27/05/2026
কোরবানির পশুর কোন কোন অংশ খাওয়া যাবে না? জেনে নিন আলা হযরত ইমাম আহমদ রেজা খান (রহ.)-এর ফতোয়া অনুযায়ী ২২টি নিষিদ্ধ অংশ। 🕋
আসসালামু আলাইকুম। পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ আমাদের একেবারে দ্বারে প্রান্তে। কোরবানি করার পর পশুর গোশত কাটার সময় আমাদের একটি বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকা জরুরি। আমরা অনেকেই মনে করি, হালাল পশুর সব অংশই বুঝি খাওয়া যায়। কিন্তু ইসলামি শরিয়তের আলোকে হালাল পশুরও কিছু অংশ আছে যা খাওয়া হারাম, নিষিদ্ধ কিংবা মাকরুহ।
বিখ্যাত ফিকহ গ্রন্থ 'ফতোয়ায়ে রজভীয়া' (২০তম খণ্ড, ২৪০-২৪১ পৃষ্ঠা) অনুযায়ী জবেহকৃত পশুর এমন ২২টি অংশ নিচে তুলে ধরা হলো যা আমাদের বর্জন করতে হবে:
১. প্রবাহিত রক্ত: জবেহের সময় বা পরে যে রক্ত বের হয়।
২. পিত্ত: পিত্তথলি থেকে নির্গত হওয়া তরল পদার্থ।
৩. মূত্রথলি: পশুর প্রস্রাব জমিয়ে রাখার থলি।
৪. পুরুষাঙ্গ: পশুর লিঙ্গ বা পুরুষ প্রজনন অঙ্গ।
৫. স্ত্রীলিঙ্গ: পশুর স্ত্রী প্রজনন অঙ্গ।
৬. অণ্ডকোষ: পশুর অণ্ডকোষ বা ডিম্বথলি।
৭. গ্রন্থি বা গোশতের গাঁট: গোশতের ভেতরে থাকা লিম্ফ নোড বা অস্বাভাবিক চাকা/গাঁট।
৮. হারাম মজ্জা: হাড়ের ভেতরে থাকা মজ্জা (যা খাওয়া নিষিদ্ধ)।
৯. ঘাড়ে দু'পাশের রগ: ঘাড়ের দুই পাশে যে রগগুলো কাঁধ পর্যন্ত টানা থাকে।
১০. কলিজার রক্ত: কলিজার ভেতরে জমে থাকা রক্ত।
১১. তিলির রক্ত: প্লীহা বা তিলির ভেতরে থাকা রক্ত।
১২. গোশতের ভেতরের রক্ত: জবেহের পর গোশত থেকে যে রক্ত বের হয়।
১৩. হৃদপিণ্ডের রক্ত: হার্ট বা হৃদপিণ্ডের ভেতরে থাকা রক্ত।
১৪. পিত্তের ভেতরের হলুদ পানি: পিত্তথলির ভেতরে থাকা বিশেষ হলুদ তরল।
১৫. নাকের আর্দ্রতা/স্রাব: নাকের ভেতরের সর্দি বা তরল (বিশেষ করে ভেড়া ও ছাগলের ক্ষেত্রে)।
১৬. পায়খানার রাস্তা: মলদ্বার বা মল ত্যাগের পথ।
১৭. পাকস্থলী: পশুর ভুঁড়ি বা পাকস্থলীর মূল অংশ।
১৮. নাড়িভুঁড়ি: অন্ত্র বা পেটের ভেতরের নাড়িভুঁড়ি।
১৯. বীর্য: পশুর বীর্য বা শুক্রাণু।
২০. রক্তে পরিণত হওয়া বীর্য।
২১. গোশতের টুকরো হয়ে যাওয়া বীর্য।
২২. মৃত বাচ্চা: জবেহ ছাড়া মৃত অবস্থায় পেট থেকে বের হওয়া বা মারা যাওয়া পূর্ণ বাচ্চা।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: "হালাল পশুর সব অঙ্গই হালাল। তবে কিছু অঙ্গ আছে, যা খাওয়া হারাম, নিষিদ্ধ অথবা মাকরুহ।" — আলা হযরত ইমামে আহলে সুন্নত আহমদ রেজা খান (রহ.)।
আমাদের কোরবানি যেন আল্লাহর দরবারে কবুল ও বিশুদ্ধ হয়, সেজন্য এই নিয়মগুলো মেনে চলা আমাদের দায়িত্ব। পোস্টটি শেয়ার করে অন্য মুসলিম ভাই-বোনদেরও জানার সুযোগ করে দিন।
#স্বাস্থ্যসচেতনতা