04/01/2026
- হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে পড়া কি উচিত হবে কি? এমন প্রশ্ন যদি মনে জাগে, তাহলে এই পোস্ট তোমার জন্য।
এই পোস্টে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের এর সব পজিটিভ - নেগেটিভ সাইড তুলে ধরতেছি। এরপর তোমার মন যেটা বলেঃ
১) স্থায়ী ক্যাম্পাস কি আছে?
- না নেই। এই একটা প্রশ্নের উত্তর কোনো হমেকিয়ানই দিতে পারেনা। এটাই আমাদের ব্যার্থতা। রাজনৈতিক কারণ সহ পারিপার্শ্বিক অনেক কারণে এখনো স্থায়ী ক্যাম্পাস হয় নি। তবে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সহযোগীরা চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
২) পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্লাসরুম কি আছে?
- পর্যাপ্ত ক্লাসরুম আছে কিনা জানিনা তবে অপর্যাপ্ত নয়। তোমার ক্লাস, ক্লাসরুমের জন্য কখনো বন্ধ থাকবে না এটা নিশ্চিত থাকো।
৩) হোস্টেল ফ্যাসিলিটি কেমন?
- একদম জুনিয়র ব্যাচ হোস্টেল পেতে একটু দেরি হয়। তবে প্রথম বর্ষে থাকাকালীন সময়ের মধ্যেই হোস্টেল পেয়ে যায়। আর এটা মনে হয় ৯০% মেডিকেলেই হয়। তবে সিনিয়র প্রতিটি ব্যাচ ই হোস্টেলে থাকে আর যথেষ্ট শান্তিতেই থাকে।
৪) পর্যাপ্ত পরিমাণ শিক্ষক রয়েছে কিনা?
- শিক্ষক -শিক্ষার্থী রেশীও অনেক ভালো। প্রতিটা ডিপার্টমেন্টেই যথেষ্ট পরিমাণ শিক্ষক রয়েছেন।
৫) ক্লাস কেমন হয়?
- ক্লাস যথেষ্ট ভালো এবং নিয়মিতই প্রতিটি ডিপার্টমেন্টের ক্লাস হয়।
৬) রেগুলার আইটেম-কার্ড হয়?
- রেগুলার আইটেম হয়, কার্ড হয়, টার্ম হয়, সাপ্লি হয়, রিসাপ্লি হয়, তারও সাপ্লি হয়। এত চিন্তার কিছু নেই। মোটামুটি এতটুকু শিওর থাকো যে এইখানের প্রেশার সামলাতেই হিমশিম খেতে হবে।
৭) সামগ্রিকভাবে কলেজের পরিবেশ কেমন?
- বর্তমান প্রিন্সিপাল স্যার যথেষ্ট আন্তরিক এবং স্টুডেন্ট-ফ্রেন্ডলি। এছাড়াও কলেজের অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দও অনেক আন্তরিক। তাছাড়া সিনিয়র প্রতিটা ব্যাচও যথেষ্ট কো-অপারেটিভ।
৮) বিগত রেজাল্ট কেমন?
- সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম হওয়া সহ বরাবরই একটা ভালো অবস্থান ধরে রাখে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজ। এছাড়াও প্রথম ব্যাচ, দ্বিতীয় ব্যাচ (ইন্টার্নিশিপ চলমান) থেকে উচ্চতর ডিগ্রি (FCPS) এবং বিসিএস এ ১২-১৪ জন সুযোগ পেয়েছন।
৯) এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটি'স কেমন হয়?
- প্রতিবছরই ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, ইনডোর, আউটডোর ও কালচারাল প্রোগ্রাম সবই হয়। মেডিকেলের যে কোনো সিনিয়র কে জিজ্ঞেস করলেই বুঝতে পারবে এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটি'স কতটা ফ্রিকোয়েন্টলি হয়!
১০) পেশেন্ট কেমন আছে এই মেডিকেল কলেজে?
- হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের যেহেতু নিজস্ব হাসপাতাল নেই তাই সদর হাসপাতালের সাথে মিউচুয়াললি হসপিটালের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
তবে এতটুকু নিশ্চিত থাকতে পারো, মেডিকেলের মধ্যে বিভাগীয় আর ঢাকা'র মেডিকেল কলেজগুলোর পর অন্যতম পেশেন্ট ফ্লো থাকে এখানে। বেশীরভাগ সময়েই ইন্টার্ন ডাক্তার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হিমশিম খেতে হয় পেশেন্ট সামলাতে।
এর বাহিরে কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানাতে পারো।
মূল লিখা: অরণ্য হাসান রিয়ন
৬ষ্ঠ ব্যাচ (তৃতীয় বর্ষ)।
- পরিমার্জিত।