Dr. Kamrul Islam

Dr. Kamrul Islam MBBS(Final Year)
Faridpur Medical College

05/02/2026

একটা মেয়ের পিরিয়ড শুরু হয় কবে থেকে? ১১/১২/১৩ এই বয়স থেকেই তো তাই না? তো এর মানে কি? পিরিয়ড যখন হচ্ছে যখন দেহের ভিতর কোনো স্পার্ম আসে না তখন নারীদেহ তার তৈরিকৃত ডিম্বাণু কে ত্যাগ করে শরীর থেকে৷
ডিম্বাণু তৈরি হয়ই শুক্রাণু কে ওয়েলকাম করার জন্য। যেহেতু আসছে না এজন্য তা দেহ থেকে বের হয়ে যাচ্ছে আর একেই নাম দিয়েছে পিরিয়ড।
তো পিরিয়ড এর উদ্দেশ্য হচ্ছে স্পার্ম কে দেহের ভিতর আনার জন্য, কতো বছর থেকে? ১২/১৩ বছর।
এই বয়স থেকে তার দেহ, তার বায়োলজি বলছে যে সে এখন বাচ্চা নিতে প্রস্তুত; তার দেহ ডিম্বাণু তৈরি করছে কিন্তু সেকুলার সমাজ তাকে এখানো ' শিশু' বলে বেড়াচ্ছে৷ অথচ ইসলামের ভাষায় সে এখন শিশু না, সে বালেগা এখন৷ বিয়ের উপযুক্ত সে।

CDC-এর Youth Risk Behavior Surveillance System নামে ২০১৭ সালের একটি জরিপে বলা হয়েছে
১৩ বছরে পদার্পণের আগেই কমপক্ষে ১ জনের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করেছে ১৪ বছরের ২.২% মেয়ে, ৫.৭% ছেলে, (বয়স ১৫) ২.২% মেয়ে, ৪.৬% ছেলে। গড়ে ২% মেয়ে এবং ৪.৮% ছেলে ১৩ বছরের আগে শারীরিক সম্পর্ক করেছে।[১]
যুক্তরাজ্যের পত্রিকা The Guardian ২০০৯ সালের অগাস্টে '1 in 3 teenage girls tell of sexual abuse by their boyfriends' শিরোনামে একটি খবর প্রকাশ করে। সে খবরে NSPCC ও Bristol University-এর একটি জরিপের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয় যে, ১৩-১৭ বছর বয়সি যুক্তরাজ্যের ৯০% মেয়ের অন্তরঙ্গ সম্পর্ক থাকে।[২]
অ্যামেরিকান দের মধ্যে ৪১% হচ্ছে বিয়ে বহির্ভূত প্রেমের ফলে জন্ম নেয়া শিশু৷
'শিশুরা' যদি যৌনতা কি তা না-ই বুঝে, তাহলে কেন তারা শিশুর বেধে দেয়া বয়স ১৮ এর আগে যৌ--ন সম্পর্কে লিপ্ত হচ্ছে? কেন তারা লিভ টুগেদার করছে? কিভাবে তারা বাচ্চা জন্মদান করছে? বাচ্চাদের তো বাচ্চা দেয়ার সক্ষমতা থাকে না। যদি তারা বাচ্চা দিয়েই ফেলে, তাহলে তারা নিজেরা বাচ্চা কিভাবে হয়? সে তো বালেগা নারী হয়ে গেলো৷
The fate of empire নামের একটি গবেষণা করে জন গ্লাব নামের এক ঐতিহাসিক যিনি প্রায় ১০ টি সাম্রাজ্যের উপর গবেষণা চালান ও এই কনক্লুশনে আসেন যে, ' প্রতিটি সাম্রাজ্যের পতন তখনই ঘটেছে যখন তারা ব্যাতিব্যাস্ত হয়ে পড়েছে ভোগবাদী বিলাসী জীবনে। তারা যখন অবাধ যৌ-*না-চার ও বিকৃত যৌ-**নাচারে পূজা করা শুরু করেছে, বুদ হয়ে আছে মদ ও শরীরের নেশায় তখন সাম্রাজ্যের পতন ঘনিয়ে আসা শুরু করেছে৷[৩]

©

ফার্মেসিতে স্যাকমোর কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া  শিশুটা মারা গিয়েছে। বিগত কয়েকদিনে ১০০ জনে মত রোগী দেখেছি...
23/08/2025

ফার্মেসিতে স্যাকমোর কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুটা মারা গিয়েছে।

বিগত কয়েকদিনে ১০০ জনে মত রোগী দেখেছি যার মধ্যে ৮০-৯০% ই ছিল ডেংগু বা চিকুনগুনিয়া জ্বরের রোগী।

ডাক্তার না দেখিয়ে কি কি ওষুধ খেয়েছে-- এই কথা আমি রোগীদের জিজ্ঞেস করি।

আরবোভাইরাল ফিভারে যেহেতু শরীরের ব্যথা থাকে সেজন্য অনেকেই ব্যথার ওষুধ খেয়ে আসে।

রোগী দেখতে গিয়ে এরকম বেশ কিছু রোগী পেয়েছিলাম যারা ব্যথার ওষুধ খেয়ে এসেছিল ।

জ্বরে আক্রান্ত ১৪ বছরের বাচ্চার হিস্ট্রি নিয়ে জানলাম সে ৪ টা Diclofenac সাপোজেটরি নিয়েছে ওষুধের দোকানদের কথায়। পরবর্তীতে টেস্টে ডেংগু পজিটিভ এসেছিল এবং প্লেটলেট কম ছিল।

বাবা আর ছেলে ব্যথার ওষুধ খেয়ে এসেছিল।এরাও ডেংগু পজিটিভ হয়েছিল এবং দুজনের প্লেটলেটের অবস্থা খারাপ ছিল।

মাথাব্যথা সহ্য করতে না পেরে টাফনিল খেয়েও কয়েকজন রোগী এসেছিল।

এসব ব্যথার ওষুধ অল্প সময়ের জন্য খেলেও শরীরের ভেতর রক্তক্ষরণের একটা থিওরিট্যাল রিস্ক থাকে। কিন্তু ডেংগু জ্বরে আলাদাভাবে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি থাকে। তাই ডেংগু রোগী যদি এসব ব্যথানাশক খায়, তখন ঝুঁকিটা আর কেবল তাত্ত্বিক থাকে না—বরং বাস্তবেই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

এর সাথে ব্যথানাশক ওষুধ কিডনিতে রক্ত চলাচল কমিয়ে দেয়।আবার ডেংগু/ ভাইরাল ফিভারে রোগীর পানিশূন্যতা হয়েও কিডনিতে রক্ত চলাচল কমে গিয়ে কিডনির ক্ষতি হতে পারে।

তাছাড়া প্রায় সময় দেখি,ছোট বাচ্চাদের ওষুধের দোকানদাররা ১-২ দিনের জ্বরে এন্টিবায়োটিক দিয়ে দেয়। শিশুরা অপ্রয়োজনীয় এন্টিবায়োটিক বেশি খেলে তাদের শরীরের ভাল ব্যাকটেরিয়াগুলোর সংখ্যা কমে গিয়ে ভাল-খারাপ ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হয় (Dysbiosis)।
এই Dysbiosis এর কারণে তাদের Autoimmune Disease হবার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

Juvenile Idiopathic Arthritis হচ্ছে এমনই একধরনের Autoimmune Disease যার সাথে Antibiotic Overuse এর সম্পর্ক পাওয়া গিয়েছে।

প্রেস্ক্রিপসন ছাড়া এন্টিবায়োটিক বিক্রি করার শাস্তির আইন থাকলেও ,আজ পর্যন্ত এই আইনে কারো শাস্তি হয় নি মনে হয়। সবাই সাধু।
ওষুধের দোকান দিয়ে যারা চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে ,তাদের ব্যাপারে সরকার ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।তারা শুধু ডাক্তারদের পিছনে লেগে আছে।

এদেশের ডাক্তাররা দীর্ঘদিন যাবৎ হাতুড়ে ডাক্তার ও ওষুধের দোকানদের অপচিকিৎসায় ক্ষতিগ্রস্থ রোগীদের ড্যামেজ কন্ট্রোল করে যাচ্ছেন।কোন সরকারই এই হাতুড়েবাহিনী আর হারামখোর ওষুধের দোকানদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে নাই। বর্তমানে ক্ষমতায় থাকা অযোগ্য লোকদের কাছ থেকে তো আশাও করা যায় না।

এজন্য ক্ষমতাসীনরা ব্যবস্থা নিবে-- এই আশায় বসে না থেকে নিজেই সচেতন হবার চেষ্টা করেন। স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যেকোন সমস্যায় অন্তত একজন এমবিবিএস ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

© Dr Farhad Hossain

12/07/2025

আমাদের নবীজি (স:) সেই সময় একটি স্বাস্থ্য প্রথা প্রচলন এবং সমর্থন করতেন।এবং সাহাবা দের উৎসাহ দিতেন। এই প্রথার নাম #তহনীক।
তহনীকের জন্য একটু নরম পরিষ্কার আজোয়া খেজুর নেয়া হতো। এবং সেটাকে ভাল ভাবে ধোয়া হতো। এরপর একজন বিশ্বাসী পরিষ্কার এবং অবশ্যই সুস্থ ব্যাক্তি খেজুর টাকে মুখে নিয়ে চিবিয়ে একদম পেস্টের মতো করে ফেলতেন। তারপর আংগুলে সামান্য কিছু খেজুর নিয়ে নবজাতক শিশুর তালুতে ঘষতেন। এবং খেয়াল রাখতেন যেন খেজুরের কোন টুকরো শ্বাসনালী তে না যায়।
চলুন এই তহনীক কে সে সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে মেডিকেল সাইন্স দিয়ে ব্যাখ্যা করি।
Neonatal Hypoglycaemia নামে নবজাতকদের একটি সমস্যা হয়। এতে শিশু জন্মের সময় কম Blood Glucose নিয়ে ভূমিষ্ঠ হয়।ব্রেনের একমাত্র খাদ্য Glucose. তাই Neonatal Hypoglycaemia নবজাতকের ব্রেনে মারাত্মকভাবে ক্ষতি করে ফেলতে পারে।

২০০৬ সালে Lancet এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, hypoglycemia newborn দের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা, বিশেষ করে যেসব বাচ্চা সময়ের আগে জন্মায় বা ওজনে কম। সেই ক্ষেত্রে মুখগহ্বরে গ্লুকোজ দেয়া এক জরুরি ব্যবস্থা।

এখনো বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হবার পর এই জন্য প্রতিটি বাচ্চা কে Blood Glucose করানো হয়। Hypoglycaemia আছে কিনা দেখার জন্য। আমাদের নবীজির সময় তো Glucometer ছিল না। এই প্রথা টা সেই সাপেক্ষে কতোটা সাইন্টিফিক ছিল একবার ভাবি।
শুধু কি তাই?

চর্বিত খেজুর অর্থাৎ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মুখগহ্বরের কিছু ভালো ব্যাকটেরিয়াও নবজাতকের মুখে চলে আসে, যা নবজাতকের পাচনতন্ত্রে উপকারী microbiome গঠনে সহায়ক হতে পারে।
প্রাকৃতিকভাবে এই প্রক্রিয়াটি একটি “oral microbial seeding” হিসেবেও কাজ করতে পারে।

এছাড়া খেজুরে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইটোকেমিক্যাল নবজাতকের জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং কিছু প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

তবে এটার কিছু স্বাস্থ্য ঝুকি ও ছিলো , যেমন চর্বিত খেজুর অন্য কারো মুখ থেকে আসছে; যদি সেই ব্যক্তির মুখে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাক থাকে (যেমন: হেরপিস, ক্যান্ডিডা, H. pylori), তবে তা নবজাতকের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। যদি খেজুরের টুকরো বা রস ভুলভাবে নবজাতকের গলায় বা শ্বাসনালীতে ঢুকে যায়, তবে তা Aspiration Pneumonia বা শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে।

কিন্তু নবীজি এই ঝুকি কমানোর জন্যই তহনীক যিনি করতেন তাকে আগে ওজু করে পবিত্র হতে বলতেন,এবং কেবল মাত্র সুস্থ ব্যক্তিকে নির্বাচন করতেন। এবং তালুতে ঘষার সময় সতর্ক থাকতে বলতেন।

ভাই এই Practice টা কিন্তু আজকের নয়, ১৫০০ বছর আগের সাপেক্ষে রিস্ক বেনিফিট রেশিও চিন্তা করলে এতো সুন্দর বৈজ্ঞানিক একটি স্বাস্থ্যপ্রথার কথা চিন্তা করে সত্যি আমার অবাক লাগে।
মনে রাখবেন Neonatal hypoglycaemia একদম বিরল নয়। LBW এর বেবীদের , যে মা দের Diabetes থাকে তাদের নবজাতকদের খুব Commonly Neonatal Hypoglycemia থাকে।
এখন চিকিৎসা শাস্ত্র অনেক এগিয়ে গিয়েছে।অনেক Investigation আমরা মুহুর্তের মধ্যে করে ফেলতে পারি। চিকিৎসা শুরু করতে পারি।আজ হয়তো তাই এই Practice এর দরকার পরে না।
আমার কথা ১৫০০ বছর আগের সেই সময় এই প্রথাটা কতো না ,Life Savings ছিলো। যখন কেউ জানতোই না Hypoglycaemia কি।
আরেক টি মজার ব্যাপার বলে শেষ করি। আরবে শুধু খেজুরই কিন্তু পাওয়া যেতো না। আঙুর ছিলো। আনার ছিলো। সেগুলো তো অনেক নরম ফল। এমনি চিন্তা করলে আনার এর দানা গলিয়ে মুখে দেয়া বা মুখের ভেতর আঙুর এর মতো নরম ফল গলিয়ে দিতে পারতেন।
কেন তিনি সব রেখে এখানে খেজুর ব্যবহার করতেন?

জেনে অবাক হবেন, পৃথিবীতে যত ফল আছে, এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি Glucose থাকে খেজুরে। বিজ্ঞান কিন্তু তখন এটা জানতো না। কিন্তু নবীজি খেজুর কে বেছে নিয়েছিলেন। ব্যাপার টা খুবই ঐশ্বরিক না?

#ডাঃসওগাত_এহসান

এক অশিক্ষিত ফার্মেসি দোকানদারের কাণ্ডCotson vs Cortanএকজন রোগী ওজন বাড়ানোর জন্যে হারবাল মেডিসিন খেয়েছিলেন। আমার কাছে এসে...
14/06/2025

এক অশিক্ষিত ফার্মেসি দোকানদারের কাণ্ড

Cotson vs Cortan

একজন রোগী ওজন বাড়ানোর জন্যে হারবাল মেডিসিন খেয়েছিলেন। আমার কাছে এসেছিলেন ইদানিং খুব ক্লান্ত লাগে এবং ওজন ৬০ কেজি থেকে কমে ৩৯ কেজিতে এসেছে।

পরীক্ষা করে দেখলাম তার Serum Cortisol হরমোন অনেক কমে গেছে। এবং বর্তমানে খুব ক্রিটিকেল অবস্থা। স্বাভাবিক মাত্রায় শরীরের হরমোন মেইনটেইন করার জন্য Tab. Cotson 20mg daily দিয়েছিলাম। এর ৩ মাস পরে সাক্ষাৎ করতে বলেছিলাম।
রোগী এসেছে ৬ মাস পরে।

এবার দেখি রোগী আরও ভয়াবহ অবস্থায় আমার কাছে এসেছে।
Proximal Myopathy, Severe weakness, Skin striae, আরও অনেক কিছু।

কোন কিছু মিলছে না। কিভাবে সম্ভব। COTSON 20mg খেয়ে এই অবস্থা কোন ভাবেই সম্ভব না। বারবার জিজ্ঞেস করলাম আসলেই কি ২০ মিলিগ্রাম খায়। সব ঠিক আছে। পরে বললাম, ওষুধ কি কাছে আছে? থাকলে বের করেন দেখি। এটা দেখেই বুঝতে পারলাম আসল কাহিনী।

২০ মিলিগ্রাম Cotson না দিয়ে, দোকানদার ২০ মিলিগ্রাম Cortan দিয়েছে। বলেছে একই কাজ করবে। কোন সমস্যা নেই।

CORTAN 1mg হলো 4-5mg Cotson এর সমান। দুটোই স্টেরয়েড কিন্তু পাওয়ার আলাদা।

তাহলে রোগী ৬ মাস ধরে যদি ২০ মিলিগ্রাম Cotson এর পরিবর্তে ১০০ মিলিগ্রাম Cotson (যা ২০ মিলিগ্রাম Cortan থেকে এসেছে) খায় তাহলে কী অবস্থা হবে একটু চিন্তা করুন। এরকম ঘটনা এই প্রথম না, এর অগেও কয়েকবার এই ঘটনা ঘটেছে।

হারবালের অবস্থা কী আর বলব।
হারবালের একটা বড় অংশই স্টেরয়েড মিক্স।
সবগুলো ULTIMATELY আমাদের কাছে আসে রক্তে Cortisol hormone কমে যাওয়া সম্পর্কিত সমস্যা নিয়ে।

অশিক্ষিত ফার্মেসীর দোকানদার দেশের সাধারণ মানুষকে শেষ করে ফেলছে। সবাইকে ওষুধের দোকান বা ওষুধ বিক্রির অনুমতি দেওয়া উচিৎ না। সরকারের এই বিষয়ে দৃষ্টি দেওয়া উচিৎ।

(এবার তো প্রেসক্রিপশন টাইপ করা, দেখি এবার কী যুক্তি দেয় আগে হাতের লেখা ঠিক করেন দলের সদস্যরা।)

লেখক : ডা. রাকিবুল হাসান
এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট

13/06/2025

টাইম লাইনের সবাইকে ব্যাথার ঔষধ সংক্রান্ত কয়েকটা কথা বলি-
১. Diclofenac (ডাইক্লোফেন/ Voltalin) ঔষধ টা ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কখনোই খাবেন না--
২.. Voltalin suppository ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া কখনোই ব্যবহার করবেন না-
৩.. যারা ডাক্তার আছেন, তারা ব্যাথার জন্য Diclofenac সব সময় এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করবেন, কখনো কোন রোগীকে Diclofenac প্রেশক্রিপশন করবেন না,
acute pain এ Voltalin suppository SOS রাখতে পারেন, তবে তাও যেন ২ দিনের বেশি না হয়-

৪.. ৫ দিনের উপর Diclofenac / Voltalin ব্যবহার করলে AKI developed করা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা--
যারা নন মেডিকেল, তাদের উদ্দেশ্যে বলে রাখি-
AKI মানে হঠাৎ করে কিডনি ড্যামেজ হওয়া, ৫-৭ দিন টানা ব্যাথার ঔষধ বিশেষ করে Diclofenac খেলে কিডনি ড্যামেজ হতে পারে--

৫..serum creatinine 1.1 mg /dl এর বেশি থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ভাবেই কোন ব্যাথার ঔষধ খাবেন না--

৬.. ডাক্তার ভাইয়েরা, serum creatinine 1 এর উপর দেখলে অবশ্যই তার EGFR calculation করবেন, EGFR below 60 হলে কোনো NSAIDs দিবেন না

৭.. NSAID এর পরিবর্তে ব্যাথার জন্য Paracetamol /Napa 500 mg দুইটা একত্রে দিবেন-

৮.. Tramadol + Paracetamol =Napadol দিতে পারেন

৯.. যারা হার্টের রোগী, তারা কখনোই Etoricoxib খাবেন না অথবা ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতীত দোকান থেকে কোন ব্যথার ঔষধ কিনে খাবেন না।
নিজের ইচ্ছামতো দোকান থেকে অথবা ডাক্তার না দেখিয়ে দোকানদারের কথা মত কোন ধরনের ব্যথার ঔষধ সেবন করবেন না। এতে আপনার মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে বিশেষ করে কিডনি নষ্ট হয়ে যেতে পারে!

জনস্বার্থে পোস্টটি শেয়ার করুন মানুষকে সচেতন করুন।

সন্তান বড় হলে, সন্তানের বিছানা আলাদা করা অবশ্য কর্তব্য! কেন করবেন?রিবা (ছদ্ম নাম)। বয়স সাত। ওয়ানে পড়ে। ধবধবে ফর্সা। মাথা...
22/05/2025

সন্তান বড় হলে, সন্তানের বিছানা আলাদা করা অবশ্য কর্তব্য! কেন করবেন?

রিবা (ছদ্ম নাম)। বয়স সাত। ওয়ানে পড়ে। ধবধবে ফর্সা। মাথা ভর্তি কোকড়ানো চুল। টলটলে চোখ। মনে হয় একটু ছুঁয়ে দিলেই ব্যস। চোখের মায়া আবীর হয়ে হাতে লেগে যাবে। প্রজাপতির রঙের মতো।

ওর মায়ের সাথে সেদিন চেম্বারে এসেছে। প্রসাবে জ্বালা পোড়া। তল পেটে ব্যথা। মায়ের ভাষ্য, ম্যাডাম, পিসাব করনের সময় খালি কান্দে আর লাফায়। পেট চেপে খিচ্চা বইসা থাকে।

পরীক্ষা করে দেখতে চাইলে, প্যান্ট খুলে রিবার মা যা দেখালো তার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না, বললেই ভালো। সরাসরি জিজ্ঞেস করলে মা বলবে, কী যে কন, ছোট মানুষ। মনেমনে দু-একটা গালিও যে দিবে না, বলা যায় না।

ডাক্তারদের এ এক জীবন! কত কী যে দেখতে হয়! ঘুরিয়ে প্যচিয়ে জিজ্ঞেস করি, বাড়িতে কে কে আছে?

ওর বাপ আর আমি।

আর কেউ না?

না ম্যাডাম। তবে পাশেই ভাসুরের বাসা।

ও কার সাথে খেলাধুলা করে?

আমার ভাসুরের পোলার সাথে। বয়স এগারো বারো। সিক্সে পড়ে। সারাদিন দৌড়াদৌড়ি ঝাঁপাঝাপি। ভিডিও গেমস, ইউটিউব নাকি কি কয় এসব নিয়া থাকে। সারা বাড়িতে আর বাচ্চাকাচ্চা নাই তো। অরা অরাই খেলে। আমিও তেমন খেয়াল করি না। আহারে বাচ্চারা!

বাড়িতেই তো থাকে সারাদিন। হয় দাদির ঘর, নয় চাচির ঘর। আসলে মাইয়া আমার এই একটাই। মিছা কইয়া লাভ নাই। চাচা চাচিও আদর করে। খুব। মিতুল (ছদ্ম নাম) তো বইন বলতে অজ্ঞান।

কখনো জিজ্ঞেস করেছেন, কি খেলা খেলে?

না ম্যডাম। কী খেলব আর, চোর পলান্তি। পুতুল খেলা। এই সব আরকি। জিগানোর কী আছে?

আছে, এখন জিজ্ঞেস করেন তো।

রিবা, মিতুল ভাইয়ার সাথে কি খেলাধুলা করো বলো তো মা?

বউ জামাই খেলি।

বউ জামাই খেলা কী করে খেলো?

মেয়ে যা বর্ণনা দিলো, শুনে মা মুর্ছা যান আরকি! ছোট বাচ্চার আর দোষ কি? বাচ্চারা অনুকরণ প্রিয়। এটা সবাই জানে। বড়রা অবিবেচকের মতো কাজ করবে আর বাচ্চাকাচ্চা দেখে শুনে চুপ করে বসে থাকবে, এটা ভাবার কারণ নেই। আসলেই নেই।

ওহ, ভালো কথা। রিবা, মিতুল কাকে অনুসরণ করল? বাবা মাকে? টিভি সিনেমাকে? নাকি ইউটিউবকে? কাউকে না কাউকে তো অবশ্যই।

রিবা, এ ধরনের খেলা তো ভালো না মা। এটা পঁচা কাজ। কথা শেষ করতে দেয়না পাকনি বুড়িটা। টাসটাস করে মুখের ওপর বলে ওঠে, বাবা-মা খেলে যে! তাহলে বাবা-মা কি পঁচা?

কী উত্তর দেবে রিবার মা? উত্তর দেয়ার কি মুখ থাকে? মহিলা হতবিহ্বল হয়ে পড়ে। যেনো পায়ের তলায় কোন মাটি নেই। বেচারা!

রিবার মাকে প্রশ্ন করি, আপনারা কি স্বামী-স্ত্রী রিবাকে নিয়ে এক বিছানায় ঘুমান?

হ ম্যাডাম। ছোট বাচ্চা। ওর বাপে কয়, কী বুঝব? ও ঘুমালেই তো কাদা। লোকটার খাই বেশি। বাচ্চা ঘুমালো কি ঘুমালো না। তর সয় না। আমি আগেই কইছিলাম। হাহাকার থই থই কান্না হয়ে ঝরে পড়ে। আহারে!

দেখুন, আমরা বাচ্চাদের যতটা নির্বোধ মনে করি, আসলে ততটা নির্বোধ ওরা না। বরং একটু বেশিই বুদ্ধি রাখে ওরা। শুধু আমরা বড়রাই এ কথাটা মানতে চাই না। আমাদের দিয়ে ওদের হিসেব করি। কিন্তু ওরা হিসেবে বাবা-মা'দের চেয়ে পাকা। যে কাজটা বাবা মা করে, সে কাজটা খারাপ কিভাবে হয়? কাজেই বাবা-মা, বউ-জামাই খেলা তারা খেলতেই পারে। তাদের তো দোষ দেয়া যায় না। একটু ভেবে বলুন তো, যায় কি?

আসলে একটা নির্দিষ্ট সময় পর সন্তানদের বিছানা আলাদা হওয়াই বাঞ্চনীয়। সবার পক্ষে হয়তো, সন্তানদের জন্য আলাদা আলাদা রুম দেয়া সম্ভব না। সে ক্ষেত্রে অন্তত বিছানাটা আলাদা করা যায়। বাবা-মায়ের বিছানাটা কাপড় দিয়ে পার্টিশন দেয়া যায়। মশারির মতো। আর নিতান্তই যদি সম্ভব না হয়, শিশু সম্বলিত সংসারে দম্পতিদের অবশ্যই সর্বোত্তম সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কী সেটা আমি জানিনা। আর সবার ঘরে নিশ্চয় একরকম ফর্মূলা চলবে না। নিজের ঘর অনুযায়ী নিজেদের ফর্মূলা তৈরী করুন প্রিয় অভিভাবক।

আমরা বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে ঘুরতে যাই। মজার মজার খাবার খাই। দামী দামী গেজেট দেই। নতুন নতুন ট্রেন্ডি জামা কাপড় পরাই। কিন্তু সবচেয়ে দামী যে লেসন সেটাই দেই না। হেলথ এডুকেশন, সেক্স এডুকেশন। কত্ত জরুরি যে এসব জীবনমুখী শিক্ষা। কী আজব আমরা! কবে বুঝব এর গুরুত্ব? আর কত ভুল বার্তা দেহ মনে নিয়ে বড় হবে আমাদের শিশুরা?

বাচ্চাদের কি কি করা উচিৎ আর কি কি না সেটা বলুন। ছোটদের কাজ, বড়দের কাজ কি কি জানান। ধীরে ধীরে নিজের শরীর সম্বন্ধে শিক্ষা দিন। গুড টাচ, ব্যাড টাচ সম্পর্কে জানান। নারী-পুরুষের যৌন জীবন সম্বন্ধে শিক্ষা দিন। ধীরে ধীরে, সহজ করে। কাজের লোক কিংবা ক্যানভাসারের কাছে ভুল জানার চেয়ে, বাবা মার কাছে জানা ভালো নয় কি?

প্রিয় অভিভাবকগন, সন্তানের কথা বিশ্বাস করুন। সন্তানের বন্ধু হোন। ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করুন এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করুন। মনে রাখা ভালো, লালন পালন করাই কিন্তু শেষ কথা না। সন্তানকে সুরক্ষিত রাখাও বাবা-মার পবিত্র দায়িত্ব।

আসুন ঠিকঠাক দায়িত্ব পালন করি। ওদের জীবনটা আরেকটু সহজ করি।

✍️ - ডাঃ সাবিকুন নাহার

22/05/2025

বেশ কয়েকবছর আগের ঘটনা। আমি তখন সদ্য MRCP পাশ করেছি, ইংল্যান্ডের বিখ্যাত রয়্যাল কলেজের মেম্বার। সেই সময়টায় মাথায় লেখাপড়া ঠাসা ছিলো, রোগী আসে আর ধুপধাপ্ রোগ ডায়াগনোসিস করে চিকিৎসা দিয়ে দেই...

আমার এমন ফ্লাইং কালার কন্ডিশনে হাই প্রেসার নিয়ে বছর পঞ্চাশেক এক মহিলা চেম্বারে এলেন। আমি বেইজলাইন বেশ কিছু পরীক্ষা করতে দিলাম। রিপোর্ট আসলো, রিপোর্টে চর্বির পরিমাণটা বেশী, ভদ্রমহিলার ইউরিক এসিড আগে থেকেই বেশী ছিলো, প্রসাব দিয়ে প্রোটিন (অ্যালবুমিন) বের হয়ে যাচ্ছে, ECG তে হার্টটাও বড় পেলাম...

হাইপ্রেসারের অসংখ্য ওষুধের মাঝে আমি Losartan (ব্র্যান্ড নেইম Tab.Osartil) টাকে চুজ করলাম। এ ওষুধ পছন্দ করার পেছনে Rationality ছিলো এই যে,

১.এটা প্রেসার কমায়
২.এটা কিডনী দিয়ে প্রোটিন লস কমিয়ে কিডনীর খারাপ হওয়াকে স্লো করে
৩.এটা রক্তের চর্বি (ট্রাইগ্লিসারাইড) কমায়
৪.এটা ইউরিক এসিডও কমায়
৫.হার্টের বড় হয়ে যাওয়াটা প্রিভেন্ট করে হার্টটাকেও সুরক্ষিত রাখে ...

মোটা দাগে, এক ঢিলে পাঁচ পাখি মারার মত অবস্থা! সমসাময়িক অন্য কোন প্রেসারের ওষুধের এই ইউনিক বৈশিষ্ট্যগুলো নেই। ভদ্রমহিলার যেহেতু সবগুলো কন্ডিশনই আছে, ওনার জন্য এই ওষুধটা সেহিসেবে ছিলো একটা পারফেক্ট চয়েজ, বিধাতার আর্শীবাদ। উনি সেই চিকিৎসা নিয়ে হাসিমুখে বিদায় নিলেন...

ভদ্রমহিলার সাথে এরপর আমার শেষ দেখা হয় কোভিডের সময়টায়। ঐসময়টায় চেম্বারে তেমন একটা রোগী হতো না, চারদিকে লক ডাউন অবস্থা। এমনই একদন বিকেলে চেম্বারে বসে মোবাইলে স্ক্রল করছিলাম। এমন সময় ইমার্জেন্সী মেডিকেল অফিসারের কলে ইমার্জেন্সীতে যেতে হলো। গিয়ে দেখি আমার সেই মহিলা রোগী সম্পূর্ণ অচেতন হয়ে বেডে পড়ে আছেন। হঠাৎ করেই নাকি বমি করে দ্রুত অজ্ঞান হয়ে গিয়েছেন, প্রেসার খুব হাই, চোখের তারারন্ধ্র ছোট (pin point pupil) হয়ে আছে। ধারণা করলাম পনটাইন হেমোরেজ (Pontine Haemorrhage), বেশ খারাপ ধরণের একটা স্ট্রোক, বাঁচার সম্ভাবনা বেশ কম। রোগীকে আরো উন্নত হাসপাতালে শিফট করতে হলো...

তবে রেফার করার আগে ভদ্রমহিলার মেয়ের সাথে আমার কথা হয়েছিলো, জানতে পারলাম আমার দেয়া ওসারটিল ট্যাবলেট বাদ দিয়ে স্থানীয় ফার্মেসীওয়ালার কথা শুনে টেনোলক (Tab.Tenoloc, জেনেরিক নেইম Atenolol) নামে প্রেসারের একটা ওষুধ নিয়মিত খেতেন, গত কয়েকদিন সেটাও বন্ধ ছিলো...

আমার দেয়া ওসারটিল ট্যাবলেটটা আমি বেশ চিন্তাভাবনা করে দিয়েছিলাম। বাহ্যিক ভাবে মনে হবে খুব সাধারণভাবে একটা ওষুধ লিখে দিয়েছি। অথচ আমি জানি ওষুধটা লিখবার সময় আমার ব্রেইন বনবন করে ঘুরেছে, রোগীর অনেকগুলো শারীরিক ফ্যাক্টর নিয়ে ইন্টারলিঙ্ক করতে হয়েছে। আমার চিন্তাভবনা তার পছন্দ হয়নি, উনার পছন্দ হয়েছে ক্লাস ফাইভ পাশ ফার্মেসীওয়ালার কথা...

ফার্মেসীওয়ালা যে টেনোলক(জেনেরিক Atenolol) ট্যাবলেটটা দিয়েছে, আমরা ডাক্তাররা হাই প্রেসারের জন্য সাধারণত এই ওষুটটা এখন আর ব্যবহার করি না। বেশ কিছু স্টাডি এবং মেটাঅ্যানালাইসিস রয়েছে যে টেনোলক প্রেসার কমালেও স্ট্রোকের চান্স বাড়াতে পারে। এছাড়া ওষুধটা কিছুদিন খাবার পর হঠাৎ করে বন্ধ করলে প্রেসার হুট করে মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যায় (রিবাউন্ড হাইপারটেনশন) এবং শারীরিক ধ্বংসের সূচনা করতে পারে। উনার ক্ষেত্রে সেটাই হয়েছে। ওহ, আরেকটা বিষয় হলো এই যে,এই ওষুধটা রক্তের চর্বির মাঝে গোলমাল তৈরি করে, ভালো চর্বিকে কমিয়ে খারাপ চর্বিকে বাড়িয়ে দেয়...

ফার্মেসীওয়ালার কথা শুনে এই যে নিজের চরম ক্ষতি করা--বাঙালির এ মনোজাগতিক আচরণ আমার কাছে দুর্বোধ্য, এ আচরণ নি:সন্দেহে অদ্ভুত! আমি পাজলড্ অবস্থায় রোগীটির চেহারার দিকে তাকিয়ে রইলাম, একটা সময় পর্যন্ত এ ধরণের রোগীর প্রতি আমার সিমপ্যাথি কাজ করতো, এখন আর করে না...

পৃথিবীতে কিছু মানুষের উৎপত্তি হয় ধ্বংস হবার জন্য। আপনি এদের যতই ভালো পরামর্শ দেন না কেন, আপনি তাদের যতই ভালো চান না কেন, তারা তাদের বক্র পথ থেকে কখনো সরবে না। এটাই তাদের নিয়তি এবং তাতে এখন আমার কিছুই যায় আসে না...

"I tried so hard, and got so far
But in the end, it doesn't even matter
I had to fall to lose it all
But in the end, it doesn't even matter..."

© ডা. জামান অ্যালেক্স

Address

Faridpur

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. Kamrul Islam posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram

Category