত হয়না প্রাকৃতিকভাবে। গবেষণাটি আইসিডিডিআরবির নয়।

১% ব্যাপারটি খুবই কম মনে হতে পারে আপাত দৃষ্টিতে। তাই চলুন অন্যান্য রোগের সাথে তুলনা করি। বাংলাদেশে ১৯৯০ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত বিভিন্ন রোগের হার ভিত্তিক সবচেয়ে বড় গবেষণা যেটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিখ্যাত জার্নাল ল্যানসেটে প্রকাশিত হয়েছে তার একজন ক্ষুদ্র সহলেখক ছিলাম আমি। আমাদের সেই গবেষণায় দেখা গেছে ২০১৯ সালে বাংলাদেশে সকল ধরনের ক্যান্সার এর হার প্রতি লাখে "মাত্র" ৫৩০ জন (০.৫৫%), সকল ধরনের হৃদরোগের হার প্রতি লাখে "মাত্র" ৪৩৫৫ জন (৪.৫%), স্ট্রোকের হার প্রতি লাখে "মাত্র" ৮৩৪ জন (০.৮৭%)।

এই হিসাব থেকে কি বলা যায় যে প্রাকৃতিকভাবে দেশের ৯৯.৪৫% লোকের ক্যান্সার হবে না, ৯৫.৫% লোকের হৃদরোগ হবে না কিংবা ৯৯.১৩% লোকের স্ট্রোক হবে না? না, এটা বলা যায় না কারন মানুষের বয়স, ঝুকি, লিঙ্গ, অভ্যাস, ইত্যাদি নানা কিছুর ভিত্তিতে ঝুকির মাত্রা পরিবর্তি হয়। সহজ একটি উদাহরন দেই, ল্যানসেটে প্রকাশিত আমাদের গবেষণাটিতে আমরা পেয়েছি বাংলাদেশে ২০১৯ সালে সব ধরনের কারন জনিত মৃত্যুর হার ছিলো প্রতি লাখে ৭১৪ জন (০.৭১%)। তাহলে কি বলা যায় বাংলাদেশে ৯৯.২৯% লোকের কখনো মৃত্যু হবে না?!

অদ্ভূত শোনাচ্ছে না? ঠিক তাই, রাজিব সাহেবের হিসাবও একই রকম বাস্তবতা বিবর্জিত। বাস্তবে বর্তমান সময়ে প্রতি ৪ জনে ১ জন (২৫%) ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার ঝুকিতে আছেন। ২০১৯ সালে সকল মৃত্যুর কারনে মাঝে স্ট্রোক ছিলো ১ নাম্বার, ২য় কারন হৃদরোগ, ৩য় প্রধান কারন শ্বাসতন্ত্রের ক্রনিক রোগ।

ল্যানসেটে প্রকাশিত গবেষণাটিতে আমরা দেখেছি বাংলাদেশে প্রতি লাখে ৫ জন টাইফয়েডে মৃত্যুবরণ করে যা মোট জনসং্খ্যার হিসেবে বছরে প্রায় ৮০০০ জন। এদের মাঝে ৬৮% শিশু, অর্থাৎ ৫৪৪০ জন শিশু। টাইফয়েড টিকার কার্যকারিতা ৮৫%, তাহলে এই ৬৮০০ জনের অন্তত ৪৬২৪ জন শিশু টিকার কারনে বেচে যাবে। এছাড়াও আরও হাজার হাজার শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হওয়া থেকে বাচবে।

টাইফয়েড রোগের কেস ফ্যাটালিটি রেট অর্থাৎ এই রোগে মৃত্যুর সম্ভাবনা ২.৫% অর্থাৎ প্রতি ১০০ জনে আড়াই জন মারা যেতে পারে। কোভিডের শুরুর দিকে এই হার ছিলো ২-৫% আর তাতেই সারা বিশ্ব বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। ভাগ্য ভালো যে টাইফয়েড হাচি কাশি বা বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় না। মৃত্যু ছাড়াও এই রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেকের ক্ষুদ্রান্ত্র ছিদ্র হয়ে যাওয়া, রক্তপাত, লিভার ফেইলউর, সেপসিস এমনকি পার্মানেন্ট ব্রেইন ড্যামেজ হয়ে যেতে পারে।

নিকটাত্মীয়দের মাঝে আমার বড় মামার টাইফয়েড জনিত কারনে পার্মানেন্ট ব্রেইন ড্যামেজ হয়ে গিয়েছিলো। খুজলে এমন আরও অনেককেই পাবেন। আধুনিক যুগে শক্তিশালী এন্টিবায়োটিক এর কারনে টাইফয়েড এর চিকিৎসা সহজ হয়েছে কিন্তু ঘন ঘন অপিরিমিত মাত্রায় এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারনে জীবাণুরা এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে পড়ছে। দেখা গেছে আগে ছোট খাট এন্টিবায়োটিক খেলে সেরে যেত কিন্তু এখন উচ্চমাত্রা দামী রিসার্ভ এন্টিবায়োটিক দিতে হচ্ছে। ফলে চিকিৎসার খরচ ও বাড়ছে।

লেখক দাবী করেছেন টাইফয়েডের ভ্যাকসিন ইউরোপ আমেরিকায় দেয়া হয়না। ঠিক, কেননা সে দেশে টাইফয়েড এর জীবানু নেই। টাইফয়েড এর জীবাণু দক্ষিন এশিয়ায় বেশি তাই এখানে টিকা দেয়া হয়। এটাই গণ টিকার নিয়ম, যে দেশে যে রোগ বেশি সে দেশে সেই টিকা। একই কারনে ইউরোপ আমেরিকায় যক্ষার টিকা দেয়া হয়না।

আমি ইংল্যান্ডে ৪ বছর থেকেছি, বর্তমানে কানাডায় আছি। এসব যায়গায় গণটিকা দেয়া হয় মিজেলস, মামপ্স, হেপাটাইটিস, রুবেলা, ডিপথেরিয়া, টিটেনাস সহ নানা রোগের বিরুদ্ধে। এছাড়াও প্রতি সিজনে ইনফ্লুয়েঞ্জা এর টিকাও দেয়া হয় বিনামূল্যে, বয়স্কদের দেয়া হয় হার্পিস জুস্টারের টিকা। আমাদের দেশে এগুলোর প্রচলন নেই। অনেকে নিজ পয়সায় কিনে নেন। টাইফয়েড অনেক মানুষ বিশেষ করে শিশুদের আক্রান্ত করে বলেই সরকার পয়সা খরচ করে বিনামূল্যে টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করেছে।

লেখক রাজিব সাহেব বলছে এতে ওষুধ কোম্পানির লাভ। টাইফয়েড এই টিকার দাম ২-৩ হাজার টাকা বড়জোর, অন্যদিকে টাইফয়েড আক্রান্ত হলে ৭-১৪ দিনের এন্টিবায়োটিক, জ্বর ও অন্যান্য লক্ষণ নিরাময় মিলিয়ে ওষুধের মোট খরচ এর চেয়ে অনেক বেশি। হাসপাতালে ভর্তি হলে সেটার আলাদা খরচ এবং রোগ জটিল হলে সামগ্রিক খরচ বেড়ে লক্ষাধিক টাকা হয়ে যেতে পারে। সুতরাং ভ্যাকসিন দিয়ে সবাইকে সুরক্ষিত করাটা ওষুধ কোম্পানির জন্য বেশি লাভজনক নাকি এন্টিবায়োটিক ও অন্যান্য ওষুধ বিক্রি করা বেশি লাভ জনক?

টাইফয়েডের যে ভ্যাকসিনটি বাংলাদেশে দেয়া হচ্ছে সেটি বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত। এটি কোন পরীক্ষালব্ধ ভ্যাকসিন নয়। এর কার্যকারিতা প্রমানিত। এটি নেপাল ও পাকিস্তানেও দেয়া হয়েছে, ভারতের অনেকগুলো রাষ্ট্র, ইন্দোনেশিয়া, মায়ানমার, ইরাক, ঘানা, লাইবেরিয়া, জিম্বাবুয়ে সহ বহু দেশে এই ভ্যাকসিন দেয়া হচ্ছে। কানাডায় টাইফয়েড জীবাণু নেই তবে কানাডিয়ানরা এই সব দেশের কোনটিতে যেতে চাইলে ভ্রমণ সতর্কতা হিসেবে টাইফয়েড ভ্যাকসিন নিতে বলে।

এবার আসি লেখক রাজিব আহামেদ এর কথায়। এই ব্যক্তি চিকিৎসক বা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ নন। তিনি একজন সেলস ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট অর্থাৎ ব্যবসায়িক পণ্য বিপনন সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ। সেলস নিয়ে তিনি কর্পোরেট ট্রেনিং দেন। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এমবিএ ও জার্নালিজম ডিপ্লোমা। তিনি নিজেকে স্বাস্থ্য গবেষক বলে পরিচয় দেন কিন্তু তার কোন প্রকাশিত গবেষণা পত্র নেই। তবে তিনি বাংলায় স্বাস্থ্য বিষয়ক ও মার্কেটিং বিষয়ক নানা বই লিখেছেন। তিনি স্বাস্থ্য বিষয়ক বই লেখা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্পোরেট কর্মশালার আয়োজন করেন যার ফি ২০০০ টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত! অর্থাৎ তার একটি সেশনের মূল্য টিকার দামের চেয়ে বেশি।

অবধারিতভাবেই তিনি তার স্বাস্থ্য বিষয়ক নানা প্রপাগান্ডা বিশ্বাসযোগ্য করতে ধর্মের আশ্রয় নেন। অথচ টাইফয়েড টিকা গ্রহণের ব্যাপারে উৎসাহিত করে বক্তব্য দিয়েছেন ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ও ইসলামি পন্ডিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্বনামধন্য জনাব আ ফ ম খালিদ হোসেন (লিংক প্রথম কমেন্টে)। ধর্মীয় রেফারেন্সের ক্ষেত্রে খালিদ হোসেনে ভরসা রাখবেন নাকি মার্কেটিং গুরু রাজীব আহামেদে?

তবে আমি যেহেতু বাংলাদেশে থাকি না, বাংলাদেশে রোগীদের চিকিৎসায় যুক্ত নই, কোন ওষুধ কোম্পানির সাথে জড়িত নই, স্বাস্থ্য বিষয়ক কোন বই লিখি না বা ২৫ হাজার টাকার ওয়ার্কশপ করাই না তাই এই লেখার পেছনে আমার কোন কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট বা স্বার্থ জড়িত নেই। রাজিব আহমেদ এর ক্ষেত্রে আছে। তবুও আমার কথা বিশ্বাস করার প্রয়োজন নেই। আপনি চাইলে নিজেই খুজে দেখতে পারেন, আমি কমেন্টবক্সে আমার দেয়া তথ্যের রেফারেন্স যোগ করেছি। গবেষণা প্রবন্ধ পড়ার অভ্যাস না থাকলে আপনি চ্যাট জিপিটিকেও জিজ্ঞেস করতে পারেন।

মোদ্দাকথা হচ্ছে ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক দেখে কোন ইনফ্লুয়েন্সার এর কথায় বিভ্রান্ত হবেন না বিশেষ করে স্বাস্থ্য তথ্যের ব্যাপারে। তথ্য দেখলে তা যাচাই করুন নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে যেমন বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা, সিডিসি, এফডিএ, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সেবা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বৈজ্ঞানিক জার্নাল। শিক্ষিত হোন, সচেতন হোন যেন কেউ আপনাকে নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থের কারনে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে।

লেখক:
ডা. মো: মারুফুর রহমান
এমবিবিএস, এমপিএই (এপিডেমিওলজি), এমএসসি (মলিকুলার মেডিসিন),
পিএইচডি ক্যান্ডিডেট
ডিভিশন অফ ক্লিনিক্যাল মেডিসিন,
দ্যা ইউনিভার্সিটি অফ শেফিল্ড, যুক্তরাজ্য
dr.marufrhmn@gmail.com

©

Address

Mirpur
Dhaka
1206

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr.Saidur Rahman Riad posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram

Category