15/01/2025
হিজামা: সুন্নাহর আলোকে প্রাকৃতিক চিকিৎসা
হিজামা বা কাপিং থেরাপি একটি প্রাচীন এবং প্রাকৃতিক চিকিৎসা পদ্ধতি, যা রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর অংশ। এটি কেবল ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, আধুনিক চিকিৎসাশাস্ত্রেও স্বীকৃত একটি স্বাস্থ্যকর পদ্ধতি।
আলহামদুলিল্লাহ ফেনীতে আমরাই প্রথম হিজামা চিকিৎসা শুরু করেছিলাম ২০১৬ থেকে।আলহামদুলিল্লাহ আমরা খুশি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একটি মৃত সুন্নাহকে জীবিত করতে পারছি। আমরা হিজামাকে কখনোই শুধুমাত্র ব্যবসা হিসাবে গ্রহণ করি নি আলহামদুলিল্লাহ। সুন্নাহ ভিত্তিক এই চিকিৎসার প্রচারই আমাদের সবচেয়ে বড় লক্ষ। আমরা চাই দেশের ভালো চিকিৎসকগণ এই চিকিৎসা ব্যবস্থা দিয়ে মানুষকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উপকৃত করুন।
যারা যারা হিজামা করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম...
১. ড. মনজুর ই এলাহি। (সহযোগী অধ্যাপক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়)।
২.এনামুল হক জুনিয়র। (ক্রিকেটার, বাংলাদেশ)
৩. শাইখ সাইফুদ্দিন বিলাল মাদানি। ( দাঈ ইলাল্লাহ,সৌদি আরব)।
সহ আরো অনেকে...
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন : আল্লাহ সুবাহানাহু ও তায়ালা এমন কোন রোগ পাঠাননি যার আরোগ্যের ব্যবস্থা দেননি।
(সহীহুল বুখারী: হা/ ৫৬৭৮)
অন্যত্র বলেছেন :
"প্রতিটি রোগের প্রতিকার রয়েছে।এতএব রোগে যথাযথ ঔষধ প্রয়োগ করা হলে আল্লাহ্র ইচ্চায় আরোগ্য লাভ হয়।"
(সহীহ মুসলিম : হা/৫৬৩৪)
হিজামা এক ধরণের চিকিৎসা যার মাধ্যমে শরীরের সব টক্সিন, ইউরিক এসিড, বদ-রক্ত, রোগের জন্য দায়ী জীবাণু প্লাজমা বা ফ্লুইডের সাথে বের করে নিয়ে আসা হয়। যা শরীর থেকে রোগের জন্য দায়ী জীবাণু সরিয়ে ফেলে। এর মাধ্যমে বর্তমানে সংক্রামক সকল রোগের চিকিৎসা করা হচ্ছে। এছাড়া অসংক্রামক অনেক রোগ ও ভালো হয় নিয়মিত হিজামা করালে। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে ও রক্ত পরিষ্কার রাখে, শরীর থেকে টক্সিন বা বিষাক্ত জৈব-রাসায়নিক বর্জ্য নিষ্কাশন করে।
হিজামা এমন একটি চিকিৎসা যাতে অন্যান্য মেডিকাল ড্রাগসের মত কোন সাইড ইফেক্ট নেই। কেবল নিরাময় আছে (সুবাহনাল্লাহ) । রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিজের জন্য এ চিকিৎসাটি করিয়েছিলেন।
#হিজামা (حِجَامَة ) একটি নববী চিকিৎসা ব্যবস্থা।
এটি আরবী শব্দ ‘আল-হাজম’ থেকে এসেছে। যার অর্থ চোষা বা টেনে নেওয়া।
আধুনিক পরিভাষায় Cupping (কাপিং)। হিজামার মাধ্যমে দূষিত রক্ত (Toxin) বের করা হয়। এতে শরীরের মাংসপেশী সমূহের রক্ত প্রবাহ দ্রুততর হয়। পেশী, চামড়া, ত্বক ও শরীরের ভিতরের অরগান সমূহের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। ফলে শরীর সতেজ ও শক্তিশালী হয়।
হিজামা বা Wet Cupping অতি প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি হিসাবে আরব বিশ্বে জনপ্রিয়। এ হিজামা থেরাপী ৩০০০ বৎসরেরও পুরাতন চিকিৎসা পদ্ধতি। মধ্যপ্রাচ্য থেকে উৎপত্তি হ’লেও চিকিৎসা পদ্ধতি হিসাবে চীন, ভারত ও আমেরিকায় বহু পূর্বে থেকেই এটি প্রচলিত ছিল। ১৮ শতক থেকে ইউরোপেও এর প্রচলন রয়েছে।
হিজামা বা Cupping Therapy এখন বিশ্বের জনপ্রিয় চিকিতৎসা গুলোর মধ্যে একটি। এটিতে কোন ধরনের ঔষধের প্রয়োজন হয় না।
#হিজামার_ফযীলতঃ
আছেম বিন ওমর বিন ক্বাতাদা থেকে বর্ণিত আছে যে, জাবির বিন আবদুল্লাহ (রাঃ) অসুস্থ মুকান্নাকে দেখতে যান। এরপর তিনি বলেন, আমি সরব না, যতক্ষণ না তুমি শিঙ্গা লাগাবে। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, নিশ্চয়ই এর (হিজামার) মধ্যে নিরাময় রয়েছে’।(বুখারীঃ৫৬৯৭)
#হিজামার_গুরত্বঃ
ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মি‘রাজে যাওয়ার সময় তিনি ফিরিশতাদের যে দলের নিকট দিয়ে অতিক্রম করেন তারা বলেন, ‘আপনি অবশ্যই হিজামা করাবেন’।(সহীহ তিরমিজিঃ৩৪৬২)
#হিজামা_ফেরেশতাদের_দ্বারা_সুপারিশকৃত
ইবনু মাসঊদ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, মি‘রাজের রাত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন যে, এই রাতে ফিরিশতাদের যে দলের সম্মুখ দিয়েই তিনি যাচ্ছিলেন তারা বলেছেন, ‘আপনার উম্মতকে হিজামার নির্দেশ দিন’।(ইবনু মাজাহ হা/৩৪৭৯; তিরমিযী হা/২০৫২; মিশকাত হা/৪৫৪৪, সনদ ছহীহ।)
#হিজামার_উত্তম_সময়ঃ
আনাস (রা:) থেকে বর্নিত : রাসুলুল্লাহ (স:) বলেছেন কেউ হিজামা করাতে চাইলে সে যেন
আরবী মাসের ১৭, ১৯ ও ২১ তারিখ কে নির্ধারিত করে। (তিরমিযী হা/২০৫১, ২০৫৩; ছহীহ ইবনু মাজাহ হা/৩৪৮৩; আবুদাঊদ হা/৩৮৬১, সনদ ছহীহ।)
এছাড়াও সোমবার, মঙ্গলবার, বৃহস্পতিবার হিজামা করতে বলেছেন.(ইবনে মাজাহ /৩৪৮৭-৩৪৮৮)
এছাড়াও যেকোন সময় হিজামা করানো যায়,ব্যাথা হলেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজামা করাতেন.
ু_হুরাইরা_রাঃ_থেকে_বর্ণিত_রাসূলুল্লাহ (সা:)বলেছেন-
#জিবরীল_আমাকে_জানিয়েছেন_যে_মানুষ_চিকিৎসার_জন্য_যতসব_উপায়_অবলম্বন_করে_তার_মধ্যে_হিজামাই_হল_সর্ব_উত্তম।
আল-হাকিম, হাদিস নম্বরঃ ৭৪৭০.
হযরত জাবির রাঃ থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয় হিজামায় শেফা রয়েছে।( সহীহ মুসলিম, হাদীছ নম্বর: ২২০৫)
হিজামার উপকারিতা:
১. রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে: হিজামা শরীরে জমে থাকা দূষিত রক্ত অপসারণ করে এবং রক্ত সঞ্চালনকে সক্রিয় করে।
২. ডিটক্সিফিকেশন: এটি শরীর থেকে টক্সিন দূর করে প্রাকৃতিক উপায়ে ডিটক্স করতে সাহায্য করে।
৩. ব্যথা উপশম: দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথা, পিঠের ব্যথা, আর্থ্রাইটিস এবং অন্যান্য শারীরিক ব্যথা হিজামার মাধ্যমে উপশম হয়।
৪. মানসিক প্রশান্তি: হিজামা স্ট্রেস ও উদ্বেগ দূর করতে সাহায্য করে এবং মানসিক স্বস্তি এনে দেয়।
৫. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে শরীরকে বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষিত রাখে।
ইসলামে হিজামার গুরুত্ব:
রসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যদি কোনো চিকিৎসায় উপকার থাকে তবে তা হিজামায় রয়েছে।" (সহীহ বুখারী)
হিজামার জন্য পরামর্শ:
• অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত হিজামা থেরাপিস্টের সাহায্য নিন।
• পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে এই থেরাপি গ্রহণ করুন।
• হিজামার পরে পানি পান এবং বিশ্রাম নিশ্চিত করুন।
হিজামা সুন্নাহর একটি অংশ হওয়ার পাশাপাশি একটি স্বাস্থ্যকর এবং কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি। এটি শারীরিক এবং মানসিক উভয় স্বাস্থ্যের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। আসুন, আমরা হিজামার মাধ্যমে সুন্নাহ অনুসরণ করি এবং আমাদের জীবনকে সুস্থ ও শান্তিময় করি।