24/02/2026
আমরা যে দেশে বাস করি, সে দেশটা আসলে এক অসাধারণ গবেষণাগার। এখানে প্রতিদিন পরীক্ষা হয়, কীভাবে সবচেয়ে ভালো পরিকল্পনা করেও সবচেয়ে বাজেভাবে কাজ না করা যায়। এই গবেষণায় আমরা বিশ্বসেরা। হার্ভার্ড, অক্সফোর্ড, টোকিও সবাই আমাদের থেকে শিখতে পারে, কীভাবে “ভিশন ২০৪১” বানিয়ে ২০৬১ সালেও ফাইল খুলে দেখা যায়: Processing… Please wait.
আমাদের এখানে নেতা বানানোর ফ্যাক্টরি আছে। কাঁচামাল লাগে না, শুধু একটা মাইক, দুইটা স্লোগান, তিনটা আবেগী কান্না, আর চারটা ফেসবুক লাইভ। ব্যস, নেতা রেডি। দক্ষতা? ওটা ঐচ্ছিক। অভিজ্ঞতা? ওটা বিলাসিতা। সততা? ওটা বিদেশি পণ্য, আমদানি করতে হয়, শুল্ক বেশি।
আমাদের প্রশাসন এতটাই স্মার্ট যে তারা কোনো কাজ আজ করে না, কালও করে না, ভবিষ্যতেও না, তবু বেতন নেয় নিয়মিত। এটাকে বলে “স্টেবল ইনকাম মডেল”। পৃথিবীর কোনো স্টার্টআপ এত সফল না। এখানে ফাইল এত ঘোরে যে অলিম্পিকে দিলে গোল্ড মেডেল পেত। দৌড়ায়, কিন্তু কখনো ফিনিশ লাইনে পৌঁছায় না, কারণ পৌঁছালে কাজ শেষ হয়ে যাবে, আর কাজ শেষ হওয়া মানেই বিপদ।
ঘুষ এখানে অপরাধ না, একটা লুব্রিকেশন সিস্টেম। যেমন মেশিনে তেল না দিলে চলে না, তেমনি আমাদের অফিসে টাকা না দিলে ফাইল হাঁটে না। এটা আমরা এত নিখুঁতভাবে প্রতিষ্ঠা করেছি যে IMF চাইলে এটাকে “Alternative Economic Model” হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারে।
আমাদের বিচার ব্যবস্থা এত ন্যায়পরায়ণ যে মামলার রায় দেয় তখন, যখন বাদী–বিবাদী দুইজনই কবরে শুয়ে থাকে। তখন আর কেউ আপিল করে না, শান্তিতে থাকে সবাই।
রাস্তায় যানজট আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য। পহেলা বৈশাখ, একুশে ফেব্রুয়ারি, আর বিকাল পাঁচটা, সবই সমান গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকি, জানালার বাইরে তাকিয়ে জীবনকে রিফ্রেশ করি। মেডিটেশনের এই ফ্রি কোর্স পৃথিবীর কোথাও নেই।
সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপার হলো, আমাদের কোনো ব্যর্থতার দায় নেই। সব ব্যর্থতার জন্য দায়ী আগের সরকার, আগের আমলারা, আগের যুগ, আবহাওয়া, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র, আর মাঝে মাঝে গ্রহের অবস্থান। বর্তমান কেউ দায়ী না। বর্তমান মানেই পবিত্র।
আর এক্সিকিউটিভ লিডার? ওটা একটা মিথিক্যাল প্রাণী, ডাইনোসরের মতো। বইয়ে পড়েছি, ছিল নাকি একসময়। এখন শুধু পোস্টারে দেখা যায়।
তবু আমরা আশাবাদী। আমরা বিশ্বাস করি, আরেকটা কমিশন, আরেকটা কমিটি, আরেকটা মেগা প্রকল্প আমাদের উদ্ধার করবে। কারণ কাজ না করে সভা করলে দেশ চলে, এই দর্শনেই আমাদের সভ্যতা দাঁড়িয়ে আছে।
এই দেশে স্বপ্ন বানানো হয় পাঁচ তারায়, বাস্তবায়ন হয় শূন্য তারায়। আমরা পরিকল্পনায় সুইজারল্যান্ড, বাস্তবে সোমালিয়া।
তাই আমরা গর্বিত।
আমরা এমন একটি রাষ্ট্র বানিয়েছি,
যেখানে ভবিষ্যৎ সবসময় উজ্জ্বল,
কিন্তু কখনো আসে না।
কপি পেস্ট
মাহমুদ হাসান তাবিব।