28/03/2026
চলছে হামের প্রাদুর্ভাব :
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যমতে, হামের কারনে ২০২৪ সালে প্রায় ৯৫,০০০ মানুষ মারা যায় পুরোবিশ্বে। যার মধ্যে বেশিরভাগ শিশুর বয়স ৫ বছরের নিচে যারা সঠিকভাবে হামের টিকা নেয় নি বা একেবারেই কোন ডোজ গ্রহণ করেনি।
যেকোনো বয়সেই হাম হতে পারে তবে বেশি ঝুঁকি রয়েছে শিশুদের ক্ষেত্রে।
🔹হাম মারাত্মক ছোঁয়াছে ভাইরাস জনিত রোগ।
🔸আক্রান্ত ব্যক্তির সর্দি, হাচি, কাশি, হ্যান্ডশেক, কোলাকুলি, চুম্বন ও কথাবার্তার মাধ্যমে ছড়ায় এই রোগ। কোন হামের রোগী একটা কক্ষে অবস্থান করে চলে যাওয়ার ২ ঘন্টার পর পর্যন্ত ভাইরাস বাতাসে ভাসমান থাকতে পারে এবং রোগ ছড়ায়।
🔹ভাইরাস শরীরে প্রবেশের ১০-১৪ দিন পর লক্ষ্মণ দেখা দেয়।
🔸প্রধান লক্ষ্মণ গুলো হচ্ছে- 3 C
▪️নাক দিয়ে পানি পড়া ( Coryza)
▪️কাশি ( Cough)
▪️চোখ লালচে হয়ে যাওয়া বা চোখ দিয়ে পানি পড়া (Conjunctivitis)
🔹গলাব্যথা, মাথাব্যথা, বমি ও ডায়রিয়া হয় অনেকের।
🔸জ্বরের সাথে র্যাশ দেখা দেয় ৭-৮ দিন পর যা শুরুতে মুখমণ্ডল ও ঘাড়ে এবং ধীরে ধীরে পিঠ, পেট, হাত ও পায়ে ছড়িয়ে পড়ে। এই র্যাশে সাধারণত চুলকানি থাকেনা। অপুষ্টিতে ভোগা রোগীর র্যাশ নাও থাকতে পারে।
🔹মুখের ভিতর এক ধরনের স্পট (Koplik's Spot) দেখা দেয় ৩-৪ দিনের দিন এবং র্যাশ উঠার সাথে সাথে বিলিন হয়ে যায়।
🔸হামের রোগী র্যাশ দেখা দেওয়ার ৪ দিন পূর্ব হতে এবং র্যাশ উঠার পরবর্তী ৪ দিন পর্যন্ত বেশ সংক্রামক হয়ে পড়েন এবং দ্রুত অন্যদের মাঝে এই রোগ ছড়ান।
🔹গর্ভবতীদের ঝুঁকি অনেক বেশি অন্যদের তুলনায়। গর্ভবতীর হাম হলে অকাল গর্ভপাত ও কম ওজনের শিশু জন্ম নেয়।
🚩হামের কারনে কি কি জটিলতা হয় :🚩
🚨 কানের ইনফেকশন
🚨মারাত্মক ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতা
🚨 নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট
🚨ব্রেইনের মারাত্মক প্রদাহ
🚨অন্ধত্ব
🚨মৃত্যু ( প্রতি হাজারে ৩-৪ জন)
হামে আক্রান্ত ব্যক্তি বা শিশুকে আলাদা কক্ষে রাখুন। মাস্ক পরুন।নিয়মিত হাত ধুয়ে নিন।জটিলতা হওয়ার আগেই রেজিস্টার্ড চিকিৎসক এর পরামর্শ নিন।
হাসপাতালে সাধারণত ইনফেকশাস ডিজিজ ওয়ার্ডে ( সংক্রামক ব্যাধি) এসব রোগীদের পরিপূর্ণ চিকিৎসা প্রদান করা হয়ে থাকে। কিছু কিছু রোগীর ক্ষেত্রে আই সি ইউ তে রেখেও চিকিৎসা করা লাগতে পারে।