20/04/2026
নার্ভ শক্ত না হলে মেডিকেলে পড়ারই দরকার নাই । বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মাত্র ১ বর্ষে ভর্তি হওয়া স্টুডেন্ট এরও কয়েকটা ব্যাপার জানা উচিৎ ।
একজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কারা ????
ধরুন আপনি ব্যাস্ত একজন প্র্যাকটিশানার । প্রতি ১০/১৫ মিনিট পর পর আপনার সামনে একটা নতুন মানুষ , নতুন এটেন্ডেন্ট , নতুন হিস্ট্রি , নতুন সাইকোলজি ।
চেয়ারে বসা আপনার মাথায় হাজারটা রোগের নাম ঘুরপাক খাচ্ছে । কিন্তু বাইরে আপনার কিছু শত্রু আছে -
১. সাংবাদিক
২. ঔষধ প্রতিনিধি
( বিশেষ করে যাদের ঔষধ লিখবেন না )
৩. আপনার কলিগ
( যখন তার রোগী এবং সুনাম আপনার চেয়ে কম )
৪. দালালরা
( যখনই তাদের রোগীর টেস্ট কম হবে যদি আপনি অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা না দেন )
৫ ঔষধের দোকানদার ,
এরা কারনে অকারনেই প্রসক্রিপশানের সমালোচনা করবে । ঔষধ বদলে দেবে ।
৬ . ভুয়া ডাক্তার
- এরা নিজেকে আপনার সমগোত্রীয় ভাবে ।
৮. রোগী নিজেও
ভিজিট দিয়ে অপেক্ষা করে রোগী আপনার সামনে এসেছে ।
৯. রোগীর লোক ,
পুরো সময় এরা আপনাকে অবজার্ভ করবে ।
১০. ক্লিনিক বা ডায়াগনোস্টিকের নন মেডিকেল কর্মচারীরাও ।
এদের কাজ আপনাকে জাস্টিফাই করা - কখনো পজেটিভ কখনো নেগেটিভ ।
১১. আম জনতা , ফেসবুকীয় বিপ্লবীগন ।
একবার যদি ছোট একটা ভুল পায় ... লাইভ ... তারপরই আপনাকে কোরবানী করে ভাইরাল , সেলিব্রেটি ।
১২. এলাকার আগাছা , পরগাছা , ডাল পালা , শাখা প্রশাখা , পাতি নেতা , উপরী নেতা , সহমত ভাই গ্রুপ , সহমত বইন গ্রুপ সবাই ।
১৩. বিনে পয়সায় পরামর্শ নেয়া পরিচিত অপরিচিত আত্মীয় , অনাত্মীয় সব ।
১৪. প্রশাসন
এতগুলো শত্রু মাথায় নিয়ে , বিনা নিরাপত্তায় চেম্বারে প্রতি ১০/২০ মিনিট পর পর নতুন সিনারিও , সমস্যা , সাইকোলজি , প্যাথলজি ডিল করে ডায়াগনোসিস, ট্রিটমেনেট , কাউনসেলিং ,ফলো আপ করে যাওটা মুখের কথা না ।
ভবিষ্যৎটা অনেক কম্পিটিটিভ এবং কঠিন । পাশ করা যেমন কঠিন তার চেয়েও কঠিন ফিল্ড তৈরি করা । আর সবচেয়ে কঠিন সেই ফিল্ড ধরে রাখা ।
পুরো জার্নিতে হতাশা হয়তো আপনার নিত্য দিনের সঙ্গী ... আছে ব্যাক্তিগত জীবন , আছে পারিবারিক দায়িত্ব ।
এই চ্যালেন্জ নিতে না পারলে মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার দরকার নাই ।
-ডা: মুস্তাফিজুর রহমান