02/03/2026
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাঃ নবীজী সঃ এর চাচার বাসা, মাজার ও সংলগ্ন মসজিদ
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাঃ এর জীবনী
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) ছিলেন ইসলামের প্রথম দিকের অন্যতম সাহাবীকুরআনের হাফেজ ও মহানবী (সা.)-এর ব্যক্তিগত সেবক। তিনি ষষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং সাহাবীদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকীহ ও মুফাসসির হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি বদরসহ সব যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং কুফার কাজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন [১৩৭৯]।
জন্ম ও প্রাথমিক জীবন:
জন্ম: তিনি ৫৯৪ সালের দিকে মক্কায় বনু তামিম গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন [১]।
ডাকনাম: তিনি 'ইবনে উম্মু আবদ' বা আব্দুল্লাহ নামে পরিচিত ছিলেন এবং কুরাইশ সর্দার উকবা ইবন আবু মুইতের ছাগল চরাতেন [৪৮]।
ইসলাম গ্রহণ: তিনি খুব অল্প বয়সেইসলাম প্রচারের শুরুতেঅর্থাৎ ৬ষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে ইসলাম গ্রহণ করেন [৭১১]।
নবীজির (সা.) সাথে সম্পর্ক:
তিনি নবী করীম (সা.)-এর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেনএমনকি তাঁকে অনেকেই নবীজির পরিবারের সদস্য মনে করতেন [৩]।
তিনি নবীজির ছায়ার মত অনুসরণ করতেনসফরে বা ইকামতে সাথে থাকতেন এবং নবীজির লাঠি ও মিসওয়াক বহন করতেন [৫১৪]।
নবীজি (সা.) বলেছেন"আব্দুল্লাহর পায়ের পাতা কিয়ামতের দিন ওহুদ পাহাড়ের চেয়েও ভারী হবে" [১০]।
কুরআন ও জ্ঞান:
তিনি প্রথম সাহাবী যিনি প্রকাশ্যে কাবার সামনে কুরআন তিলাওয়াত করেছিলেন [২১৩]।
তিনি কুরআনের অন্যতম সেরা বিশেষজ্ঞ ছিলেন। রাসূল (সা.) তাকে কুরআন পাঠ করতে বলতেন এবং তিনি তিলাওয়াত করলে নবীজি (সা.) কাঁদতেন [১০]।
তিনি প্রায় ৮৪৮টি হাদিস বর্ণনা করেছেনযা সাহাবীদের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ [৯১৫]।
অবদান ও মৃত্যু:
তিনি হযরত ওমর (রা.)-এর শাসনামলে কুফার শিক্ষা ও বিচার বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন [১]।
৩২ হিজরিতে (মতান্তরে ৬৫৩ খ্রিষ্টাব্দ) তিনি মদীনায় ইন্তেকাল করেন এবং জান্নাতুল বাকীতে সমাহিত হন [১৫]।
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর জীবন ইসলামের প্রতি অটল আনুগত্য এবং কুরআন ও সুন্নাহর গভীর জ্ঞানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।