01/02/2026
পিত্তনালীতে কৃমি ! !
আমরা অনেকেই কৃমিকে সাধারণ পেটের সমস্যা মনে করে এড়িয়ে চলি। কিন্তু এই সাধারণ কৃমিই যখন অন্ত্র ছেড়ে আপনার পিত্তনালীতে (Bile Duct) ঢুকে পড়ে, তখন তৈরি হতে পারে ভয়াবহ পরিস্থিতি। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় 'বিলিয়ারি অ্যাসকারিয়াসিস' (Biliary Ascariasis)।
🔴 মেডিকেল ভয়াবহতা কেন বেশি?: পিত্তনালী খুবই সরু একটি পথ। সেখানে কৃমি ঢুকে পড়লে:
• তীব্র অসহ্য ব্যথা হয় (যা পেটের ওপরের দিকে বা পিঠের দিকে ছড়িয়ে পড়ে)।
• পিত্ত রস চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়ে জন্ডিস দেখা দেয়।
• লিভারে ইনফেকশন বা লিভার অ্যাবসেস (ফোঁড়া) হতে পারে।
• প্যানক্রিয়াটাইটিস বা অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ হতে পারে।
২০২১ সালে এমনই এক জটিল কেস আমার কাছে আসে। রোগী পিত্তনালীতে কৃমির কারণে অসহ্য যন্ত্রণায় ভুগছিলেন এবং লোকালি একজন স্বনামধন্য হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার থেকে মেডিসিন খাচ্ছিলেন প্রায় ৭/৮দিন। কিন্তু ব্যথা কমতেছিল না। প্রায় ২৪ ঘন্টাই ব্যথা লেগেই থাকতো।
রোগী চেম্বারে প্রচন্ড ব্যথায় চিৎকার করে কান্না করছিল। আমি রিপোর্ট গুলো ও রোগীর শারীরিক অবস্থা দেখে তাকে অপারেশন এর পরামর্শ দেই। কারণ দীর্ঘদিন কৃমি আটকে থাকলে সেখানে পিত্তনালীর দেয়ালে ক্ষত বা নেক্রোসিস (কোষের মৃত্যু) হতে পারে, যা থেকে ছিদ্র হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যদি পিত্তনালীর কোনো অংশ কৃমির কারণে ছিদ্র হয়ে যায়, তবে পিত্তরস এবং ইনফেকশন পেটের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে। একে বিলিয়ারি পেরিটোনাইটিস বলে, যা একটি অত্যন্ত জরুরি অবস্থা এবং এতে রোগীর মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। (সত্যি কথা বলতে রোগীর অবস্থা দেখে আমি একটু ভয়ই পাচ্ছিলাম তখন )
কিন্তু রোগী অপারেশনে ভয় পাচ্ছে ও আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ছিলেন না তাই আমাকে বার বার রিকোয়েস্ট করতে থাকে আমি যাতে কিছু মেডিসিন দেই।
রোগীর এক আত্মীয় বলতেছিল আরো ২০ বছর পূর্বে পেট ব্যথায় মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছিল এমন একটা রুগী আপনার আব্বার চেম্বারে নিয়ে আসছিলাম উনি মেডিসিন খেয়ে ভালো হয়েছে। আপনি একটু চেষ্টা করেন।
রোগীর যা অবস্থা ছিল তার থেকে প্রোপার সিম্পটম নেয়া সম্ভব ছিল না। রোগীর স্বামী থেকে ও রোগীর সার্বিক অবস্থা দেখে ও আব্বুর সাথে আলোচনা করে তাকে – chamomilla 200, 120ml বোতলে- ৩ ঘন্টা অন্তর অন্তর দেয়া হয় ও nat. phos- 12x দেয়া হয়। (ডোজ সংক্রান্ত তথ্য শুধুমাত্র হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদের জ্ঞাতার্থে)
তাকে বলা হয়েছে- ৩ দিনের মধ্যে ব্যথা না কমলে যাতে আর কোথায় না যায়, সরাসরি সার্জনের শরণাপন্ন হতে হবে । এমনিতেই অনেকটা দেরী হয়ে গেছে।
আল্লাহর অশেষ রহমতে কোনো ধরনের কাটাছেঁড়া বা বড় অস্ত্রোপচার ছাড়াই কৃমি পিত্তনালী থেকে নেমে আসে এবং রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হন। উনি ভালো হওয়ার পর অনেকগুলো রুগী রেফার করেছেন। উনাকে প্রতি ৬ মাস অন্তর কৃমিনাশক চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
💡 সচেতনতা ও পরামর্শ: পেটে কৃমি বা পিত্তথলির সমস্যায় যারা ভুগছেন, তারা প্রাথমিক অবস্থাতেই গুরুত্ব দিন। হোমিওপ্যাথি সঠিক লক্ষণ অনুযায়ী প্রয়োগ করলে এ ধরণের জটিল কেসেও জাদুকরী ভূমিকা রাখতে পারে।
_______________________________________
ডাঃ মেজবাহ উদ্দিন ভূঁঞা (রবিন)
বিএইচএমএস (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)
এক্স-হাউজ ফিজিশিয়ান
সরকারী হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল- মিরপুর-১৪
গভঃ রেজিঃ এইচ-1462, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালী।
রোগী দেখেন - প্রতি মঙ্গলবার
সকাল- ১০টা - ১টা
বিকাল- ৪টা -৮টা
আলম হোমিও হল। মেইন রোড, পশ্চিম বাজার, সোনাগাজী, ফেণী।
যে কোন পরামর্শের জন্য কল করুন বা পেজ এ মেসেজ দিন।
মোবাইল: 01817734211
হোয়াটসঅ্যাপঃ 01796581907