02/04/2026
হামে শিশুর জীবন রক্ষা করতে পারে ভিটামিন এ ক্যাপসুল। বাচ্চার হাম না হলেও কি ভিটামিন এ ক্যাপসুল দিতে হবে? অভিভাবকদের জানা জরুরি।
১. কেন ভিটামিন এ ক্যাপসুল প্রয়োজন?
ভিটামিন এ কেবল হামের চিকিৎসায় নয়, বরং শিশুর শরীরের সার্বিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করতে কাজ করে। এটি শিশুকে অন্ধত্ব (রাতকানা রোগ), দীর্ঘমেয়াদী ডায়রিয়া এবং মারাত্মক নিউমোনিয়া থেকে রক্ষা করে।
২. হামের সাথে এর সম্পর্ক কী?
হাম হলে শরীরে ভিটামিন এ-র মাত্রা দ্রুত কমে যায়। এর ফলে শিশুর চোখের ক্ষতি হওয়া বা নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। নিয়মিত ভিটামিন এ ক্যাপসুল খেলে শিশুর শরীরে পর্যাপ্ত মজুদ থাকে, যা হাম হলেও তার তীব্রতা কমিয়ে জীবন রক্ষা করতে সাহায্য করে।
৩. কখন ও কতটুকু দিতে হবে?
বাংলাদেশে সাধারণত জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সরকারের পক্ষ থেকে বছরে দুইবার এই ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়:
• ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশু: একটি নীল রঙের ক্যাপসুল (১ লক্ষ আইইউ)।
• ১২ থেকে ৫৯ মাস (৫ বছর) বয়সী শিশু: একটি লাল রঙের ক্যাপসুল (২ লক্ষ আইইউ)।
৪. সচেতনতা ও সতর্কতা
• খালি পেটে ক্যাপসুল না খাওয়ানোই ভালো।
• ক্যাপসুলটির মুখ কাঁচি দিয়ে কেটে ভেতরে থাকা তরলটুকু শিশুর জিভে চিপে দিতে হয়। আস্ত ক্যাপসুল শিশুর মুখে দেবেন না, এতে শ্বাসরোধের ঝুঁকি থাকে।
• যদি শিশু গত এক মাসের মধ্যে অন্য কোনো কারণে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খেয়ে থাকে, তবে ক্যাম্পেইনে পুনরায় খাওয়ানোর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
তথ্য সূত্র: * বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) - ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্টেশন গাইডলাইন।
• জাতীয় পুষ্টি সেবা (NNS), জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ।
• ইউনিসেফ (UNICEF) - শিশু স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ক নির্দেশিকা।
হাম হলে বাচ্চার শরীরে ‘ভিটামিন এ’ এর ঘাটতি হয়। এতে চোখের কর্নিয়ার ক্ষতি, বাচ্চার অন্ধত্ব, চোখে আলসার, নিউমনিয়া, ডায়রিয়া, মুখে ও কানে ইনফেকশনসহ মৃত্যু ঝুঁকিও তৈরি হয়। এ অবস্থায় আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকুন। বাচ্চাকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে চিকিৎসকের পরামর্শে একটি ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো খুবই জরুরি। এটিই শিশুর জীবন রক্ষা করতে পারে।
কোন বয়সে কোন ক্যাপসুল দিতে হবে?
বাচ্চার বয়স ৬ মাসের নিচে হলে তাকে ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) ইউনিটের একটি এ ক্যাপসুল দিতে হবে।
৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সের শিশুকে একটি ১,০০,০০০ (এক লাখ) লাখ ইউনিটের এ ক্যাপসুল দিতে হবে। ১ লাখ ইউনিটের ক্যাপসুল না পাওয়া গেলে ৫০ হাজার ইউনিটের ২টি ক্যাপসুল দিতে হবে।
এবং ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সের শিশুকে ২,০০,০০০ (দুই লাখ) ইউনিটের একটি এ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে। ২ লাখ ইউনিটের ক্যাপসুল না পাওয়া গেলে ৫০ হাজার ইউনিটের ৪টি ক্যাপসুল দিতে।
৫ বাছরের উপরে বয়সের শিশু বা বয়স্কদের ২,০০,০০০ (দুই লাখ) ইউনিটের দুটি এ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে ০ থেকে ১৫ দিন পর । ২ লাখ ইউনিটের ক্যাপসুল না পাওয়া গেলে ৫০ হাজার ইউনিটের ৪টি ক্যাপসুল দিতে।
হাম না হলেও কি বাচ্চাকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল দেওয়া যাবে?
অবশ্যই দিতে হবে। তবে হামে আক্রান্ত শিশু ও হাম না হওয়ার শিশুর ক্ষেত্রে ডোজের ভিন্নতা আছে তা জানতে হবে।
হাম হলে ডোজ : হাম হলে বয়স অনুযায়ী প্রথম ডোজের ২৪ ঘণ্টা পর সেম ডোজ আরেকটি দিতে হবে।
হাম না হলে ডোজ : প্রথম দিনের একটি ডোজই যথেষ্ট।
এই তথ্যটি শেয়ার করুন, একটি শিশুর জীবন বাঁচাতে পারে।