05/04/2026
🩺 হাম (Measles):
হাম একটি ভাইরাসজনিত অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
🔬 হাম কেন হয়?
হাম হয় Measles Virus নামের একটি ভাইরাস দ্বারা, যা শ্বাসনালীর মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে।
👉 আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি/হাঁচি দিলে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে
👉 একই ঘরে থাকলেও সংক্রমণ হতে পারে (বাতাসের মাধ্যমে সংক্রমণ)
👉 ভাইরাসটি বাতাসে প্রায় ২ ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে।
অর্থাৎ, হাম সবচেয়ে বেশি ছোঁয়াচে রোগগুলোর একটি।
⏳ লক্ষণ প্রকাশের সময়
সংক্রমণের ৭–১৪ দিন পর লক্ষণ শুরু হয়।
⚠️ হামের ধাপে ধাপে লক্ষণ:
⃣ প্রাথমিক ধাপ (শুরুর পর্যায়: ৩–৪ দিন):
🌡️ উচ্চ জ্বর (১০১–১০৪°F)
🤧 নাক দিয়ে পানি পড়া
😷 শুকনো কাশি
👁️ চোখ লাল হওয়া
💡 আলোতে তাকাতে কষ্ট
👉 এই ৩টি লক্ষণ একসাথে থাকলে বলা হয় “3C(Cough, coryza, conjunctivitis)” — কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া।
⃣ মুখের বিশেষ লক্ষণ:
🦷 গালের ভেতরে সাদা দানার মতো দাগ → কপলিক স্পট (Koplik spots)
👉 এটি হামের একটি নির্দিষ্ট লক্ষণ
⃣ ফুসকুড়ি ধাপ:
প্রথমে মুখে শুরু হয়
তারপর ঘাড় → বুক → সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে
লালচে দানাদার ফুসকুড়ি
সাধারণত ৫–৬ দিনে মিলিয়ে যায়।
🚨 কখন বুঝবেন রোগটি জটিল হচ্ছে?
নিচের লক্ষণগুলো থাকলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে:
👉 শ্বাসকষ্ট
👉 খিঁচুনি
👉 খেতে না পারা বা বারবার বমি
👉 অচেতনতা বা অতিরিক্ত ঝিমুনি
👉 কান দিয়ে পুঁজ পড়া
👉 তীব্র ডায়রিয়া
⚡ সম্ভাব্য জটিলতা:
হামকে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়, কারণ এটি থেকে হতে পারে:
🫁 ফুসফুসের সংক্রমণ (নিউমোনিয়া)
🧠 মস্তিষ্কের প্রদাহ
👂 কানের সংক্রমণ
💧 তীব্র ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতা
👁️ চোখের সমস্যা → অন্ধত্ব (বিশেষ করে ভিটামিন এ-এর অভাবে)
💊 চিকিৎসা:
হামের নির্দিষ্ট কোনো ভাইরাসনাশক চিকিৎসা নেই, তাই সহায়ক চিকিৎসাই মূল ভরসা।
🔹বাসায় করণীয়:
👉 পর্যাপ্ত বিশ্রাম
👉 প্রচুর তরল (খাবার স্যালাইন, পানি)
👉 পুষ্টিকর খাবার
👉 চোখ পরিষ্কার রাখা।
🔹 চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী:
👉 জ্বর কমানোর ওষুধ (প্যারাসিটামল)
👉 ভিটামিন এ ক্যাপসুল(খুবই গুরুত্বপূর্ণ)
👉 প্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক (যদি অন্য সংক্রমণ হয়)
👉 অক্সিজেন বা স্যালাইন (প্রয়োজনে)
🔸প্রতিরোধ
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা।
💉 এমআর (MR) টিকা
বাংলাদেশে নির্ধারিত টিকাদান কর্মসূচি অনুযায়ী দেওয়া হয়
👉 টিকা নিলে:
▪️রোগ হওয়ার ঝুঁকি কমে
▪️হলেও রোগ হালকা হয়
▪️জটিলতা অনেক কম হয়
👶 ঝুঁকিপূর্ণ গ্রুপ:
▪️৫ বছরের নিচের শিশু
▪️অপুষ্ট শিশু
▪️যাদের ভিটামিন এ-এর অভাব আছে
▪️যাদের টিকা নেওয়া হয়নি
▪️দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার রোগী।
📢 একজন চিকিৎসক হিসেবে পরামর্শ:
👉 শিশুর টিকা সময়মতো দিন
👉 জ্বর + কাশি + চোখ লাল হলে সতর্ক হন
👉 ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
👉 আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখুন।
ডা. মোঃ জামিরুল ইসলাম
সহকারী রেজিস্ট্রার
নিউরোমেডিসিন বিভাগ
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
#সাক্ষাত: রবি, সোম, মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার (বিকেল ৪টা হতে রাত ৯টা)
ও শুক্রবার সারাদিন (সকাল ৯টা হতে রাত ৯টা।
#চেম্বার : সেবা ক্লিনিক, শান্তিমোড়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ (রুম নং: ২০৯)
#সিরিয়াল : ০১৩৩১-৭৪৭৪২২