18/10/2025
🩺 প্রেগনেন্সি টেস্ট পজেটিভ, কিন্তু আল্ট্রাসাউন্ডে বাচ্চা নেই — ভয় নেই,চলুন জানি
‘Blighted O**m’ বিষয়টি সহজ ভাষায়।
অনেক সময় রোগীরা প্রেগনেন্সি টেস্টে পজেটিভ পান, কিন্তু আল্ট্রাসাউন্ডে শুধু বাচ্চার থলি (Gestational Sac) দেখা যায় — ভিতরে কোনো বাচ্চা (Fetal Pole) থাকে না।
তখন অনেকেই ভয় পেয়ে অনেক ডাক্তারের কাছে দৌড়ান “আসলেই কি আমি মা হয়েছি?” জানতে।
❓তাহলে এখন কী করতে হবে?
এই অবস্থাকে মেডিকেলের ভাষায় বলা হয় — Blighted O**m (ব্লাইটেড ওভাম)।
এতে বাচ্চা তৈরি হয় না, তাই এটি আপনাআপনি নষ্ট হয়ে যায়।
বেশিরভাগ সময় ব্লিডিং শুরু হয়, তবে পুরোপুরি ক্লিয়ার হয় কিনা বলা যায় না।
তাই সাধারণত D&C (ডি অ্যান্ড সি) করে পরিষ্কার করে দেওয়া হয়।
ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধের মাধ্যমেও চিকিৎসা নেওয়া যায়।
⚕️ কেন হয় Blighted O**m?
এর সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই।
তবে ধারণা করা হয় —
ক্রোমোজোমাল অস্বাভাবিকতা,
খারাপ মানের ডিম বা শুক্রাণু,
জেনেটিক ত্রুটি — এগুলো ভূমিকা রাখে।
🩸 লক্ষণসমূহ
প্রথমদিকে একদম স্বাভাবিক প্রেগনেন্সির মতোই —
বমিভাব, মাথা ঘোরা, খাবারে অরুচি, স্তনে টান ইত্যাদি।
কিন্তু যখন বাচ্চার বৃদ্ধি বন্ধ হয়, তখন হালকা পেটে ব্যথা ও ব্লিডিং শুরু হয়।
🧪 ইউরিন টেস্ট পজেটিভ কেন আসে?
কারণ তখনও HCG হরমোন নিঃসরণ হয়, যেটা প্রেগনেন্সি টেস্টে পজেটিভ ফল দেয়।
🩻 ডায়াগনোসিস কিভাবে হয়?
👉 আল্ট্রাসনোগ্রামই কনফার্মেটরি টেস্ট।
যখন Gestational sac তৈরি হয় কিন্তু ভিতরে fetal pole থাকে না,
এবং স্যাকের মাপ ২৫ মিমি’র বেশি,
তখন একে Blighted O**m ধরা হয়।
🕐 কখন নিশ্চিত হওয়া যায়?
যদি রোগী ৫–৬ সপ্তাহে আসেন, তবে বলা হয় আরও ২ সপ্তাহ পর ফলো-আপ আল্ট্রাসাউন্ড করতে।
কারণ অনেক সময় ৮ সপ্তাহের মধ্যে ফিটাল পোল দেখা দিতে পারে।
কিন্তু যদি ৮ সপ্তাহের পরেও ফিটাল পোল না দেখা যায় এবং হালকা ব্লিডিং থাকে,
তাহলে নিশ্চিতভাবে Blighted O**m বলা যায়।
👶 পরবর্তী গর্ভধারণ কবে করা যাবে?
আমি রোগীদের বলি —
👉 ৬ মাস পর আবার চেষ্টা করতে পারেন।
তার আগে অবশ্যই জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করবেন