30/03/2026
#হাম_নিয়ে_নয়_কোন_আতংক
গত কয়েকদিন অনেকের পোস্টে হাম নিয়ে আতংক ছড়াতে দেখছি- আসুন, হাম নিয়ে জেনে নিই-
Measles (মিজেলস) রোগকেই বাংলাতে হাম বলা হয়, এইটা একটা ভাইরাস জনিত রোগ-
paramyxoviridae পরিবারের মিজেলস ভাইরাস দিয়ে এই রোগ ছড়ায়,
এই রোগ সর্বপ্রথম ১০০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে আবিষ্কার করেন ইরানের বিখ্যাত মুসলিম চিকিৎসক father of Islamic medicine মুহাম্মদ আবু বকর আল রাজি- যিনি ওয়েস্টার্ন কান্ট্রিতে রাজেস হিসাবে পরিচিত।
মিজেলস রোগ কিভাবে হয়?
সাধারণত কোন ব্যক্তি মিজেলস রোগে আক্রান্ত হলে তার হাঁচি কাশি ও শ্বাস থেকে মিজেলস ভাইরাস বাতাসে ছড়ায়, তারপর সুস্থ মানুষ সেই মিজেলস ভাইরাস বাহিত বাতাস থেকে শ্বাস নিলে তারও মিজেলস হতে পারে,
মিজেলস ভাইরাস এতটাই ছোঁয়াচে যে, অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ৯০% মানুষই আক্রান্ত হবে।
ধরুন, একটা পেশেন্ট আক্রান্ত হলো, সে মাস্ক লাগায়নি, তার রুমে আপনিও মাস্ক ছাড়া ডুকলেন, তাহলে আপনার যদি মিজেলস এর টিকা নেওয়া না থাকে, তবে আপনিও মিজেলসে আক্রান্ত হবেন।
এই কারনে মিজেলস প্রতিরোধে করনীয় হচ্ছে আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা করে ফেলা, বিশেষ করে ৫ বছরের কম বয়সের কোন শিশুকেই মিজেলস আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে নেওয়া যাবেনা। আক্রান্ত ব্যক্তির পানির গ্লাস সহ সব ব্যবহার্য জিনিস আলাদা রাখা হবে।
মিজেলস বা হামে কারা আক্রান্ত হয়?
সাধারণত ৫ বছরের কম বয়সী শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়, যাদের শিশুকালে MMR টিকা দেওয়া হয়নি, তারা মিজেলস এ আক্রান্ত হবার ঝুঁকি বেশি-- বড়দের মিজেলস হবার ঝুঁকি অনেক কম, হলেও মেজর কোন জটিলতা তৈরি হয়না-
মিজেলস এর রোগী সংস্পর্শে যাবার কতদিনের মধ্যে মিজেল হতে পারে?
মিজেলস রোগীর সংস্পর্শে যাবার প্রায় ৭-১০ দিনের মধ্যে মিজেলস আক্রান্ত হয়ে মিজেলস উপসর্গ দেখা দিতে পারে--
মিজেলস এর উপসর্গ কি?
যেহেতু মিজেলস বেশি হয় বাচ্চাদের, তাই বাচ্চারা মিজেলস আক্রান্ত হলে নিম্নের উপসর্গ দেখা দিতে পারে-
১. উচ্চ তাপমাত্রা সহকারে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসবে,
জ্বর ১০৪ ডিগ্রি পর্যন্ত হতে পারে।
2. সার শরীরে কিছুটা ব্যাথা হতে পারে,
3. কাশি হতে পারে, শুকনো কাশি।
4. নাক দিয়ে অনবরত পানি পড়বে বা সর্দি থাকবে
5. conjunctivitis হতে পারে
3C মনে রাখুন,
Cough
Coryza
Conjunctivitis
এইগুলি প্রায় ৪ দিন থাকে।
যদি কোন বাচ্চার যার ইপি'আই শিডিউলে ভ্যাক্সিন দেওয়া হয়নি, তার যদি উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর + সর্দি + কাশি + চোখ দিয়ে পানি পড়ে, তথা conjunctivitis থাকে, তাহলে তার মিজেলস সন্দেহ করতে পারেন, মিজেলসের Rash আসে জ্বরের ৩-৪ দিন পরে, তাই Rash আসার আগেও উপরের উপসর্গ গুলি থাকলে বাচ্চাকে হা করিয়ে মুখের অভ্যন্তরীণে দেখবেন- buccal mucosa তেভকোন সাদা ফোটা ফোটা দাগ আছে কিনা- এইটাকে koplic spot বলা হয়,
rash শুরু হবার ১-২ দিন আগে থেকেই এই koplik's spots দেখা যায়-
Fever + Runny nose+ cough+ conjunctivitis এর সাথে যদি koplic spot থাকে, তথা গালের ভিতর যদি সাদা সাদা spot থাকে, তাহলে মিজেলসের Diagnosis confirm :
koplik's spot দেখা না গেলেও জ্বরের ৪ দিন পর rash দেখে ডায়াগনোসিস কনফার্ম হওয়া যায়-
Rash দেখতে maculopapular rash (bleeding spot) এর মত, এই র্যাশ গুলি লালচে প্রকৃতির, মনে হবে স্কিনের নিচে অনেক গুলি রক্তের spot।
মিজেলসের র্যাশ প্রথমে face এ শুরু হয়, তারপর neck তারপর বুকে পিঠে এবং পর্যায়ক্রমে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে-
র্যাশ উঠার পর কারো কারো চুলকানী হতে পারে, আবার চুলকানী নাও থাকতে পারে-
র্যাশ ৩-৪ দিন থাকে, এর পর কমতে থাকে, পরবর্তী এক সপ্তাহে Rash disappeare হয়ে যায়- ৯৯% মানুষ ১-২ সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সুস্থ হয়ে যায়
Complication বা জটিলতা -
মিজেলস adult দের ক্ষেত্রে কোন জটিলতা করতে পারেনা,
adult দের ক্ষেত্রে measles এর আউটকাম নিম্নরুপ হতে পারে-
১.. ৪ দিন High grade fever
2. Runny nose
3. Conjunctivities ৭ দিন
4. cough 2-3 weeks
5. Rash ৪র্থ দিন দেখা যাবে, ৭ দিন পর কমতে থাকবে।
6.. এক সপ্তাহ পরে পরিপূর্ণ ভালো হয়ে যাবে।
বাচ্চাদের ক্ষেত্রেও একই উপসর্গ দেখা দিবে, তবে বাচ্চাদের কিছু life threatening জটিলতা দেখা দিতে পারে-
১.Measles Encephalitis
২. Secondary pneumonia ( most common cause of Death)
৩. ডায়েরিয়া
এইটা সাধারণত জ্বরের ৫-৭ দিন পর দেখা দেয়,
প্রতি ১০০০ মিজেলস আক্রান্ত বাচ্চার মধ্যে 50-70 জনের নিউমোনিয়া ডেভেলপ করতে পারে, আর এমন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত প্রতি ১০০০ জনের মধ্যে ১-২ জনের মৃত্যু হতে পারে। বাংলাদেশে তা আরো বাড়তে পারে।
এবার জেনে নিন-
মিজেলসের মধ্যে কাদের ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দেয়?
আমরা প্রথমেই বলেছি, বাচ্চাদের মধ্যে মিজেলসের জটিলতা দেখা দেয়, তাও সব বাচ্চার মধ্যে জটিলতা দেখা দেয়না,
complication কেবল malnutrition অথবা immunicompromised পেশেন্ট দের ক্ষেত্রে দেখা দেয়-
Malnutrition কিভাবে বুঝবেন?
বাচ্চার ওজন যদি স্বাভাবিক ওজনের তুলনায় ২-৩ কেজি কম হয়, বুঝবেন বাচ্চা পুষ্টিহীনতায় আছে।
যেমন ১ বছরের বাচ্চার ওজন =১০ কেজি
পরবর্তী প্রতি বছর বয়সের জন্য ২ কেজি করে যোগ হয়,
২ বছরের বাচ্চার স্বাভাবিক ওজন হবে: ১২ কেজি
৩ বছরে =১৪ কেজি
৪ বছরে =১৫-১৬ কেজি
৫ বছরে =১৬-১৮ কেজি
সেইজন্য ওজন দেখে Malnutrition মনে হলে এমন বাচ্চাদের মিজেলস হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শে চলতে হবে।
মিজেলস এর চিকিৎসা কি-
মিজেলস যেহেতু একটা ভাইরাস জনিত রোগ৷
আবার এখানে antiviral এর কোন রোল নাই, তাই symptomatic treatment দেওয়া হবে।
প্রথমত প্রচুর পানি খেতে বলবেন, সম্ভব হলে প্রতিদিন ১-২ টা ওরস্যালাইন অথবা ডাবের পানি-
বেড রেস্টে থাকবে। মাস্ক ব্যবহার করবে, আইসোলেশনে রাখা হবে।
জ্বরের জন্য
1. paracetamol oral or suppository
2. Runny nose: Fexo 120 mg once daily for 1 weeks or Antazole nasal drop. (বয়স অনুযায়ী ডোজ নির্ধারণ হবে)
3. Conjunctivitis এর জন্য olopatadine eye drop + artificial tear drop for 2 weeks
4. Xinc B BD (2 weeks)
মিজেলস এ বাচ্চাদের ভিটামিন -এ লেভেল কমে যায়, তাই মিসেলস আক্রান্ত বাচ্চাদের Vitamin A supplementary দেওয়া হবে ২ দিন ২ টা ডোজ-
ডোজ: বয়স ৬ মাসের কম হলে 50,000 unit
৬ মাস থেকে ১২ মাস : 1 lac unit
>12 month = 2 lac unit
2 dose
Day-1
Day-2
Severe case এ ৩ টা ডোজ দেওয়া হয়, 3rd dose ১৪ তম দিনে দেওয়া হয়;
বাজারে capsule Retinol forte 50,000 unit, 2 lac unit এইভাবে পাওয়া যায়, বাচ্চার ডোজ অনুযাই
ক্যাপসুল টা কিনে নিয়ে আসবেন,
যেমন ৬ মাসের বাচ্চা হলে 50000 unit এর একটা,
৬-১২ মাস হলে 50000 unit এর দুইটা অথবা 1 lac unit এর একটা - এইভাবে খাওয়াবেন।
ক্যাপসুল ছিদ্র করে লিকুইড টা খাওয়াবেন শুধু ।
ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্টারী দিলে অনেক জটিলতা এড়ানো যায়.
Malnutrition baby যাদের নিউমোনিয়ার সম্ভাবনা আছে, তাদের ক্ষেত্রে prophylactic antibiotics এর কথা অনেকে দিয়ে থাকেন, যদিও গাইডলাইনে এমন কিছু নাই,তবে malnourished দের ক্ষেত্রে prophylactic antibiotics দিতে ক্ষতি নাই-
র্যাশের জন্য করনীয় কি?
rash দেখে আতংকিত হবার কিছু নাই-
Tab : Biltin 20 mg Once daily ( বাচ্চাদের এন্টিহিস্টামিন সিরাপ: Alatrol according to age)
সাথে calamine lotion দিবেন।
লোশন চুলকানি থাকলে দিবে, না থাকলে দরকার নাই--
যদি কোন বাচ্চার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, অথবা নিউমোনিয়ার উপসর্গ শুরু হয়, তাহলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে।
মিজেলস প্রতিরোধের উপায় কি?
একটাই উপায়- বাচ্চাদের কে ছোট বেলায় টিকা দিয়ে দেওয়া,MR টিকা দেওয়া হয় মিজেলস প্রতিরোধের জন্য।
মোট ২ টা ডোজ:
১ম ডোজ ৯ মাস বয়সে
২য় ডোজ ১৫ মাস বয়সে
অনেক অসচেতন মানুষ নিজেদের বাচ্চাদের টিকা দেয়না, তারা এইটা হারাম বা ইহুদি নাসারাদের ষড়যন্ত্র মনে করে, পরে দেখা যায়, তাদের বাচ্চারাই মিজেলস এ আক্রান্ত হয় বেশি, এবং হাসপাতালেও ভর্তি করানো লাগে।
মহান আল্লাহ আমাদেরকে সুস্থ রাখুন আমীন
©CCR medical Academy@