15/03/2026
অনেকেই প্রশ্ন করেন, গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যাওয়ার পেছনে কি যাদু বা জিনের প্রভাব থাকতে পারে?
ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বুঝতে হলে আমাদের কোরআন সুন্নাহ এবং আলেমদের ব্যাখ্যার দিকে তাকাতে হয়। ইসলাম কখনোই সব সমস্যাকে যাদুর সাথে জোর করে যুক্ত করতে বলে না, আবার যাদুর অস্তিত্বও অস্বীকার করে না।
কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন,
“আর তারা সেই জিনিস শিখত, যা দিয়ে স্বামী ও স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটানো হয়। অথচ আল্লাহর অনুমতি ছাড়া তারা কাউকে ক্ষতি করতে পারে না।”
সূরা বাকারা, আয়াত ১০২
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, যাদু দ্বারা ক্ষতির চেষ্টা হতে পারে, তবে চূড়ান্ত ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর হাতে।
হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও যাদুর পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন এবং আল্লাহ তাআলা তাঁকে কোরআনের মাধ্যমে শিফা দান করেছিলেন। এটি প্রমাণ করে যে যাদু বাস্তব, তবে তার চিকিৎসাও আল্লাহর কিতাবেই রয়েছে।
গর্ভের সন্তান নষ্টের যাদু বা এ ধরনের আছরের ক্ষেত্রে আলেমরা কিছু সম্ভাব্য লক্ষণের কথা উল্লেখ করেছেন। যেমন,১: গর্ভধারণের শুরু থেকেই অস্বাভাবিক ভয়
২:দুশ্চিন্তা বা মন ভার হয়ে থাকা
৩:কোনো কারণ ছাড়াই গর্ভের প্রতি অস্বস্তি বা ঘৃণা অনুভব করা।
৪: নিয়মিত ডাক্তারি রিপোর্ট স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও বারবার গর্ভ নষ্ট হয়ে যাওয়া।
৫: কোরআন তিলাওয়াতের সময় পেটে ব্যথা বেড়ে যাওয়া, ৬:অস্থিরতা অনুভব করা বা কান্না আসা।
৭: ঘুমের মধ্যে ভয়ংকর স্বপ্ন দেখা, বিশেষ করে রক্ত, পতন বা শিশুর ক্ষতির দৃশ্য দেখা।
এসব লক্ষণ থাকলেও নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে এটি যাদু, কারণ শারীরিক ও মানসিক কারণেও এমন হতে পারে।
এ কারণেই ইসলাম আমাদের দুইটি পথ একসাথে ধরতে বলে। একদিকে চিকিৎসা, অন্যদিকে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
“হে আল্লাহর বান্দারা, তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ করো। কারণ আল্লাহ এমন কোনো রোগ সৃষ্টি করেননি, যার চিকিৎসা তিনি সৃষ্টি করেননি।”
রুকইয়াহ শরইয়াহ হলো কোরআন ও সহিহ দোয়াভিত্তিক চিকিৎসা। এতে কোনো শিরক, তাবিজ বা অবৈধ কাজ নেই। সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, সূরা বাকারা নিয়মিত তিলাওয়াত করা, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়ে নিজের ও গর্ভের জন্য দোয়া করা অত্যন্ত উপকারী। পাশাপাশি বেশি বেশি ইস্তিগফার, দরুদ শরিফ এবং এই দোয়া পড়া যেতে পারে,
“হে আল্লাহ, আপনি আমাকে এবং আমার গর্ভের সন্তানকে সব ধরনের অদৃশ্য ও দৃশ্যমান অনিষ্ট থেকে হেফাজত করুন।”
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, কোনো বিপদ এলেই আতঙ্কিত হয়ে যাদু ধরে নেওয়া ঠিক নয়। আল্লাহ যাকে পরীক্ষা করেন, তাকেই ধৈর্যের সাথে তাঁর দিকে ফিরে আসতে বলেন। চিকিৎসা নিন, দোয়া করুন, কোরআনের সাথে সম্পর্ক বাড়ান এবং দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন যে আল্লাহ চাইলে কোনো শক্তিই ক্ষতি করতে পারে না।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সুস্থ ঈমান, নিরাপদ পরিবার ও নেক সন্তান দান করুন। আমিন।