23/01/2025
রুকাইয়া (রুকইয়াহ) এর অর্থ ও সংজ্ঞা
রুকাইয়া শব্দটি আরবি ভাষার "رُقْيَةٌ" (রুকইয়াহ) থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো চিকিৎসা, দোয়া বা আশ্রয় প্রার্থনা। এটি এমন দোয়া বা কুরআনের আয়াতসমূহের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে রোগ-ব্যাধি, জাদু-টোনা, বদনজর , জ্বীনে ধরা এবং শয়তানি কুমন্ত্রণা থেকে আশ্রয় প্রার্থনার একটি পদ্ধতি।
রুকইয়া মূলত দুই প্রকার:
1. রুকইয়া শারইয়া (শরিয়তসম্মত রুকইয়া): এটি কুরআনের আয়াত ও সহিহ হাদিসে প্রমাণিত দোয়াগুলোর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
2. রুকইয়া শিরকিয়া (শিরকযুক্ত রুকইয়া): এটি শরিয়তের সীমারেখা অতিক্রম করে বিভিন্ন শিরক বা বিদআতযুক্ত পদ্ধতি অবলম্বন করে।
---
রুকইয়ার বৈশিষ্ট্য ও উপকারীতা
উপকারীতা:
1. শরীরিক রোগের নিরাময়: রুকইয়া কুরআন ও সুন্নাহর নির্ধারিত পদ্ধতিতে শরীরিক রোগ নিরাময়ের জন্য ব্যবহার করা হয়।
> কুরআনের দলিল:
"আমি কুরআনে যা অবতীর্ণ করি, তা মুমিনদের জন্য আরোগ্য এবং রহমত।"
(সূরা আল ইসরা: ৮২)
2. আত্মিক প্রশান্তি:
রুকইয়া মনের শান্তি ও আধ্যাত্মিক সুরক্ষা প্রদান করে।
3. জাদু, বদনজর ও শয়তানি প্রভাব থেকে মুক্তি:
রুকইয়া শয়তান ও জাদুর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কার্যকর।
> হাদিসের দলিল:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন: “বদনজর সত্য, আর যদি কোনো জিনিস তাকদিরের ওপর অগ্রসর হতে পারত, তবে বদনজর তা করত।"
(সহিহ মুসলিম: ৫৬৬৪)
---
রুকইয়ার পদ্ধতি
1. বিশুদ্ধ নিয়ত: রোগমুক্তি ও আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার নিয়ত করতে হবে।
2. কুরআনের আয়াত পাঠ:
সূরা ফাতিহা: এটি রোগ নিরাময়ে অত্যন্ত শক্তিশালী।
আয়াতুল কুরসি (সূরা বাকারা: ২৫৫)
সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস: রাসূল ﷺ নিয়মিত এগুলো পড়তেন।
3. হাদিসে প্রমাণিত দোয়া:
"আল্লাহুম্মা রব্বান্নাস আঝহিবিল বাসা আশফি আন্তাশ শাফি, লা শিফা’আ ইল্লা শিফাউক, শিফা’আ লা ইউগাদিরু সাকামা।"
অর্থ: হে মানবজাতির পালনকর্তা, রোগ দূর করে দাও। তুমি আরোগ্য প্রদান কর, তুমি ছাড়া কেউ আরোগ্য দিতে পারে না। এমন আরোগ্য দাও যা কোনো ব্যাধি অবশিষ্ট রাখে না।
(সহিহ বুখারি: ৫৭৪২)
4. পানি ও তেল ব্যবহার:
কুরআনের আয়াত পড়ে পানি বা অলিভ তেলে ফুঁ দিয়ে তা ব্যবহার করা যায়।
---
রুকইয়া করার নিয়ম ও শর্তাবলী
1. রুকইয়ার শব্দসমূহ কুরআন ও সুন্নাহ থেকে হওয়া আবশ্যক।
2. আল্লাহর উপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল থাকা জরুরি।
3. রুকইয়াতে কোনো শিরক বা বিদআত থাকা চলবে না।
4. রুকইয়ার সময় কেবল আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে।
---
রুকইয়া সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ হাদিস
1. জাদু থেকে মুক্তি:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন: “তোমরা রুকইয়া করতে পার, তবে তা শিরকমুক্ত হতে হবে।”
(সহিহ মুসলিম: ২২০০)
2. নিজের জন্য রুকইয়া করা:
আয়েশা (রা.) বলেন, রাসূল ﷺ অসুস্থ হলে নিজের উপর সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়তেন এবং হাত বুলিয়ে নিতেন।
(সহিহ বুখারি: ৫৭৪৮)
💚💚
রুকইয়া ইসলামে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি যা কুরআন ও হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। এটি শারীরিক ও আত্মিক সুরক্ষার জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে এটি শুধুমাত্র আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও নির্ভরতার মাধ্যমে কার্যকর হয়।
🍀🍀
রুকাইয়া শরীয়াহর বিস্তারিত দিক
রুকাইয়া শরীয়াহ হলো শরীয়তের আলোকে কুরআন এবং সহিহ হাদিস দ্বারা নির্ধারিত একটি পদ্ধতি, যা দোয়া, কুরআনের আয়াত এবং আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনার মাধ্যমে রোগমুক্তি ও আত্মিক সুরক্ষা লাভের জন্য করা হয়। এটি সম্পূর্ণরূপে তাওহিদ নির্ভর এবং শিরকমুক্ত।
---
রুকাইয়া শরীয়াহর বৈধতা ও গুরুত্ব
কুরআনের দলিল:
1. আরোগ্যের জন্য কুরআন
> "আমি কুরআনে যা অবতীর্ণ করি, তা মুমিনদের জন্য আরোগ্য এবং রহমত।"
(সূরা আল ইসরা: ৮২)
2. রোগ নিরাময়ে কুরআনের প্রভাব
> "আর এটি মানুষের জন্য বক্ষস্থলের রোগের আরোগ্য এবং পথপ্রদর্শন ও রহমত মুমিনদের জন্য।"
(সূরা ইউনুস: ৫৭)
হাদিসের দলিল:
1. রাসূল ﷺ এর রুকাইয়ার পদ্ধতি
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
> "রাসূল ﷺ যখন কোনো অসুস্থ হতেন, তখন কুরআনের সূরা ইখলাস, ফালাক এবং নাস পড়তেন এবং নিজের হাত দিয়ে শরীর বুলিয়ে দিতেন।"
(সহিহ বুখারি: ৫৭৪৮)
2. শরীয়াহ অনুযায়ী রুকাইয়া বৈধ
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
> "তোমরা রুকাইয়া করতে পারো, তবে তা শিরকমুক্ত হতে হবে।"
(সহিহ মুসলিম: ২২০০)
---
রুকাইয়া শরীয়াহর শর্তাবলী
1. কেবলমাত্র কুরআন ও সহিহ দোয়া ব্যবহার করা।
2. শিরকমুক্ত হওয়া।
3. আল্লাহর প্রতি পূর্ণ নির্ভরশীলতা।
4. রোগমুক্তির নিয়ত করা এবং আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখা।
---
বিভিন্ন সমস্যার জন্য রুকাইয়া শরীয়াহ
১. রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তির জন্য দোয়া
দোয়া:
> "আল্লাহুম্মা রব্বান্নাস আঝহিবিল বাসা, আশফি আন্তাশ শাফি, লা শিফা’আ ইল্লা শিফাউক, শিফা’আ লা ইউগাদিরু সাকামা।"
অর্থ: হে মানবজাতির পালনকর্তা, রোগ দূর করে দাও। তুমি আরোগ্য প্রদান কর। তুমি ছাড়া কেউ আরোগ্য দিতে পারে না। এমন আরোগ্য দাও যা কোনো ব্যাধি অবশিষ্ট রাখে না।
(সহিহ বুখারি: ৫৭৪২)
কুরআনের আয়াত:
1. সূরা ফাতিহা (আলহামদুলিল্লাহ পড়া)
2. আয়াতুল কুরসি (সূরা বাকারা: ২৫৫)
3. সূরা আল ইখলাস, ফালাক ও নাস
২. বদনজর (ইvil eye) থেকে সুরক্ষার জন্য
দোয়া:
> "আউযু বিখালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শররি মা খালাক।"
অর্থ: আমি আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ কালামসমূহের আশ্রয় প্রার্থনা করছি, তাঁর সৃষ্টি সব কিছুর অমঙ্গল থেকে।
(সহিহ মুসলিম: ২৭০৮)
কুরআনের আয়াত:
সূরা ফালাক এবং সূরা নাস।
৩. জাদু ও শয়তানি প্রভাব থেকে মুক্তির জন্য
দোয়া:
> "বিসমিল্লাহিল্লাযি লা ইয়াদুররু মা’আসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিসসামা, ওয়া হুয়াস সামিউল আলিম।"
অর্থ: আল্লাহর নামে শুরু করছি, যার নামে কোনো কিছু ক্ষতি করতে পারে না, তা মাটিতে হোক বা আকাশে। তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।
(তিরমিজি: ৩৩৮৮)
কুরআনের আয়াত:
1. সূরা বাকারা: ১০২
2. সূরা আরাফ: ১১৭-১২২
৪. ভয়ের অনুভূতি ও দুশ্চিন্তা দূর করার জন্য
দোয়া:
> "হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল।"
অর্থ: আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি উত্তম কর্মনির্ভর।
(সূরা আল ইমরান: ১৭৩)
৫. রাতের সুরক্ষার জন্য
দোয়া:
> "আয়াতুল কুরসি" (সূরা বাকারা: ২৫৫)
রাসূল ﷺ বলেছেন: “যে ব্যক্তি প্রতি রাতে আয়াতুল কুরসি পড়ে ঘুমাবে, তার উপর কোনো শয়তান ভোর পর্যন্ত আসতে পারবে না।”
(সহিহ বুখারি: ২৩১১)
---
রুকাইয়া করার পদ্ধতি
1. পবিত্র অবস্থায় থাকা।
2. আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস এবং একনিষ্ঠতা বজায় রাখা।
3. কুরআনের আয়াত ও দোয়া পাঠ করার সময় নিজে নিজের জন্য ফুঁ দেওয়া।
4. তেল বা পানি ব্যবহার করলে তা শরীরে লাগানো।
শেষ কথা ---
রুকাইয়া শরীয়াহ কেবলমাত্র আল্লাহর উপর নির্ভরশীল হয়ে কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশিত পদ্ধতি অনুসরণ করে করতে হবে। এটি শারীরিক, মানসিক এবং আত্মিক রোগের জন্য অত্যন্ত কার্যকর
----- মোহাম্মদ তৌহিদুল আফসার।
ফাউন্ডার্স - ওনার
টি এস হলোস্টিক হেল্থ কেয়ার।
আপনার প্রয়োজন অনলাইন সেবা পেতে ; নাম বয়স সমস্যা উল্লেখ করে আজই যোগাযোগ করুন
📱 যোগাযোগ করুন m.me/tsholistichealthcare অথবা,
📞ওয়াটসঅ্যাপে wa.me/8801748206212