25/04/2026
২৬ এপ্রিল, রাত-১২.৪৬ মিনিট
“অগ্নিকাল: প্রশ্ন, ক্ষুধা ও বিদ্রোহ”-সুনীল ঘোষ.....................................................এই দেশ এখন আগুনে লেখা এক দীর্ঘ কবিতা,
যেখানে প্রতিটি লাইনে জমে আছে ক্ষুধা আর ক্রোধ—
বেকারের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া ত্রিশ লক্ষ স্বপ্ন
আজ রাস্তায় নামে, প্রশ্ন হয়ে, অদম্য এক রোধ।
কারাগারের দেয়ালে আটকে আছে শত শত নাম,
যাদের অপরাধ—শুধু প্রশ্ন করা, শুধু কথা বলা—
আর রক্তমাখা পথে পড়ে থাকে কিছু নীরব দেহ,
যাদের গল্প কেউ লেখে না, কেউ রাখে না বলা।
নড়াইলের রেললাইনে পড়ে থাকে নিঃশব্দ আর্তনাদ,
এক মায়ের শেষ সিদ্ধান্ত—কন্যাশিশুকে বুকে জড়িয়ে—
এ কি শুধু খবর?
নাকি প্রতিদিনের মৃত্যু, যা আমরা এড়িয়ে যাই চোখ ফিরিয়ে?
বাজারে আগুন, চুলায় নীরবতা,
লোডশেডিংয়ে ডুবে যায় শহরের শ্বাস—
জ্বালানির গন্ধে শুকিয়ে যায় ভবিষ্যৎ,
মানুষ বাঁচে, কিন্তু বাঁচে না আশ্বাস।
ক্যাম্পাসে আর আলো নেই, আছে অদৃশ্য ভয়,
শিক্ষার্থীদের চোখে জমে থাকে হতাশার ধোঁয়া—
বইয়ের বদলে কেন হাতে ওঠে অস্ত্র?
এই প্রশ্ন বাতাসে ঘুরে, কিন্তু উত্তর কেউ দেয় না।
অভিভাবকের রাত কেটে যায় উৎকণ্ঠায়,
প্রতিটি দরজার শব্দে বুক ধড়ফড়—
“আমার সন্তান কি নিরাপদ?”
এই এক প্রশ্নে কেঁপে ওঠে ঘর।
তেল পাম্পে আগুন, বিদ্যুৎ অফিসে আঘাত,
এ কি শুধু বিশৃঙ্খলা—
নাকি দীর্ঘদিনের জমে থাকা বঞ্চনার বিস্ফোরণ,
যেখানে মানুষ খোঁজে হারানো ন্যায্যতা?
গোপন চুক্তির গুঞ্জন ঘুরে বেড়ায় চারদিকে,
জনতার প্রশ্নে নীরব থাকে ক্ষমতার প্রাচীর—
কেন এড়িয়ে যাওয়া?
কেন সত্য লুকানো থাকে অন্ধকারের ভেতর স্থির?
এই দেশ কি তবে ক্লান্ত?
নাকি জমছে নতুন এক বিদ্রোহের দিন?
যেখানে প্রশ্নই হবে সবচেয়ে বড় শক্তি,
আর নীরবতা ভাঙবে জনতার রিনঝিন।
কারণ ইতিহাস জানে—
ক্ষুধা, ভয় আর অন্যায়ের উপর দাঁড়িয়ে
কোনো শাসন দীর্ঘ হয় না কখনো,
মানুষ জেগে উঠলে বদলে যায় সময়ের রং।
এই দেশ ঘুমাবে না আর,
আগুন জ্বলবে যতদিন না ন্যায্যতার ভোর আসে—
কারণ এই মাটির প্রতিটি কণায় লেখা আছে,
বিদ্রোহই শেষ পর্যন্ত শান্তির পথ ভাসে।