09/11/2025
ছোটবেলায় পড়াশোনায় মোটামুটি ভালোই ছিলাম। ঠিক কোন ক্লাসে পড়তাম তা মনে নেই, তবে তখন ইংরেজি বইয়ে অলিম্পিক গেমস নিয়ে একটি দারুণ প্যাসেজ ছিল। সেই লেখাটি পড়েই অলিম্পিক সম্পর্কে আমার গভীর আগ্রহ জন্মে—খেলোয়াড় হিসেবে নয়, বরং দর্শক হিসেবে বিশ্বের সেরা খেলাগুলো দেখার জন্য।
তারপর দিন গেল, মাস গেল, বছর পেরিয়ে যুগ বদলালো—দুনিয়া হলো ডিজিটাল। টেলিভিশন, স্মার্টফোনের কারণে এখন ঘরে বসেই গ্যালারির মতো অনুভূতিতে খেলা দেখা যায়। ২০১৮, ২০২০, ২০২২, ২০২৪—প্রতিটি অলিম্পিকেই আমি টিভির সামনে বসে মনোযোগ দিয়ে খেলা উপভোগ করেছি, একা একাই। খেলার পাশাপাশি দেশের নামগুলোর তালিকাও তৈরি করতাম—কে কতগুলো পদক পেল, কে এগিয়ে, কে পিছিয়ে।
সবচেয়ে বেশি খুঁজতাম—বাংলাদেশের কেউ আছে কি না। সেই বিশাল দেশগুলোর তালিকায় যখন বাংলাদেশের নাম চোখে পড়ত, বুকটা ভরে যেত আনন্দে। হঠাৎ একদিন রোমান সানা-র নাম দেখে গর্বে মন ভরে গেল—বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে তার অংশগ্রহণ সত্যিই প্রশংসনীয় ছিল। আরও দুজন খেলোয়াড় ছিলেন, তারাও যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, তাদের প্রাপ্য ট্রেনিং, যত্ন কিংবা সহায়তা দেওয়া হয়নি।
পাশের দেশ ভারতকে দেখলেই পার্থক্য বোঝা যায়—ওরা তাদের খেলোয়াড়দের কতটা যত্ন নেয়, নিয়মিত ট্রেনিং দেয়, উৎসাহ দেয়, পুরস্কৃত করে। তাই তো তারা প্রায় প্রতি অলিম্পিকেই ২–৫টি পদক জিতে নেয়। আর আমাদের দেশে ঠিক উল্টো অবস্থা—খেলোয়াড়দের যত্ন না নেওয়ার পাশাপাশি যৌন হয়রানির মতো লজ্জাজনক ঘটনারও শিকার হতে হয়। এমন অন্যায়, এমন অবহেলার কষ্ট বোঝার মতো মানুষ যেন এই দেশে আর নেই—না কর্তৃপক্ষ।