23/04/2026
জাদু থেকে মুক্ত হতে জাদুর বস্তু খুঁজে পাওয়া শর্ত নয় — শিফা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে
বর্তমান সমাজে একটি বিভ্রান্তিকর কথা খুব বেশি ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু মানুষ বলে—কেউ জাদুগ্রস্ত হলে, জাদুর বস্তু (তাবিজ, গিঁট, কাপড়, চুল, মাটি চাপা জিনিস ইত্যাদি) খুঁজে বের করে নষ্ট না করা পর্যন্ত সে কখনো জাদু থেকে মুক্ত হতে পারবে না।
এই কথা শরয়ীভাবে সঠিক নয়। বরং এটি অনেক অসহায় মানুষকে হতাশ করে, আল্লাহর উপর ভরসা দুর্বল করে, এবং ভণ্ড কবিরাজ, প্রতারক, কথিত রাক্বী ও শিরকী চিকিৎসার ফাঁদে ফেলে দেয়।
আল্লাহ কাউকে অসাধ্য বিষয়ে বাধ্য করেন না
আল্লাহ তাআলা বলেন:
لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا
“আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন না।”
(সূরা আল-বাকারাহ: ২৮৬)
যদি বলা হয়—“জাদুর বস্তু না পাওয়া পর্যন্ত মুক্তি নেই”, তাহলে প্রশ্ন হলো:
* যদি বস্তুটি নদীতে ফেলে দেওয়া হয়?
* যদি সাগরে নিক্ষেপ করা হয়?
* যদি গভীর জঙ্গলে পুঁতে রাখা হয়?
* যদি বহু বছর আগে কবরে পুঁতে রাখা হয়?
* যদি কেউ জানতেই না পারে কোথায় রাখা হয়েছে?
তাহলে কি ওই ব্যক্তি সারাজীবন কষ্টেই থাকবে?
এমন কথা বলা মানে এমন শর্ত আরোপ করা, যা অধিকাংশ মানুষের পক্ষেই পূরণ করা সম্ভব নয়। অথচ আল্লাহ তো বলেন, তিনি কাউকে সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না।
জাদুর বস্তু পাওয়া না গেলেও আল্লাহ শিফা দিতে সক্ষম
অনেক প্রতারক বলে:
* “তোমার জিনিস নদীতে ফেলা হয়েছে”
* “সাগরে নিক্ষেপ করা হয়েছে”
* “বছরের পর বছর মাটির নিচে আছে”
* “ওটা না পাওয়া পর্যন্ত কোনো চিকিৎসা হবে না”
এগুলো বলে তারা রোগীকে ভয় দেখায়, নির্ভরশীল বানায়, টাকা নেয়, বারবার ডাকে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—যদি সত্যিই সাগরে ফেলা হয়, তাহলে মানুষ কি সাগরে সেই বস্তু খুঁজে বের করবে?
যদি নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে কোথায় খুঁজবে?
যদি ১ বছর আগেও কবরে রাখা হয়, তাহলে কে বের করবে?
তাহলে কি সে মানুষ কখনো সুস্থ হবে না?
অবশ্যই হবে—যদি আল্লাহ চান।
কারণ শিফা কোনো বস্তুতে নয়, শিফা আল্লাহর হাতে।
কুরআন মুমিনদের জন্য শিফা
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ
“আমি কুরআনে এমন বিষয় নাযিল করি যা মুমিনদের জন্য শিফা ও রহমত।”
(সূরা আল-ইসরা: ৮২)
এখানে আল্লাহ বলেননি—
“আগে জাদুর বস্তু খুঁজে আনো, তারপর শিফা দেব।”
বরং তিনি কুরআনকেই শিফা বলেছেন।
এটাই মুমিনের ভরসা।
জাদুর ক্ষতি আল্লাহর অনুমতি ছাড়া হয় না
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَمَا هُم بِضَارِّينَ بِهِ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ
“তারা আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কারও কোনো ক্ষতি করতে পারে না।”
(সূরা আল-বাকারাহ: ১০২)
যখন ক্ষতি আল্লাহর অনুমতি ছাড়া হয় না, তখন মুক্তিও আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া হয় না।
বাস্তব উদাহরণ
ধরুন একজন মানুষকে বলা হলো:
“তোমার জাদু সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছে, তাই আরোগ্য নেই।”
এ কথা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কারণ সমুদ্রের মালিক আল্লাহ, শিফার মালিকও আল্লাহ।
আরেকজনকে বলা হলো:
“তোমার জাদু ১২ বছর আগে মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছে, না পেলে মুক্তি নেই।”
এ কথাও বিভ্রান্তিকর। কারণ ১২ বছর আগের বস্তু খুঁজে পাওয়া না গেলে কি আল্লাহ তাকে সুস্থ করতে পারবেন না? অবশ্যই পারবেন।
তাহলে করণীয় কী?
জাদুর বস্তু খুঁজে বেড়ানো নয়, বরং:
* পাঁচ ওয়াক্ত সালাত
* তাওবা ও ইস্তিগফার
* সকাল-সন্ধ্যার যিকির
* সূরা ফাতিহা
* আয়াতুল কুরসী
* সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস
* নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত
* দোয়া
* আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল
* গুনাহ থেকে বাঁচা
* সঠিক চিকিৎসা
এগুলোই শরয়ী ও নিরাপদ পথ।
জাদুর বস্তু পাওয়া গেলে?
যদি বাস্তবে কোনো ক্ষতিকর বস্তু পাওয়া যায়, তা নষ্ট করা যেতে পারে। কিন্তু এটাকে মুক্তির একমাত্র শর্ত বানানো যাবে না।
কারণ শিফা বস্তুতে নয়, রবের ইচ্ছায়।
শেষ কথা
“জাদুর বস্তু না পেলে কখনো মুক্তি নেই”—এ কথা কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষা নয়। এটি বহু সময় প্রতারণা, ভয় দেখানো ও মানুষকে দুর্বল করার একটি উপায়।
সঠিক আকীদা হলো:
আল্লাহ চাইলে সাগরে ফেলা জিনিস ছাড়াই মুক্তি দেবেন।
আল্লাহ চাইলে নদীতে হারানো বস্তু ছাড়াই মুক্তি দেবেন।
আল্লাহ চাইলে বহু বছর আগের লুকানো বস্তু ছাড়াই মুক্তি দেবেন।
কারণ তিনি বলেন কুরআন মুমিনদের জন্য শিফা।
আল্লাহ আমাদের তাওহীদের উপর অটল রাখুন, কুরআনের শিফা দান করুন, এবং সব ধরনের শিরক, কুসংস্কার ও প্রতারণা থেকে হেফাজত করুন। আমীন।
📞 01747-675968
Ruqya Quranic Treatment
Raqi Shahadat Hossain