25/06/2020
সুন্দর- সুস্থ মুখের হাসির জন্য আমাদের কি করা প্রয়োজন-
১. ছ’মাস অন্তর ডেন্টাল সার্জন দ্বারা (বি ডি এস ডিগ্রি ধারী) আলট্রাসনিক স্কেলিং ও দাঁত পরীক্ষা করানো।
২. সঠিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উপযুক্ত পেস্ট সহযোগে ব্রাশ
৩. ঠোট বা মুখে বিভিন্ন ক্ষতিকারক কসমেটিক বা রঙ বা পদার্থ ব্যবহার বন্ধ করা।
৪. দাঁত ব্রাশের সাথে নিয়মিত ফ্লসিং করা।
৫. মুখগহ্বর বা মুখমণ্ডলের কোনও ক্ষতচিহ্ন বা ঘা তা যত ছোটই হোক না কেন অবহেলা না করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দন্ত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া।
৬. দাঁতের ভিতর ছোট গর্ত হলে, অবহেলা না করে, সঠিক সময়ে ফিলিং করা।
৭. তামাক, ধূমপান ও মাদকদ্রব্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকা।
৮. আঁঁকাবাঁকা দাঁতকে সমান করা ইত্যাদি।
মনে রাখতে হবে যে, দাঁত ব্রাশ করার আগে সূতার মত জিনিষ-ফ্লশ দিয়ে দাঁত পরিস্কার করা প্রয়াজন। কারণ ব্রাশ করার ফলে দাঁতের উপর থেকে খাদ্যকণা পরিস্কার হয়, কিন্তু ফ্লসিং এর ফলে দুটি দাঁতের ফাঁকে যে খাদ্যকনা জমা হয়, সেগুলিও পরিস্কার হয়। দিনে অন্তত দুবার সঠিক পদ্ধতিতে দাঁত ব্রাশ এর সাথে মাড়ি ম্যাসাজ করা প্রয়োজন। অহেতুক কোনও আলপিন বা কাঠি দিয়ে দাঁত খোঁচাখুঁচি না করা। মুখের জন্য ক্ষতিকর এমন পদার্থ যেমন তামাক, জর্দ্দা, গুল, ধূমপান ত্যাগ করা। দাঁতের সমস্যায় না জেনে কোনো দোকানে গিয়ে যে কোনও ওষুধ না খাওয়াই ভালো। কারণ, এতে অনেক সমস্যা অনেক বাড়তে পারে। এ ব্যাপারে ডেন্টাল বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয়াই যুক্তিযুক্ত।
ছোট বেলা থেকেই মুখের বিভিন্ন বদভ্যাস যেমন- দাঁত দিয়ে নখ কাটা, কাঠি চিবানো, দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ানো ইত্যাদি অভ্যাস বন্ধ করা ও সঠিক পরামর্শ গ্রহণ করা। দন্ত চিকিত্সার পরিধি আজ শুধু দাঁত তোলা আর দাঁত বাঁধানোতে সীমাবদ্ধ নয়। এর পরিধি এখন অনেক বিস্তৃত, কারণ মুখের অনেক রোগ থেকেই দেহের সাধারণ রোগ যেমন হতে পারে। হার্টডিজিজ বা হূদরোগীদের দাঁত তুলবার আগে সঠিক এন্টিবায়োটিক ওষুধ খাওয়ানো ও গর্ভকালীন সময়ে সতর্কতার সাথে ওষুধ খাওয়ানো এবং শিশুদের সুস্থ্য দেহের জন্য ও দাঁত ও মুখের সুস্থতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবে এসব ক্ষেত্রে তাদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের (যাদের চিকিৎসায় আছেন) সাথে পরামর্শ করেই দাঁতের চিকিৎসা করা ভালো।
পরিশেষে আপনার মূল্যবান দাঁতের চিকিৎসা অবশ্যই বি ডি এস ডিগ্রি ধারী ডেন্টাল সার্জন দ্বারা এবং স্টেরিলাইজেশনের বা জীবানু মুক্ত পরিবেশে দন্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কারণ এসব রোগ এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে রোগ সংক্রামিত হতে পারে। অতএব সচেতনতার সাথে মুখ ও দাঁতের রোগের চিকিৎসা নিশ্চিত করুন, সুস্থ্য থাকুন। সবশেষে, একটি মূল্যবান দাঁত ফেলে দেবার আগে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরী।
ডাঃ মোঃ সাইফুল ইসলাম নাহিদ ।
বি ডি এস(ঢাকা)
পি জি টি (ওরাল এন্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারী )
মুখ ও দাতের রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন।
চেম্বার ঃ রহমান ডেন্টাল সার্জারী , পশু হাসপাতাল সংলগ্ন, কচুয়া, চাঁদপুর।