09/03/2026
নিজের স্বামীর সাথে যখন বেস্ট ফ্রেন্ডকে আবাসিক হোটেল থেকে বের হতে দেখে রিক্সায় বসেই চোখের পানি ফেলতে থাকে টিয়া।এমনও দিন তার জীবনে আসবে এটা কল্পনায় ছিলো না।অফিসের নাম করে তবে সে এখানেই সময় কাটায়?কি কমতি আছে তার মাঝে?কিসের অপূর্ণতা রেখেছে একটা নারী হিসেবে নিজের মধ্যে?রূপ গুণ সবকিছুই তো আছে।যেমন দেখতে সুন্দরী তেমন কাজেও পারদর্শী।আবার বাবার অঢেল অর্থ সম্পদ তো আছেই।এমন মেয়েকেই তো ঘরের বউ করে ছেলেরা।তাও কেন স্বামীকে এভাবে দেখা লাগলো তার।কোনরকমে নিজেকে সামলে হাতে থাকা পার্সের মধ্যে থেকে ব্যাগের চেন খুলল।মোবাইল বের করে আগেই কয়েকটা ছবি তুলে নিলো দুজনের।তারা হাসিমুখে কি সুন্দর আলাপ জুড়েছে।স্বামীর হাত আছে প্রিয় বান্ধবীর কাঁধেই।সহ্য হয়না তবুও প্রমাণ রাখতে হয়।দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে কল দিলো।ওপাশ থেকে ধরলো টিয়ার স্বামী ফাহিম।
"হ্যাঁ বলো?"
"কোথায় তুমি?"
"অফিসেই আছি,কেন?"
"মিস করছিলাম খুব তাই।আচ্ছা আমি আসব তোমার কাছে?আজকে নাহয় একটু ঘুরে বেড়াবো।"
"পাগল নাকি!অফিসের অনেক কাজ আছে আমার।ছুটিই পাবো না আমি।"
অকপটে মিথ্যা বলার সময় লোকটার ভ্রু কুঁচকে এলো।সব কিছুই রিক্সাওয়ালা মামার পিছনে উকি দিয়ে দেখছে টিয়া।নিজের বেস্ট ফ্রেন্ড আনিকা হেসে হেসে ঠোঁট ব্যঙ্গ করছে।যেনো সেও মজা নিচ্ছে নিজ বান্ধবীকে ঠকানোতে।অবশ্যই এরা যেমন নর্দমার কিট তেমন মজা নিতেও পটু।টিয়া তো এমন নারী না যে মুখে কুলু পেতে থাকবে।নিজের পরিবারের ক্ষমতা তার আছে।সেও এই ধোঁকার বদলে থাপ্পড় দিতে জানে।যদি সম্ভব নাও হয় তাহলেও সে এমন নিকৃষ্ট ব্যক্তিদের সাথে থাকবে না।এদেরকে নিজের জীবন থেকে বিদায় দেওয়ার আগে এদের উচিত শিক্ষাটা দিবে।তাই কথা ঘোড়াতে বলে,"আচ্ছা তুমি তাহলে কাজ করো।আমি আমার অন্য ফ্রেন্ড নিয়ে যাই।"
"কোনো ছেলে ফ্রেন্ড থাকবে নাকি সাথে?"
আনিকা একটা ছোট আদুরে কিল বসালো ফাহিমের বুকে।ফাহিম মিটিমিটি হেসে আনিকাকে আরেকটু আলিঙ্গন করে নেয়। টিয়ার মন তো চায় এখনই একটা ঠাটিয়ে দিতে দুজনের গালে।দাঁত কিড়মিড় করে বলে,"আমার অনেক হ্যান্ডসাম হ্যান্ডসাম ছেলে ফ্রেন্ড আছে।যাদের ব্যস্ততা থাকলেও আমার এক ডাকাতে চলে আসতে পারবে।শুধুমাত্র তুমি আমার জীবনে আছো বলে আমি ওদেরকে ডাকি না।আসল কথা হলো আমার শত পুরুষের সঙ্গ চাই না।আমার এক পুরুষেই ভালোভাবে জীবন পার করার মানসিকতা আছে।জানিনা সেই ইচ্ছা পূরণ হবার কি না।"
"এমন করে কেন বলছো?তুমি কি রাগ করেছো বাবু?"
"আমি তোমার বিয়ে করা বউ।বাবু না আর রাগ করিনি।এমনিতেই বললাম আরকি।রাখি তাহলে।"
"আচ্ছা রাখো।"
কল কাটলো টিয়া।ফাহিমের ডাকা উবাড় এসেছে।উবাড় সামনে আসতেই আনিকার ফোনে কল আসলো।আনিকা দেখলো টিয়া কল করেছে।ভ্রুকুটি করে কেটে ম্যাসেজ দেয়,"ব্যাস্ত আছি দোস্ত।এখন তোর হবু দুলাভাইয়ের সাথে বাইরে।পরে কথা হবে।"
ফিচেল হাসলো টিয়া।হবু দুলাভাই!প্ল্যান করলো ওদের এই নাটক ওদেরকে ফেরত দিবে।আনিকার সাদাসিদা হবু বর ফুয়াদ।বাবা নেই মা অসুস্থ।সরকারি চাকরি করে ভুঁড়ি আছে বেশ।মাথায় চুলগুলো থাকলেও না থাকার মত।আনিকার পরিবারের দায়িত্ব নিতেও রাজি সেই লোকটা।আনিকার আছে শুধু নানি।আনিকা দেখতে মিষ্টি হলেও টিয়ার থেকে আহামরি না।কিন্তু আনিকার মাঝে কিছু কৌশল আছে।যেগুলো টিয়া অবলম্বন করতে জানেনা।এই যেমন গায়ে ঢলে পড়া।মন গলানো কথাবার্তা।আরো অনেক কিছু।নাহলে এমন লো ফ্যামিলির মেয়ে কি আর ইজিলি কৌশলে টিয়ার বেস্ট ফ্রেন্ড হয়? টিয়া তো আনিকার মন স্বচ্ছ দেখেই বন্ধুত্ব করেছিলো।ওরা দুজনে উবাড়ে উঠে দুজন দুজনকে জড়িয়ে রেখেছে।টিয়া নিজ চোখে দেখলো।চোখ দিয়ে টুপ করে কয়েক ফোঁটা পানি বের হলো।এমন দৃশ্য কোনো মেয়েই মেনে নিতে পারেনা।মেয়ের জন্ম হয় এমন এক পুরুষের সাথে জীবন গড়ার জন্য।সেই পুরুষ যদি অন্য নারীর প্রতি আকর্ষিত হয় তাহলে মেয়েদের জীবনে থাকলো কি?বুকের মাঝে শূন্যতা বোধ করছে টিয়া।বিয়ের পর থেকে এই পর্যন্ত তার সমস্ত চাওয়া পাওয়া জুড়ে চলো ফাহিম।যাই করবে যাই খাবে ফাহিম ব্যতীত ভাবেনি।এমন তো না যে আনিকাকে ফাহিমের সাথে অহরহ ঘুরেছে বা আনিকাকে নিয়ে মিষ্টি মিষ্টি কিছু কথা বলেছে।ওই তো বিয়ের দিনটাই শুধু দুজনের আলাপ।এরপরেই কি তাহলে আনিকার কুনজর লেগে গেলো?কুনজর খুব ভয়ানক এক দৃষ্টি।যেটা বোঝা বড় দায়।একবার কুনজরে পড়লে জীবন হয়ে যায় মরুভূমির মত।
যদি একটু কষ্ট করে ওরা চার/পাঁচ কদম পিছনে রিক্সায় চোখ রাখতো দেখতে পেতো তারা ধরা পড়েছে।টিয়া একবার ভেবে নিলো তালাক দিবে ফাহিমকে।মুক্ত হবে নিজেও।আবার ভাবলো তালাক দিলেই কি এরা সোজা পথে আসবে।এদেরকে ছেড়ে দিলে এই পরকীয়া বাড়তেই থাকবে।তাই টিয়া কৌশল অবলম্বন করতে চাইলো।এমন কৌশল যেনো ওরা ওদের পরকীয়ার জন্য নিজেদের ঘৃণা করে।এই পরকীয়ার জন্য
সব পর্বের লিংক কমেন্টে দিছি লিংকে ক্লিক করে পড়ে নিন, অনেকে বলে পড়তে পারি না, যাদের ফোনে এম্বি নাই তারা লিংকে ক্লিক করলে আসবে না। অন্য দের টিকি আসবে, যাদের এম্বি নাই ইনবক্স কইরেন অন্য লিংক দিবো নে যাতে এম্বি ছাড়া পড়তে পারেন।
আপনজনকে হারানোর কষ্ট যেনো তারাও হারে হারে বুঝতে পারে।আর কতবার মানুষ শুধু পরকীয়া দেখে নিজেকে আঘাত করবে।অন্যায়কারীদের শাস্তিও তো প্রাপ্য।এখন শুধু ভাবতে হবে কি উপায়ে শাস্তি দেওয়া যায়।
সব পর্ব কমেন্টে দেওয়া লিংকে ক্লিক করে পড়ে নিন।
টিট_ফর_ট্যাট|০১|
ইশরাত_জাহান(রাতপাখি)
বিঃদ্রঃ কয়েক পর্বের হবে।আগে অনেক ক্ষুদ্রগল্প লিখতাম।হঠাৎ নোট চেক করতেই দেখলাম আর ভাবলাম কয়েক পর্বের যেহেতু আপলোড করি।হ্যাপি রিডিং