03/05/2020
সেনসরি ডায়েট
এটা কোনো ফুড ডায়েট নয়, তবু চিন্তা করুন যে আপনি আপনার শিশুকে প্রতিদিন সময়মতো খাবার দিচ্ছেন যাতে করে শরীরের এনার্জি লেভেল ঠিক থাকে। এবং সে ক্ষুধায় কাতর হয়ে যাওয়ার আগেই আপনি তাকে খাবারটা দিচ্ছেন। খাবার যেভাবে শরীরের ব্লাড সুগার লেভেলকে ঠিক রাখছে এবং তাকে তার কাজের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগাচ্ছে, ঠিক তেমনি ব্রেনে যদি প্রয়োজনীয় পরিমাণ সেনসরি স্টিমুলেশন পৌঁছায় তাহলে তার শরীরের উপর নিজের নিয়ন্ত্রণ থাকে, কাজে মনোযোগ দিতে পারে, এবং সে বিভিন্ন পরিবেশে খাপ খাওয়াতে পারে।
ধরুন, আপনি কোনো অফিসিয়াল মিটিং বা ট্রেনিংয়ে আছেন। বোরিং লাগছে। তখন কি আপনি কখনও কলমটা হাতের মধ্যে নিয়ে নাড়াচাড়া করেছেন? বা টেবিলের নিচে পা নাড়াচাড়া করেছেন? দুপুরের খাবারের পর ঘুম ভাব দূর করার জন্য আড়মোড়া দেওয়া বা একটু হাঁটাহাটি করা? হ্যাঁ, এগুলো সবই আমরা করি, অনেক সময় নিজের অজান্তেই আমরা করি। কেন করি? কারণ, যেন আমরা পুনরায় ট্রেনিংয়ে মনোনিবেশ করতে পারি, নিজের ফোকাসটা ধরে রাখতে পারি; সেই মুহূর্তে বাইরের জগতের ডিমান্ড অনুযায়ী নিজেকে অ্যালার্ট রাখতে পারি। কিছুক্ষণের জন্য আমাদের মনোযোগের বিচ্যুতি ঘটলেও নিজেকে প্রয়োজনীয় সেনসরি স্টিমুলেশন দিয়ে বাইরের পরিবেশের সাথে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারছি। এটাই হলো আমার জন্য সেনসরি ডায়েট (Sensory Diet)। আর এই প্রয়োজনীয় ডায়েট নিয়ে বাইরের জগতের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারা হলো সেল্ফ রেগুলেশন (Self-regulation) (যদিও শুধু সেনসরি রেগুলেশন নয়, সেল্ফ রেগুলেশনের জন্য ইমোশনাল রেগুলেশন এবং কগনিটিভ রেগুলেশনও করতে হয়)। অর্থাৎ, আপনি এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে সঠিকভাবে একটা কাজে রেসপন্স করার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখছেন; এটা হলো আপনার Level of Arousal. আপনার লেভেল অফ অ্যারোউসালে যদি শান্ত (Calm) এবং সজাগ (Alert) থাকেন তবেই একটা কাজে আপনি সঠিকভাবে রেসপন্স করতে পাররেন। কারো ফুটবল খেলার জন্য যে পরিমাণ অ্যারোউসাল লেভেল দরকার তারচেয়ে অনেক কম দরকার হবে যদি সে কোনো রবীন্দ্র সংগীত শোনে। আবার একই ধরণের কাজের ক্ষেত্রে দিনের ভিন্ন সময়ে আপনার অ্যারোউসাল লেভেল থাকে আলাদা। খেয়াল করলে দেখবেন যে সকালবেলা আপনি যেই সাউন্ডে টিভি বা রেডিওতে গান শোনেন সেটা আপনার কাছে অনেক ক্লিয়ার আর লাউড মনে হয়। ঠিক একই সাউন্ড দিনের শেষে আপনি যখন ক্লান্ত থাকেন তখন কম মনে হয়; ক্লিয়ার শোনার জন্য ভলিউম আরও বাড়াতে হয়। আর এভাবে আপনি আপনার নির্দিষ্ট অ্যারোউসাল লেভেল ঠিক রাখছেন কারণ আপনি একটা নির্দিষ্ট পয়েন্টে ব্রেনে প্রয়োজনীয় সেনসরি স্টিমুলেশন ইনপুট দিচ্ছেন। এই নির্দিষ্ট পয়েন্টকে বলে Sensory Threshold. এটা ঘটছে একটা সবচেয়ে ভালো লেভেলে (Optimum Zone)। আপনি খুব কম বা বেশি করে রিসিভ করছেন না।
কিন্তু সেনসরি মডুলেশন ডিজঅর্ডারের ক্ষেত্রে অর্থাৎ, যারা সেনসেশনকে ফিল্টার করতে পারেনা তারা এই সেনসেশনকে অপটিমাম জোনে প্রসেস করতে পারেনা। তারা সেনসরি ইনপুট High লেভেলে অথবা Low লেভেলে করে। এখন দেখা যাক এই হাই লেভেল ও লো লেভেল এর Sensory Threshold এর ক্ষেত্রে কি কি ঘটে?
• High Threshold: এক্ষেত্রে যেহেতু শিশুর সেনসরি নিডস্ থাকে অনেক বেশি তাই তার সাড়া দেওয়ার জন্য হাই লেভেলের সেনসরি স্টিমুলেশন দরকার হয়। এখানে সেনসরি স্টিমুলেশনে নরমাল সময়ের চাইতে ব্রেন অনেক ধীরে রেসপন্স করে। এখানে দুটো ধরণ পরিলক্ষিত হয়-
১. Poor Registration:
-এখানে Passive Self-regualtion ঘটে, অর্থাৎ একই সময়ে একই জায়গায় অনেক সেনসরি স্টিমুলেশনকে অ্যালাউ করে। ফলে, এটা তাকে Overhelmed & Frustrated করে।
-আশেপাশে কি ঘটছে সেটা সে খেয়াল করতে পারেনা।
-যা গাইড করা হয় বা বলা হয় সেটা মিস করে।
-কাজে অনাগ্রহী ও অন্যমনস্ক থাকে।
-দেখা যায় সাধারণ স্বরে ডাকলে সাড়া দেয়না, বরং অনেক উচ্চস্বরে ডাকলে খেয়াল করে।
২. Sensory Seeking:
-এখানে Active Self-regulation ঘটে, অর্থাৎ নিজেই সেনসরি স্টিমুলেশন চয়েজ করে ও কন্ট্রোল করে।
-অতিরিক্ত সেনসরি স্টিমুলেশন এনজয় করে ও নিজেই নেয়ার চেষ্টা করে।
-অ্যাকটিভ থাকে ও একটানা স্টিমুলেশন নিতে থাকে।
-অনেক ধরণের খাবার খেতে ও চিবাতে পছন্দ করে। মুখে সবসময় খাবার রাখতে পছন্দ করে।
-সবসময় মুভমেন্ট করতে থাকে, বিভিন্ন জিনিস টাচ করতে থাকে, সব কিছুই মুখে দিয়ে চিবাতে থাকে তার সেনসরি নিডস্ ফিলআপ করার জন্য।
-নিজে নিজে শব্দ করতে থাকে, অন্যদের ডিস্টার্ব করে।
-সবকিছু খুব টাইট করে ধরে অন্যকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।
-নির্দিষ্ট সেনসরির প্রতি বেশি ইন্টারেস্ট থাকে বলে যেটা বলা হয় সেদিকে মনোযোগ থাকেনা।
• Low Threshold: এখানে ব্রেন নরমাল সময়ের চাইতে দ্রুত সাড়া দেয়। অতিরিক্ত অনুভূতিপ্রবণ হওয়ার কারণে সবকিছুতেই ভয় পায় এবং এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে। এখানেও দুই ধরণের বৈশিষ্ট্য দেখা যায়:
১. Sensory Sensitivity:
-এরা বেশি অনুভূতিপ্রবণ হয়, আর যেহেতু অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় স্টিমুলেশনগুলোকে ব্লক করতে পারেনা তাই সহজেই Overhelmed হয়ে পড়ে। এখানেও Passive Self-regulation ঘটে, অর্থাৎ একই সময়ে একই জায়গায় অনেক সেনসরি স্টিমুলেশনকে অ্যালাউ করে। ফলে, এটা তাকে Overhelmed & Frustrated করে।
-দেখা যায় কোনো জনাকীর্ণ জায়গায় যেখানে অনেক মানুষ কথা বলছে সেখানে এদের সমস্যা হয়।
-যেখানে ভিজুয়াল স্টিমুলেশন অনেক বেশি যেমন, অনেক ছবি, কালার, স্টুডেন্ট আছে এমন জায়গায় মানিয়ে নিতে সমস্যা হয়।
-সাধারণত Picky Eater হয়; খাবারের টেক্সচার, তাপমাত্রা, গ্রীন ফুডস্ অর্থাৎ কাচাঁ শাকসবজি বা ফলমূল খাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা করে।
-লাইট টাচ অপছন্দ করে, অনাকাঙ্খিত কোনো স্পর্শ পছন্দ করেনা, স্কুলের ইউনিফর্ম পড়তে চায়না।
-খুব হালকা করে পেনসিল ধরে, খাবারের সময় চামচ ঠিকমতো ধরতে পারেনা।
-ক্ষুধার অনুভূতি বুঝতে সমস্যা হয় আবার টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন না হলেও বারবার টয়লেটে যায়।
২. Sensory Avoiding:
-এরা সেনসরি স্টিমুলেশনকে এড়িয়ে চলে, নতুন কোনো কিছু করতে উৎসাহবোধ করেনা।
-এখানেও Active Self-regulation ঘটে, অর্থাৎ নিজেই সেনসরি স্টিমুলেশন চয়েজ করে ও কন্ট্রোল করে।
-অনিশ্চিত কোনো কিছুতে অংশগ্রহণ করতে চায়না, আগে থেকেই ধরে নেয় সেটা তার জন্য বিপদজনক কিছু হবে।
-দিনের ভিন্ন সময়ে দেখা যায় কখনও মুভমেন্ট করতে পছন্দ করে আবার সেখানে অ্যাডজাস্ট করতে না পারার কারণে আবার তা এড়িয়ে চলে।
এখানে দেখা যাচ্ছে, হাই এবং লো লেভেলের ক্ষেত্রে প্রধাণত দুই ধরণের এবং মোট চার ধরণের বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। এতোক্ষণ প্রধাণ দুই ধরণের বৈশিষ্ট্যগুলো (অর্থাৎ Sensory Seeking & Sensory Avoiding) দেখে হয়তো আপনাদের মনে হচ্ছে শিশুর বৈশিষ্ট্য যেকোনো এক ধরণের হবে। কিন্তু এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বোঝার বিষয় হলো যে, একই শিশুর ক্ষেত্রে একই সেন্সে ভিন্ন সময়ে কখনও হাই আবার কখনও লো থ্রেশোল্ড এর বৈশিষ্ট দেখা যায়। অর্থাৎ, সহজ ভাষায় বললে একই শিশু একই অনুভূতির ক্ষেত্রে কখনও সে সেটা নিতে চাইবে আবার কখনও এড়িয়ে যাবে। শিশু কখনও দৌড়াদৌড়ি, লাফালাফি করে আবার সে হয়তো জোরে সাউন্ড হলে নিতে পারেনা, কিছু স্পর্শ বা স্মেল এড়িয়ে চলে, খাবারের টেক্সচার বা টেস্টে সমস্যা হয়। তারমানে ব্রেন কখনও থাকে হাইপার রেসপন্সিভ আবার কখনও হাইপো রেসপন্সিভ। কিন্তু প্রথমেই বলেছিলাম যে কারো লেভেল অফ অ্যারোউসাল যদি অপটিমাম জোনে থাকে অর্থাৎ ব্রেন থাকে Calm & Alert তাহলে সে সঠিকভাবে একটা কাজে সাড়া দিতে পারবে। কিন্তু বিশেষ শিশুদেরে ক্ষেত্রে সেটা থাকছে না। তাহলে যদি সে হাইপার থাকে তবে তাকে শান্ত করতে হবে আর হাইপো থাকলে তাকে এলার্ট করতে হবে। তাহলে কাজের প্রতি তার রেসপন্সও বাড়বে। আর এটা নিশ্চিত করতে হলে আপনাকে শিশুর প্রয়োজন বুঝে সময় মেনে সেনসরি ইনপুট দিতে হবে যা সময় মতো আপনার শিশুকে খাবার দেয়ার মতোই। আর তাই এটাই হলো সেনসরি ডায়েট আর তাই এটা এতো গুরুত্বপূর্ণ।
আমাদের ব্রেইন সেলগুলো একটার সাথে আরেকটার যোগাযোগ স্থাপন করে কিছু কেমিকেলের মাধ্যমে যাদের বলে নিউরোট্রান্সমিটার। যেমন ডোপামিন, সেরেটোনিন; এরা সেনসরি স্টিমুলেশনকে ভালোভাবে প্রসেস ও সমন্বয় করে। সেনসরি ডায়েট অর্থাৎ Deep Pressure Touch ডোপামিনের ও Proprioception সেরেটোনিন এর এর শক্তি বৃদ্ধি করে এবং ব্রেনকে শান্ত ও অর্গানাইজ করতে সাহায্য করে। আবার ওরাল মোটর অ্যাকটিভিটিস ব্রেনে Adrenaline Secretion কন্ট্রোল করে যা কিনা ভয়, উত্তেজনা, উদ্বেগ কমায়। এইজন্যই দেখবেন মাঠে ক্রিকেটাররা সবসময় চিউইন গাম চিবায়। তাই Self-regualtion এর জন্য ওরাল সেনসরি ডায়েটও গুরুত্বপূর্ণ।
তাই সঠিকভাবে সেনসরি ডায়েট তৈরি করতে হলে শিশুকে খুব ভালো করে জানতে হবে, তাকে অনেক ভালোভাবে অবজার্ভ করতে হবে, কোনো কিছু আগে থেকে চিন্তা করা যাবেনা, কমপক্ষে ২ সপ্তাহ অবজার্ভ করতে হবে। তার সেনসরি বিহাভিয়ার কেমন; কোনটা নিতে পছন্দ করে, কোনটা এড়িয়ে চলে, দিনের কোন সময় কেমন থাকে, কখন মেল্টডাউন হয়, কখন ট্যানট্যাম হয়, এটা কি সেনসরি নাকি বিহাভিয়ার ইস্যু, নাকি কোনো মাসল রিলেটেড সমস্যা। সব কিছু একটা রেকর্ড ফর্মে রেকর্ড রাখতে হবে। তারপর তার সেনসরি ডায়েট তৈরি করতে হবে। আর এটা তৈরি করার জন্য অবশ্যই একজন ট্রেইন্ড অকুপেশনাল থেরাপিস্টের সাহায্য নিতে হবে। থেরাপিস্ট খুঁজে বের করবেন যে কোন অ্যাকটিভিটিগুলো তাকে শান্ত করে আর কোনগুলো তাকে এলার্ট করে। এবং সেই অ্যাকটিভিটিগুলো প্রতিদিনের রুটিনের সাথে অ্যাডজাস্ট করে দিবেন। কোন অ্যাকটিভিটিগুলো কোন সময় কতোক্ষণ বা কতোবার করাতে হবে। একটা স্যাম্পল দেখা যাক-
• সকালবেলা: ৭.৩০ মিনিট- Wilbarger Brushing Protocol (সেনসরি ডিফেন্সিভনেস থাকলে প্রতি ২ ঘন্টা পরপর দিতে হবে), জয়েন্ট কম্প্রেশন, ট্রাম্পলিং জাম্পিং, কাডল সুইং, ডিপ ব্রিদিং এক্সারসাইজ, পুলিং এন্ড পুশিং এক্সারসাইজ, মার্চিং, সফট্ মিউজিক।
• স্কুলে যাওয়ার পর: ৯.৩০ মিনিট- গ্রুপ এক্সারসাইজ/ গ্রসমোটর অ্যাকটিভিটিস, জীমবল বাউন্স, রোলিং, হ্যান্ড ম্যাসাজ, ডিফারেন্ট টেক্সচার, এনিমাল ওয়াক, ক্রিপিং বা আর্মি ক্রলিং
• মিডমর্নিং: ১১.৩০ মিনিট- সেনসরি ব্রেক: ট্রাম্পলিং জাম্পিং, প্ল্যটফরম সুইং, ক্লাইম্বিং ল্যাডার, স্যান্ড প্লে, স্কুটার বোর্ড, টানেল অ্যাকটিভিটি, টিফিনে শক্ত খাবার চিবাতে দেয়া যেমন: শসা, গাজর, ব্রকলি।
• স্কুলের পরে: দুপুর ২.০০ টা- ওয়াটার প্লে, পিলো স্যান্ডউইচ, হুইলব্যারো ওয়াকিং/হাতের উপর ভর দিয়ে হাঁটা, ডোরম্যাটে হামাগুড়ি দেওয়া, রকিং চেয়ারে দোল দেয়া, উপর হয়ে জীমবলে দোল দেয়া।
• বিকালবেলা: ৪.৩০ মিনিট- বডি লোশন রাবিং, হ্যান্ড পেইন্টিং, রশি টানাটানি খেলা, হেভি ওয়েট ক্যারি, স্লাইডিং, হপস্কচ গেম, সিঁড়ি দিয়ে একটানা উঠানামা করা, চিউইন গাম বা চিউই টিউব চিবানো।
• সন্ধ্যা ৭.০০ টা- থেরাপাটি/প্লেডোহ, সেভিং ক্রিম, উপর থেকে নরম কিছুর উপর জাম্পিং, বালিশ দিয়ে মারামারি খেলা, কোলে নিয়ে দোল দেয়া, হ্যামক-এ দোল দেয়া (কাপড়ের/দড়ির দোলনা হতে পারে), কোলের উপর ভারি কিছু রাখা (ল্যাপ প্যাড)।
• রাত ৯.০০ টা- বডি সোক/ব্ল্যাঙ্কেটে-এ জড়িয়ে রাখা, কুসুম গরম পানিতে গোসল করানো, ওয়াল পুশিং, রেসলিং গেম, ধাক্কা দিয়ে ফার্নিচার/ভারি কিছু সরানো, জীম বলে বসিয়ে সামনে-পিছনে দোল দেয়া, দোলনায় বসিয়ে বা শুইয়ে দোল দেয়া, চিনি ছাড়া শক্ত চকলেট বা ক্যান্ডি চিবাতে দেয়া ।
খেয়াল রাখতে হবে যে বিষয়গুলো:
প্রতিটি শিশুই আলাদা, তাই শিশুর বয়স, ধরণ ও Sensory Preference অনুযায়ী সেনসরি ডায়েট আলাদা হবে। কখনও কোনো বিষয়ে বেশি জোর দিতে হবে আবার কখনও কিছু বিষয় বাদ দিতে হবে। অনেক সময় অটিজমের সাথে কোমরবিড কন্ডিশন হিসেবে এডিএইচডি, ডাউন-সিনড্রোম, লার্নিং ডিফিকাল্টিস, ডেভলোপমেন্টাল ডিলেও থাকতে পারে। সেটাও মাথায় রাখতে হবে।
প্রতিটা সেকশন অর্থাৎ Tactile/টাচ, Proprioception/মাসল ও জয়েন্টের সেন্স, Vestibular/ব্যালান্স ও মুভমেন্ট থেকে ২/৩ টা করে অ্যাকটিভিটি সিলেক্ট করে করাতে হবে।
১৫-২০ মিনিটের সেশন যথেষ্ট, কখনও এরচেয়ে কমও হতে পারে। দিনে ৩-৭ বার করাতে হবে। অর্থাৎ যতো ব্যস্তই থাকুন না কেন দিনে কমপক্ষে ৩ বার এবং সর্বোচ্চ ৭ বার করাবেন।
ব্রেনে Proprioception এর ইফেক্ট থাকে ২ ঘন্টা পর্যন্ত, তাই দেড় থেকে দুই ঘন্টার মধ্যেই এটা অ্যাপ্লাই করতে পারলে সবচেয়ে ভালো রেজাল্ট পাবেন। Vestibular এর ইফেক্ট থাকে ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত।
Wilbarger Brushing Protocol অ্যাপ্লাই করতে হলে অবশ্যই থেরাপিস্টের কাছে শিখে সঠিক নিয়মে Therapressure Brush দিয়ে দেড় থেকে দুই ঘন্টা পরপর অ্যাপ্লাই করতে হবে। যদি মেইনটেইন করতে না পারেন তাহলে না করানোই ভালো। তাতে নেগেটিভ ইফেক্ট হতে পারে।
Deep Pressure Touch ব্রেনকে শান্ত করে, Proprioceptive Activities ব্রেনকে অর্গানাইজ করতে সাহায্য করে, Vestibular Activities শান্ত ও অ্যালার্ট করতে সাহায্য করে।
Slow, Soft & Rhythmic movement, Heavy & Firm Pressure ব্রেনকে শান্ত করে এবং Fast, Intense & Arhythmic movement, Light Touch ব্রেনকে অ্যালার্ট করে।
অ্যালার্ট করার জন্য ভেস্টিবুলার অ্যাকটিভিটিস ব্যবহার করলে তার পরপরই Proprioception ব্যবহার করবেন অর্গানাইজ করার জন্য।
যখন সন্দেহ থাকবে তখন শুধু Proprioception ব্যবহার করবেন।
কোনো অ্যাকটিভিটিস জোর করে করা যাবে না। Playbased & Interesting way-তে কাজ করতে হবে।
ভেস্টিবুলার স্টিমুলেশন অনেক স্ট্রং, তাই একটানা অনেকক্ষণ দেয়া যাবে না তাতে ওভার-স্টিমুলেট হতে পারে।
তীব্র আলো, হঠাত ও জোরে মুভমেন্ট শিশুর খিঁচুনি বাড়াতে পারে।
যদি শিশু বাধা দেয় এবং একেবারেই কো-অপারেট না করে অথবা একেবারেই অলস/ঘুমন্ত অবস্থায় থাকে তবে থেরাপি বন্ধ করতে হবে।
আশাকরি সেনসরি ডায়েট সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারণা দিতে পেরেছি। এই মুহূর্তে থেরাপিস্টের সাহায্য নিতে না পারলেও নিজেরা কিছুটা হলেও অ্যাপ্লাই করতে পারবেন।
-ধন্যবাদ
মো: তৌফিক হাসান
অকুপেশনাল থেরাপিস্ট