23/11/2025
মানুষ ভূমিকম্প কে ভয় করে,⚡
অথচ ভূমিকম্প দেওয়ার মালিক কে না।
স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় গুলো ভূমিকম্প এর ভয়ে বন্ধ হয়,
অথচ এইগুলাতে প্রতিনিয়ত ঘটতে থাকা নাচ,গান ,বেহায়াপনা যেনা ব্যভীচার বন্ধ হয় না।
মানুষের কৃতকর্মের কারণে জলে স্থলে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে যাতে তিনি তাদেরকে তাদের কোন কোন কাজের শাস্তি আস্বাদন করান, যাতে তারা (পাপ কাজ থেকে) ফিরে আসে। [সূরা রুম-৪১]
হজরত মুসা আ.-এর সময়ে একবার অনাবৃষ্টি দেখা দিল। বহুদিন থেকে বৃষ্টি হচ্ছিল না। পশুপাখি পর্যন্ত অনাহারে ছটফট করছিল। এমতাবস্থায় হজরত মুসা আ. বনী ইসরাইলদের নিয়ে মাঠে বৃষ্টির নামাজ পড়ে দোয়া করতে গেলেন।
আল্লাহ বললেন, আপনাদের দোয়া ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত এই মজলিস থেকে এক ব্যক্তি উঠে না যাবে। সে আমার সাথে নাফরমানী করে যাচ্ছে এবং আমার সামনে নতি স্বীকার করছে না।
হজরত মুসা আ. মজলিসে ঘোষণা দিলেন, হে ভাই! কে সে নাফরমান? যার কারণে এতগুলো মানুষের দোয়া কবুল করা হবে না? দয়া করে তুমি মজলিস থেকে উঠে যাও। তোমার কারণে পশু-পাখিসহ এতো মানুষ অনাবৃষ্টিতে কষ্ট পাবে এ হয় না।
ঘোষণার পর মজলিস থেকে কেউ উঠল না। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে বৃষ্টি নেমে এল। মুসা আ. লজ্জায় আল্লাহকে বললেন, ইয়া আল্লাহ, সে লোক তো উঠল না। তারপরও বৃষ্টি হল। উম্মতের সামনে আমি ছোট হয়ে গেলাম। উম্মত আমাকে মিথ্যুক মনে করতে পারে। আল্লাহ বললেন, যার কারণে বৃষ্টি বন্ধ ছিল তার কারণেই এখন বৃষ্টি দিলাম। কারণ, আমার সঙ্গে সে সন্ধি করে ফেলেছে। সে তাওবা করে নতি স্বীকার করে নিয়েছে।
আসলে ঘটনা ছিল এ রকম, মুসা আ.-এর ঘোষণার পর ওই গুনাহগার ব্যক্তি লজ্জায় আল্লাহর কাছে নত হয়ে প্রার্থনা করল, হে মনিব! এই মজলিস থেকে এখন যদি আমি উঠে যাই তাহলে সবাই আমাকে নাফরমান বলে চিনে ফেলবে। আমাকে এতগুলো মানুষের সামনে লজ্জা দিও না। আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। আর নাফরমানী করব না। তার মনের অবস্থা দেখে আল্লাহর দয়া হল। তিনি তার গুনাহগার বান্দাকে অন্যদের সামনে অসম্মান না করে বৃষ্টি বর্ষণ করলেন।
মহান আল্লাহতায়ালা বান্দার কোনো দোষ নিজ থেকে প্রকাশ করেন না। বরং তিনি বান্দার গোপন দোষ-ত্রুটি লুকিয়ে রাখেন। এ কারণেই নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমার উম্মতের সবাইকে ক্ষমা করা হবে; তারা ছাড়া, যারা নিজ নিজ দোষ প্রকাশ করে দেয়।
ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা ওমর ইবনুল খাত্তাবের (রা.) শাসনকালে মদিনায় ভূমিকম্প হয়েছিল-
ওমর (রা.) যুগে একবার মদিনায় ভূমিকম্প হলো। তখন ওমর (রা.) এক ভাষণে বলেছিলেন, লোকসকল! কী হলো এটা! কত দ্রুত আপনারা নতুন কিছু নিয়ে এলেন! এ রকম কিছু যদি আবার হয়, তাহলে আমাকে আর মদিনায় পাবেন না, আমি মদিনা ছেড়ে চলে যাবো। (মুসনাদে আহমদ)
অন্য এক রেওয়ায়েতে ইমাম বায়হাকি উল্লেখ করেন যে, হজরত ওমর (রা.) মানুষকে বলেছিলেন, মানুষ যে গুনাহ সৃষ্টি করে, তার কারণেই ভূমিকম্প আসে। (শু‘আবুল ইমান, ৮/৩৬৪) তার বক্তব্যে স্পষ্ট দেখা যায়, ভূমিকম্প তার কাছে কেবল প্রাকৃতিক ঘটনা ছিল না; বরং এটি ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে সতর্কসংকেত।
আমরা সবাই জানি,আমরা নিজেরা কতটুকু পাপী।তাই সকলে,নিজের পাপের জন্য আমরা গোপনে আল্লাহর কাছে তওবা করি।