28/08/2025
বর্ষার এই সময়ে শিশুদের ফুসফুসের সংক্রমণ বা নিউমোনিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং ইউনিসেফ (UNICEF)-এর তথ্যমতে, বিশ্বব্যাপী পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর প্রায় ১৫% একাই ঘটে নিউমোনিয়ার কারণে। এটি মূলত ফুসফুসের একটি তীব্র সংক্রমণ, যা ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকের (Pathogen) কারণে হয়ে থাকে এবং এর ফলে ফুসফুসের বায়ুথলি বা অ্যালভিওলাই (Alveoli) তরল বা পুঁজ দ্বারা পূর্ণ হয়ে যায়।
ফলে শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ কঠিন হয়ে পড়ে এবং শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি বা ‘হাইপোক্সেমিয়া’ (Hypoxemia) দেখা দিতে পারে। তবে আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং বিপদচিহ্নগুলো সম্পর্কে জেনে রাখাই হলো এর মোকাবিলার শ্রেষ্ঠ উপায়।
✅ যেভাবে প্রতিরোধ করবেন (৫টি রক্ষাকবচ):
১. টিকাদান নিশ্চিতকরণ: বাংলাদেশ সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচী (EPI)-এর অধীনে নিউমোকক্কাল কনজুগেট ভ্যাকসিন (PCV), হিমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ বি (Hib) এবং হামের টিকা সময়মতো দিন। এগুলো নিউমোনিয়ার প্রধান জীবাণুগুলো থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেয়।
২. মায়ের দুধের অপরিহার্যতা: প্রথম ৬ মাস শিশুকে শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ান। এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণে বাড়িয়ে তোলে এবং প্রাকৃতিক সুরক্ষার কাজ করে।
৩. সুষম পুষ্টি ও পরিচ্ছন্নতা: ৬ মাস বয়সের পর থেকে শিশুকে পরিপূরক পুষ্টিকর খাবার দিন। পাশাপাশি, শিশুর যত্নকারী এবং পরিবারের সকলের নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস অত্যন্ত জরুরি।
৪. দূষণমুক্ত পরিবেশ: শিশুর আশেপাশে ধূমপান থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকুন (Passive Smoking)। ঘরের ভেতরকার বায়ু দূষণ, যেমন—রান্নার ধোঁয়া থেকেও শিশুকে দূরে রাখুন।
৫. অন্যান্য অসুস্থতা থেকে সুরক্ষা: ডায়রিয়ার মতো রোগ প্রতিরোধে বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যকর খাবার নিশ্চিত করুন। কারণ অন্য অসুস্থতায় শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়ে নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
⚠️ যে বিপদচিহ্নগুলো অবহেলা করবেন না (জরুরী পরামর্শ প্রয়োজন):
আপনার সন্তানের সর্দি-কাশির সাথে যদি নিচের লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়, তবে একে সাধারণ ঠাণ্ডা ভেবে বসে থাকার সুযোগ নেই।
১. দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস (Tachypnea): শিশু যদি তার বয়সের তুলনায় অনেক দ্রুত শ্বাস নেয়। (WHO-এর মতে, ২ মাসের কম বয়সী শিশুর মিনিটে ৬০ বার, ২-১২ মাস বয়সী শিশুর মিনিটে ৫০ বার এবং ১-৫ বছর বয়সী শিশুর মিনিটে ৪০ বারের বেশি শ্বাস নেওয়া বিপদের লক্ষণ)।
২. বুকের পাঁজর দেবে যাওয়া (Chest Indrawing): শ্বাস নেওয়ার সময় শিশুর বুকের নিচের অংশ বা পাঁজর যদি ভেতরের দিকে দেবে যায়।
৩. অক্সিজেনের ঘাটতির লক্ষণ: অসুস্থতার কারণে শিশুর ঠোঁট বা জিহ্বা নীলচে ভাব ধারণ করলে।
৪. খাবার গ্রহণে অনীহা: শিশু যদি এতটাই অসুস্থ হয়ে পড়ে যে সে কিছু খেতে বা পান করতে পারছে না বা মায়ের বুকের দুধ টেনে খেতে পারছে না।
৫. শারীরিক অবস্থার অবনতি: শিশু যদি অস্বাভাবিকভাবে নিস্তেজ হয়ে পড়ে, সারাক্ষণ ঘুমায় অথবা তার খিঁচুনি হয়।
অভিভাবকত্বের প্রতিটি পদক্ষেপে আমি আপনাদের পাশে আছি। আপনার সন্তানের সুস্থতা, বিকাশ বা যেকোনো সাধারণ প্রশ্ন নিয়ে দ্বিধা করবেন না। একজন চিকিৎসক ও শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে আমার দরজা আপনাদের জন্য সর্বদা উন্মুক্ত।
~ডাঃ মোঃ হুমায়ুন শিকদার
🩺 এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য)
🎓 এফসিপিএস (শিশু চিকিৎসা), এফসিপিএস (নবজাতক)
শিশু ও নবজাতক বিশেষজ্ঞ
সহকারী অধ্যাপক
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, শের-ই-বাংলা নগর, ঢাকা
📍 চেম্বার:
শিলমুন স্পেশালাইজড হাসপাতাল
১৮৮, শিলমুন, টংগী-পূবাইল রোড, টংগী, গাজীপুর, বাংলাদেশ
📞 সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ: 01880-884417 / 01777-656476
📞 Hotline Number: 10612
🕓 রোগী দেখার সময়:
শনিবার ও বুধবার: বিকেল ৪টা – রাত ৮টা
সোমবার ও বৃহষ্পতিবার: দুপুর ২.৩০–৩.৩০
#নিউমোনিয়া_সচেতনতা #শিশুর_স্বাস্থ্য