20/05/2026
বলবি পশ্চিমে-কিন্তু যাবি দক্ষিণে
আনোয়ারুল হোসেন।
শুনতে ভালো শোনাবেনা। কিন্তু সত্যি কথা হলো, সমাজে ধান্ধাবাজিটা বেড়ে গেছে বহুগুণ। ব্যবসা-বাণিজ্যে ধান্ধাবাজি, পদোন্নতি, পদরক্ষায় ধান্ধাবাজি। কোনো পেশায় আর এখন ধান্ধাবাজি মুক্ত নয় প্রায়। অনেকটা "বলবি পশ্চিমে, কিন্তু যাবি দক্ষিণে"-নীতির মত। সরাসরি সত্যি কথা এবং আসল কথা না বলার প্রবণতা অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। অনেকে কথা বলেন ঘুরিয়ে পেচিয়ে। শুরু করেন ভিন্ন ও অনাবশ্যক প্রসঙ্গ দিয়ে।
বলা বাহুল্য,সমাজে যাঁরা শিক্ষক এবং রাজনীতিকদের পরামর্শ ও জ্ঞান দান করেন সেই বুদ্ধিজীবীদের মধ্যেও ভিতরে বাইরে ভিন্নতা এখন বেশি দেখা যাচ্ছে। পৃথিবীর কোথাও শ্রেণী বা দল হিসেবে বুদ্ধিজীবীদের স্বাক্ষাৎ পাওয়া যায়না। তাঁরা বড় বিশেষ কোনো সংকট সৃষ্টি না হলে অভিমত প্রকাশ করেন না। দলবদ্ধভাবে বিবৃতি দেন কালে-ভদ্রে। কিন্তু বাংলাদেশে এর ব্যতিক্রম। যেকোনো বিষয়ে তাঁদের দলবদ্ধ অভিমত থাকা চাই। বিবৃতির পাশাপাশি তাঁদের চলে মঞ্চে বক্তৃতা ও পত্রিকায় লেখা। এর মধ্যে কোনো দোষ নেই। কিন্তু তাঁদের অনেকে কোন বিষয়ে যে ব্যক্তিগত মত ব্যক্ত করেন অনেক সময় বিবৃতি, লেখা বা বক্তৃতায় দেখা যায় তার ভিন্ন মত। সমাজের উপর স্তরে বিশেষ মহলের এই ভূমিকা অনেকটা বর্ণচোরা আমের মত। দেখে সুপক্ক ও সুমিষ্ট বলে মনে হবে কিন্তু ভিতরে ভিন্ন।
সমাজের এই অগ্রবর্তী শ্রেণীর কথা ও কাজের বিপরীত মুখীনতার পিছনে যে কোনো কারণ নেই তা নয়। কারণ রয়েছে এবং তা হলো, সমাজে নিজেদের জন্য একটা বিশেষ স্থান ধরে রাখা। তারা যথেষ্ট অর্থ সম্পদ চান এবং চান সমাজের উপর স্তরে মধ্যমণি হয়ে থাকতে। ভাষা তাদের হাতে একটা বড় হাতিয়ার। তাঁদের অনেকের কাছে যাঁরা দিনে মিত্র, তাঁরাই আবার রাতে শত্রু। একই লেখায় বা একই বক্তৃতায় তাঁরা অংশে অংশে একাধিক পক্ষকে খুশি করতে চেষ্টা করেন। এই অগ্রবর্তী শ্রেণীর অনেক কথায়ই সাধারণ মানুষ পথ পান না। তাঁরা দলীয় নিরপেক্ষ নয়। তাঁদের ভাষা সাধারণ মানুষের জন্য বোধগম্য হয়না। সাধারণ মানুষের মধ্যে যাঁদের কাছে তাঁদের ভাষা বোধগম্য তারা একাধিক অর্থের কিংবা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য পড়ে বা শুনে আরও বিভ্রান্ত হয়,অগ্রসর আর হয় না।
২০/০৫/২০২৬
দুপুর ২ট ৪০ মিনিট বাংলাদেশের সময় এখন।