11/05/2026
‼️ তারা 'দালাল’ নয়, তারা চিকিৎসা ব্যবস্থার অন্যতম সহযোগী! গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি চাই ‼️
সম্প্রতি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী হয়রানি ও দালালির অভিযোগে ১৯ জন ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভসহ (MR) ৪৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
রিপ্রেজেন্টেটিভদের (MR) ‘দালাল’ আখ্যা দিয়ে প্রিজন ভ্যানে তুলে নেওয়ার দৃশ্য অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। দিনের পর দিন পরিশ্রম করে, গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে যারা একটি সম্মানজনক পেশায় নিয়োজিত, তাদের এভাবে হেনস্তা করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
মুলতঃ জানা যায় পুলিশ হাসপাতালে দালাল ধরতে গিয়ে তাদের না পেয়ে অবস্থানরত মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের গ্রেপ্তার করেন।
👉 কেন এই গ্রেফতারকে আমি অযৌক্তিক বলছি ?
১. মেডিকেল আপডেটের যোগসূত্র:
চিকিৎসাবিজ্ঞান প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। নতুন নতুন ড্রাগ, ফর্মুলা এবং গবেষণার তথ্য ডাক্তারদের কাছে পৌঁছে দেওয়া রিপ্রেজেন্টেটিভদের প্রধান কাজ। আমরা ডাক্তাররা হাজারো ওষুধের তথ্য সবসময় আপডেট রাখতে পারি না, এমআর-রা এই আপডেটেড তথ্যগুলো আমাদের প্রদান করেন।
২. শিক্ষিত ও পেশাদার:
এরা সাধারণ কোনো দালাল নন, বরং বিজ্ঞানের ছাত্র (বেশিরভাগ গ্র্যাজুয়েটেড) যারা ফার্মাকোলজি, ওষুধের কার্যকারিতা এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আমাদের তথ্য সরবরাহ করেন।
৩. ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের মেরুদণ্ড:
দেশের ঔষধ শিল্প ও চিকিৎসার মানোন্নয়নে তাদের অবদান অপরিসীম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, ঔষধের গুণাগুণ ও সঠিক ব্যবহার চিকিৎসকদের জানানো তাদের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।
(1st comment এ লিংক দেওয়া আছে)
৪. রোগীর নিরাপত্তা:
নতুন ড্রাগের কার্যকারিতা বা 'ড্রাগ ইন্টারেকশন' (একটি ওষুধের সাথে আরেকটি ওষুধের প্রতিক্রিয়া) সম্পর্কে আমাদের নিয়মিত আপডেটেড তথ্য প্রদান করে তারা পরোক্ষভাবে রোগীর নিরাপত্তাই নিশ্চিত করছেন।
৫. পেশাগত দায়িত্ব পালন:
মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা কোম্পানির নীতি এবং বিএমডিসি (BMDC) এর নীতিমালার আওতায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন, যার মাধ্যমে চিকিৎসকরা নতুন ও সাশ্রয়ী ঔষধ সম্পর্কে জানতে পারেন।
👉 দালাল কারা?
যারা রোগীদের ভুল বুঝিয়ে নিম্নমানের ওষুধ কিনতে বাধ্য করে, বা অপ্রয়োজনীয় ডায়াগনস্টিক টেস্ট করায়, অথবা এক হাসপাতালের রোগীকে বুঝিয়ে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যায় - তারাই দালাল। কিন্তু পেশাদার এমআর-রা ডাক্তারদের সাথে পেশাগত বৈজ্ঞানিক তথ্য বিনিময় করেন।
👉 অনেক সময় হাসপাতাল বা চেম্বারে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়, কিন্তু এর মানে এই নয় যে তাদের 'দালাল' হিসেবে গ্রেফতার করতে হবে।
👉 প্রতিটা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এমআর ভিজিটের সময় নির্ধারণ করে দিলে এমআর কর্তৃক সৃষ্ট জটলা বা ভীড় সহজেই দূর করা যায়।
👉 এমআর জব টি অনেক চ্যালেন্জিং ও কম্পিটিশন হওয়ায় এবং কোম্পানির ফিক্সড টার্গেট নির্ধারণ করে দেওয়ায় প্রতিটি এমআর, এরিয়া ম্যানেজার চরম স্ট্রেসে থাকেন। এটার ব্যাপারেও সরকারি ভাবে এবং প্রতিটা ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজর দিতে হবে।
🚫 অতএব, ভুল বোঝাবুঝি বা অতি উৎসাহী হয়ে পেশাদার এমআর'দের 'দালাল' আখ্যা দিয়ে হেনস্তা করা বন্ধ করুন। গ্রেফতারকৃতদের অবিলম্বে মুক্তি দিন এবং পেশাদারদের কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করুন।
ডাঃ তারেক আহমদ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ
পরিচালক, লোহাগাড়া জেনারেল হাসপাতাল, চট্টগ্রাম।