06/11/2022
স্ট্রোকঃ মানুষের মস্তিষ্কের হাজারো রক্তনালি রয়েছে। সেই রক্তনালি গুলোতে রক্ত প্রবাহ বন্ধ বা রক্তনালি ছিঁড়ে যাওয়ার ফলে সেই নির্দিষ্ট জায়গার কোষগুলির কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। এই অবস্থা কে ব্রেইন স্ট্রোক বলা হয়।
স্ট্রোক দু’ধরনের-
১. রক্তনালি ছিঁড়ে গিয়ে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ। একে বলে হেমোরেজিক স্ট্রোক।
২. রক্তনালিতে রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে গিয়ে মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত রক্ত না যাওয়া এবং ওই অংশের শুকিয়ে যাওয়া। একে বলে ইস্কেমিক স্ট্রোক।
স্ট্রোকের পর যত দ্রুত সম্ভব ফিজিওথেরাপি শুরু করা উচিত। দুই দিনের মধ্যে তো অবশ্যই।
রোগী নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র থাকাকালীন অবস্থায়ও ফিজিওথেরাপি দেওয়া সম্ভব। রোগী আইসিইউতে বা লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় দ্রুত ফিজিওথেরাপি শুরু করলে ফুসফুসের কার্যকারিতাও উন্নত হয়।
স্ট্রোক পরবর্তী সমস্যা :
শরীরের এক পাশ অথবা অনেক সময় দুই পাশ অবশ হয়ে যায়, মাংসপেশীর টান প্রাথমিক পর্যায়ে কমে যায় এবং পরে আস্তে আস্তে টান বাড়তে থাকে, হাত ও পায়ে ব্যথা থাকতে পারে, হাত ও পায়ের নড়াচড়া সম্পূর্ন অথবা আংশিকভাবে কমে যেতে পারে, মাংসপেশী শুকিয়ে অথবা শক্ত হয়ে যেতে পারে, হাটাচলা, উঠাবসা, বিছানায় নড়াচড়া ইত্যাদি কমে যেতে পারে, নড়াচড়া কমে যায় যার ফলে চাপজনিত ঘা দেখা দিতে পারে, ঘাড়ের জয়েন্ট সরে যেতে পারে ইত্যাদি।
একজন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক সমস্যার ধরন ও পর্যায় অনুযায়ী চিকিৎসা পরিকল্পনা করেন। এ ক্ষেত্রে রোগীর যদি হাত–পায়ের কোনোটায় নড়াচড়ায় সমস্যার সৃষ্টি হয়, সে অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়। হাতের বা পায়ের নড়াচড়া স্বাভাবিক করতে ফিজিওথেরাপির সুনির্দিষ্ট কিছু পদ্ধতি রয়েছে। একইভাবে মুখ বেঁকে গেলে কিংবা কর্মদক্ষতা কমে গেলে অথবা অন্য কোনো সমস্যায়ও সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ফিজিওথেরাপি দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। এ কারণেই স্ট্রোকের পরপরই ফিজিওথেরাপি শুরু করা জরুরি। কারণ, ফিজিওথেরাপি যত দেরিতে শুরু হবে, রোগীর স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাওয়ার বিষয়টি ততই দীর্ঘায়িত হতে পারে। এমনকি কোনো কোনো রোগীর ক্ষেত্রে আজীবন সমস্যা রয়ে যেতে পারে স্ট্রোকের পর ফিজিওথেরাপি না পাওয়ার কারণে। কাজেই স্ট্রোক–পরবর্তী চিকিৎসায় রোগীকে আবারও কর্মক্ষম করে তুলতে ফিজিওথেরাপির কোনো বিকল্প নেই।