রোমান ইসলাম

রোমান ইসলাম শিক্ষনীয় ও মজার মজার সব গল্প পেতে এখনই পেইজ Follow দিয়ে রাখুন। 👈

কিছু জানতে চাইলে মেসেজ করুন। 💌
(5)

নিজের স্বামীর সাথে যখন বেস্ট ফ্রেন্ডকে আবাসিক হোটেল থেকে বের হতে দেখে রিক্সায় বসেই চোখের পানি ফেলতে থাকে টিয়া।এমনও দিন...
09/03/2026

নিজের স্বামীর সাথে যখন বেস্ট ফ্রেন্ডকে আবাসিক হোটেল থেকে বের হতে দেখে রিক্সায় বসেই চোখের পানি ফেলতে থাকে টিয়া।এমনও দিন তার জীবনে আসবে এটা কল্পনায় ছিলো না।অফিসের নাম করে তবে সে এখানেই সময় কাটায়?কি কমতি আছে তার মাঝে?কিসের অপূর্ণতা রেখেছে একটা নারী হিসেবে নিজের মধ্যে?রূপ গুণ সবকিছুই তো আছে।যেমন দেখতে সুন্দরী তেমন কাজেও পারদর্শী।আবার বাবার অঢেল অর্থ সম্পদ তো আছেই।এমন মেয়েকেই তো ঘরের বউ করে ছেলেরা।তাও কেন স্বামীকে এভাবে দেখা লাগলো তার।কোনরকমে নিজেকে সামলে হাতে থাকা পার্সের মধ্যে থেকে ব্যাগের চেন খুলল।মোবাইল বের করে আগেই কয়েকটা ছবি তুলে নিলো দুজনের।তারা হাসিমুখে কি সুন্দর আলাপ জুড়েছে।স্বামীর হাত আছে প্রিয় বান্ধবীর কাঁধেই।সহ্য হয়না তবুও প্রমাণ রাখতে হয়।দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে কল দিলো।ওপাশ থেকে ধরলো টিয়ার স্বামী ফাহিম।

"হ্যাঁ বলো?"
"কোথায় তুমি?"
"অফিসেই আছি,কেন?"
"মিস করছিলাম খুব তাই।আচ্ছা আমি আসব তোমার কাছে?আজকে নাহয় একটু ঘুরে বেড়াবো।"
"পাগল নাকি!অফিসের অনেক কাজ আছে আমার।ছুটিই পাবো না আমি।"

অকপটে মিথ্যা বলার সময় লোকটার ভ্রু কুঁচকে এলো।সব কিছুই রিক্সাওয়ালা মামার পিছনে উকি দিয়ে দেখছে টিয়া।নিজের বেস্ট ফ্রেন্ড আনিকা হেসে হেসে ঠোঁট ব্যঙ্গ করছে।যেনো সেও মজা নিচ্ছে নিজ বান্ধবীকে ঠকানোতে।অবশ্যই এরা যেমন নর্দমার কিট তেমন মজা নিতেও পটু।টিয়া তো এমন নারী না যে মুখে কুলু পেতে থাকবে।নিজের পরিবারের ক্ষমতা তার আছে।সেও এই ধোঁকার বদলে থাপ্পড় দিতে জানে।যদি সম্ভব নাও হয় তাহলেও সে এমন নিকৃষ্ট ব্যক্তিদের সাথে থাকবে না।এদেরকে নিজের জীবন থেকে বিদায় দেওয়ার আগে এদের উচিত শিক্ষাটা দিবে।তাই কথা ঘোড়াতে বলে,"আচ্ছা তুমি তাহলে কাজ করো।আমি আমার অন্য ফ্রেন্ড নিয়ে যাই।"

"কোনো ছেলে ফ্রেন্ড থাকবে নাকি সাথে?"

আনিকা একটা ছোট আদুরে কিল বসালো ফাহিমের বুকে।ফাহিম মিটিমিটি হেসে আনিকাকে আরেকটু আলিঙ্গন করে নেয়। টিয়ার মন তো চায় এখনই একটা ঠাটিয়ে দিতে দুজনের গালে।দাঁত কিড়মিড় করে বলে,"আমার অনেক হ্যান্ডসাম হ্যান্ডসাম ছেলে ফ্রেন্ড আছে।যাদের ব্যস্ততা থাকলেও আমার এক ডাকাতে চলে আসতে পারবে।শুধুমাত্র তুমি আমার জীবনে আছো বলে আমি ওদেরকে ডাকি না।আসল কথা হলো আমার শত পুরুষের সঙ্গ চাই না।আমার এক পুরুষেই ভালোভাবে জীবন পার করার মানসিকতা আছে।জানিনা সেই ইচ্ছা পূরণ হবার কি না।"

"এমন করে কেন বলছো?তুমি কি রাগ করেছো বাবু?"

"আমি তোমার বিয়ে করা বউ।বাবু না আর রাগ করিনি।এমনিতেই বললাম আরকি।রাখি তাহলে।"

"আচ্ছা রাখো।"

কল কাটলো টিয়া।ফাহিমের ডাকা উবাড় এসেছে।উবাড় সামনে আসতেই আনিকার ফোনে কল আসলো।আনিকা দেখলো টিয়া কল করেছে।ভ্রুকুটি করে কেটে ম্যাসেজ দেয়,"ব্যাস্ত আছি দোস্ত।এখন তোর হবু দুলাভাইয়ের সাথে বাইরে।পরে কথা হবে।"

ফিচেল হাসলো টিয়া।হবু দুলাভাই!প্ল্যান করলো ওদের এই নাটক ওদেরকে ফেরত দিবে।আনিকার সাদাসিদা হবু বর ফুয়াদ।বাবা নেই মা অসুস্থ।সরকারি চাকরি করে ভুঁড়ি আছে বেশ।মাথায় চুলগুলো থাকলেও না থাকার মত।আনিকার পরিবারের দায়িত্ব নিতেও রাজি সেই লোকটা।আনিকার আছে শুধু নানি।আনিকা দেখতে মিষ্টি হলেও টিয়ার থেকে আহামরি না।কিন্তু আনিকার মাঝে কিছু কৌশল আছে।যেগুলো টিয়া অবলম্বন করতে জানেনা।এই যেমন গায়ে ঢলে পড়া।মন গলানো কথাবার্তা।আরো অনেক কিছু।নাহলে এমন লো ফ্যামিলির মেয়ে কি আর ইজিলি কৌশলে টিয়ার বেস্ট ফ্রেন্ড হয়? টিয়া তো আনিকার মন স্বচ্ছ দেখেই বন্ধুত্ব করেছিলো।ওরা দুজনে উবাড়ে উঠে দুজন দুজনকে জড়িয়ে রেখেছে।টিয়া নিজ চোখে দেখলো।চোখ দিয়ে টুপ করে কয়েক ফোঁটা পানি বের হলো।এমন দৃশ্য কোনো মেয়েই মেনে নিতে পারেনা।মেয়ের জন্ম হয় এমন এক পুরুষের সাথে জীবন গড়ার জন্য।সেই পুরুষ যদি অন্য নারীর প্রতি আকর্ষিত হয় তাহলে মেয়েদের জীবনে থাকলো কি?বুকের মাঝে শূন্যতা বোধ করছে টিয়া।বিয়ের পর থেকে এই পর্যন্ত তার সমস্ত চাওয়া পাওয়া জুড়ে চলো ফাহিম।যাই করবে যাই খাবে ফাহিম ব্যতীত ভাবেনি।এমন তো না যে আনিকাকে ফাহিমের সাথে অহরহ ঘুরেছে বা আনিকাকে নিয়ে মিষ্টি মিষ্টি কিছু কথা বলেছে।ওই তো বিয়ের দিনটাই শুধু দুজনের আলাপ।এরপরেই কি তাহলে আনিকার কুনজর লেগে গেলো?কুনজর খুব ভয়ানক এক দৃষ্টি।যেটা বোঝা বড় দায়।একবার কুনজরে পড়লে জীবন হয়ে যায় মরুভূমির মত।

যদি একটু কষ্ট করে ওরা চার/পাঁচ কদম পিছনে রিক্সায় চোখ রাখতো দেখতে পেতো তারা ধরা পড়েছে।টিয়া একবার ভেবে নিলো তালাক দিবে ফাহিমকে।মুক্ত হবে নিজেও।আবার ভাবলো তালাক দিলেই কি এরা সোজা পথে আসবে।এদেরকে ছেড়ে দিলে এই পরকীয়া বাড়তেই থাকবে।তাই টিয়া কৌশল অবলম্বন করতে চাইলো।এমন কৌশল যেনো ওরা ওদের পরকীয়ার জন্য নিজেদের ঘৃণা করে।এই পরকীয়ার জন্য

সব পর্বের লিংক কমেন্টে দিছি লিংকে ক্লিক করে পড়ে নিন, অনেকে বলে পড়তে পারি না, যাদের ফোনে এম্বি নাই তারা লিংকে ক্লিক করলে আসবে না। অন্য দের টিকি আসবে, যাদের এম্বি নাই ইনবক্স কইরেন অন্য লিংক দিবো নে যাতে এম্বি ছাড়া পড়তে পারেন।

আপনজনকে হারানোর কষ্ট যেনো তারাও হারে হারে বুঝতে পারে।আর কতবার মানুষ শুধু পরকীয়া দেখে নিজেকে আঘাত করবে।অন্যায়কারীদের শাস্তিও তো প্রাপ্য।এখন শুধু ভাবতে হবে কি উপায়ে শাস্তি দেওয়া যায়।

সব পর্ব কমেন্টে দেওয়া লিংকে ক্লিক করে পড়ে নিন।

টিট_ফর_ট্যাট|০১|
ইশরাত_জাহান(রাতপাখি)

বিঃদ্রঃ কয়েক পর্বের হবে।আগে অনেক ক্ষুদ্রগল্প লিখতাম।হঠাৎ নোট চেক করতেই দেখলাম আর ভাবলাম কয়েক পর্বের যেহেতু আপলোড করি।হ্যাপি রিডিং

বিয়ের দিন হঠাৎ মেয়েটা অজ্ঞান হ'য়ে যায়,ডাক্তার পরীক্ষা করে জানায় মারা গেছে কিন্তু রাতে মর্গে যা ঘটে সেটা কেউ কল্পনাও করেন...
09/03/2026

বিয়ের দিন হঠাৎ মেয়েটা অজ্ঞান হ'য়ে যায়,ডাক্তার পরীক্ষা করে জানায় মারা গেছে কিন্তু রাতে মর্গে যা ঘটে সেটা কেউ কল্পনাও করেনি! 😱
আজ নাতাশার বিয়ে—সেই স্বপ্নের দিন,যে স্বপ্ন প্রতিটি মেয়ের,নিজের প্রিয় মানুষ টাকে একদম নিজের করে পাওয়ার দিন—হঠাৎ রঙহীন হয়ে গেল বিয়ে কমিউনিটি সেন্টার । ফুল আর সাদা রিবনে ভরা বিয়ের গাড়ি, হাসি-কান্নার সবকিছু এক ঝটকায় পেছনে ফেলে, নাতাশা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ল,চারপাশে হুলুস্থুল অবস্থা...দ্রুত ডাক্তার ডাকা হলো, ডাক্তার এসে নিশ্চিত করলেন—মৃত্যু।নাতাশার হবু বর হসপিটালে নিতে চাইলে ডাক্তার জানালো, আর হসপিটালে নিয়ে লাভ নেই, তাই তার দেহ সরাসরি ঢাকার মর্গে পাঠানো হলো।
কিন্তু সাব ইন্সপেক্টর সাবিনা, যিনি মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে জয়েন করেছেন, কিছু অদ্ভুত বিষয় লক্ষ্য করলেন। নাতাশার গাল যেন এখনও হালকা গোলাপি, যেন জীবনবাণী ধীরে ধীরে ছড়িয়ে দিচ্ছে। নীরবতার মাঝে—একটা ক্ষুদ্র, কিন্তু অস্বীকারযোগ্য নয়—হার্টবিট।
কমিউনিটি সেন্টারের সামনে অ্যাম্বুলেন্স থেমে গেল। এম্বুলেন্স এর সাইরেন হঠাৎ নিস্তব্ধ। বিয়ের গাড়িগুলো, সাদা রিবন আর ফুলে সজ্জিত, যেন বুকে এক অদ্ভুত ভার বহন করে, একের পর এক এগোচ্ছে। অতিথিরা—যারা ধানমন্ডি থেকে এসেছে—বাইরে দাঁড়িয়ে রইল। কেউ কাঁদছে, কেউ অবিশ্বাসে তাকাচ্ছে। বর রিয়াদ তার পাশে হাঁটছে, ফ্যাকাশে মুখ, নিঃশব্দ চোখ, যেন এই বাস্তবতাকে স্বীকার করতে অস্বীকার করছে।

সাবিনা করিডরের কোণে দাঁড়িয়ে সব দেখছিল। নতুন জয়েন করায় মৃতদেহের সঙ্গে কাজ করা এখনও অস্বস্তিকর। ডা. ওমর একবার বলেছিলেন,
“মৃতরা ভয়ঙ্কর নয়। ভয়ের বিষয় হল বেঁচে থাকা মানুষই।”
পরিবারকে বাইরে পাঠানোর পর, নাতাশার দেহ রাখা হলো আলাদা কক্ষে। ডাক্তার দ্রুত কাগজপত্র দেখলেন।
“আগামীকাল অটোপসি। শিফট শেষ করো।”
“মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত?” সাবিনা জিজ্ঞেস করল।
“হ্যাঁ, সব সই হয়ে গেছে। কোনো সমস্যা নেই।”
ডাক্তার চলে যাওয়ার পর কক্ষটি শান্ত হয়ে গেল। কিন্তু সাবিনার চোখ কিছু অস্বাভাবিক লক্ষ্য করল। নাতাশা—মৃতদেহের মতো ধূসর বা শীতল নয়। গালগুলো হালকা লালচে, ঠোঁট নীল নয়। সাবিনা ভয়ে ও কৌতূহলে নাতাশার হাত স্পর্শ করল।
উষ্ণ!
আবার ছুঁল—ত্বক নরম, জীবিতের মতো। বুক—হার্টবিট—হালকা নড়ছে। সে ফিসফিস করে বলল,
“এটা সম্ভব নয়…”
সাবিনা নীচে ঝুঁকে কান রাখল। নীরবতার মধ্যে সে শুনল—একটি হালকা, ধীর হৃদস্পন্দন।
ভয় ও শঙ্কায় সে ডাক্তারকে ডেকে আনল। ডাক্তার বিরক্ত, কিন্তু পরীক্ষা করলেন। স্টেথোস্কোপ, চোখ, গলা—কিছুই পাওয়া গেল না।
“আপনি সম্ভবত কল্পনা করেছেন,” ডাক্তার বললেন এবং চলে গেলেন।
সাবিনা একা রইল। কয়েক মিনিট পর আঙুলগুলো—মৃদু নড়াচড়া।
“দেখো নাতাশা, যদি তুমি সত্যিই বেচে থাকো তবে তুমি হাত নাড়াও,” সে ফিসফিস করল।
কিছুই হলো না। তবুও, সন্দেহ মনে ঘুরপাক খাচ্ছিল।

রাতভর বাড়িতে না গিয়ে, বাহিরে গিয়ে আবার সাবিনা মর্গে ফিরে এল। নাতাশার ত্বক এখনও উষ্ণ। সে সিদ্ধান্ত নিল—কাউকেই না জানিয়ে, কক্ষে একটি ছোট ক্যামেরা বসাবে।
পরের দিন সকালে সে সবার আগেই এসে, ইউটিলিটি রুমে নিজেকে তালাবদ্ধ করল। ফুটেজ পরীক্ষা শুরু করল।
প্রথম দুই ঘণ্টা—কিছুই ঘটল না।
তারপর—ফুটেজে যা দেখল, তা দেখে রক্ত জমাট হয়ে গেল সাবিনার!

চলবে....

#মর্গ পর্ব ((০১)

দ্বিতীয় পর্ব পড়তে চাইলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন ধন্যবাদ

প্রচণ্ড প্রসব যন্ত্রণায় কাতর হয়ে  লামিয়া তার স্বামীকে ফোন করলেন। ফোনের ওপাশে, স্বামী এক হাতে তার প্রেমিকাকে জড়িয়ে ধরে ছি...
09/03/2026

প্রচণ্ড প্রসব যন্ত্রণায় কাতর হয়ে লামিয়া তার স্বামীকে ফোন করলেন। ফোনের ওপাশে, স্বামী এক হাতে তার প্রেমিকাকে জড়িয়ে ধরে ছিল, আর কানে ছিল ফোন। তার কণ্ঠ ছিল ঠান্ডা ও নির্লিপ্ত।

“যদি আবার মেয়ে হয়… আমি ওই মেয়ের দায়িত্ব নিবো না, আমার ঘরে আরেকটা বোঝার দরকার নেই। তুমি তোমার বাবার বাড়ি চলে যাও।”

কোন কথা না শুনেই সে ফোন কেটে দিল।একবার লামিয়ার কষ্ট বোঝার চেষ্টা ও করলো না,অসহায় লামিয়ার দুচোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়লো.....।

কিন্তু পরের দিন যখন লামিয়ার স্বামী বাড়ি ফিরল, তখন সবকিছু বদলে গিয়েছিল।

সেই রাতে ঢাকার আকাশ কালো হয়ে ছিল।
আষাঢ়ের বৃষ্টি যেন থামতেই চাইছিল না। বাতাসে ভেজা মাটির গন্ধ, দূরে কোথাও বিদ্যুতের আলো ঝলসে উঠছে, আবার অন্ধকার।লামিয়ার জীবনেও চলছিলো ঝড়।

মিরপুরের একটা পুরোনো ছয়তলা অ্যাপার্টমেন্টের পঞ্চম তলায়, লামিয়া যন্ত্রণায় সামনে ঝুঁকে পড়েছিল।

এক হাত দিয়ে সে তার ফুলে ওঠা পেট আঁকড়ে ধরেছিল, আর অন্য হাত দিয়ে দেয়ালে ভর দিয়ে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করছিল নিজের সর্বশেষ শক্তি দিয়ে।

তার শ্বাস ভারী হয়ে উঠছিল।কাঁপতে থাকা আঙুল দিয়ে সে ডাইনিং টেবিলে রাখা ফোনটা তুলে নিল। স্বামীর নম্বরটা ডায়াল করল।

“সজিব… প্লিজ… মনে হয় সময় হয়ে গেছে। ব্যথা খুব বেড়ে গেছে। আমি খুব ভয় পাচ্ছি। তুমি কি বাসায় আসতে পারবে?”

ফোনের ওপাশে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।তারপর ভেসে এল সজিবের গলা—বিরক্ত, দূরত্বভরা, আর ঠান্ডা।

“আমি তো আগেই বলেছি—যদি আবার মেয়ে হয়, আমি কিন্তু এই বাচ্চার দায়িত্ব নেব না। আমার ঘর মেয়েদের দিয়ে ভরাতে চাই না।”

লামিয়ার বুকের ভেতরটা যেন হঠাৎ ফাঁকা হয়ে গেল।
“তুমি এটা বলছ… যখন তোমার সন্তান জন্ম নিতে যাচ্ছে?” ব্যথার ঢেউয়ের মাঝে কাঁপতে থাকা গলায় বলল সে।

সজিবের বিরক্তিমাখা উত্তর “আমি ব্যস্ত। নিজেই সামলাও।”এরপর ফোন কেটে গেল!
লামিয়া প্রায় মেঝেতে বসে পড়ল।আরেকটা তীব্র ব্যথা তার পুরো শরীর কাঁপিয়ে দিল। তার কষ্টের আর্তনাদ সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে গেল।

নিচতলায় থাকতেন এক বৃদ্ধা—হালিমা খালা। এলাকার সবার কাছেই তিনি যেন মায়ের মতো।
চিৎকার শুনে তিনি দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠলেন।দরজা খোলা ছিল।
মাহমুদার ফ্যাকাশে মুখ, ঘামে ভেজা চুল, আর কাঁপতে থাকা শরীর দেখেই তিনি সব বুঝে গেলেন।
“আল্লাহ! মা, তুমি একা আছো?”এক মুহূর্ত দেরি না করে তিনি ৯৯৯-এ ফোন করলেন।
কিছুক্ষণ পর অ্যাম্বুলেন্স এল।প্যারামেডিকরা সাবধানে মাহমুদাকে স্ট্রেচারে তুলে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামাচ্ছিল।আর ঠিক সেই সময়—সজিব ঢাকার কাছেও ছিল না।
সে তখন কক্সবাজারের একটা বিলাসবহুল রিসোর্টে।
নরম সাদা চাদর বিছানো বিছানা, মৃদু আলো, তার পাশে শুয়ে ছিল তার অফিসের নতুন সহকারী নিশাত।
নিশাত অলস ভঙ্গিতে তার বুকের উপর আঙুল দিয়ে বৃত্ত আঁকছিল।
“তোমার খারাপ লাগে না?” হালকা হাসি দিয়ে জিজ্ঞেস করল সে।
“তোমার গর্ভবতী স্ত্রীকে এভাবে ফেলে রেখে?”
সজিব কাঁধ ঝাঁকাল।“ও খুব সাধারণ মেয়ে। কোনো স্বপ্ন নেই, কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই,” সে উদাস ভঙ্গিতে বলল।
তারপর নিশাতের দিকে তাকিয়ে একটু হেসে বলল—
“তুমি আলাদা। তুমি যদি আমাকে একটা ছেলে দাও… তোমার জীবনে কোনো কিছুর অভাব থাকবে না।”
রিসোর্টের কাচের জানালার বাইরে সমুদ্রের ঢেউ উঠানামা করছিল।
আর দূরে ঢাকায় ঝড়ের রাত চলতেই থাকল।লামিয়ার জীবনে ও...
এদিকে মিরপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে, লামিয়াল জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছিল।
ঘন্টার পর ঘন্টা যন্ত্রণার পর—হঠাৎ সেই নীরব কক্ষ ভরে উঠল এক নবজাতকের কান্নায়।
একটি ছোট্ট কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠের কন্যাশিশু জন্ম নিল।
তার নাম রাখা হলো রিদা।লামিয়ার শরীরে তখন আর শক্তি নেই।
মেয়েকে একবার বুকের কাছে টেনে নেওয়ার পরই সে ক্লান্তিতে গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল।
পরের দিন বিকেলে সজিব অবশেষে ঢাকায় ফিরল।
মিরপুরের বাসার সামনে গাড়ি থামাতেই তার কেমন যেন অদ্ভুত লাগল।ড্রাইভওয়েতে কোনো শব্দ নেই।
বাড়িটা অস্বাভাবিকভাবে নিঃশব্দ।দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই সে থেমে গেল।
ঘরের ভেতরে সে যা দেখল—তা তাকে সম্পূর্ণভাবে স্তম্ভিত করে দিল।

চলবে........
গল্প: মেয়ে বাবু।
লেখায় : 1 Minute With Mitu

গল্পের দ্বিতীয় পর্ব পড়তে চাইলে অবশ্যই কমেন্ট করবেন। নতুন হলে Follow করুন। নতুন নতুন গল্প পেতে।
আর অনুগ্রহকরে কেউ কপি করবেন না 🤚

#গল্প #পোস্ট

নিজের নব বিবাহিত স্ত্রীকে সিড়িতে বসে থাকতে দেখে অবাক হলো ইনাম।ভালো করে খেয়াল করতেই দেখলো মেয়েয়াটা সিড়ির ফ্লোরে বসে রেলিং...
09/03/2026

নিজের নব বিবাহিত স্ত্রীকে সিড়িতে বসে থাকতে দেখে অবাক হলো ইনাম।ভালো করে খেয়াল করতেই দেখলো মেয়েয়াটা সিড়ির ফ্লোরে বসে রেলিংয়ে মাথা থেকিয়ে ঘুমিয়ে আছে।ইনাম বা হাতে থাকা ঘড়িতে চোখ বুলালো।রাত ৯ টা ১৫ মিনিট!অনেকক্ষন ধরে কি এভাবে বসে ছিলো?ইনাম কয়েক কদম এগিয়ে গেলো।নিচু হয়ে ঝুঁকে ডাকতে লাগলো।দুই তিন বার ডাকার পরে প্রিয়তা হুড়মুড় করে ঘুম থেকে উঠলো।বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে সামনে তাকাতেই ইনামকে দেখলো।ইনাম প্রিয়তার দিকেই তাকিয়ে আছে।
"আপনি এখানে?"
প্রিয়তার কথা শুনে ইনাম বিরক্ত হয়ে বলল,
"এই সেইম কথাটা আমার তোমাকে জিজ্ঞেস করার কথা ছিলো!এখানে কি করছো?বাসার ঠিকানা পেলে কি করে?"
"মার কাছ থেকে নিয়েছি ঠিকানা।"
"আম্মুর কাছ থেকে?"
"হুম!"
"তো কি দরকারে এসেছো?"
"থাকার জন্য এসেছি!হাতে ব্যাগ দেখতে পারছেন না?"
ইনাম অবাক হয়ে বলল,
"মানে?তুমি এখানে থাকবে?কিসের জন্য? "
"কিসের জন্য মানে?আমি আপনার বউ!আপনার সাথে আমি থাকবো না তো কে থাকবে?"
কিছু একটা ভেবে সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকিয়ে চোখ ছোট ছোট করে প্রিয়তা এগোতে লাগলো ইনামের দিকে।প্রিয়তাকে এগুতে দেখে ইনাম অবাক হলো।প্রিয়তা এসে একদম ইনামের থেকে কয়েক ইঞ্চি দুরে দাঁড়িয়ে বলল,
"বাসাতে আপনার সংসার আছে?"
"মানে?"
"মানে আরেকটা বউ আছে?যাকে লুকানোর জন্য আমাকে বাসায় রাখতে চাচ্ছেন না!"
"কিসব উল্টাপাল্টা বলছো?মাথা কি ঠিক আছে?"
প্রিয়তা ইনামের থেকে দুরে সরে গিয়ে বলল,
"তাহলে আমাকে এখানে থাকতে দিবেন না কেন?নিশ্চয়ই কোন খাপলা আছে!"
কথাটা শুনে ইনাম শুকনো ঢোক গিললো।এদিক ওদিক তাকয়ে থেকে বলল,
"কিসের খাপলা?"
"বিয়ের রাতে যার সাথে লুকিয়ে কথা বলছিলেন ফোনে অই মেয়েটা নিশ্চয়ই এই বাসায় আছে!আপনার সাথে থাকে তাই না?"
ইনাম অবাক হয়ে বলল,
"আমি তোমাকে আগেও বলেছি আমি অইদিন কোন মেয়ের সাথে কথা বলছিলাম না!আমার কলিগের সাথে কথা বলছিলাম!এই একটা বিষয়কে ঘুরিয়ে পেচিয়ে তুমি কোথায় নিয়ে যাচ্ছো!"
প্রিয়তা তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলল,
"বিয়ের দিন কারোর কলিগ ফোন দেয়!তাও আবার রাতের বেলা!"
"সারাদিন আমাকে ফোনে পায়নি।রাতে পেয়েছে!"
"আচ্ছা মানলাম আপনার কোন মেয়ের সাথে সম্পর্ক নেই। আমাকে বাসায় ঢুকতে দিন।সেই সকাল বেলা আসছি।এসে দেখি দরজায় তালা দেওয়া!"
"সারাদিন সিড়িতে বসে ছিলে?"
"তো?আপনার ফোন নাম্বারও তো আমার কাছে ছিলো না!"
"দেখো আমি এখন বাসায় ঢুকতে দিতে পারব না।আমার প্রবলেম আছে।আর আম্মুও না!না জানিয়ে না ডিসকাস করে হুট করে পাঠিয়ে দিয়েছে তোমায়!চলো বাসে তুলে দিচ্ছি তোমাকে।এসি বাসে!কোন ঝামেলা ছাড়াই পৌছে যাবে!"
প্রিয়তা অবাক হয়ে বলল,
"কেমন হাজবেন্ড আপনি?আপনার স্ত্রী সারাটাদিন ধরে না খেয়ে ছিল।বাইরে সিড়িতে বসেছিলো।কই ঘরে নিয়ে একটু খাতির আপ্যায়ন করবেন।খাবার খেতে দিবেন।তা না করে আমাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন?আপনি এমন কেন?"
"খাবার বাইরের রেস্টুরেন্টে গিয়ে খেয়ে নিবে!"
"আমি বাইরের খাবার খেতে পারি না।"
ইনাম কিছু বলতেই যাবে হুট করে এক মহিলা এসে বলল,
"আরে ইনাম!বাড়ি থেকে চলে এসেছো?"
ইনাম একবার প্রিয়তার দিকে তাকিয়ে বলল,
"জ্বি!গতকালই এসেছি!"
মহিলার চোখে এবার প্রিয়তাকে পরলো।ভ্রু কুঁচকে বলল,
"এই মেয়ে কে?"
ইনাম কিছু বলতেই যাবে।প্রিয়তা হেসে বলল,
"আমি উনার স্ত্রী।"
মহিলা অবাক হয়ে বলল,
"ইনাম তুমি বিয়ে করলে কবে?দাওয়াতও তো দিলো না!"
ইনাম প্রিয়তার দিকে তাকালো।দেখল প্রিয়তা হেসে ইনামের দিকে তাকিয়ে আছে।ইনাম কোনমতে হাসার চেষ্টা করে বলল,
"আসলে বিয়েটা হুট করেই হয়ে গেলো।তাই আপনাকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি।"
মহিলক এগিয়ে প্রিয়তার থুতনি ধরে বলল,
"বাহ!মাশাল্লাহ। এত মিষ্টি একটা মেয়ে।শুনো আমি পাশের ফ্লাটে থাকি।আমার হাজবেন্ড বিদেশে থাকে।আর ছোট ছোট দুইটা মেয়ে আছে।কোন চিন্তাভাবনা ছাড়াই আমার বাসাতে আসতে পারো।গল্প করব দুজন!ঠিকাছে?"
প্রিয়তা হেসে মাথা নাড়ালো।
মহিলাও হেসে নিজের বাসায় চলে গেলো।
"কি হলো?দাঁড়িয়ে আছেন কেন দরজা খুলুন!"
"তুমি সিউর যে এখন থেকে তুমি এখানেই থাকবে?"
"হুম!"
ইনাম একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
"আমি কিন্তু সারাদিন বাইরে থাকবো।একা একা থাকতে হবে তোমায়। পারবে একা একা থাকতে?"
"সেটা নিয়ে আপনাকে কোন চিন্তা করতে হবে না।আপনি আমাকে ঘরে ঢুকতে দিন।আমার গরম লাগছে অনেক!"
আর কোন উপায় না পেয়ে ইনাম পকেট থেকে চাবির রিং বের করে দরজার লক খুলতেই প্রিয়তা দৌড়ে রুমে ঢুকে গিয়ে সোফায় বসে পরল হেলান দিয়ে।এখন একটু শান্তি লাগছে।
"ব্যাগ গুলা নিবে কে?"
"আপনি নিয়ে আসুন।আমি সারাদিন ব্যাগ নিয়ে টইটই করে ঘুরেছি।"
ইনাম বিরক্ত হয়ে ব্যাগগুলা নিয়ে বাসায় ঢুকে দরজা আটকে দিলো।প্রিয়তা এবার শুয়া থেকে উঠে বসলো।আশপাশ তাকালো।সামনেই টিভি দেখে উঠে দাঁড়ালো দৌড়ে গিয়ে টিভির সামনে দাঁড়ালো।দুই হাত মেলে টিভির সাইজ বুঝার চেষ্টা করলো।দেখলো টিভি ওর হাতের থেকেও বড়।অবাক হয়ে বলল,
"এত্ত বড় টিভি!"
"যাও ফ্রেশ হয়ে আসো।পরে টিভি দেখিও।"
প্রিয়তা সম্মতি জানিয়ে কিছু একটা ভেবে বলল,
"আপনার কি কোন প্রেমিকা আছে?"
"নাহ!কেন?"
"তাহলে আমি যে রাগ করে বাবার বাড়ি চলে গেলাম।আপনি আমাকে না বাড়িতে এনে নিজেই ঢাকাতে এসে পরলেন!কেন?"
"তেমন কিছু না!অফিসে কাজ ছিলো।"
প্রিয়তা কিছু না বলে ব্যাগ থেকে কাঁপড় বের করে বলল,
"ওয়াশরুম কোথায়?"
ইনাম দেখিয়ে দিতেই কিছুদুর যেয়ে আবার পিছনে ফিরে বলল,
"আপনি আমাকে আসার সময় নিয়ে আসতে পারতেন!এভাবে কাওকে না জানিয়ে ঢাকায় ফেরত আসাটা মোটেও ঠিক হয় নি।আপনার মা আপনাকে অনেক দুশ্চিন্তায় ছিলেন।আমি ভেবেছিলাম আপনি আমার উপর রাগ করে চলে এসেছেন!"
প্রিয়তা আর কিছু না বলে ওয়াশরুমে চলে গেলো।ইনাম কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে রইল সটান হয়ে।আসলেই মাকে বলে আসা উচিত ছিলো।কিন্তু কিছু করারও তো ছিলো না!একটা শ্বাস ফেলল।
কয়েক দিন আগে,
বাবা মার পছন্দ করা মেয়েকে বিয়ে করেছে ইনাম।যদিও এই বিয়েতে তার কোন মতই ছিলো না।তার মনে হচ্ছিলো সে মেয়েটাকে ঠকাচ্ছে।তার উচিত হচ্ছে না মেয়েটাকে বিয়ে করা।
"কি হলো কবুল বলছিস না কেন?"
ইনাম আশেপাশ্ব তাকাতেই দেখল সবাই তাকিয়ে আছে তার দিকে।আর কিছু না ভেবে মনের সকল জড়তা দুর করে কবুল বলতেই বিয়ের কাজ সম্পন্ন হলো।
প্রিয়তাকে বাসর ঘরে বসানো হয়েছে।ইনাম রুমে ঢুকতেই প্রিয়তা উঠে ইনামকে সালাম করতেই যাবে ইনাম বাধা দিয়ে বলল,
"সালাম করতে হবে না!শাড়ি চেঞ্জ করে ফ্রেশ হয়ে এসো।তোমাকে এত ভারি শাড়ি পরতে দেখে আমার নিজেরই গরম লাগছে।আর তুমি করে বলছি বলে কিছু মনে করো না।তুমি আমার থেকে পাঁচ ছয় বছরের ছোট হবে তাই তুমি করে বলছি।"
ইনাম বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলো।হঠাত পকেটে থাকা মোবাইল তীব্র শব্দে বেজে উঠলো।ফোনের স্কিনে নাম দেখে পিছু ফিরে উঁকি দিয়ে দেখলো প্রিয়তা ওয়াশরুম থেকে বেরিয়েছে কিনা!এখনো বেরুয়নি দেখে কল রিসিভ করে বলল,
"বলেছিলাম এত রাতে ফোন না করতে!"
"তো এটা কি কালকে বলা যেতো না!আর কল দিবি না।আমি কালকে দেখা করবো।নিজে গিয়ে কথা বলব।"
কল কেটে পিছনে ফিরতেই দেখলো প্রিয়তা হাতে তাওয়াল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।প্রিয়তাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে চমকালেও নিজেকে সামলে নিলো।কিছু বলতেই যাবে প্রিয়তা বলল,
"এত রাতে কার সাথে কথা বলছিলেন?"
"আমার এক কলিগের সাথে।"
"তো কেন বললেন যেন ফোন না করে?কালকে গিয়ে ডিসকাশন করবেন?"
"বেশি রাত হয়ে গেছে বলেই বলেছি এই সময়ে যেন আর ফোন না করে।আর কাজের ব্যাপার তাই কালকে দেখা করতে বলেছি।"
"কিন্তু আপনি তো ছুটি নিয়েছেন।তাহলে....."
"আমার অনেক ঘুম পাচ্ছে।আমি ঘুমাই।কাল সকালে যা প্রশ্ন করার করো!আমি অনেক টায়ার্ড!"
সকালে ঘুম ভাংতেই ইনাম বিছানার দিকে তাকিয়ে দেখলো প্রিয়তা নেই।ফ্রেশ হয়ে ঘর থেকে বেরুতেই মা বললেন.....
#চলবে....
#গল্পঃ_আলোর_ভীড়ে
#সুচনা_পর্ব |০১|
#ইশরাত_জাহান_অধরা

শ্বাশুড়ির_গোপন_কথাপর্ব ০২সেদিন সন্ধ্যার পর থেকে আমার মনটা অদ্ভুত অস্থির হয়ে ছিল।শ্বাশুড়ির কথা বারবার মাথার মধ্যে ঘুরছিল।...
09/03/2026

শ্বাশুড়ির_গোপন_কথা
পর্ব ০২

সেদিন সন্ধ্যার পর থেকে আমার মনটা অদ্ভুত অস্থির হয়ে ছিল।
শ্বাশুড়ির কথা বারবার মাথার মধ্যে ঘুরছিল।
“এই দাগটা হয়েছে যখন আমাকে মে*রে ফেলতে চেষ্টা করা হয়েছিল… আর সেই মানুষটা এখনো এই বাড়িতেই আছে।”👍👍
কথাটা ভাবলেই শরীর কেমন ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছিল।
রাতে সবাই একসাথে খাবার খেলাম। সোহেল খুব স্বাভাবিক আচরণ করছিল। সে অফিস থেকে ফিরে প্রতিদিনের মতোই গল্প করছিল, তৃষা হাসছিল, আর শ্বাশুড়ি চুপচাপ বসে ছিলেন।
আমি মাঝে মাঝে লুকিয়ে তার দিকে তাকাচ্ছিলাম।
কিন্তু তিনি যেন আমার চোখ এড়িয়ে যাচ্ছিলেন।
মনে হচ্ছিল, তিনি চাইছেন না কেউ বুঝতে পারুক যে আমাদের মধ্যে কোনো গোপন কথা হয়েছে।
খাওয়া শেষ করে আমি রান্নাঘর গুছাচ্ছিলাম। তৃষা তার ঘরে পড়তে চলে গেল।
সোহেল বারান্দায় বসে মোবাইল দেখছিল।
ঠিক তখনই শ্বাশুড়ির ঘর থেকে খুব আস্তে একটা ডাক এলো।
— “অনন্যা মা…”
আমি চমকে তাকালাম।
তার ঘরের দরজা আধখোলা।
আমি ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকলাম।
ঘরের ভেতরটা অল্প আলোয় ঢাকা। টেবিল ল্যাম্পটা জ্বলছিল।
শ্বাশুড়ি বিছানায় বসে ছিলেন।
আমাকে দেখেই তিনি হাত দিয়ে ইশারা করলেন।
— “দরজাটা বন্ধ কর।”
আমি অবাক হলাম।
— “কেন মা?”
তিনি নিচু গলায় বললেন
— “দরজাটা বন্ধ কর, তারপর বলছি।”
আমার বুকটা আবার ধক করে উঠলো।
আমি দরজা বন্ধ করে তার পাশে গিয়ে বসে পড়লাম।
— “কি হয়েছে মা?”
তিনি কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন।
তারপর বললেন—
— “আজ তোকে কিছু দেখাবো।”
আমি আরও অবাক হলাম।
— “কি দেখাবেন?”
তিনি ধীরে ধীরে বিছানার নিচে হাত ঢুকালেন।
সেখান থেকে একটা পুরোনো লোহার ট্রাঙ্ক টেনে বের করলেন।
আমি এই ট্রাঙ্কটা আগে কখনো দেখিনি।
ট্রাঙ্কটা বেশ পুরোনো। উপরে ধুলো জমে আছে।
তিনি আমাকে বললেন—
— “ওটা খুলে দে।”
আমি ট্রাঙ্কের তালাটা খুললাম।
ঢাকনা তুলতেই একটা পুরোনো কাপড়ের গন্ধ বের হলো।
ভেতরে কয়েকটা পুরোনো শাড়ি, কিছু কাগজ আর একটা ছোট কাপড়ের প্যাকেট ছিল।
তিনি বললেন—
— “ওই কাপড়টা খুলে দেখ।”
আমার হাত একটু কাঁপছিল।
আমি কাপড়টা খুললাম।
ভেতরে একটা পুরোনো ছবি।
ছবিটা দেখে আমি থমকে গেলাম।
ছবিতে একজন তরুণী মহিলা দাঁড়িয়ে আছে।
তার পাশে একজন যুবক।
দুজনেই খুব হাসিখুশি।
কিন্তু আমার চোখ আটকে গেল অন্য জায়গায়।
মহিলাটা দেখতে একদম…
আমার শ্বাশুড়ির মতো।
আর যুবকটা…
আমি অবাক হয়ে বললাম—
— “মা… এটা তো আপনি!”
তিনি মাথা নেড়ে বললেন—
— “হ্যাঁ।”
আমি ছবিটার দিকে আবার তাকালাম।
— “কিন্তু এই লোকটা কে?”
তিনি কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন।
তারপর খুব ধীরে বললেন—
— “ও ছিল আমার প্রথম স্বামী।”
আমি যেন ব*জ্রাঘাতে দাঁড়িয়ে গেলাম।
— “কি!”
আমার মাথা ঝিমঝিম করতে লাগলো।
কারণ আমরা সবাই জানি আমার শ্বাশুড়ির স্বামী মানে সোহেলের বাবা অনেক বছর আগে মা*রা গেছেন।
আমি তোতলাতে লাগলাম—
— “মানে… তাহলে…?”
তিনি চোখ নামিয়ে বললেন—
— “সোহেলের বাবা আমার দ্বিতীয় স্বামী।”
আমার বুক ধড়ফড় করতে লাগলো।
— “কিন্তু… এটা তো কেউ জানে না!”
তিনি তিক্ত হেসে বললেন—
— “জানলে এই বাড়িতে আজ এত শান্তি থাকতো না।”
আমি ছবিটার দিকে তাকিয়ে থাকলাম।
মনে হচ্ছিল মাথার ভেতর সবকিছু গুলিয়ে যাচ্ছে।
আমি জিজ্ঞেস করলাম—
— “তাহলে আপনার প্রথম স্বামীর কি হয়েছিল?”
এই প্রশ্নটা শুনে তার মুখটা হঠাৎ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
তিনি ফিসফিস করে বললেন—
— “ও মা*রা যায়নি…”
আমার গা শিউরে উঠলো।
— “মানে?”
তিনি আমার দিকে তাকালেন।
তার চোখে ভয়।
— “ওকে মে**রে ফেলা হয়েছিল।”
আমি কাঁপা গলায় বললাম—
— “কে মে*রেছিল?”
তিনি ঠোঁট কামড়ে ধরলেন।
তারপর খুব আস্তে বললেন—
— “এই বাড়িরই একজন।”
আমার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।
— “কিন্তু… কেন?”
তিনি বললেন—
— “কারণ… আমি ওকে ছেড়ে অন্য একজনকে বিয়ে করেছিলাম।”
আমার মাথা ঘুরে যাচ্ছিল।
— “তাহলে যে আপনাকে মে**রে ফেলতে চেয়েছিল…?”
তিনি মাথা নেড়ে বললেন—
— “হ্যাঁ… সেই একই মানুষ।”
আমি অবাক হয়ে বললাম—
— “সে এখনো এই বাড়িতে আছে?”
তিনি আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন।
তার চোখে অদ্ভুত এক ভয়।
তারপর তিনি এমন একটা নাম বললেন…
যেটা শুনে আমার বুকের ভেতরটা যেন থেমে গেল।
কারণ সেই মানুষটা…
আমি কখনো কল্পনাও করিনি।
ঠিক তখনই বাইরে হঠাৎ একটা শব্দ হলো।
কেউ যেন করিডোরে দাঁড়িয়ে আছে।
আমরা দুজনেই দরজার দিকে তাকালাম।
শ্বাশুড়ি ফিসফিস করে বললেন—
— “অনন্যা… মনে হচ্ছে কেউ আমাদের কথা শুনছে…”
আমার বুক ধড়ফড় করতে লাগলো।
আমি ধীরে ধীরে দরজার কাছে গেলাম।
দরজা খুলতেই দেখলাম…
অন্ধকার করিডোরে একজন দাঁড়িয়ে আছে।
আর তাকে দেখে আমার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।
কারণ সে ছিল…
তৃষা।🏖️🏖️
সে আমাদের দিকে তাকিয়ে ছিল।
আর তার মুখে এমন এক অদ্ভুত হাসি ছিল…
যেটা দেখে মনে হচ্ছিল…
সে অনেক আগেই এই রহস্যটা জানে।

চলবে..?
কাব্য কথা পেইজটি ফলো করে সঙ্গে থাকুন...
পরবর্তী খুব শীঘ্রই পাবেন। সবাই একটু কমেন্ট করবেন তাহলে পরবর্তী পর্ব আরো তারাতাড়ি পাবেন।

ভাবীর সঙ্গে যখন আমার স্বামীর বিয়ে ঠিক হয় তখন আমি চার মাসের গর্ভবতী। আমার স্বামী রাতুল। তার বড় ভাই রাসেল সাত মাস পূর্বে ম...
08/03/2026

ভাবীর সঙ্গে যখন আমার স্বামীর বিয়ে ঠিক হয় তখন আমি চার মাসের গর্ভবতী। আমার স্বামী রাতুল। তার বড় ভাই রাসেল সাত মাস পূর্বে মা রা যায়। তার ভাবী স্বামীর মৃ ত্যুর পর শ্বশুড়বাড়িতেই ছিলো। তার বাবার বাড়িতে তার পরিবার নিয়ে যেতে চাইছিলো। কিন্তু ভাবী যায়নি। সে সবসময় বলতো,“এটা আমার স্বামীর ঘর। এখানে তার স্মৃতি রয়েছে। আমি এখানেই থাকবো। সে না থাকুক, তার গন্ধটা তো অনুভব করতে পারবো।”

বাহ্! স্বামীর প্রতি কি চমৎকার ভালোবাসা! কিন্তু ভুল। এটা তার স্বামীর প্রতি ভালোবাসা নয়। যদি তার প্রতি এতই ভালোবাসা থাকতো তবে তার মৃ ত্যুর তিন মাসের মাথায় আমার স্বামীর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে যেতো না। আমি নিজ চোখে দেখেছি সে রাতুলের সামনে একটু খোলামেলা হয়ে যেতো যেন। ওড়না ছাড়া যখন তখন রাতুলের সামনে চলে আসতো। তার পাঁচ বছরের মেয়েটাকে তো একদিন রাতুলকেই বাবা ডাকতে বলে। এটা আমি লক্ষ্য করলে সে বলে,“চাচা তো বাবার মতোই। ওর তো বাবা নেই। ও নাহয় দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাক।”

আমি এটা মেনে নিতে পারলেও ঘন ঘন রাতুলের সামনে তার আসা। যেকোন প্রয়োজনে রাতুলকে ডাকা। এসব মেনে নিতে পারিনি। রাতের খাবার শেষে ভাবী রাতুলের সঙ্গে ঘন্টার পর ঘন্টা গল্প করতো। প্রথম দিকে রাতুল ঘুমের কথা বলে আসতে চাইলে সে নানা বাহানায় রেখে দিতো। পরবর্তীতে রাতুলই রাত বারোটা অবধি কিংবা তারচেয়ে বেশি সময় অবধি গল্প করতো। এসব সহ্য করা যায়? আমি ঘরে তার অপেক্ষায়, সে ভাবীর সঙ্গে গল্প করছে।

আমার এসব একদম পছন্দ হয় না। আমি প্রথমেই শাশুড়ী মাকে কথাটা বলি। আমার এসব ভালো লাগছে না। জবাবে শাশুড়ী মা বলে,“মেয়েটা দুঃখী। এত অল্প বয়সে আমার ছেলেটা মা রা গেলো। সারাদিন তো মনমরাই থাকে। একটু নাহয় দেবরের সঙ্গে কথা বলছে, বলুক না। আর বাচ্চাটার বাবা নাই। ও তো চাচার কাছে বেশিই থাকবে। রাতুলও তো এই হিসাব করে তাকে আদর করছে।”

রিমিকে আদর করা নিয়ে আমার কোন সমস্যা নাই। আমার সমস্যা রিমির মাকে নিয়ে। ভাবীর এমন মেলামেশা আমি মানতে পারছি না। আমি আমার এই সমস্যা শাশুড়ী মাকে বোঝাতে পারলাম না। তার কাছে এসব স্বাভাবিক। কিন্তু আমার কাছে লাগছিলো না। আমি এরপর সরাসরি রাতুলের সঙ্গে কথা বললাম। রাতুলের একই কথা, আমি শুধু শুধু হিংসা করছি। স্বামী হারা মানুষটার সঙ্গে এত হিংসে না করি। রাতুল তো আমারই। তাদের সম্পর্ক দেবর ভাবীর।

তবে বেশিদিন তাদের এই দেবর ভাবীর সম্পর্ক থাকলো না। এটা রূপ নেয় ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে। একই ঘরে থেকে এসব আমার চোখের আড়াল হয়নি। এসব নিয়ে কথা বলতে গেলাম, হয়ে গেলাম তাদের চোখের বিঁষ। এসব সহ্য করা যায়? স্বামী সে আমার। আমার ভালোবাসা। আমি তো প্রতিবাদ করবোই। আগে তো তাদের মেলামেশা পছন্দ নয় এটা বলতাম। এবার আমি সরাসরি তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলি। আর এটা তোলার সঙ্গে সঙ্গে রাতুল আমার গালে থাপ্পড় বসিয়ে দেয়। চোরের মায়ের যেমন বড় গলা তেমন গলায় রাতুল বলে,“ছি। তুই না আমার বউ। বউ হয়ে তুই আমাদের ভাবী দেবরের পবিত্র সম্পর্কটা নিয়ে এভাবে নোংরা অপবাদ দিচ্ছিস। এত নোংরা চিন্তা আসলো কোথা দিয়ে?”

“আমার চিন্তাটা নোংরা নয় রাতুল। চোখ তো ভুল দেখে না। আমার চোখের আড়াল কিছুই হয় না।”
আমার বলা এই কথাটি রাতুলকে আরও রাগিয়ে দেয়। সে আবার আমার গায়ে হাত তোলে। এক পর্যায়ে আমার বংশ, পরিবার তুলে গালি দিতে থাকে। রাতুল বলে,“তুই একটা ছোটলোক। তোর চিন্তাধারা তো ছোটলোকের মতোই হবে। থাকতি তো বস্তির ছুপড়ি ঘরের মতো একটা ঘরে। মিশতি গ্রামের গেয়ো আনকালচার লোকজনের সঙ্গে। তোর চিন্তা ভাবনা তো তাদের মতোই হবে।”

সেদিন আমাদের মাঝে তুমুল ঝগড়া হয়। সবশেষে রাতুল বলে,“না পোষালে চলে যা।” পরক্ষণে বিদ্রুপের হাসি হেসে বলে,“যাবি কোথায়। সেই তো বাপের বাড়ির অবস্থা ভিখারির মতো। ওখানে গেলে তোর বাপ মা তুলবে ঘরে? নিজেরা খেতে পারে না, তোকে কি খাওয়াবে।”

তার এই বিদ্রুপ নিয়ে বলা কথার জবাবে আমি কিছুই বলতে পারলাম না। কারণ কথাগুলো সত্যি। আমি গরিব ঘরের মেয়ে। গায়ের সাদা চামড়াটার জন্য রাতুল এবং তার পরিবার আমায় পছন্দ করে ঘরে তুলেছে। তবে বিয়ের পর সাদা চামড়া কিছু হয় না। সেটা তারা ভালোই বুঝেছে। তাই আমার বাবার সার্মথ্য নিয়ে ছোট বড় অনেক কথাই শুনতে হয়েছে। জবাব দিতে পারিনি। জবাব দিলে যে খারাপ হয়ে যাবো। আর খারাপ বউ ঘরে রাখবে? ঘরে না রাখলে জায়গা কই? যাক সেসব কথা। রাতুল আমার স্বামী। তাছাড়া আমার সত্যি যাবার কোন জায়গা নাই। তাই সারাজীবন তার ঘরেই থাকতে হবে। কিন্তু স্বামী অন্যের হয়ে যাবে সেটাও তো দেখতে পারবো না। তাই ভাবীর কাছে অনুরোধ করি। তার বাবার বাড়ির অবস্থা ভালো। সেজন্য তো সে শাশুড়ীর চোখের মনি। ননদেরও প্রিয় ভাবী। রোজ ননদ ফোন করে তার সাথে কথা বলে। আমার খোঁজ কখনো নেয় না। বাড়িতে আসলেও আমাকে দেখতে পায় না যেন। সেসব মানিয়ে নিয়েছি। কিন্তু আর পারছি না। ভাবীর হাতে পায়ে ধরে বললাম,“ভাবী আমি আমার স্বামীকে খুব ভালোবাসি। আপনি তার পিছু ছেড়ে দেন। আপনার তো বাবার বাড়ির অবস্থা ভালো। সেখানে গিয়ে মাস খানেক থাকুন না। রাতুল তবে আপনাকে ভুলে যাবে। আপনি দয়া করে আমাকে বোন ভেবে এতটুকু করুন।”

“আমি কি করলাম? আমি আমার স্বামীর বাড়ি ছেড়ে যাবো কেন? তাও তোমার কথায়? যাই হোক নিজের স্বামী ধরে রাখার মুরোদ নাই, এসেছে আমাকে বলতে। আমার হাতে পায়ে না ধরে রাতুলকে বলো আমার সঙ্গে না মিশতে, তাহলেই হয়।”
ভাবী খুব ভাবের সঙ্গেই কথাগুলো বলেন। আমি ছোট বোন হিসাবে দয়াভিক্ষা করি। তবে তার মায়া হয় না। আমার প্রতি মায়া থাকলে সে এমন সম্পর্কে জড়াতো। আমি বুঝে যাই এখানে বলে লাভ নাই। রাতুলের সঙ্গে তর্কে না জড়িয়ে তাকে ভালোবেসে বোঝানোর চেষ্টা করলাম। রাতে তার বুকে মাথা রেখে ভালোবাসাময় কন্ঠে জানতে চাইলাম,“আমি আমার কি পরিবর্তন করলে আপনি আমাকে ভালোবাসবেন?”

“আমি তোমাকে ভালোবাসি।
শুধু শুধু এসব কথা বলো না তো।”
রাতুল বেশ স্বাভাবিক গলায় জবাব দেয়। আমি মলিন কন্ঠে বলি,“আপনি যদি আমাকে ভালোই বাসেন তবে ভাবীর সঙ্গে কি? তার প্রতি এভাবে দূর্বল কেন হলেন? আমার প্রতি ভালোবাসা, আকর্ষণ বুঝি এতই ঠুনকো?”

”তুমি আবার এখন শুরু করো না তো।”
এটা বলে রাতুল আমাকে বুক থেকে সরিয়ে উল্টো দিকে ঘুরে যায়। আমি তখন অনেক শান্ত গলায় বুঝায়। লাভ হয় না। রাতুল বা ভাবী কেউ শুধরায় না। দু'জনের ঘনিষ্ঠতা দিনের পর দিন বেড়েই যাচ্ছিলো। আমি আর নিতে পারছিলাম না। বেশ কয়েকবার রাতুলের সঙ্গে তর্কে জড়াই। এরই মাঝে জানতে পারি আমি গর্ভবতী। এই বাচ্চার দোহাই দিয়ে তাকে এসব বন্ধ করতে বলি। শুনে তো নাই। বরং এরপর সে যা করে তার জন্য মোটেও আমি প্রস্তুত ছিলাম না৷ সে সরাসরি একদিন আমাকে প্রশ্ন করে,”এই বাচ্চা কার? তুই আমার অগোচরে কার সঙ্গে মেলামেশা করেছিস?”

“রাতুল!”
আমি তার মুখে এই কথা শুনে পুরো হতভম্ব হয়ে যাই। কোনভাবেই মানতে পারছিলাম না। তবে রাতুল তার মুখ বন্ধ করে না। উল্টো সেদিন আমার গায়ে প্রচন্ডরকম হাত ধরে। প্রতিবেশীরা ঝগড়া শুনে আসলে তাদের সামনে অবধি আমার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তাদের সামনে আমাকে কলঙ্কিনী প্রমাণ করে দেয়। অথচ এই আমি এতদিন চার দেওয়ালের মাঝে আমাদের অজস্রবার ঝগড়া হওয়ার পরও যখন প্রতিবেশী আসতো চুপ করে যেতাম। তারা ঝগড়ার কারণ জানতে চাইলে বলতাম। কি লাভ? ঘরের কথা পরকে বলে? দিনশেষে এই স্বামীর সঙ্গেই তো সংসার করতে হবে। সে চরিত্রহীন সারা দুনিয়া জানলে যে আমারই লজ্জা। কিন্তু সে এক মূহুর্তে আমাকে চরিত্রহীনা বানিয়ে দিলো। মূহুর্তেই আমি কলঙ্কিনী হয়ে গেলাম। শুধু তাই নয়, এরপর….


চলবে,
কলঙ্কিনী (১)
নুসরাত_জাহান_মিষ্টি

(কয়েক পর্বের গল্প। কেমন হলো?)

শ্বাশুড়িকে গোসল করাতে যেয়ে এমন একটা সত্য জানলাম যেটা সবাইকে অবাক করে দিলোআমার নাম অনন্যা। বিয়ের পর আজ প্রায় আট মাস হলো আ...
08/03/2026

শ্বাশুড়িকে গোসল করাতে যেয়ে এমন একটা সত্য জানলাম যেটা সবাইকে অবাক করে দিলো

আমার নাম অনন্যা। বিয়ের পর আজ প্রায় আট মাস হলো আমি এই বাড়িতে এসেছি। আমাদের বাড়িটা ময়মনসিংহ জেলার এক গ্রামে। বড় একটা পুরোনো দোতলা বাড়ি। উঠানে আমগাছ, পেছনে পুকুর, আর চারদিকে নারকেল গাছ।
শ্বশুর মা*রা গেছেন অনেক আগেই। এখন বাড়িতে আমরা চারজন থাকি। আমি, আমার স্বামী সোহেল, ছোট ননদ তৃষা আর শ্বাশুড়ি।
শ্বাশুড়ির বয়স প্রায় ষাটের কাছাকাছি। কিন্তু গত দুই বছর ধরে তিনি খুব অসুস্থ। হাঁটতে পারেন না ঠিকমতো। অনেক সময় বিছানাতেই থাকতে হয়।
তাই বাড়ির বেশিরভাগ সময় আমি তার দেখাশোনা করি।
শুরুতে একটু অস্বস্তি লাগত, কিন্তু ধীরে ধীরে মনে হলো উনিও তো আমার নিজের মায়ের মতোই।
একদিন দুপুরের ঘটনা।
সেদিন আকাশে হালকা মেঘ ছিল। সকাল থেকে একটু গুমোট গরম। আমি রান্না শেষ করে ঘরে এসে দেখি শ্বাশুড়ি আমাকে ডাকছেন।
— “অনন্যা মা…”
আমি কাছে গিয়ে বললাম
— “জি মা, কিছু লাগবে?”
তিনি একটু লজ্জা পেয়ে বললেন
— “আমাকে একটু গোসল করিয়ে দিবি? অনেকদিন হলো ভালো করে গোসল করা হয়নি।”
আমি হাসলাম।
— “এই তো মা, সমস্যা কি! চলেন।”
আমরা বাড়ির ভেতরের বাথরুমেই গোসল করাই তাকে। সোহেল একটা ছোট প্লাস্টিকের চেয়ার এনে দিয়েছে সেখানে।
আমি ধীরে ধীরে তাকে ধরে বাথরুমে নিয়ে গেলাম।
তিনি খুব দুর্বল ছিলেন। হাঁটতে কষ্ট হচ্ছিল।
আমি তাকে চেয়ারে বসালাম।
তারপর ধীরে ধীরে মাথায় পানি ঢালতে শুরু করলাম।
শ্বাশুড়ি চুপচাপ বসে ছিলেন।
কিন্তু কিছুক্ষণ পর আমার চোখ হঠাৎ আটকে গেল একটা জায়গায়।
তার পিঠের নিচের দিকে একটা অদ্ভুত দাগ।
দাগটা সাধারণ দাগ না। যেন পুরোনো পোড়া দাগের মতো।
আমি একটু অবাক হলাম।
কারণ এই বাড়িতে আসার পর কখনও এমন দাগ আমি দেখিনি।
আমি সাবধানে জিজ্ঞেস করলাম—
— “মা… আপনার পিঠে এই দাগটা কীভাবে হলো?”
প্রশ্নটা শুনেই তিনি হঠাৎ কেমন চুপ হয়ে গেলেন।
আমি স্পষ্ট বুঝলাম তার শরীর একটু কেঁপে উঠলো।
কিছুক্ষণ তিনি কোনো কথা বললেন না।
আমি ভাবলাম হয়তো পুরোনো কোনো দু*র্ঘটনা।
আবার বললাম—
— “মা, ব্যথা করে নাকি?”
তিনি এবার ধীরে ধীরে বললেন—
— “অনন্যা… তুই এটা কাউকে বলবি না তো?”
আমি অবাক হলাম।
— “কেন মা?”
তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
তার চোখে তখন অদ্ভুত একটা ভয়।
— “এই দাগটার কথা এই বাড়িতে কেউ জানে না…”
আমার হাত থেমে গেল।
— “কি বলছেন মা? কেউ জানে না মানে?”
তিনি মাথা নিচু করে বললেন—
— “যদি জানে… তাহলে এই বাড়িতে বড় ঝড় উঠবে।”
আমার বুকের ভেতরটা কেমন ধক করে উঠলো।
আমি একটু হাসার চেষ্টা করলাম।
— “আরে মা, এমন কি ব্যাপার!”
কিন্তু তিনি এবার আমার হাত শক্ত করে ধরে ফেললেন।
তার হাত ঠান্ডা।
— “অনন্যা… তুই ভালো মেয়ে। তাই তোকে বলছি।”
বাথরুমের ছোট জানালা দিয়ে তখন বিকেলের আলো ঢুকছিল।
আর সেই আলোয় আমি তার পিঠের দাগটা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম।
তিনি খুব আস্তে বললেন—
— “এই দাগটা আগুনের না…”
আমি অবাক হয়ে বললাম—
— “তাহলে?”
তিনি কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থাকলেন।
তারপর এমন একটা কথা বললেন যেটা শুনে আমার মাথা যেন ঘুরে উঠলো।
— “এই দাগটা হয়েছে… যখন আমাকে মে*রে ফেলতে চেষ্টা করা হয়েছিল।”
আমার হাত থেকে মগটা প্রায় পড়ে যাচ্ছিল।
— “কি বলছেন মা!”
তিনি চোখ বন্ধ করলেন।
— “হ্যাঁ… আমাকে মে*রে ফেলতে চেয়েছিল কেউ।”
আমার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।
— “কে?”
তিনি আমার দিকে তাকালেন।
তার চোখে তখন অদ্ভুত একটা দুঃখ।
— “এই বাড়িরই একজন।”
আমার গলা শুকিয়ে গেল।
আমি ধীরে ধীরে বললাম—
— “কে মা?”
তিনি উত্তর দিলেন না।
বরং বললেন—
— “যেদিন তুই পুরো সত্যিটা জানবি… তুই নিজেই অবাক হয়ে যাবি।”
আমি কিছু বলার আগেই বাইরে থেকে তৃষার ডাক এল।
— “ভাবি! ভাবি!”
আমি বললাম—
— “কি হয়েছে?”
তৃষা বললো—
— “ভাইয়া এসে গেছে!”
আমি শ্বাশুড়ির দিকে তাকালাম।
তিনি হঠাৎ ফিসফিস করে বললেন—
— “অনন্যা… আজ যা শুনলি, কাউকে বলবি না।”
তারপর আরও নিচু গলায় বললেন—
— “কারণ… যার কথা বলবো… সে এখনো এই বাড়িতেই আছে।”
আমার বুক ধড়ফড় করতে লাগলো।
কারণ সেই মুহূর্তে আমার মনে একটা ভয়ংকর সন্দেহ জন্ম নিলো।
যদি সেই মানুষটা…
আমার স্বামী সোহেল হয়?
আমি থমকে দাঁড়িয়ে রইলাম।
আর তখনই বাইরে থেকে সোহেলের গলার শব্দ শোনা গেল—
— “অনন্যা! কোথায় তুমি?”
আমি দরজার দিকে তাকালাম।
হঠাৎ মনে হলো…
এই বাড়ির ভেতরে এমন একটা রহস্য লুকিয়ে আছে যেটা জানলে হয়তো পুরো পরিবারটাই বদলে যাবে।
আর সেই রহস্যের শুরু…
আমার শ্বাশুড়ির পিঠের ওই দাগ যখন..

চলবে..
কাব্য কথা পেজের সঙ্গেই থাকুন সবাই। ❤️🥀

শ্বাশুড়ির_গোপন_কথা
পর্ব ০১

দ্বিতীয় পর্ব খুব শীঘ্রই পাবেন (সবাই একটু কমেন্ট করবেন)

#গল্প

Address

Mirpur
Mirpur
1216

Telephone

+8801721274068

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when রোমান ইসলাম posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share