04/01/2026
যষ্টিমধু - জিভে মিষ্টি স্বাদ আনে এমন একটি নাম।
প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতিতে এটি কেবল স্বাদের জন্যই নয়, বরং এর শীতলতা, শক্তিবৃদ্ধি, নিরাময় এবং পুনরুজ্জীবিত করার বৈশিষ্ট্যের জন্যও একটি মর্যাদাপূর্ণ স্থান অধিকার করে।
সংস্কৃত নাম: যষ্টিমধু
উদ্ভিদীয় নাম: গ্লাইসিরিজা গ্লাব্রা
স্বাদ: মধুরা (মিষ্টি)
বৈশিষ্ট্য: ভারী, মসৃণ
শক্তি: ঠান্ডা
বিপাক: মিষ্টি
যষ্টিমধুর মূলে এত বেশি ঔষধি গুণ রয়েছে যে এটিকে অনেক চিকিৎসার ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আসুন এই 'মিষ্টি অলৌকিক ঘটনা' সম্পর্কে অশ্রুত তথ্যগুলি জেনে নেওয়া যাক এবং বাড়িতে কিছু আয়ুর্বেদিক প্রতিকার চেষ্টা করি।
অজানা তথ্য
১. বাত এবং পিত্তের ভারসাম্য বজায় রাখে
যষ্টিমধু শীতল করে এবং পিত্তকে শান্ত করে, তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এটি বাতকেও নিয়ন্ত্রণ করে।
২. ধূমপান ত্যাগে সহায়তা করে
যষ্টিমধুর ডাল চিবিয়ে খেলে ধীরে ধীরে ধূমপানের আসক্তি কমে। এটি তৃপ্তি প্রদান করে এবং গলাকে প্রশমিত করে।
৩. স্ত্রীরোগ সংক্রান্ত সমস্যার জন্য উপকারী
মহিলাদের হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, মাসিকের অনিয়ম এবং জরায়ুর দুর্বলতার জন্য অ্যাসপারাগাস এবং অশোকের সাথে যষ্টিমধু গ্রহণ অলৌকিক।
৪. কণ্ঠস্বর উন্নত করে
যষ্টিমধু গায়ক, বক্তা এবং শিক্ষকদের জন্য একটি আশীর্বাদ। এটি কণ্ঠস্বরকে মিষ্টি, স্পষ্ট এবং শক্তিশালী করে তোলে।
৫. শরীরে প্রাকৃতিক স্টেরয়েডের উৎপাদন বৃদ্ধি করে
যষ্টিমধুর মূলে উপস্থিত গ্লাইসাইরাইজিন শরীরে কর্টিসল হরমোনের মতো কাজ করে, মানসিক চাপ উপশম করে এবং প্রদাহ কমায়।
৬. ত্বকের অবস্থার জন্য উপকারী
যষ্টিমধু মেলানিন উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখে। দই বা অ্যালোভেরার সাথে এর গুঁড়ো মুখে লাগালে দাগ, ব্রণ এবং কালো দাগ দূর হয়।
ঘরে বসে এই ঘরোয়া প্রতিকারগুলি ব্যবহার করে দেখুন
✅ ১. গলা ব্যথা বা কাশি হচ্ছে?
প্রতিকার:
১/২ চা চামচ যষ্টিমধুর গুঁড়ো + ১ চা চামচ মধু
দিনে দুবার খান।
👉 উপকারিতা: গলা প্রশমিত করে, কফ কমায় এবং কণ্ঠস্বর উন্নত করে
✅ ২. গ্যাস্ট্রিক বা আলসার সমস্যা
প্রতিকার:
লিকোরিস গুঁড়ো দুধের সাথে মিশিয়ে সিদ্ধ করুন।
প্রতিদিন সকালে খালি পেটে পান করুন।
👉 উপকারিতা: অ্যাসিডিটি, অম্বল, গ্যাস এবং পেটের ব্যথা উপশম করে।
✅ ৩. মানসিক চাপ বা অনিদ্রা
প্রতিকার:
লিকোরিস + অশ্বগন্ধা + শঙ্খ ফুল (শঙ্খপুষ্পী) এর সুষম মিশ্রণ।
ঘুমানোর আগে দুধের সাথে এক চা চামচ।
👉 উপকারিতা: মানসিক শান্তি, ঘুমের উন্নতি।
✅ ৪. ত্বকের দাগ বা দাগ
প্রতিকার:
লিকোরিস গুঁড়ো + দুধ বা গোলাপ জল।
১৫ মিনিট মুখে লাগান, তারপর ধুয়ে ফেলুন।
👉 উপকারিতা: পরিষ্কার, উজ্জ্বল এবং দাগমুক্ত ত্বক।
✅ ৫. মৌসুমি সর্দি-কাশির প্রতিকার:
লিকোরিস + তুলসী + আদা + মধুর ক্বাথ।
👉 উপকারিতা: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, গলা পরিষ্কার করে এবং সর্দি-কাশি নিয়ন্ত্রণ করে।
যষ্টিমধুর বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
চরক সংহিতায় যষ্টিমধুকে "কণ্ঠ্য," "রসায়ণ," এবং "বৃষ্য" বলা হয়েছে। অর্থ:
কণ্ঠ: গলার রোগ নিরাময় করে।
রসায়ন: শরীরে নতুন শক্তি এবং কোষ তৈরি করে।
বৃষ্য: উর্বরতা বৃদ্ধি করে।
সুশ্রুত সংহিতায়, এটি চোখের রোগ, হজমের ব্যাধি, হৃদরোগ এবং শ্বাসকষ্টের সমস্যার জন্য বিশেষভাবে কার্যকর বলে বিবেচিত হয়।
সতর্কতা
উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সীমিত পরিমাণে সেবন করা উচিত।
দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত সেবন জ্বালা বা রক্তচাপ বৃদ্ধি করতে পারে।
গর্ভবতী মহিলাদের ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করার পরেই সেবন করা উচিত।
উপসংহার
যষ্টিমধু একটি সহজ, সস্তা, তবুও অত্যন্ত শক্তিশালী প্রতিকার। এটি গলা ব্যথা, মানসিক চাপ বা হজমের সমস্যা যাই হোক না কেন, এটি প্রতিটি পরিবারের থাকা উচিত।
মধু যেমন একত্রিত করার ক্ষমতা রাখে, তেমনি যষ্টিমধু হল একটি "মিষ্টি অলৌকিক ঘটনা" যা শরীর, মন এবং ত্বককে পুষ্ট করতে সাহায্য করে।