30/03/2026
🌸 হাম হলে কীভাবে সামলাবেন :-🌸
পোস্ট সেভ করুন ও শেয়ার করুন — কোনো মায়ের সন্তান যেন না কষ্ট পায়।
হামের প্রধান লক্ষণ:
🔸 হঠাৎ উচ্চ জ্বর (১০২–১০৪ ডিগ্রি)
🔸 চোখ লাল হওয়া, চোখ দিয়ে পানি পড়া ও আলোয় অস্বস্তি
🔸 নাক দিয়ে পানি পড়া ও কাশি
🔸 মুখের ভিতরে সাদা সাদা দানা (Koplik spots)
🔸 ৩–৪ দিন জ্বরের পর গায়ে লালচে দানা (rash) যা মুখ থেকে শুরু হয়ে পুরো শরীরে ছড়ায়
🔸 দুর্বলতা, খেতে না চাওয়া ও চোখের সমস্যা
এই লক্ষণ দেখলেই বুঝবেন — এটা হাম।
হাম হলে একটা ওষুধ খাইয়ে ঠিক হয়ে যাবে না।
সবচেয়ে বড় চিকিৎসা হলো — আপনার সতর্ক যত্ন ও ভালোবাসা ❤️
# # # হাম সামলানোর সঠিক উপায়:
**১. জ্বর নিয়ন্ত্রণ**
প্যারাসিটামল সিরাপ দিন (প্রতি ৮ কেজি ওজনের জন্য ১ চামচ করে)।
৬ ঘণ্টা পরপর। নিজে ডোজ ঠিক করবেন না — ডাক্তার দেখিয়ে নিন।
**২. শরীরে পানি ধরে রাখুন** 💧
বাচ্চা খেতে না চাইলেও অল্প অল্প করে পানি, ডাবের পানি, ওরস্যালাইন, দুধ বা স্যুপ খাওয়ান।
**৩. ভিটামিন A অবশ্যই দিন** 👁️
হামে শরীর থেকে ভিটামিন A কমে যায়। এতে চোখ শুকিয়ে যেতে পারে, রাতকানা হতে পারে এমনকি অন্ধত্বও হতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শে ভিটামিন A সাপ্লিমেন্ট দিন।
**৪. পুষ্টিকর খাবার**
ডিম, দুধ, মাছ, ডাল, ফলমূল (বিশেষ করে কমলা, পেঁপে, গাজর) — যত বেশি পারেন খাওয়ান। পুষ্টি যত বেশি, সুস্থ হওয়া তত দ্রুত।
**৫. চোখের যত্ন**
ঘর অন্ধকার রাখুন। হালকা গরম পানিতে কাপড় ভিজিয়ে চোখ মুছিয়ে দিন। সমস্যা বাড়লে ডাক্তার দেখান।
**৬. কাশি ও অস্বস্তি**
হালকা গরম পানি বা লেবু পানি দিন।
**জটিলতা দেখলে দেরি করবেন না:**
শ্বাসকষ্ট, বুকে ঘড়ঘড় শব্দ, খিঁচুনি, অতিরিক্ত জ্বর বা শিশু অচেতন হয়ে গেলে **তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে নিয়ে যান**।
**প্রতিরোধই সবচেয়ে বড় চিকিৎসা**
সময়মতো **MR / MMR টিকা** দিন। একটা টিকায় আপনার সন্তানকে এই কষ্ট থেকে বাঁচান।
**অন্যদের থেকে আলাদা রাখুন** — র্যাশ ওঠার আগে ও পরে অন্তত ৪ দিন। হাম খুবই ছোঁয়াচে।
হাম সাধারণ জ্বর নয়, কিন্তু সচেতনতা ও সঠিক যত্নে বেশিরভাগ শিশুই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যায়।
আপনার একটা শেয়ার যদি একটা শিশুকে বাঁচায়, তাহলেই আমার এই লেখা সার্থক। পোস্টটি সব গ্রুপে ওয়ালে শেয়ার করুন।
Dr. Aminul Islam