30/03/2026
হাম (Measles) বাচ্চাদের জন্য বেশ কষ্টদায়ক হতে পারে, তবে সঠিক যত্নে এটি দ্রুত সেরে ওঠে। নিচে বাচ্চাদের হামের সময় দ্রুত সুস্থতার জন্য কিছু কার্যকর টিপস দেওয়া হলো:
১. শরীরের তাপমাত্রা ও আরাম:
✓ জ্বর নিয়ন্ত্রণ: বাচ্চার জ্বর থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক ডোজে প্যারাসিটামল দিন। শরীর বেশি গরম হলে কুসুম গরম পানিতে কাপড় ভিজিয়ে গা মুছিয়ে দিন।
✓ আরামদায়ক পোশাক: বাচ্চাকে ঢিলেঢালা এবং সুতির পাতলা পোশাক পরান যাতে ত্বকের র্যাশে ঘর্ষণ কম লাগে।
২. সঠিক পুষ্টি ও তরল খাবার:
✓ পানি ও তরল: হাম হলে শরীর খুব দ্রুত পানিশূন্য হয়ে যায়। তাই প্রচুর পানি, ডাবের পানি, ওরস্যালাইন, ফলের রস বা স্যুপ খাওয়ান।
✓ সহজপাচ্য খাবার: খিচুড়ি, নরম ভাত বা সেদ্ধ সবজির মতো হালকা ও পুষ্টিকর খাবার দিন।
৩. চোখের যত্ন ও বিশ্রাম:
✓ আলো নিয়ন্ত্রণ: হামের সময় বাচ্চাদের চোখ আলোর প্রতি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে (Photophobia)। তাই ঘরের আলো কমিয়ে রাখুন বা পর্দা টেনে দিন।
✓ বিশ্রাম: বাচ্চাকে পর্যাপ্ত ঘুমাতে দিন এবং দৌড়ঝাঁপ থেকে বিরত রাখুন।
৪. ভিটামিন-এ (Vitamin A):
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, হামের জটিলতা কমাতে ভিটামিন-এ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনার শিশুকে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল বা ডোজ দেওয়ার বিষয়ে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।
৫. সংক্রমণ রোধ ও পরিচ্ছন্নতা:
✓ আলাদা রাখা: হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে। তাই অন্তত ৭-১০ দিন শিশুকে অন্য বাচ্চাদের থেকে আলাদা ঘরে রাখুন।
পরিচ্ছন্নতা: বাচ্চার নখ ছোট করে কেটে দিন যেন চুলকানোর সময় ত্বকে ক্ষত না হয়। হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখুন।
** কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি বাচ্চার মধ্যে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে দেরি না করে হাসপাতালে নিন:
√ শ্বাসকষ্ট বা দ্রুত শ্বাস নেওয়া।
√ অত্যধিক ক্লান্তি বা ঝিমুনি।
√ একটানা তীব্র জ্বর না কমা।
√ কানে ব্যথা বা খিঁচুনি।
মনে রাখবেন:
@হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সময়মতো এমআর (MR) টিকা দেওয়া। আপনার শিশুর টিকা কার্ড চেক করে নিশ্চিত হয়ে নিন সে সব ডোজ পেয়েছে কি না।