13/11/2025
আসসালামু আলাইকুম,
জনাব, আমি প্রায় দুই বছর ধরে আপনাকে আমার মনের কথা জানাতে চেয়েও পারিনি। কিন্তু এখন এমন এক অবস্থায় আছি, যেখানে কোনো সিদ্ধান্তই নিতে পারছি না। না থাকতে শান্তি পাচ্ছি, না ছাড়তেও পারছি।
আমার বিয়ের ছয় বছর পূর্ণ হতে আর মাত্র দুই মাস বাকি। কিন্তু আজও বুঝতে পারি না, আমার স্বামী আসলে আমাকে ভালোবাসেন কি না।
আমাদের পরিচয় হয়েছিল যখন তিনি অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়েন। মাত্র দুই মাসের পরিচয়ের পর আমরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেই। আমার পরিবার রাজি ছিল, কিন্তু তার পরিবার নয়। আমার পরিবার রাজি হওয়ার কারণ ছিল স্পষ্ট — ইসলামি শরিয়ার আলোকে, চরিত্রবান, নম্র, ভদ্র, কেয়ারিং ও ধর্মপরায়ণ মানুষ ভেবে তাকে পছন্দ করেছিল। আমি নিজেও সেই বিশ্বাসেই বিয়ে করি।
তখন তিনি বেকার ছিলেন, কাবিনের টাকাটাও আমি নিজেই ম্যানেজ করেছিলাম। আমি ভেবেছিলাম, ভালোবাসা আর বিশ্বাস দিয়ে সংসারটা সুন্দরভাবে গড়ে তুলব। প্রথমদিকে সব ঠিকই চলছিল, কিন্তু কিছুদিন পর থেকেই ভুল বোঝাবুঝি আর অবহেলা শুরু হয়।
দেড় বছর পর আমি অনেক কষ্টে তার পরিবারে জায়গা পাই। আনুষ্ঠানিকভাবে আবার বিয়ে হয়, তারা আমাকে মেনে নেয়। কিন্তু সেখান থেকেই আমার সংগ্রাম শুরু হয়।
আমার কাবিন ১০ লাখ টাকা, কিন্তু তার পরিবার জানে না — তারা মনে করে ১ লাখ টাকা। সেখানে গিয়ে দেখলাম, বিশাল যৌথ পরিবার—১৫-৩০ জন সদস্য। আমি শহরের মেয়ে, কিন্তু সেখানে গিয়ে যেন কাজের লোক হয়ে গেলাম। সব কাজ আমার দায়িত্ব, অথচ কোনো কৃতজ্ঞতা নেই।
আমার স্বামী তখনও বেকার, আমি পরিবার থেকে সাহায্য এনে সংসার চালাতাম। তিনি কখনোই আমার অনুভূতির মূল্য দেননি। ঘুরতে যাওয়া, কথা বলা, হাসি-মজা—এসব যেন তার জীবনে নেই।
ফুল, উপহার, সারপ্রাইজ, উইশ—এসব শব্দ যেন তার অভিধানেই নেই।
তিনি কখনো বলেন না, “তুমি না থাকলে কষ্ট লাগে,” “তোমাকে ভালোবাসি,” এমনকি “তুমি সুন্দর লাগছো”—একবারও না।
আমি যত কিছুই করি—রান্না, ঘরের কাজ, তার পরিবারের যত্ন, এমনকি নিজের চেহারা ও আচরণেও যত্নশীল থাকি—কখনো কোনো প্রশংসা বা কেয়ার পাই না।
আমি অসুস্থ হলে, তিনি সামান্য সহানুভূতিও দেখান না। আমার বাবাও মারা গেছেন, ছোট ভাইবোনদের দায়িত্বও আমার কাঁধে। কিন্তু তবুও আমি সংসারটা বাঁচাতে চেষ্টা করেছি, একটাও অভিযোগ না রেখে।
তিনি আগে একজনের সঙ্গে প্রেমে ছিলেন, আমি জানার পরও সেটা নিয়ে কোনো সমস্যা করিনি। কিন্তু একদিন আমি ফেইক আইডি থেকে তার এক্স হয়ে কথা বললে দেখি, তিনি এখনও সেই মেয়ের জন্য ভেঙে পড়েন। তখন আমার ভেতরটা যেন একদম চুপসে যায়। আমি তখনও তাকে ক্ষমা করি, ভাবি—ভালোবাসা সবকিছু বদলে দিতে পারে। কিন্তু সে আর বদলায়নি।
এখনও সে আগের মতোই ঠান্ডা। শুধু প্রয়োজনের সময় কথা বলে, বাকিটা সময় দূরে থাকে। আমি যতই বুঝাতে যাই, সে বলে আমি নাকি ঝগড়া করি, তর্ক করি, প্রেশার দিই।
আমার সামান্য ভুলেও সে দূরে সরে যায়।
আমি বুঝতে পারছি না — সে কি সত্যিই আমাকে ভালোবাসে, নাকি আমি শুধু তার জীবনের এক “দায়িত্ব”?
আমি আমার সবটা দিয়ে তাকে ভালোবাসি। তার যত দোষই হোক, আমি মেনে নিই, রাগ করে থাকতে পারি না।
কিন্তু এখন আমি ক্লান্ত — একা এই ভালোবাসা টেনে নিতে নিতে।
আমি পারছি না ছেড়ে যেতে, আবার এমন সম্পর্কেও থাকতে পারছি না।
আমার ভুল কোথায়, আমার কমতি কী—আমি বুঝতে চাই।
আমি শুধু একটু ভালোবাসা, একটু যত্ন, আর সামান্য সম্মান চেয়েছিলাম।
এখন জানি না, আমার করণীয় কী।
amr id name please gopon rakhbn please sir amk sohojogita koren
বোন ওয়ালাইকুমুস সালাম,
প্রথমেই বলি — আপনি খুব সাহসী নারী। দুই বছর ধরে মনের মধ্যে এমন কষ্ট নিয়ে চলা সহজ নয়। আপনি যা লিখেছেন, সেটি শুধু “অভিযোগ” নয় — এটি একজন স্ত্রীর হৃদয়ের গভীর থেকে আসা একাকীত্বের চিৎকার। আমি পুরোটা মনোযোগ দিয়ে পড়েছি, এবং প্রতিটি লাইনেই অনুভব করেছি আপনার ধৈর্য, ত্যাগ, ও অবহেলার ভার।
চলুন ধীরে ধীরে বিষয়টা বিশ্লেষণ করি — নিরপেক্ষভাবে, শান্তভাবে, যেন আপনি পরিষ্কার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
ধাপ ১: আপনার অনুভূতি সত্যি এবং বৈধ
আপনি ভালোবাসা, যত্ন, প্রশংসা—এসব চেয়েছেন, যা প্রতিটি মানুষের মৌলিক চাহিদা।
এগুলো চাওয়া কোনো “অতিরিক্ত প্রত্যাশা” নয়।
যে সংসারে ভালোবাসার প্রকাশ নেই, সেখানকার মানুষ এক সময় ভেতর থেকে শুকিয়ে যায়।
তাই নিজেকে “দোষী” ভাববেন না।
নেগেটিভ চিন্তা কে নোটবুকে লেখুন আর নিজেকে ক্যারিয়ার বা গঠনমূলক কাজে ব্যস্ত রাখবেন।
ধাপ ২: আপনার স্বামীর আচরণের ধরন
আপনার কথাগুলো থেকে বোঝা যাচ্ছে —
তিনি সম্ভবত emotionally unavailable মানুষ।
অর্থাৎ,
• তিনি অনুভূতি প্রকাশে দুর্বল,
• দায়িত্ব বোঝেন কিন্তু ভালোবাসা প্রকাশ করতে জানেন না,
• হয়তো অতীতের সম্পর্ক বা পারিবারিক চাপে মানসিকভাবে ক্লান্ত।
তবে এটাও সত্য —
যদি কেউ ভালোবাসে, অন্তত effort (চেষ্টা) তো দেখায়।
সেটা আপনি বারবার খুঁজেও পাচ্ছেন না।
তাড়াহুড়ো করবেন না,নিজেকে শক্ত করুন।
নিজের কাজকে বেশিভালোবাসুন ,নিজেকে আরও যোগ্য করে তুলুন।
ধাপ ৩: আপনি এখন যেই অবস্থায়
আপনার মন একসাথে দুটি বিপরীত দিকে টানছে —
১.ছাড়তে ভয় (কারণ আপনি ভালোবাসেন, আশা রাখেন)
২. থাকতে কষ্ট (কারণ আপনি একা, অবহেলিত, মূল্যহীন বোধ করেন)
এটাই emotional conflict।
এ অবস্থায় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব কঠিন হয় — কারণ মন আর মস্তিষ্ক আলাদা কথা বলে।
অনেক দোআ আর চোখের পানি ফেলুন ,কঠিন জিনিস ও সহজ হয়ে যাবে।
করনীয় গুলো কমেন্ট এ দিচ্ছি……….
…………