25/04/2026
ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি (DMF): একটি ঐতিহাসিক ও আইনি প্রেক্ষাপট
১. শিক্ষাগত যোগ্যতা ও স্বীকৃতি:
'রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ' কর্তৃক স্বীকৃত এবং 'বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল' (BM&DC) কর্তৃক নিবন্ধিত Diploma in Medical Faculty (DMF) একটি সাড়ে চার বছর মেয়াদী (৪ বছর একাডেমিক ও ৬ মাস ইন্টার্নশিপ) চিকিৎসা শিক্ষা কোর্স।
২. ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি (১৯৭৮):
পেশাগত মর্যাদার ভিত্তি হিসেবে ১৯৭৮ সালের অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে DMF ডিগ্রিধারীদের "Non-graduate Doctors" হিসেবে উল্লেখ করে স্পষ্টভাবে "Diploma Doctors" হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
৩. পদবি ও শিক্ষাগত বিবর্তন (১৯৮৫):
১৯৮৫ সালের সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক, তৎকালীন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টদের পদবি ১৯৯৬ সালে পরিবর্তন করে 'সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার' (SACMO) করা হয় এবং তাদের অর্জিত শিক্ষাগত ডিগ্রিকে DMF হিসেবে চূড়ান্ত স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।
৪. আইনি ও গেজেটভুক্ত বৈধতা (২০১০ ও ২০১৮):
২০১০ এবং ২০১৮ সালের বাংলাদেশ গেজেট অনুযায়ী, ১৯৭৮ সালের ১ জানুয়ারির পর থেকে রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ (State Medical Faculty) কর্তৃক প্রদত্ত "ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি" ডিগ্রিটিকে নিবন্ধযোগ্য চিকিৎসা যোগ্যতা হিসেবে আইনি সুরক্ষা ও স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
৫. প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও পরিসংখ্যান:
বিএমডিসি (BM&DC) কর্তৃক প্রেরিত দাপ্তরিক চিঠির তথ্য অনুযায়ী, ২৩ অক্টোবর ২০১৯ তারিখ পর্যন্ত বাংলাদেশে নিবন্ধিত ডিপ্লোমা চিকিৎসকের (DMF) মোট সংখ্যা ১৫,৮৫৩ জন। এই পরিসংখ্যানটি দেশে ডিএমএফ চিকিৎসকদের পেশাগত বৈধতা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার এক অনস্বীকার্য প্রমাণ।
৬. উচ্চ আদালতের যুগান্তকারী নির্দেশনা (২০২৬):
দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা পেশাদার উপাধি সংক্রান্ত বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ এক ঐতিহাসিক আদেশ প্রদান করেন। আদালত ডিএমএফ ডিগ্রিধারীদের বিএমডিসি নিবন্ধন প্রাপ্ত 'প্র্যাক্টিশনার' হিসেবে সম্বোধন করেছেন এবং তাদের নামের পূর্বে একটি 'যথাযথ উপাধি' (Prefix) নির্ধারণের জন্য সরকারকে চূড়ান্ত নির্দেশ প্রদান করেছেন, যা এই পেশার মর্যাদা ও পরিচয়কে আরও সুসংহত করেছে।
যেহেতু বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত ডিএমএফ (DMF) ডিগ্রিধারীদের বিএমডিসি নিবন্ধন প্রাপ্ত 'প্র্যাক্টিশনার' হিসেবে সুনির্দিষ্ট স্বীকৃতি প্রদান করেছেন এবং তাঁদের নামের পূর্বে একটি 'যথাযথ উপাধি' (Prefix) নির্ধারণের জন্য সরকারকে চূড়ান্ত নির্দেশনা দিয়েছেন, সেহেতু সর্বোচ্চ আদালতের আদেশের পর ডিএমএফদের 'মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট' বলার আর কোনো আইনি সুযোগ নেই। বরং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এবং সফল জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার (যেমন: চীন, ভিয়েতনাম ও উত্তর কোরিয়ার মডেল) উদাহরণ অনুসরণ করে
ডিএমএফ (DMF) ডিগ্রিধারীদের নামের পূর্বে 'সহকারী ডা:' অথবা 'ডিপ্লোমা ডা:' উপাধি প্রদান করা একমাত্র আইনানুগ ও সম্মানজনক সমাধান হিসেবে সরকারের জন্য সবচেয়ে সহজ, আধুনিক এবং যৌক্তিক সিদ্ধান্ত হতে পারে।