20/03/2026
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে আত্মগোপনে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান ড. আলি লারিজানি।
ইরানে হামলার কিছু সময় আগে (কয়েক ঘন্টা বা এক/দুইদিন) ইরানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান ড. আলি লারিজানি একটা শীতল সংবাদ নিয়ে এসে আয়াতুল্লাহ খামেনির বাসভবনে তার সাথে সাক্ষাৎ করেন।
তিনি দীর্ঘ সময় নীরব থেকে খামেনিকে বলেন। মাই লিডার, এইবার শুধু মেসেজ চালাচালি বা বাকযুদ্ধের মত কোন চাপ নয়। শত্রুরা একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা আপনাকে হত্যা করতে চায়।
যদি ইরানের আকাশ মিসাইলের ধোয়া দিয়েও ভরে যায়, আমরা এমন একটা সুরক্ষিত দুর্গ নির্মাণ করেছি যা সমস্ত চোখ এবং রাডার থেকে থাকবে সুরক্ষিত। কোন বিমান সেখানে বোম্ব ফেলতে পারবে না। কোন মিসাইল সেখানে পৌঁছাবে না।
এটা লুকানো নয় লিডার। ঝড় না থামা পর্যন্ত জাস্ট কিছু সময়ের জন্য অদৃশ্য হওয়া।
কিছু সময়ের জন্য সুপ্রিম লিডার খামেনি নিরবতা অবলম্বন করলেন। তারপর ধীরে উঠে দাঁড়ালেন। মনে হচ্ছিলো ইতিহাস তার সাথে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে।
তিনি কিছুটা এগিয়ে আসলেন এবং শান্তভাবে লারিজানিকে বললেন আমার কাছে যখন এসেছেন তখন কি উত্তর আশা করেন?
লারিজানি ইতস্ততার সাথে উত্তর দিলেন, আমি জানি আপনি প্রত্যাখ্যান করবেন। কিন্তু এই জাতির জন্য আপনাকে প্রয়োজন। যুদ্ধে আপনার কমান্ড প্রয়োজন।
লিডার মুচকি হাসলেন। তারপর বললেন রাষ্ট্রের বিষয়ে এবং নিরাপত্তার বিষয়ে আপনি সঠিক বলেছেন। কিন্তু রাজনীতির চেয়েও কিছু বিষয় আছে যা বিবেচনা করতে হবে।
কিভাবে আমি একজন সৈনিককে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে নিজে অদৃশ্য হয়ে যাই?
কিভাবে আমি জনগণকে দৃঢ়তার সাথে প্রতিরোধ করতে বলি আর সর্বপ্রথম নিজে সে বিপদ থেকে পালিয়ে যাই?
তিনি কিছুক্ষণ থামলেন যেন কারবালার দৃশ্য উন্মোচিত হলো।
আমরা(আমি) হোসেইন ইবনে আলীর সন্তান যে ইমাম তার পরিণতি সম্পর্কে জানতো। তারপরেও সেই পরিণতির দিকে গেছে যেনো সেটা আল্লাহরই প্রতিজ্ঞার দিকে যাওয়া। তিনি অদৃশ্য হয়ে যাননি যদিও তার আর্মি খুবই ছোট্ট ছিলো।
লারিজানি উত্তর দিলেন, কিন্তু নেতা, ইতিহাস তো শুধু একটা পাতা নয়। আমাদের তো একজন ইমাম আছেন যিনি এখনো প্রকাশিত হননি। ( ইমাম মাহদির কথা বলছিলেন লারিজানি) যা থেকে আমাদের শেখায় কখনো অনুপস্থিত থাকা বিজ্ঞতার পরিচয়, ভয়ের জন্য নয়।
লিডার আরো কিছুটা এগিয়ে আসলেন এবং বললেন, মিস্টার লারিজানি, পার্থক্য হলো আমাদের ইমাম অদৃশ্য হয়েছেন কারণ তার কোন আর্মি ছিলো না, তারপক্ষে কোন জাতি বা গোষ্ঠী দাঁড়ায়নি যারা সত্যের জন্য লড়াই করবে।
কিন্তু আমরা? যেখানে আমার আর্মি আছে, একটা বিশাল জাতি আছে যুদ্ধ করার জন্য, তাদেরকে যুদ্ধের আগুনের মুখে ফেলে আমি কিভাবে আত্মগোপনে যাই?
একজন নেতা তখনই আত্মোগোপন করে যখন সে একা থাকে। এটা হতে পারে বিজ্ঞতার পরিচয়।
কিন্তু যখন পুরো একটা জাতি তার পিছনে দাঁড়িয়ে যায়, তখন তার আত্মগোপন ইতিহাসের বিবেকের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়।
লারিজানি কিছুক্ষণ নীরব থাকলেন, কোন উত্তর দিতে পারলেন না।
লিডার লারিজানির দিকে হাত বাড়িয়ে হ্যান্ডশেক করলেন এবং তার এই উৎকন্ঠার জন্য তাকে ধন্যবাদ দিলেন।
লারিজানি চলে যাওয়ার পর তিনি তার পরিবারকে ডাকলেন এবং তাদেরকে কোন সুরক্ষিত এবং নিরাপদ জায়গায় যেতে বললেন।
তারা তার দিকে শিশুর মত তাকালেন এবং মর্যাদার সাথে বললেন আপনি যেখানে থাকবেন আমরাও সেখানে থাকবো।
লিডার যেখানে ছিলেন সেখানেই থাকলেন। এই কারণে নয় যে তিনি বিপদ জানতেন না, বরং তারচেয়েও গভীর কিছু জানতেন।