Prof. Dr. Shila Sen

Prof. Dr. Shila Sen Professor & Head of Gynae & Obs. department, CBMCB

30/04/2026

আজ বলবো “শিল্পী আক্তার” ও “রফিক সাহেব”—(ছদ্মনাম)—একটি বাস্তব জীবনের গল্প।
আমি তখন CBMCB-তে আউটডোরে রোগী দেখছিলাম।
একজন তরুণী এলেন—চোখে কষ্ট, কথায় অভিমান।
আমি জিজ্ঞেস করলাম,
“তোমার স্বামী আসেননি?”
সে শান্ত গলায় বলল—
“না ম্যাডাম… উনি আসেননি।
সব দোষ আমারই… উনি বলেন সমস্যাটা শুধু আমার।
কিন্তু উনি মাসে এক-দুদিনও আমার সাথে থাকেন না…
সময় দেন না… বললেই রাগ করেন…”
তার কথা শুনে আমি থমকে গেলাম।
আমি তাকে বললাম—
“দেখো, ইনফার্টিলিটি কোনো একার সমস্যা না—এটা দুজনেরই বিষয়।”
👉 বাস্তবতা কী?
প্রায় ৩০–৪০% ক্ষেত্রে নারী দায়ী
৩০–৪০% ক্ষেত্রে পুরুষ দায়ী
১০% ক্ষেত্রে দুজনই দায়ী
আর ১০% ক্ষেত্রে কোনো কারণই খুঁজে পাওয়া যায় না
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি—
আমরা অনেক সময় শুধু মেয়েদের নিয়েই ব্যস্ত থাকি।
👉 অনেক ক্ষেত্রে কী হয়?
স্বামীর সিমেন রিপোর্ট ভালো—
তাই আমরা ধরে নিই সব ঠিক আছে!
কিন্তু আমরা কি জিজ্ঞেস করি—
❓ উনার সাথে নিয়মিত সময় কাটে কিনা
❓ উনার সক্ষমতা ঠিক আছে কিনা
❓ দাম্পত্য সম্পর্ক স্বাভাবিক কিনা
👉 অথচ সমস্যাটা হতে পারে—
Premature ej*******on
Erectile dysfunction
Decreased libido
Hormonal imbalance
Psychological stress
এইগুলো কিন্তু ইচ্ছাকৃত না—
এগুলোও চিকিৎসাযোগ্য শারীরিক বা মানসিক সমস্যা।
👉 তাই করণীয় কী?
✔️ শুধু রিপোর্ট না, পুরো দাম্পত্য জীবন মূল্যায়ন করতে হবে
✔️ প্রয়োজন হলে চিকিৎসা দিতে হবে
✔️ দরকার হলে Psychiatrist / S*x specialist / Psychologist-এ রেফার করতে হবে
কারণ—
শুধু ভালো রিপোর্ট দিয়ে সন্তান হয় না,
প্রয়োজন সুস্থ সম্পর্ক, সঠিক সময় এবং দুজনের সমান অংশগ্রহণ।
🌸 আমি সবসময় বলি—
ইনফার্টিলিটি শুধু সন্তান না পাওয়ার কষ্ট না,
এটা দাম্পত্য জীবনেরও একটি পরীক্ষা।
👉 সঠিক চিকিৎসা + সচেতনতা থাকলে
অনেক কাপলই এই সমস্যার সমাধান পেতে পারেন,
ফিরে পেতে পারেন সুখী দাম্পত্য জীবন।

মরিয়মের বয়স মাত্র ২০ বছর। ১৫ বছর বয়সে বিয়ে—যে বয়সে একটি মেয়ের স্বপ্ন দেখার কথা, সেই বয়সেই শুরু হয় তার সংসার জীবন। এই অল্...
28/04/2026

মরিয়মের বয়স মাত্র ২০ বছর। ১৫ বছর বয়সে বিয়ে—যে বয়সে একটি মেয়ের স্বপ্ন দেখার কথা, সেই বয়সেই শুরু হয় তার সংসার জীবন। এই অল্প সময়ের মধ্যেই সে তিনবার গর্ভধারণ করেছে। তার ছোট বাচ্চার বয়স মাত্র দেড় বছর।

অনিয়মিতভাবে পিরিয়ড হওয়া এবং কোনো জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার না করার কারণে আবারও সে গর্ভবতী হয়ে পড়ে।
কিন্তু এই গর্ভধারণটি রাখতে না চাওয়ায়, প্রায় সাড়ে চার মাসে সে নিজে নিজে ই খেয়ে গর্ভপাত করানোর চেষ্টা করে…

হাসপাতালে আনার সময় তার অবস্থা ছিল ভয়াবহ, জীবন-মৃত্যুর মাঝখানে দুলছিল সে।

CBMCB হাসপাতালে আনা হলে ১৬/০৪/২০২৬ তারিখে তাকে ভর্তি করা হয়।
ভর্তির পরপরই শুরু হয় জরুরি চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ—একটি জীবনকে ফিরে পাওয়ার লড়াই তখনও চলছিল।

আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করে দেখা গেল—
আগের সিজারিয়ান অপারেশনের স্কার (uterine scar) ফেটে গেছে,এবং ভেতরে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল।

তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অপারেশন করে রক্তক্ষরণ বন্ধ করা হয় এবং জরায়ুর ফাটা অংশ পুনরায় সেলাই করা হয়।

আল্লাহর অসীম রহমতে—মরিয়ম এবার বেঁচে যায়।
কিন্তু সামান্য দেরি হলেই হয়তো এই গল্পটি বেঁচে ফেরার নয়, হারিয়ে যাওয়ার গল্প হয়ে যেত… আজ CBMCB তে ওর কেস নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

এই ঘটনা আমাদের কী শেখায়?

🔸 অল্প বয়সে বিয়ে ও

🔸 একের পর এক গর্ভধারণ শরীরকে দুর্বল করে দেয়।

🔸 সিজারের পর পর্যাপ্ত বিরতি না নিলে জরায়ু ফেটে যাওয়ার মতো মারাত্মক জটিলতা হতে পারে।

🔸 এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—
নিজে নিজে গর্ভপাতের ওষুধ খাওয়া জীবননাশের কারণ হতে পারে।

মনে রাখবেন—
✔️ বিয়ের সঠিক বয়স জানা জরুরি
✔️ সন্তান নেওয়ার সঠিক সময় ও ব্যবধান বজায় রাখা জরুরি
✔️ সন্তান নিতে না চাইলে নিরাপদ জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করা জরুরি
✔️ এবং যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

28/04/2026

অনিয়মিত রক্তস্রাব—শরীরের একটি সংকেত, কিন্তু অবহেলা করলে বড় বিপদ।

27/04/2026

অপেক্ষার প্রতিটি দিন আজ যেন আনন্দের অশ্রু হয়ে ফিরলো।
১৩ বছরের দীর্ঘ নীরবতার পর ভেঙেছে স্বপ্নভঙ্গের দেয়াল।
অধ্যাপক ডাঃ শিলা সেন মেডাম-এর স্নেহময় চিকিৎসায় অবশেষে এলো নতুন জীবনের আলো।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই পরিবারের ঘরে এসেছে এক নতুন প্রাণ, যা শুধু একটি শিশুর জন্ম নয়—বরং নতুন করে বাঁচার অনুপ্রেরণা।

একটি শিশুর আগমন শুধু মা-বাবার মুখে হাসি ফোটায় না; চাচা, মামা, ফুফু, দাদা-দাদি, নানা-নানিসহ পুরো পরিবারজুড়ে ছড়িয়ে দেয় আনন্দের ঢেউ।

এই পরিবারের ক্ষেত্রেও তাই—১৩ বছরের অপেক্ষার পর নবজাতকের আগমনে ঘরে ফিরেছে সুখ, আশা আর পূর্ণতার অনুভূতি।

নতুন এই ছোট্ট অতিথিকে ঘিরে এখন সবার হৃদয় ভরে গেছে ভালোবাসা আর আনন্দে। 💕

26/04/2026

২৩ বছরের নীরব অপেক্ষা…

অগণিত স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পরও একটুকু আশাকে আঁকড়ে ধরে ছিলেন তারা।

টাঙ্গাইল থেকে যখন অধ্যাপক ডাঃ শিলা সেন মেডাম এর কাছে আসেন, তখন তাদের চোখে ছিল ক্লান্তি, কিন্তু হৃদয়ের গভীরে লুকানো ছিল এক ফোঁটা বিশ্বাস—“হয়তো এবার হবে…”
আর সত্যিই, সেই ‘হয়তো’ আজ বাস্তব।

মাত্র দুই মাসের চিকিৎসায় এলো সেই বহুকাঙ্ক্ষিত সুখবর—গর্ভধারণ।

নিজেদেরই যেন বিশ্বাস হচ্ছিল না—
২৩ বছর পরও এমন অলৌকিক আনন্দ জীবনে আসতে পারে!
আজ তাদের হাসি, তাদের চোখের জল—সবই একটাই কথা বলে,

“অপেক্ষা কখনো বৃথা যায় না, যদি আশা বেঁচে থাকে

26/04/2026

ডাক্তার পেসেন্ট সম্পর্ক ও একটি খোলা চিঠির র উত্তর।

24/04/2026

১৩ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা…
অবশেষে পূরণ হলো সেই স্বপ্ন।
অধ্যাপক ডাঃ শিলা সেন মেডাম-এর চিকিৎসায় ১৩ বছর পর মা হওয়ার আশীর্বাদ পেলেন তিনি।

আজ আউটডোরে রোগী দেখার সময় সামিয়া , বয়স ৩২ বছর, আমার কাছে আসেন।তার প্রধান অভিযোগ—গত এক মাস ধরে অনিয়মিত রক্তপাত।ইতিহাস নিত...
23/04/2026

আজ আউটডোরে রোগী দেখার সময় সামিয়া , বয়স ৩২ বছর, আমার কাছে আসেন।

তার প্রধান অভিযোগ—গত এক মাস ধরে অনিয়মিত রক্তপাত।
ইতিহাস নিতে গিয়ে জানা গেল, দেড় মাস পিরিয়ড বন্ধ থাকার পর তিনি প্রেগন্যান্ট হয়েছিলেন।

পরে স্বামীর ইচ্ছায় এমএম কিট নিয়ে গর্ভপাত করাতে হয়েছে।
এর পর থেকেই এক মাস ধরে তিনি ব্লিডিং হচ্ছে।
কিন্তু এই গল্পের শুরু আরও আগে…

সামিয়ার প্রথম বিয়ে হয়েছিল ২০২০ সালে।
বিয়ের পর তিনি একবার প্রেগন্যান্ট হন, কিন্তু সেটা ছিল ectopic pregnancy—যার জন্য একটি টিউব অপসারণ করতে হয়।

এরপরই তাকে বলা হয়—তিনি আর কখনো মা হতে পারবেন না।
এই ভুল ধারণার ভিত্তিতে মাত্র ৬ মাসের মধ্যে তাকে ডিভোর্স দেওয়া হয়।

এরপর ২০২৩ সালে তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়।
এই স্বামীর আগের সংসারে দুইটি সন্তান আছে।
কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—

এই সংসারে আসার পর যখন সামিয়া আবার প্রেগন্যান্ট হলেন, তখন সেই সন্তান রাখতে দেওয়া হলো না।
স্বামীর সিদ্ধান্তেই তাকে গর্ভপাত করতে বাধ্য করা হয়।

অর্থাৎ যে সন্তানের অভাবে তার প্রথম সংসার ভেঙে গেল,
সেই সন্তান আসার পর দ্বিতীয় সংসারে তাকে সেই সন্তানই ত্যাগ করতে হলো।

দুটো সিদ্ধান্তই—তার নিজের ছিল না।
আজ তার বয়স ৩২।

আগামীতে তিনি আবার মা হতে পারবেন কি না—এটা অনিশ্চিত।

এই গল্প থেকে আমাদের শেখার বিষয়—
🔹 একটি টিউব অপসারণ হলেও স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণ সম্ভব।

🔹 ectopic pregnancy মানেই “আর কখনো সন্তান হবে না”—এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।

🔹 নারীর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত—সন্তান নেবেন কি না—এটা তার নিজের হওয়া উচিত।

শেষ কথা:
নারী শুধু কারও সন্তানের মা হওয়ার জন্য নয়—
তার নিজের ইচ্ছা, অধিকার ও স্বপ্নের মূল্য আছে।
সেই সম্মানটুকু আমাদের দিতেই হবে।

22/04/2026

দীর্ঘ ৭ বছরের প্রতীক্ষা, অসংখ্য আশা-নিরাশার গল্প পেরিয়ে অবশেষে এক দম্পতির জীবনে এলো অমূল্য সুখবর। এতদিন সন্তানের মুখ দেখতে না পারার কষ্ট বুকে নিয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আশ্রয় নেন অধ্যাপক ডাঃ শিলা সেন মেডামের কাছে। সঠিক চিকিৎসা, পরামর্শ এবং আন্তরিক যত্নের মাধ্যমে কিছুদিনের মধ্যেই তারা পান কাঙ্ক্ষিত সুসংবাদ—মা হতে চলেছেন তিনি।

নিয়মিত ফলোআপ এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার এক পর্যায়ে আল্ট্রাসোনোগ্রাফিতে জানা যায়, মায়ের গর্ভে একসাথে তিনটি বেবি (ট্রিপল বেবি) রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এমন প্রেগন্যান্সি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় শুরু হয় আরও নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও বিশেষ যত্ন। সম্ভাব্য জটিলতা এড়াতে এবং নির্ধারিত সময়ের আগে ডেলিভারি রোধ করতে অধ্যাপক ডাঃ শিলা সেন মেডাম সময়মতো McDonald suture প্রদান করেন।

ধৈর্য, সাহস আর সঠিক চিকিৎসার সমন্বয়ে দীর্ঘ এই চ্যালেঞ্জিং পথ সফলভাবে অতিক্রম করেন এই মা। অবশেষে শিলাঙ্গন হাসপাতালে সিজারিয়ান সেকশনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় ডেলিভারি। পৃথিবীর আলো দেখল একসাথে তিনটি কন্যা সন্তান—যা এই পরিবারের জন্য এক অনন্য আশীর্বাদ।

আলহামদুলিল্লাহ, মা ও তিনটি কন্যা সন্তান বর্তমানে সুস্থ আছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ তাদের পরিবার পূর্ণতা পেয়েছে, আনন্দে ভরে উঠেছে চারপাশ। এই গল্প শুধু একটি সন্তানের জন্ম নয়, এটি ধৈর্য, বিশ্বাস ও সঠিক চিকিৎসার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

১৩ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে সন্তানের মুখ দেখলেন এই গর্বিত মা।অধ্যাপক ডাঃ শিলা সেন মেডামের চিকিৎসা গ্রহণের পর তিনি ...
21/04/2026

১৩ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে সন্তানের মুখ দেখলেন এই গর্বিত মা।

অধ্যাপক ডাঃ শিলা সেন মেডামের চিকিৎসা গ্রহণের পর তিনি গর্ভধারণ করতে সক্ষম হন। এরপর শুরু হয় প্রেগন্যান্সির দীর্ঘ ও যত্নভরা পথচলা। নিয়মিত চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে অবশেষে শিলাঙ্গন হাসপাতালে অধ্যাপক ডাঃ শিলা সেন মেডামের তত্ত্বাবধানে সিজারিয়ান সেকশনের মাধ্যমে সফলভাবে ডেলিভারি সম্পন্ন হয়।

১৩ বছর পর প্রথমবার নিজের সন্তানের মুখ দেখে তিনি আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। এই দীর্ঘ সময়ে সমাজের নানা মানুষের কাছ থেকে তাকে অনেক কটু কথা শুনতে হয়েছে। অনেক সময় তিনি কারও সাথে কথা বলতেও সংকোচ বোধ করতেন।

কিন্তু আজ সব কষ্ট যেন মুহূর্তেই ভুলে গেছেন তিনি।
আজ থেকে আর কোনো কটু কথা নয়—আজ তার জীবনে এসেছে পূর্ণতা।
আজ তার পরিবার পরিপূর্ণ। 💙

21/04/2026

আজ ওয়ার্ড রাউন্ডে একটি ঘটনায় আবারও মনে হলো—আমাদের দেশে জন্মনিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে সচেতনতা এখনও কতটা জরুরি।

রাউন্ড দিতে গিয়ে দেখি এক বেডে এক মা তার দুই বাচ্চাকে নিয়ে শুয়ে আছেন। স্বাভাবিকভাবেই জিজ্ঞেস করলাম,
“এটা আপনার কয় নম্বর বাচ্চা?”

তিনি বললেন—

“এটা আমার পাঁচ নম্বর বাচ্চা।”

আমি জানতে চাইলাম, আগের বাচ্চারা কি সবাই জীবিত?
তিনি বললেন—

“হ্যাঁ, তিন মেয়ে আর দুই ছেলে।”

আরও জানতে পারলাম, আগের বাচ্চাটির বয়স মাত্র ১৬ মাস।
আমি জিজ্ঞেস করলাম,

“আপনি কি ইচ্ছা করেই এই বাচ্চা নিয়েছেন?”

তিনি একটু লজ্জা পেয়ে বললেন—

“না ডাক্তার আপা, আসলে আগের বাচ্চা হওয়ার পর থেকে আমার আর পিরিয়ড হয়নি। তাই ভেবেছিলাম গর্ভধারণ হবে না, তাই কোনো পদ্ধতিও নেইনি।”

কিন্তু বাস্তবতা হলো—
অনেক মা বা দম্পতি মনে করেন, বাচ্চা হওয়ার পর পিরিয়ড না আসা পর্যন্ত গর্ভধারণের ঝুঁকি নেই।
এটি সম্পূর্ণ সঠিক ধারণা নয়।

কারণ শুধু বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়েও (lactational amenorrhea period) অনেক মায়ের ক্ষেত্রে ডিম্বস্ফোটন হয়ে যেতে পারে। গবেষণায় দেখা যায়, এই সময়ে প্রায় 30%মা অনিচ্ছাকৃতভাবে গর্ভধারণ করতে পারেন।

ফলে অনেক ক্ষেত্রে এই মায়ের মতোই অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ হয়ে যায়।

তাই যারা এই মুহূর্তে আর সন্তান নিতে চান না, তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় মনে রাখা দরকার—

১️⃣ বাচ্চা হওয়ার পরেই জন্মনিয়ন্ত্রণ শুরু করা যায়।
হাসপাতালে ডেলিভারির পরই অনেক ক্ষেত্রে
ইমপ্লান্ট (৩ বছরের জন্য)
কপার-টি (১০ বছরের জন্য)
দেওয়া সম্ভব।

২️⃣ ডেলিভারির ২১ দিন পর থেকেই ইনজেকশন নেওয়া যায়।
এগুলোতে বুকের দুধ কমে যায় না।

৩️⃣ যদি ডেলিভারির সময় কপার-টি না দেওয়া হয়, তাহলে
প্রায় ৬ সপ্তাহ (দেড় মাস) পরেও কপার-টি নেওয়া যায়।

৪️⃣ যাদের স্বামী বিদেশে থাকেন, তারা স্বামী আসার এক মাস আগে থেকেই কোনো একটি পদ্ধতি নিয়ে রাখতে পারেন, যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের ঝুঁকি না থাকে।

আমরা যদি মা ও পরিবারকে সঠিক তথ্য এবং সচেতনতা দিতে পারি, তাহলে অনেক অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ এড়ানো সম্ভব।
সবার সুস্থ ও পরিকল্পিত পরিবার গড়ে উঠুক—এই কামনা করি।
ধন্যবাদ সবাইকে।

Address

Mymensingh

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Prof. Dr. Shila Sen posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share