03/03/2026
আমার চেম্বারে এক ৩.৫ বছরের ছোট্ট শিশুকে নিয়ে এলেন তার বাবা-মা। দরজার সামনে দাঁড়িয়েই ওর মুখটা শক্ত হয়ে গেল। চোখে স্পষ্ট ভয়। মায়ের হাত শক্ত করে ধরে আছে, যেন ভেতরে এলেই অজানা কিছু ঘটবে। অনেক শিশুর কাছেই চেম্বার মানেই ইনজেকশন, ওষুধ, কষ্টের স্মৃতি। তাই ওর সেই স্বাভাবিক ভয়টুকু আমি খুব স্বাভাবিকভাবেই নিলাম।
আমি দূর থেকেই ওর সাথে কথা বলা শুরু করলাম। নাম জিজ্ঞেস করলাম, খেলনা আছে কিনা জানতে চাইলাম, ওর পছন্দের কার্টুনের কথা বললাম। ধীরে ধীরে ওর চোখের ভয়টা কৌতূহলে বদলে গেল। কিছুক্ষণ পর নিজেই মায়ের হাত ছেড়ে আমার টেবিলের কাছে এসে দাঁড়াল।
তারপর যে ঘটনাটা ঘটল, সেটা সত্যিই হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো। হঠাৎ করেই সে আমার কোলের ওপর উঠে বসল। ছোট্ট দুই হাত দিয়ে গলা জড়িয়ে ধরল। পরীক্ষা শেষ, প্রেসক্রিপশন লেখা শেষ, কিন্তু সে নামতেই চায় না। মা ডাকছেন, বাবা বলছেন, তবুও সে আমার কাঁধে মাথা রেখে নিশ্চিন্ত হয়ে বসে আছে।
সেই মুহূর্তে মনে হলো, চিকিৎসা শুধু স্টেথোস্কোপ আর প্রেসক্রিপশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিশুদের ক্ষেত্রে তো আরও বেশি নয়। এখানে সম্পর্ক তৈরি করতে হয়। তাদের ভয়টাকে সম্মান ক হয়, তাদের ছোট্ট মনটাকে সময় দিতে হয়। যখন একটা শিশু আপনার কোলকে নিরাপদ আশ্রয় মনে করে, তখন সেটাই আপনার কাজের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি।
একজন শিশু বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমি প্রতিদিন অনেক অসুখ দেখি। কিন্তু এর চেয়েও বেশি দেখি বিশ্বাস। ছোট্ট ছোট্ট এই বিশ্বাসগুলোই আমাকে নতুন করে দায়িত্বশীল করে, নতুন করে মানবিক করে তোলে।
সেই দিনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল কোনো ফি নয়, কোনো প্রশংসা নয়। ছিল একটি ছোট্ট শিশুর নির্ভরতার স্পর্শ, আর তার নির্ভীক হাসি।
এমন মুহূর্তগুলোর জন্যই হয়তো এই পথ বেছে নেওয়া। 🤍