18/03/2026
এই পোস্ট টা পড়লে সংসদে বর্তমানে যে বিতর্ক গুলো হচ্ছে, টকশোতে আলোচনা, আইনজীবীদের মতামত সেগুলো খুব ক্লিয়ারলি বুঝতে পারবেন ।
#অধ্যাদেশ
#আদেশ
পার্থক্য কী ?
রাষ্ট্রের সকল আইন তৈরির ক্ষমতা মূলত জাতীয় সংসদের ( অনুচ্ছদ 65)
যদি সংসদ না থাকে ?
মানে সংসদ ভেঙ্গে দেওয়া হল অথবা অধিবেশন চলছেনা এমন সময়ে যদি গুরুতর প্রয়োজনে আইন প্রণয়ন দরকার হয় তাহলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ প্রণয়ন করতে পারবেন যেটি আইনের মতই শক্তিশালী হবে ।
যেমন অন্তর্বতীকালীন সরকারের সময়ে রাষ্ট্রপতি 133 টা অধ্যাদেশ জারি করেছেন ।
এখন অধ্যাদেশ গুলোর কী হবে ?
সংসদের প্রথম অধিবেশনের দিন থেকে 30 দিনের মধ্যে সেগুলো সংসদে অনুমোদিত না হলে বাতিল হয়ে যাবে । আর অনুমোদিত হলে আইনে পরিণত হয়ে যাবে ।
আদেশ কী ?
যখন স্থায়ী সংবিধান থাকেনা তখন আইন প্রণয়নের দরকার হলে রাষ্ট্রপতি আদেশ জারি করেন ।
যেমন : 1971 সালের 10 এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষনাপত্রে রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা এবং আইন প্রণয়নের সমস্ত ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির উপর ন্যস্ত ছিল ।
এই ক্ষমতাবলেই রাষ্ট্রপতি 1972 সালের 11 জানুয়ারি "অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি করেন " সেই আদেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার বদলে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রণয়ন করা হয় ।
1972 সালের 23 মার্চ রাষ্ট্রপতি গণপরিষদ আদেশ জারি করেন।
1972 সালের 10 এপ্রিল গণপরিষদ এর অধিবেশন বসে ।
গণপরিষদের অধিবেশন শুরু যেহেতু হল তাহলে আইন প্রণয়ন কে করবে গণপরিষদ ??
নাহ বাংলাদেশের গণপরিষদের একমাত্র কাজ ছিল সংবিধান প্রণয়ন করা । অন্য সকল আইন রাষ্ট্রপতি আদেশ জারির মাধ্যমে করেন । কিন্তু ভারতের গণপরিষদের সংবিধান প্রনয়নের সাথে অন্য আইন প্রণয়নের ক্ষমতাও ছিল ।
কিন্তু বাংলাদেশে সংবিধান যেদিন কার্যকর হয় সেদিন গণপরিষদ বিলুপ্ত হয়।
1972 সালের 16 ডিসেম্বর থেকে 1973 সালের 7 এপ্রিল (সংসদের প্রথম অধিবেশন পর্যন্ত) দেশে সংবিধান ছিল কিন্তু সংসদ ছিল না । তাহলে অধ্যদেশ জারির কথা তাইনা? কিন্তু 4র্থ তফসিলে রাষ্ট্রপতি কে আদেশ জারির ক্ষমতা দেওয়া হয় 1973 সালের 7 এপ্রিল পর্যন্ত ।
একারনে ঐ সময়েও রাষ্ট্রপতি আদেশ জারি করেছেন অনেক গুলো ।
কিন্তু প্রথম সংসদের প্রথম অধিবেশনের পর থেকে আর কোন আদেশ জারি করা যাবেনা ( 4র্থ তফসিল)
সেই হিসেবে তারপরে আর আদেশ ছিল না ।
এবার আসল প্রশ্ন : জুলাই সনদ ( সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ জারি করা হল কেন ??? তখন তো সংবিধান বিদ্যমান আছে । জারি করলে অধ্যাদেশ জারি করতে হত কারন সংসদ নাই ।
কারন হল: অধ্যাদেশ জারি করার তিনটা শর্ত আছে এর একটা হল: সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক হয় এমন কোন অধ্যাদেশ জারি করা যাবে না । তাহলে সংবিধান সংস্কার বা পরিবর্তন বা সংশোধন এগুলো নিয়ে অধ্যাদেশ জারি করা অসম্ভব ।
দ্বিতীয়ত অধ্যাদেশ জারি করলে যদি সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকে 30 দিন অর্থাৎ 12 এপ্রিলের মধ্যে অনুমোদন না হয় তাহলে বাতিল হয়ে যেত ।
এখন এই আদেশের সাথে গণভোটের রায় আছে মানে হ্যা ভোট জয়ী হয়েছে ।
মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন হল : গণভোটের রায় বেশি পাওয়ারফুল নাকি জাতীয় সংসদ সদস্যদের 2/3 মেজরিটির মতামত বেশি পাওয়ারফুল । এটা নিয়ে বড় বড় আইন বিশেষজ্ঞরা ভাল বলতে পারবেন । আমি যেটুকু পড়েছি জেনেছি তার মতে গণভোটের রায় বেশি পাওয়ারফুল কারন এটা জনগণ সরাসরি ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে ।
আর সংসদ সদস্যরা যে ভোট দিবেন সেটা তারা জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে ক্ষমতা ( পরোক্ষ ক্ষমতা) ।
একটা উদাহরণ উল্লেখ করতে পারি । সংবিধানের কোন মৌলিক অংশ পরিবর্তন করতে হলে 2/3 সংসদের সদস্যের ভোট পেলেও পাশ হলেও হয় না সেটাকে পুনরায় গণভোটে দিতে হয় ।
যেমন 1991 সালে রাষ্ট্রপতি শাসিত থেকে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার করতে যেয়ে প্রথমে 2/3 ভোটে পাশ হয়েছে তখনও কার্যকর হয়নি তারপর গণভোটে দিতে হয়েছে । গণভোটে হ্যা জয়ী হওয়ার পর কার্যকর হয়েছে ।
এখন বিলিয়ন ডলার প্রশ্ন হল: যদি সরকারী দল 2/3 মেজরিটি নিয়ে সংবিধান সংশোধন করে সেই সংশোধনীকে গণভোটে দিয়ে হ্যা ভোট জয়ী হয় তাহলে কোন গণভোট বেশি শক্তিশালী হবে ?
Coppied