Dr. Mahmuda Sultana Sumi

Dr. Mahmuda Sultana Sumi MBBS (RMC)

“হঠাৎ চোখ হলুদ হয়ে গেছে? প্রস্রাব গাঢ়?আজকে জানবো— জন্ডিস আসলে কী, কেন হয় আর কিভাবে ভালো হয়।”🧠 জন্ডিস কী? জন্ডিস কোনো আলা...
06/02/2026

“হঠাৎ চোখ হলুদ হয়ে গেছে? প্রস্রাব গাঢ়?
আজকে জানবো— জন্ডিস আসলে কী, কেন হয় আর কিভাবে ভালো হয়।”

🧠 জন্ডিস কী?
জন্ডিস কোনো আলাদা রোগ না।
এটা একটি লক্ষণ, যখন রক্তে বিলিরুবিন নামক পদার্থ বেড়ে যায়।
👉 ফলে—
চোখ হলুদ
ত্বক হলুদ
দেখায়।

🩺 জন্ডিস কেন হয়?
জন্ডিস মূলত ৩ কারণে হয়—
1️⃣ Liver problem
Hepatitis A, B, C
Fatty liver
Liver cirrhosis
2️⃣ রক্ত ভাঙা বেশি হলে
Hemolytic anemia
Malaria
3️⃣ পিত্তনালীতে বাধা
Gallstone
Tumor

⚠️ লক্ষণগুলো
চোখ ও ত্বক হলুদ
প্রস্রাব গাঢ় রঙের
পায়খানা ফ্যাকাসে
বমি ভাব
ক্ষুধামন্দা
দুর্বলতা

🧪 পরীক্ষা
জন্ডিস নিশ্চিত করতে লাগে—
Serum bilirubin
SGPT / ALT
HBsAg
Ultrasound (প্রয়োজনে)

💊 চিকিৎসা
👉 জন্ডিসের চিকিৎসা কারণ অনুযায়ী হয়
ভাইরাল হলে → বিশ্রাম + supportive care
Hepatitis B/C → specialist treatment
Gallstone হলে → surgery লাগতে পারে

❌ নিজে নিজে ওষুধ খাওয়া বিপজ্জনক
🥗 কী খাবেন? কী খাবেন না?
✔️ খাবেন
ভাত
শাকসবজি
ফল
পর্যাপ্ত পানি
❌ খাবেন না
তেল-ঝাল
ভাজাপোড়া
ফাস্ট ফুড
অ্যালকোহল

🚨 কখন ডাক্তার দেখাবেন?
চোখ খুব বেশি হলুদ
বমি বন্ধ হচ্ছে না
জ্বর
অচেতন ভাব

“জন্ডিস ভয়ংকর নয়, কিন্তু অবহেলা করলে বিপজ্জনক হতে পারে।

💚

পেটের সামান্য জ্বালাপোড়াকেও অবহেলা নয়—এটা হতে পারে Peptic Ulcer Disease।সময়মতো চিকিৎসা নিলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।”📝 পেপটিক...
23/01/2026

পেটের সামান্য জ্বালাপোড়াকেও অবহেলা নয়—এটা হতে পারে Peptic Ulcer Disease।
সময়মতো চিকিৎসা নিলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।”

📝 পেপটিক আলসার ডিজিজ (Peptic Ulcer Disease)

📌 সংজ্ঞা (Definition):
পেপটিক আলসার ডিজিজ হলো এমন একটি অবস্থা, যেখানে পাকস্থলী বা ডুওডেনামের ভেতরের মিউকোসাল স্তরে ঘা বা ক্ষত সৃষ্টি হয়।

📌 কারণ (Causes):
• Helicobacter pylori নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ
• দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ (NSAIDs) সেবন
• ধূমপান ও অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস
• পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড নিঃসরণ

📌 লক্ষণ (Symptoms):
• পেটের উপরের অংশে ব্যথা বা জ্বালাপোড়া
• খালি পেটে ব্যথা বেশি অনুভূত হওয়া
• বমি ভাব ও পেট ফাঁপা
• ক্ষুধামন্দা

📌 জটিলতা (Complications):
• পাকস্থলী বা অন্ত্রে রক্তক্ষরণ
• আলসার ফেটে যাওয়া (পারফোরেশন)
• পাকস্থলীর মুখ সংকুচিত হয়ে যাওয়া (Gastric outlet obstruction)

📌 চিকিৎসা (Treatment):
• অ্যাসিড কমানোর ওষুধ (Proton Pump Inhibitor – PPI)
• H. pylori নির্মূলের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক থেরাপি
• NSAIDs পরিহার করা
• জীবনযাপনে স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন

💚

📌 📌 Cleft Lip (ঠোঁট কাটা) একটি জন্মগত সমস্যা, যেখানে শিশুর উপরের ঠোঁট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কাটা অবস্থায় জন্ম নেয়। এটি এ...
20/01/2026

📌 📌 Cleft Lip (ঠোঁট কাটা) একটি জন্মগত সমস্যা, যেখানে শিশুর উপরের ঠোঁট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কাটা অবস্থায় জন্ম নেয়। এটি একপাশে বা দুইপাশে হতে পারে এবং অনেক সময় এর সঙ্গে Cleft Palate (তালু কাটা)-ও থাকতে পারে।
-এই সমস্যাটি গর্ভাবস্থায় শিশুর মুখের গঠন সম্পূর্ণভাবে একত্র না হওয়ায় হয়। এর কারণে শিশুর খাওয়ানো, কথা বলা এবং পরবর্তীতে মানসিক ও সামাজিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
-তবে আশার কথা হলো— ঠোঁট কাটা সম্পূর্ণভাবে চিকিৎসাযোগ্য। সঠিক সময়ে সার্জারি ও প্রয়োজনীয় থেরাপির মাধ্যমে শিশুকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
-সময়মতো চিকিৎসা নিলে শিশুর সুন্দর হাসি, স্বাভাবিক কথা বলা এবং আত্মবিশ্বাসী জীবন নিশ্চিত করা যায়। তাই সচেতনতা ও দ্রুত চিকিৎসাই পারে একটি শিশুর ভবিষ্যৎ বদলে দিতে। 💙

Happy new year  from last day of Anaesthesia Dept 😶‍🌫️
01/01/2026

Happy new year
from last day of
Anaesthesia Dept 😶‍🌫️

📌 সাপে কাটলে করনীয় : +আক্রান্ত ব্যক্তিকে বারবার আশ্বস্ত করতে হবে এবং সাহস দিতে হবে, আতঙ্কগ্রস্ত হতে দেওয়া যাবে না। নির...
31/12/2025

📌 সাপে কাটলে করনীয় :

+আক্রান্ত ব্যক্তিকে বারবার আশ্বস্ত করতে হবে এবং সাহস দিতে হবে, আতঙ্কগ্রস্ত হতে দেওয়া যাবে না। নির্বিষ সাপের কামড়েও আতঙ্কিত হয়ে মানসিক আঘাতে মারা যেতে পারে মানুষ।

+ বাংলাদেশের অধিকাংশ সাপই বিষহীন, অল্প কিছু সাপ বিষধর। আবার বিষধর সাপ পর্যাপ্ত বিষ ঢুকিয়ে দিতে ব্যর্থ হতে পারে। এসব জানানোর মাধ্যমে রোগীকে আশ্বস্ত করা যেতে পারে।

+আক্রান্ত অঙ্গ অবশ্যই স্থির রাখতে হবে। হাতে কামড়ালে হাত নাড়ানো যাবে না। পায়ে কামড়ালে হাঁটাচলা করা যাবে না, স্থির হয়ে বসতে হবে।

+আক্রান্ত অঙ্গ ব্যান্ডেজের সাহায্যে একটু চাপ দিয়ে প্যাঁচাতে হবে। একে প্রেসার ইমোবিলাইজেশন বলে। ব্যান্ডেজ না পাওয়া গেলে গামছা, ওড়না বা এ জাতীয় কিছু ব্যবহার করা যেতে পারে।

+আক্রান্ত স্থান সাবান দিয়ে আলতোভাবে ধুতে হবে অথবা ভেজা কাপড় দিয়ে আলতোভাবে মুছতে হবে।
ঘড়ি বা অলঙ্কার বা তাবিজ, তাগা ইত্যাদি পড়ে থাকলে খুলে ফেলুন।

+রোগীকে আধশোয়া অবস্থায় রাখুন।

+যদি রোগী শ্বাস না নেন তাহলে তাকে মুখে শ্বাস দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।
যদি সাপটিকে ইতোমধ্যে মেরেই ফেলেন, তাহলে সেটি হাসপাতালে নিয়ে আসুন। তবে এ ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। কোনোভাবেই হাত দিয়ে ধরা যাবে না। কিছু সাপ মরার ভান করে থাকে। তবে সাপ মারতে গিয়ে অযথা সময় নষ্ট করবেন না।

+যত দ্রুত সম্ভব আক্রান্ত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

+বিষ প্রতিষেধক বা অ্যান্টিভেনম কাছাকাছি সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে পাওয়া যায়।

📌 কী করবেন না

+না জেনে আমরা এমন কিছু কাজ করি, যা রোগীর জন্য ক্ষতিকর হয়ে যায়। তাই এ ব্যাপারে সঠিক ধারণা থাকা জরুরি।

+কোনো ধরনের শক্ত বাঁধন/গিঁট দেওয়া যাবে না। সাধারণত দেখা যায়, হাত বা পায়ে কামড় দিলে, কামড়ানো জায়গা থেকে ওপরের দিকে দড়ি বা এ জাতীয় কিছু দিয়ে শক্ত করে বাঁধা হয়, যাতে বিষ ছড়িয়ে না পড়ে। কিন্তু এর বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি নেই। বরং এতে হাত/পায়ে রক্ত প্রবাহে বাধার সৃষ্টি হয়। ফলে রক্ত প্রবাহের অভাবে টিস্যুতে পচন (Necrosis) শুরু হতে পারে।

+চিকিৎসার জন্য ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া যাবে না।
কামড়ানোর স্থানে ব্লেড, ছুরি দিয়ে কাটাকুটি করা যাবে না।

+অনেক মানুষের ধারণা, আক্রান্ত স্থানে মুখ লাগিয়ে চুষে বিষ বের করলে রোগী ভালো হয়ে যাবেন। বিষ রক্ত ও লসিকার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা এভাবে বের করা সম্ভব নয়। কোনো অবস্থাতেই আক্রান্ত স্থানে মুখ দেবেন না।

+কোনো ভেষজ ওষুধ, লালা, পাথর, উদ্ভিদের বীজ, গোবর, কাদা ইত্যাদি লাগানো যাবে না।

+কোনো রাসায়নিক পদার্থ লাগানো বা তা দিয়ে সেঁক দেওয়া যাবে না।

+যদি আক্রান্ত ব্যক্তির গিলতে বা কথা বলতে সমস্যা হয়, বমি, অতিরিক্ত লালা নিঃসরণ, নাসিক কণ্ঠস্বর ইত্যাদি দেখা দেয় তাহলে কিছু খাওয়ানো যাবে না।

+কিছু খাইয়ে বমি করানোর চেষ্টা করা যাবে না।

+ব্যাথার জন্য অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ খাওয়ানো যাবে না।

ধন্যবাদ সবাইকে 😊

Md Eliyas Masud  একজন মাদ্রাসার শিক্ষক, কয়েকদিন আগে তিনি মাদ্রাসার কাজে বেশ কিছুক্ষন পানিতে ড়ুবাডুবি করার পর উঠে এসে অজ্...
26/12/2025

Md Eliyas Masud একজন মাদ্রাসার শিক্ষক, কয়েকদিন আগে তিনি মাদ্রাসার কাজে বেশ কিছুক্ষন পানিতে ড়ুবাডুবি করার পর উঠে এসে অজ্ঞান হয়ে যায়,
অনেকক্ষণ পর জ্ঞান ফিরে আসে-

অন্যদিকে গতকাল এক লোক ৫০০ টাকার বাজিতে ঠান্ডা পানিতে ১০০ ডুব দিয়ে উঠে এসে মৃত্যু বরণ করেন,

এই ঘটনাটার সবচেয়ে সম্ভাব্য প্যাথোফিজিওলজি “Cold Water Immersion–related Sudden Death”, যা একাধিক মেকানিজম একসাথে কাজ করে ঘটতে পারে।

ঘটনাটার সম্ভাব্য প্রধান প্যাথোফিজিওলজি
1️⃣ Cold Shock Response, লোকটা যখন পানিতে নামে, তখন প্রথম কয়েক মিনিটে ঠান্ডা পানিতে বারবার শরীর ডুবানোর ফলে ট্যাব
অত্যাধিক পরিমান Peripheral vasoconstriction তথা রক্তনালি গুলি সংকোচিত হতে থাকে, এতে তার
Sympathetic surge তথা catecholamine বেড়ে গিয়ে
BP হঠাৎ বেড়ে যায়, এতে করে Heart rate irregular হতে পারে যার ফলে
➡️ মারাত্মক arrhythmia (VT/VF) ট্রিগার হতে পারে
➡️ বিশেষ করে undiagnosed heart disease থাকলে Fatal arrhythmia হয়ে VT তারপর VF হয়ে cardiac arrest হয়ে মৃত্যু হতে পারে।

২.. Diving Reflex + Sympathetic Overdrive এর কারণে Electrical Instability হতে পারে,

ঠান্ডা পানিতে মুখ ডুবালে—প্রথমে Vagal tone বেড়ে parasympathetic over stimulate হয়ে (bradycardia) হতে পারে, একই সাথে ঠান্ডার কারণে sympathetic tone বেড়ে tachycardia হতে পারে,
এই দুইটার conflict ইফেক্ট এর কারণে
➡️ Fatal arrhythmia (electrical storm) হয়ে
Sudden cardiac arrest হতে পারে,

3️⃣ Cold-induced Myocardial Ischemia

Repeated cold exposure এ— Coronary vasospasm হয়, এতে করে Afterload বাড়ে, যার ফলে
Oxygen demand বাড়ে,
📌 ফলাফল:

➡️ Acute MI হতে পারে
➡️ MI → arrhythmia → sudden death

4️⃣ Hypothermia (core temperature drop)

১০০ বার ঠান্ডা পানিতে ডুব দিলে—
Core body temperature ধীরে ধীরে কমে যায়, এতে করেব Enzyme activity কমে Cardiac conduction system depressed হয়, যা Mild hypothermia তেও হতে পারে: যার ফলে
Atrial fibrillation ও Ventricular arrhythmia হয়ে মৃত্যু হতে পারে,

তাহলে সম্ভাব্য মৃত্যুর কারণ--

Malignant cardiac arrhythmia (VF/VT)
Trigger হয়ে Cold shock,
Diving reflex
Hypothermia
Ischemia

Autopsy না করলে যেটা লেখা হয়
Cause of death: Sudden cardiac death following cold water immersion
Mechanism: Fatal arrhythmia precipitated by cold shock & hypothermia

এই কারণে পুর্ণ শরীর নিয়ে কখনোই অত্যাধিক ঠান্ডা পানিতে ২-৩ মিনিটের বেশি সাতার কাটা উচিৎ না-

from,,
Dr Ismail Azhari Sir ..

📌 গ্যাংলিয়ন সিস্ট কী?গ্যাংলিয়ন সিস্ট হলো তরলভর্তি একটি ছোট ফোলা গুটি, যা সাধারণত👉 কবজি,👉 হাতের আঙুল,👉 পায়ের গোড়ালি বা ...
18/12/2025

📌 গ্যাংলিয়ন সিস্ট কী?

গ্যাংলিয়ন সিস্ট হলো তরলভর্তি একটি ছোট ফোলা গুটি, যা সাধারণত
👉 কবজি,
👉 হাতের আঙুল,
👉 পায়ের গোড়ালি বা পায়ের ওপরের অংশে দেখা যায়।

এটি সাধারণত জয়েন্ট (joint) বা টেনডন শিথ (tendon sheath) থেকে তৈরি হয়।

📌 কেন হয়?

-জয়েন্ট বা টেনডনের ভেতরের তরল বাইরে জমে গেলে

-বারবার একই কাজ করার কারণে (repetitive movement)

-অনেক সময় কারণ ছাড়াও হতে পারে

📌 লক্ষণ

-নরম বা শক্ত ফোলা গুটি

-সাধারণত ব্যথাহীন

-তবে কখনো কখনো

-ব্যথা

-ঝিনঝিন ভাব

-নড়াচড়ায় অসুবিধা হতে পারে

📌 এটা কি বিপজ্জনক?

❌ না।
গ্যাংলিয়ন সিস্ট সাধারণত ক্যান্সার নয় এবং ক্ষতিকরও নয়।

📌 চিকিৎসা

১.অনেক সময় নিজে নিজেই সেরে যায়

২.ব্যথা না থাকলে চিকিৎসা দরকার হয় না

৩.প্রয়োজনে:

তরল বের করা (aspiration)

সার্জারি (যদি বারবার হয় বা বেশি সমস্যা করে)

ধন্যবাদ সবাইকে 😊

সিজারিয়ান সেকশনের মাধ্যমে জন্ম হল এক ফুটফুটে শিশুর। বাচ্চাটিকে পরিষ্কার করে স্বজনের হাতে তুলে দিতেই বাঁধলো বিপত্তি। সন্ত...
12/11/2025

সিজারিয়ান সেকশনের মাধ্যমে জন্ম হল এক ফুটফুটে শিশুর। বাচ্চাটিকে পরিষ্কার করে স্বজনের হাতে তুলে দিতেই বাঁধলো বিপত্তি। সন্তানের বাবা বাচ্চা নিবে না। সোজা বলে বসলেন এটা আমার বাচ্চা না!!

কাহিনী কী?

বাচ্চা পেটে থাকা অবস্থায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয়েছে দুইবার। দুইবারই ডাক্তার আপা বলেছেন ছেলে বাচ্চা। কিন্তু যে বাচ্চাটি নিয়ে এসেছে সেটা মেয়ে বাচ্চা।
বাবার কথা, আপনারা বাচ্চা পরিবর্তন করেছেন। আমার ছেলে হবে মেয়ে কোথা থেকে আসল!
এর আগেও তার দুইটা মেয়ে।

হাসপাতালে তখন ঐ একটা অপারেশনই হচ্ছিল। বাচ্চার বাবাকে সারা হাসপাতাল এবং অপারেশন থিয়েটার ঘুরিয়ে দেখানো হল। অন্য কোথাও কোন ডেলিভারি হয় নি।
অবশেষে সে শান্ত হল।

আসলে আমাদের দেশের বেশিরভাগ দম্পতি এখনো ছেলে বাচ্চাই চান। ২০২৫ সালে এসেও আমাদের মানসিকতা আর বুদ্ধিমত্তা এতটা বিকশিত হয় নি।

এদিক থেকে ডাক্তাররাও আছেন বিপাকে। জনসাধারণের চিকিৎসা সম্পর্কিত জ্ঞান একেবারেই কম।

প্রেগনেন্সি এবং আল্ট্রাসনোগ্রাফি সম্পর্কে কিছু ধারণা যা সব দম্পতির জানা উচিৎ:

- পিরিয়ড বন্ধ হওয়া মানেই প্রেগনেন্সি নয়। প্রস্রাবে প্রেগনেন্সি কিট দিয়ে অথবা রক্ত পরীক্ষা করে শিউর হতে পারেন।

- পিরিয়ড বন্ধ যতদিন ঠিক ততদিনই প্রেগনেন্সি এটাও সব সময় ঠিক নয়। মিসড পিরিয়ড অন্য কারণেও হতে পারে।

- ইউরিনে প্রেগনেন্সি টেস্ট পজিটিভ হলেও প্রথম দিকে আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে কিছু নাও দেখা যেতে পারে। অথবা রিপোর্ট আসতে পারে Bulky Uterus (জরায়ু অল্প বড় হয়ে গেছে)

- আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে ষষ্ঠ সপ্তাহের আগে পরিমাপ যোগ্য কোন কিছু পাওয়া যায় না।

- ৩২ সপ্তাহের আগে বাচ্চার পজিশন (Presentation) জানতে চাওয়া বোকামি। এই সময় পর্যন্ত বাচ্চা ফ্রিলি পজিশন চেইঞ্জ করে। ৩২ সপ্তাহের পর সাধারণত আর পরিবর্তন হয় না।

- অনেকে দুই মাসের গর্ভবতী হয়েই ছেলে মেয়ে জানতে চান অথবা ডেলিভারীর আগে নয় মাসের সময় বা পানি ভাঙার পর জানতে চান। তখন ভালো বোঝা যায় না।

- ছেলে মেয়ে সবচেয়ে ভালো বোঝা যায় ২৮ থেকে ৩৪ সপ্তাহ পর্যন্ত যখন পানি (Amniotic Fluid) বেশি থাকে। ছেলে মেয়ে সব সময়ই বোঝা যাবে এমন নয়। বাচ্চার অবস্থানগত কারণে দুই পায়ের মাঝখানে দেখা না গেলে ছেলে মেয়ে বোঝা যাবে না।

- বাচ্চার কতমাস হয়েছে (Gestational Age) কিছু পরিমাপ থেকে বের করা হয়। বাচ্চার মাথা, উরু এবং পেটের পরিধির পরিমাপ। অর্থাৎ বাচ্চাটির সাইজ অনুযায়ী তার বয়স নির্ধারণ করা হয়। ঠিক কবে আপনার পেটে বাচ্চার তৈরী প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে তা থেকে হিসাব করা যায় না।

- ডেলিভারীর একটি সম্ভাব্য তারিখ দেওয়া থাকে যেটাকে EDD (Expected Date of Delivery) বলে। আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিনে ৪০ সপ্তাহ (২৮০ দিন/ ক্যালেন্ডারের যে কোন নয় মাস + ৭ দিন) হিসাব করে ডেট প্রেডিক্ট করে।

- আমাদের দেশে বেশিরভাগ মায়েরই পুরো সময় পেটে বাচ্চা থাকে না। ৩৫ সপ্তাহের পরই একটা বড় অংশের ডেলিভারি হয়ে যায়। অথবা পানি ভেঙে যায়। তাই আল্ট্রাসনোগ্রাফির রিপোর্ট অনুযায়ী বাচ্চা না হলে অবাক হবার কিছু নেই।

পৃথিবীর অনেক দেশে এবং আমাদের দেশেও আইন করে পেটে থাকা অবস্থায় আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে ছেলে মেয়ে বলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে মানুষ প্রেগনেন্সির সময় আল্ট্রাসনোগ্রাফি করতে আসে শুধু এটা জানার জন্যই। ডাক্তার না বললে বা বুঝতে না পারলে টাকা ফেরত চায়।

ছেলে মেয়ে নয় মূলত নিচের বিষয়গুলো জানা জরুরী:

- পানির (Amniotic Fluid) পরিমান
- অমরার (Placenta) অবস্থান
- পিরিয়ড বন্ধ থাকার সময়ের সাথে বাচ্চার গ্রোথের তুলনা
- বাচ্চার কোন গুরুতর জন্মগত ত্রুটি
- বাচ্চার হৃদস্পন্দন
- বাচ্চার প্রেজেন্টেশন (কোন অংশ জরায়ু মুখের কাছে)

সবশেষে আরেকটি কথা। আল্ট্রাসনোগ্রাফির কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। এটি পুরোপুরিভাবে নিরাপদ। এতে বাচ্চা বা মায়ের ক্ষতি হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই।

মুল লেখনী - Shayeekh Mahbub Setu
(লেখাটি আংশিক পরিমার্জিত করা হয়েছে।)

Address

Rajshahi

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. Mahmuda Sultana Sumi posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram

Category