24/03/2026
আমি হেলমেট পরিধান করে মোটরসাইকেল চালানোর পক্ষে; তবে হেলমেট পরিধান করার জন্য যে সব যুক্তি সার্জেন্টরা দিয়ে থাকেন, সেসব যুক্তির সঙ্গে আমি শতভাগ একমত নই!
ট্রাফিক পুলিশের প্রধান যুক্তি নিয়েই আজ কথা বলবো। হেলমেট ছাড়া আপনাকে পেলে, মামলা তো দিবেই; সেই সাথে কিছু সদুপদেশও দিবে। খুব যত্ন সহকারে আপনাকে বলবেঃ
আপনার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, কেনো আপনি হেলমেট ছাড়া রাস্তায় বের হয়েছেন? আপনার কি জীবনের মায়া নেই?
অর্থাৎ এ ট্রাফিক সার্জেন্টের এ প্রশ্নের মাঝে আমরা উপলব্ধি করতে পারি যে জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হেলমেট পরিধান করারই জন্য এ আইন বাস্তবায়ন করে, মামলারও সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
আমার দুঃখটা হলো, সড়ক নিরাপত্তার ব্যবস্থা কমপ্লিট না করে; যদি আপনি হেলমেট পরিধান করে মোটরসাইকেল রাইড করেন— তাহলে কি সেই হেলমেট আপনাকে মৃত্যুর ফাঁদ থেকে রক্ষা করতে পারবে?
যেখানে সড়কের নিরাপত্তা নেই, যেখানে রেজিস্ট্রেশনহীন ব্যাটারি চালিত অবৈধ অটো এসে আপনার মোটরসাইকেলের উপর দিয়ে চালিয়ে দিচ্ছে; সেখানে যদি অমীয় সূধার বানীর মতো করে সার্জেন্টরা বলেঃ ভাই, হেলমেট ছাড়া কেনো বের হলেন? আপনার কি জীবনের মায়া নাই?
এটা আসলে হাস্যকর!
মাদারীপুরে এক ম্যাজিস্ট্রেট আমার বাইক সিগনাল দিয়েছে, আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মোটরসাইকেল স্ট্যান্ড করলাম। তিনি কাগজপত্র ওকে দেখলেন, তারপর হেলমেট নাই দেখে একটা জরিমানা দিলেন।
আমি তাকে বললামঃ আইন তো সবার প্রতিই সমান হওয়া উচিত, তাহলে অটোগুলোকে বন্ধ না করে— শুধু মোটরসাইকেলকেই কেনো টার্গেট করে থামানো হচ্ছে? জরিমানা করা হচ্ছে? ওনার কোন উত্তর ছিলনা।
আরো দুইমাস আগে টেকেরহাট, ভুরঘাটা ও খাগদীতে পুলিশের অভিযান হয়। প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল সবই ধরতেছিল। এই খাগদীতেই একটা অটো আমার গাড়িতে আঘাত করে চলে যায়, মেহেদী ভাইয়ের দোকানে মেরামত করতে গিয়ে ৩০ হাজার টাকা গুনতে হয়েছিল।
অটোরিকশা চালককে ধরলে, আশপাশের লোকজনরাই বলে ভাই! গরীব মানুষ ছেড়ে দেন, এত টাকা ওরা কই পাবে?
অথচ অটো চালিয়ে মাসে ৩০ হাজার টাকা ইনকাম করে। আর আমাদের মতো হুজুরদের ইনকাম মাসে এর অর্ধেক! এরপরেও বংশীয় মর্যাদা আছে বলে, আমরা না খেয়েও; খেয়ে আছি বলে সমাজে চলতে হয়!
খাগদীর পুলিশ এক ছোট ভাইরে মামলা দিলো, কাগজ আপডেট না। আমি ওর গাড়ীর পিছনে ছিলাম, ২৫০০/- টাকার মামলা! আমি নিজের পকেট থেকেই একমাস পরে ওকে মামলার টাকা দিয়েছিলাম।
তাকেও জিজ্ঞেস করলাম, মামলা দেন অসুবিধা নাই; কিন্তু রাস্তায় বাহন চলাচল করতে গেলে সরকারের পারমিট নিয়ে রেজিস্ট্রেশন ফি দিয়ে এরপর একটা গাড়ি/বাইক নামাতে হয়। অটোর কারণে আমরা সর্বদা আতঙ্কিত! আপনারা কেনো সড়কের নিরাপত্তা দিচ্ছেন না?
আমি ভিডিও করতে চাইলে, তিনি ভিডিও না করার অনুরোধ করেন।
শেষে তাকে একটা কথাই বলেছিলামঃ যারা আইন মান্য করে, আইন প্রয়োগ কি শুধু তাদের জন্যই প্রযোজ্য?
তার নিরবতা তখন রাষ্ট্রের দুর্বলতা প্রকাশ করেছিল!
ইউনুস সরকারের যুগ শেষ! এখন প্রধানমন্ত্রী জননেতা তারেক রহমান। তার নিকট অনুরোধ করবোঃ
বাংলাদেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণের জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় যৌথভাবে যে কাজ করছে, "বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৫"-এর অধীনে এগুলোর নিবন্ধন, চালকের লাইসেন্স ও নির্দিষ্ট রুট বাধ্যতামূলক করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বুয়েট-এর নকশা অনুযায়ী নতুন ই-রিকশা চালুরও যে পরিকল্পনা রয়েছে— এই তিনটি বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। আপনার সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়া এই সমস্যার সমাধান আদৌ সম্ভব নয়!
সামনেই এপ্রিল মাস আসতেছে, প্রচন্ড গরম আর উত্তাপের মধ্যেও হেলমেট পরিধান করেই মোটরসাইকেল চালাতে হবে। জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে ৩৬ ডিগ্রী সেলসিয়াসের উপরে যখন তাপমাত্রায় হেলমেট পরিধান আপনার জীবনকে কি ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে না?
চুল ঘামিয়ে, মস্তিষ্ক গরম হয়ে, বুকে কফ জমে নিউমোনিয়া ও অ্যাজমার মতো দুরারোগ্য ব্যাধিতে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। জীবনের মায়ায় নয়; বরং টাকার মায়ায় পুলিশের মামলা ভয়ে মানুষ হেলমেট পরিধান করছে!
হাইওয়েতে হেলমেট বাধ্যতামূলক করা হোক। ঢাকার শহরে জ্যাম-যটে, বাজার-ঘাট, মফস্বল এলাকায় উচ্চ তাপমাত্রায় হেলমেট সাথে থাকুক; কিন্তু পরিধান করাকে বাধ্যতামূলক না করা হোক!
মানুষ বাঁচতে চায়, বাঁচাতে চায়। এখন একজন মোটরসাইকেল রাইডারের উছিলায় একটি পরিবার বাঁচে! আইন অন্ধভাবে প্রয়োগ না করে, বুঝে শুনে প্রয়োগ করা উচিত।
হেলমেট গাড়িতে না থাকলে অবশ্যই মামলা করুক; কিন্তু কখন হেলমেট পরিধান করতেই হবে, এ ব্যাপারে একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম তৈরী করা সময়ের দাবী! গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বিবেচনায় সড়ক আইন প্রণয়ন করা একান্তই প্রয়োজন।
কত তাপমাত্রায় হেলমেট না পরিধান করেও বাইক চালাতে পারবে, এমন একটা সুব্যবস্থা নিলে— অনেক মানুষই হাফ ছেড়ে বাঁচবে!
রাস্তার নিরাপত্তা নিশ্চিত না করতে পারলে, ক্ষুদ্র হেলমেট কখনোই আপনার জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারবে না! বাস, বাইক, কারের মতো অটোকেও আইনের আওতায় আনা হোক। ওদের পরিবারও বাঁচুক, আর বাইকারদেরও পরিবার বাঁচুক!
অটো বন্ধ করে দিলে, একটা পরিবার বেঁচে থাকতে কষ্ট হবে। তাই রাস্তায় অটো চলাচল বন্ধ করে না দিয়ে; বরং অটোকে আইনের অন্তর্ভুক্ত করে মামলার আওতায় আনা হোক, যাতে মামলার ভয়ে কোন বাইকারের উপর দিয়ে নিরবিচ্ছিন্নভাবে অটো না উঠিয়ে দিতে পারে! তাহলে একজন বাইকার বাঁচবে এবং তার পরিবারও বাঁচবে!
- ✍🏻 মোঃ মহিউদ্দীন তাজীম
- ২৪.০৩.২০২৬