20/05/2021
#উদ্যোক্তা_নয়_একজন_পুষ্টিবিদ_হিসেবে_কিছু_কথা
খুব কঠিন একটা সময় পার করছি
সারা পৃথিবীতে মৃত্যুর মিছিল শুরু হয়েছে
হাটি হাটি পা করে বাংলাদেশেও মৃত্যুর মিছিল
তাই বলে কি এখন আমরা আতংকেই শেষ হয়ে যাবো..???
কখনোই না...
যদিও কোন ওষুধ নেই
টিকাও সবাই দিতে পারেননি
তাই প্রতিরোধ আর সচেতনতাই হবে করোনা মোকাবেলার একমাত্র উপায়।
করোনাভাইরাস প্রতিরোধের প্রথম ধাপ হলো ব্যক্তিগত সচেতনতা গড়ে তোলা।
এবং ২য় ধাপ হল প্রত্যেকের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্থাৎ ইমিউন সিস্টেম বাড়িয়ে তোলা।
আর তাই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বেশি পরিমাণে অ্যান্টি–অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে প্রতিদিন।
উদ্ভিজ্জ খাবার হলো অ্যান্টি–অক্সিডেন্টের সবচেয়ে ভালো উৎস, বিশেষ করে বেগুনি, নীল, কমলা ও হলুদ রংয়ের শাকসবজি ও ফল।
প্রধান অ্যান্টি–অক্সিডেন্টগুলো হলো বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন এ, সি, ই, লাইকোপেন, লুটেইন সেলেনিয়াম ইত্যাদি।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে অ্যান্টি–অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ যে খাবারগুলো বেশি করে খেতে হবে, সেগুলো হলো:
#বিটা_ক্যারোটিন: উজ্জ্বল রংয়ের ফল, সবজি। যেমন গাজর, পালংশাক, আম, ডাল ইত্যাদি।
#ভিটামিন_এ: গাজর, পালংশাক, মিষ্টি আলু, মিষ্টিকুমড়া, জাম্বুরা, ডিম, কলিজা, দুধজাতীয় খাবার।
#ভিটামিন_ই: কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, পেস্তাবাদাম, বাদাম তেল, বিচিজাতীয় ও ভেজিটেবল অয়েল, জলপাইয়ের আচার, সবুজ শাকসবজি ইত্যাদি।
#ভিটামিন_সি: আমলকী, লেবু, কমলা, সবুজ মরিচ, করলা ইত্যাদি।
এবার দেখি এই খাবার গুলো কিভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
#সবজি: করলা (বিটা ক্যারোটিনসমৃদ্ধ), পারপেল/লাল পাতা কপি, বিট, ব্রোকলি, গাজর, টমেটো, মিষ্টি আলু, ক্যাপসিকাম, ফুলকপি।
এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন এ যা শরীরের ইমিউনিটি বাড়িয়ে দেয়
#শাক: যেকোনো ধরনের ও রঙের শাক।
#ফল: কমলালেবু, পেঁপে, আঙুর, আম, কিউই, আনার, তরমুজ, বেরি, জলপাই, আনারস ইত্যাদি।
এই সকল শাক ও ফলের মধ্যে আছে ভিটামিন সি
যা সরাসরি কোন ভাইরাসের বিরুদ্ধে ফাইট না করলেও বডি কে ঐ ভাইরাসের বিরুদ্ধে কিভাবে রেস্পন্স করবে সেটা তে সাহায্য করে
#মসলা: আদা, রসুন, হলুদ, দারুচিনি, গোলমরিচ।
#অন্যান্য: শিম বিচি, মটরশুঁটি, বিচিজাতীয় খাবার, বার্লি, ওটস, লাল চাল ও আটা, বাদাম।
এই মশলা ও বিচিজাতীয় ও শস্য জাতীয় খাদ্যে #ভিটামিন_বি_৬_ও_জিংক–জাতীয় খাবার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরির কোষ বৃদ্ধি করে।
এবং কোল্ড সিনড্রোম কতদিন শরীরে থাকবে এবং কতটা ক্ষতি করবে তা কমিয়ে দিতে পারবে
: এটি প্রোবায়োটিকস, যা শ্বাসযন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্র সংক্রমণের ঝুঁকি প্রতিরোধ করে। অন্যদিকে শাকসবজি, ফল, বাদামজাতীয় খাবার শরীরে নিউটোভ্যাক্স ভ্যাকসিনের অ্যান্টিবডি প্রক্রিয়াকে উন্নত করে, যা স্টেপটোকোক্কাস নিউমোনিয়া প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখে।
#চা: গ্রিন টি, লাল চায়ে এল-থেনিন এবং ইজিসিজি নামক অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট থাকে, যা আমাদের শরীরে জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অনেক যৌগ তৈরি করে শরীরে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে।
#আমিষ: উচ্চ মানের আমিষজাতীয় খাবার (ডিম, মুরগির মাংস ইত্যাদি) বেশি করে খেতে হবে।
#অ্যান্টি–অক্সিডেন্টের খুব ভালো কাজ পেতে হলে খাবার রান্নার সময় অতিরিক্ত তাপে বা দীর্ঘ সময় রান্না না করে প্রয়োজনীয় তাপমাত্রায় রান্না করতে হবে।
ওপরের খাবারগুলো ছাড়াও নিউমোনিয়া প্রতিরোধে উচ্চ আমিষযুক্ত খাবার বেশি করে খেতে হবে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কোষ ও টিস্যু দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে এবং পাশাপাশি নতুন টিস্যু তৈরি হবে।
#পর্যাপ্ত_ঘুম_ও_স্ট্রেস_ফ্রী
এর সঙ্গে সবথেকে দরকার পর্যাপ্ত ঘুম।
এবং স্ট্রেস ফ্রী থাকা
কারণ অপর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম এবং স্ট্রেস শরীরে কর্টিসল হরমোনের চাপ বাড়িয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
#যে_খাবার_বাদ_দিতে_হবে
সব ধরনের কার্বনেটেড ড্রিংকস, বিড়ি, সিগারেট, জর্দা, তামাক, সাদাপাতা, খয়ের ইত্যাদি। এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় বাধা দিয়ে ফুসফুসে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়, ঠান্ডা খাবার, আইসক্রিম, চিনি ও চিনির তৈরি খাবার (যা ভাইরাসের সংক্রমণে সহায়তা করে)।
একমাত্র সঠিক পুষ্টির চাহিদা পূরনের মাধ্যমেই শরীর তার রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা উন্নত করতে সহায়তা করে, যাতে শুধু করোনাভাইরাস নয়, সব ধরনের ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় আপনার শরীর আপনার বডি গার্ড হিসেবে থাকতে পারে।
Aksa Esadora Hoimo
Owner_ Fabricart
Founder_ Health n Nutrition care