Raqi Abu Ayesha

Raqi Abu Ayesha Ruqyah & Hijama Specialist

18/12/2025

জ্বীন-শয়তান যাদুর সাহায্যে মানুষের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় বাসা বাঁধে, কুরআনের বরকতে আল্লাহ তায়ালা সে যাদু গুলো ধ্বংস করে দেন।

কিছু অর্জন ও বর্জনের জন্য মনে হচ্ছে যাদু ছাড়া মানুষ আর কিছুই বুঝে না।
25/11/2025

কিছু অর্জন ও বর্জনের জন্য মনে হচ্ছে যাদু ছাড়া মানুষ আর কিছুই বুঝে না।

24/10/2025
11/10/2025

অসুস্থতার যাদু!
আল্লাহ যাদুকরদের ধ্বংস করুন।ল

05/10/2025

স্ত্রী হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে দুনিয়ার সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ নিয়ামত, তাই স্ত্রী নির্বাচন করার ক্ষেত্রেও শ্রেষ্ঠ মানুষটি-কে নির্বাচন করুন।
নির্বাচন করার পর তাকে শ্রেষ্ঠ স্থানে রাখুন, না হয় আপনি ও আপনার সন্তানের জীবনে নেমে আসবে ধ্বংস।

24/09/2025

#সুলাইমান (আঃ)-এর দোহাই: জিনের সাহায্যে চিকিৎসার নামে প্রচলিত ভন্ডামির দলিলভিত্তিক জবাব।

#একটি ভ্রান্তির নিরসন

ইসলামী সমাজে মাঝে মাঝেই কিছু চর্চা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, যা ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের সাথে সাংঘর্ষিক। এমনই একটি বিষয় হলো—জিনের সাহায্য নিয়ে চিকিৎসা করা বা অদৃশ্য জগতের খবর জানার দাবি। সম্প্রতি কিছু আলেমও নবী সুলাইমান (আঃ)-এর ঘটনাকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করে এই চর্চাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাই আমাদের এই লেখাটির উদ্দেশ্য হলো কুরআন, সুন্নাহ এবং অকাট্য যুক্তির আলোকে এই দাবির ব্যবচ্ছেদ করে এর পেছনের ভণ্ডামি ও ঈমানবিধ্বংসী দিকগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা।

#মূল দলিলের ব্যবচ্ছেদ: সুলাইমান (আঃ)-এর ঘটনার ভুল ও খণ্ডিত উপস্থাপন!

যারা জিনের সাহায্য নেওয়াকে জায়েজ বলেন, তাদের প্রধান একটি দলিল হলো নবী সুলাইমান (আঃ) জিনদের দ্বারা বিভিন্ন বৈধ কাজ করিয়ে নিতেন। কিন্তু একটু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলেই এই দলিলের অন্তঃসারশূন্যতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

১/ মূল বিভ্রান্তি: 'আদেশ করা' আর 'সাহায্য চাওয়া' এক নয়

এই যুক্তির সবচেয়ে বড় এবং মৌলিক ভুল হলো 'কর্তৃত্বের সাথে আদেশ করা' (التسخير) এবং 'সাহায্য প্রার্থনা করা' (الاستعانة)—এই দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়কে এক করে ফেলা।

সুলাইমান (আঃ)-এর অবস্থান ছিল শাসকের: আল্লাহ তা'আলা সুলাইমান (আঃ)-কে জিন ও শয়তানদের ওপর রাজত্ব ও কর্তৃত্ব দান করেছিলেন। তিনি ছিলেন তাদের শাসক। তিনি জিনদের কাছে কোনো কিছু 'চাইতেন' না বা তাদের 'সাহায্য প্রার্থনা' করতেন না; বরং তিনি তাদের আদেশ করতেন, আর জিনেরা সেই আদেশ মানতে বাধ্য ছিল। ঠিক যেমন একজন রাজা তার প্রজাদের আদেশ করেন। এটি ছিল আল্লাহ প্রদত্ত ক্ষমতার প্রদর্শন ও বাস্তবায়ন।

আজকের #কবিরাজের অবস্থান হলো সাহায্যপ্রার্থীর:

অন্যদিকে, আজকের দিনের কবিরাজ বা জিন-হুজুরদের জিনদের ওপর কোনো ঐশ্বরিক কর্তৃত্ব নেই। তারা জিনদের আদেশ করতে পারে না। বরং তাদের সাহায্য পাওয়ার জন্য বিভিন্ন শিরকি ও কুফরি পদ্ধতির মাধ্যমে জিনদের কাছে সাহায্য চাইতে হয়, তাদের সন্তুষ্ট করতে হয় বা তাদের সাথে কোনো চুক্তিতে আবদ্ধ হতে হয়।

সুতরাং, সুলাইমান (আঃ)-এর আল্লাহ প্রদত্ত ক্ষমতার মাধ্যমে জিনদের আদেশ করা আর একজন সাধারণ মানুষের জিনদের কাছে সাহায্য চাওয়া—এ দুটি বিষয়কে এক করে দলিল দেওয়া একটি সুস্পষ্ট প্রতারণা। একটি হলো ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখর, অন্যটি হলো শিরকের গভীর গহ্বর।

২/ এটি ছিল একটি বিশেষ মু'জিজা, সাধারণ বিধান নয়

আরও একটি সবচেয়ে বড় এবং মৌলিক কথা হলো, জিন ও শয়তানের ওপর কর্তৃত্ব ছিল আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে সুলাইমান (আঃ)-কে দেওয়া একটি বিশেষ মু'জিজা (অলৌকিক ক্ষমতা), যা অন্য কোনো মানুষের জন্য নয়।

এটি কোনো সাধারণ বিধান ছিল না যে, যে কেউ চাইলেই তা অনুসরণ করতে পারবে। স্বয়ং সুলাইমান (আঃ) আল্লাহ্‌র কাছে এমন এক রাজত্বের জন্য দোয়া করেছিলেন যা আর কাউকে দেওয়া হবে না।

আল্লাহ তা'আলা তাঁর এই দোয়া কুরআনে উল্লেখ করেছেন:

قَالَ رَبِّ اغْفِرْ لِي وَهَبْ لِي مُلْكًا لَّا يَنبَغِي لِأَحَدٍ مِّن بَعْدِي إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ

অর্থ: "সে বলল, ‘হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমাকে এমন এক রাজত্ব দান করুন, যা আমার পরে আর কারো জন্য শোভা পাবে না। নিশ্চয় আপনিই মহাদাতা’।" (সূরা সোয়াদ, ৩৮:৩৫)

আল্লাহ তাঁর এই দোয়া কবুল করেছেন। এখানে "আমার পরে আর কারো জন্য শোভা পাবে না" কথাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে ক্ষমতা ও রাজত্বকে স্বয়ং একজন নবী আল্লাহ্‌র কাছে তাঁর জন্য খাস করে চেয়ে নিয়েছেন এবং আল্লাহ তা কবুলও করেছেন, সেই বিশেষ ক্ষমতাকে সাধারণ মানুষের জন্য একটি সাধারণ বিধান বা জায়েজ হওয়ার দলিল হিসেবে পেশ করাটা কুরআন ও নবুয়তের ধারণার সাথেই সাংঘর্ষিক। এটি একটি খণ্ডিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দলিল।

৩/ তিনি শয়তানকেও কাজে লাগাতেন: একটি আত্মঘাতী যুক্তি

যারা সুলাইমান (আঃ)-এর ঘটনাকে দলিল দেন, তারা একটি মারাত্মক বিষয় এড়িয়ে যান। তিনি শুধু ভালো জিন নয়, বরং অবাধ্য ও দুষ্ট শয়তানদেরকেও আল্লাহ্‌র হুকুমে কঠিন কাজে বাধ্য করতেন।

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

وَالشَّيَاطِينَ كُلَّ بَنَّاءٍ وَغَوَّاصٍ

অর্থ: "আর সকল শয়তানকে (তার অধীন করে দিয়েছিলাম), যারা ছিল প্রাসাদ নির্মাণকারী ও ডুবুরি।" (সূরা সোয়াদ, ৩৮:৩৭)

এখন প্রশ্ন হলো, যদি সুলাইমান (আঃ)-এর কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের জন্য বৈধতার দলিল হয়, তাহলে কি এখন শয়তানের সাহায্য নিয়ে "ভালো কাজ" করাও বৈধ হয়ে যাবে? কোনো আলেম কি শয়তানের সাহায্য নিয়ে মসজিদ বানানোর ফতোয়া দেবেন? নিঃসন্দেহে না।

এই যুক্তিটিই প্রমাণ করে যে, তাঁর ঘটনাটি ছিল আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে একটি ব্যতিক্রমী ও বিশেষ অবস্থা, যা অন্য কারো জন্য অনুসরণীয় নয়।

৪/ মূল ঘটনায় চিকিৎসার কোনো উল্লেখই নেই

সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, যারা চিকিৎসার জন্য জিনের সাহায্য নেওয়াকে জায়েজ করতে সুলাইমান (আঃ)-এর ঘটনার দলিল দেন, তারা এমন একটি বিষয়কে প্রমাণ করতে চাইছেন যা মূল ঘটনাতেই অনুপস্থিত।

কুরআন ও হাদিসে কোথাও একটিবারের জন্যও উল্লেখ নেই যে, সুলাইমান (আঃ) জিনদের মাধ্যমে মানুষের রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা করতেন। বরং তিনি তাদের দিয়ে বিশাল বিশাল দালান নির্মাণ, সমুদ্রের গভীর থেকে মনি-মুক্তা আহরণ এবং অন্যান্য কঠিন কাজ করাতেন।

সুতরাং, যে কাজটি তিনি করেননি, সেই কাজের বৈধতা প্রমাণের জন্য তাঁর ঘটনাকে দলিল হিসেবে পেশ করা একটি নির্জলা মিথ্যাচার ও প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।

#আমাদের চূড়ান্ত আদর্শ: রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নাহ এ বিষয়ে কী বলে?

যেকোনো বিষয়ে হালাল-হারামের চূড়ান্ত ফয়সালা নেওয়ার জন্য আমাদের তাকাতে হবে সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সুন্নাহর দিকে। তিনি কি এই কাজটি করেছেন, করতে বলেছেন, অথবা অনুমোদন দিয়েছেন?

১/ ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তিনি জিনকে ব্যবহার করেননি!

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জিনদের ওপর নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা ছিল। একবার নামাজের সময় একটি দুষ্ট ইফরিত জিন তাঁকে বিরক্ত করলে তিনি তাকে ধরে ফেলেন।

তিনি বলেন:

فَأَرَدْتُ أَنْ أَرْبِطَهُ إِلَى سَارِيَةٍ مِنْ سَوَارِي الْمَسْجِدِ حَتَّى تُصْبِحُوا وَتَنْظُرُوا إِلَيْهِ أَجْمَعُونَ، فَذَكَرْتُ دَعْوَةَ أَخِي سُلَيْمَانَ ‏"‏رَبِّ هَبْ لِي مُلْكًا لاَ يَنْبَغِي لأَحَدٍ مِنْ بَعْدِي‏"‏ فَرَدَدْتُهُ خَاسِئًا

অর্থ: "আমি ইচ্ছা করলাম যে, তাকে মসজিদের একটি খুঁটির সাথে বেঁধে রাখি যাতে তোমরা সকালে সকলে তাকে দেখতে পারো। কিন্তু তখন আমার ভাই সুলাইমান (আঃ)-এর দোয়া স্মরণ হলো: ‘হে আমার রব, আমাকে এমন রাজত্ব দান করুন, যা আমার পরে আর কারো জন্য শোভা পাবে না।’ তখন আমি তাকে লাঞ্ছিত অবস্থায় ছেড়ে দিলাম।" (সহীহ বুখারী, ৩৪২৩)

এই হাদিসটি একটি শক্তিশালী দলিল। রাসূল (ﷺ)-এর ক্ষমতা ছিল, কিন্তু তিনি সুলাইমান (আঃ)-এর দোয়ার প্রতি সম্মান দেখিয়ে জিনকে কোনো ব্যক্তিগত বা সামাজিক কাজে ব্যবহার করা থেকে বিরত থেকেছেন। তাঁর এই বিরত থাকাটাই (সুন্নাতে তারকিয়্যাহ) উম্মতের জন্য একটি সুস্পষ্ট নির্দেশনা যে, এই দরজাটি বন্ধ।

২/ নিজের কঠিনতম বিপদেও তিনি জিনের সাহায্য চাননি!

ইসলামের ইতিহাসে এটি প্রমাণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজে কঠিন যাদু দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিলেন। এটি ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম বড় একটি পরীক্ষা। তখন তিনি কী করেছিলেন?

তাঁর তো এমন অনেক মুসলমান ও অনুগত সাহাবী জিন ছিলেন, যাদের ব্যাপারে তিনি নিশ্চিতভাবে জানতেন যে তারা ভালো এবং বিশ্বস্ত। তিনি কি তাদের কাউকে ডেকে বলেছিলেন, "দেখো তো, কে আমার উপর যাদু করেছে?" বা "এই যাদুর প্রভাব নষ্ট করে দাও"?

না, কখনই না। একটি দুর্বল বর্ণনাতেও এমন কিছু পাওয়া যায় না। তিনি কেবল আল্লাহ্‌র উপর পরিপূর্ণ তাওয়াক্কুল করেছেন, অবিরাম দোয়া করেছেন এবং আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে ওহীর (সূরা ফালাক ও নাস) মাধ্যমে আরোগ্য লাভ করেছেন।

অতএব: যদি কোনো বিশ্বস্ত জিনের সাহায্য নেওয়া সামান্যতমও জায়েজ হতো, তবে তিনি নিজের সবচেয়ে কঠিন বিপদের মুহূর্তে সেই পথ অবলম্বন করে উম্মতের জন্য একটি উদাহরণ রেখে যেতেন। তিনি তা করেননি, আর তাঁর এই না করাটাই আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় দলিল ও অনুসরণীয় সুন্নাহ।

#ভণ্ডামির স্বরূপ উন্মোচন: যৌক্তিক ভ্রান্তি ও গোঁজামিল

শরীয়তের দলিলের পাশাপাশি সাধারণ যুক্তি দিয়েও এই হারাম চর্চার অসারতা প্রমাণ করা যায়।

১/ একটি কুযুক্তি: ডাক্তার আর জিন কি এক?

অনেকে যুক্তি দেন, "মানুষ ডাক্তারের সাহায্য নিতে পারলে, জিনের সাহায্য নিতে সমস্যা কোথায়?" এটি একটি অত্যন্ত দুর্বল ও ভ্রান্ত তুলনা। কেন?

কারণ: ডাক্তার একজন দৃশ্যমান মানুষ। আমরা তার সার্টিফিকেট, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, সুনাম এবং চরিত্র সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে যাচাই করতে পারি। তার চিকিৎসা পদ্ধতি বিজ্ঞানসম্মত কিনা তাও পর্যবেক্ষণ করা যায়।

কিন্তু: জিন অদৃশ্য। সে কি মুসলমান নাকি কাফের, ভালো নাকি খারাপ, সত্যবাদী নাকি প্রতারক—তা নিশ্চিতভাবে জানার কোনো উপায় মানুষের নেই। তার দেওয়া তথ্যকে ওহী হিসেবে মেনে নেওয়া বা তার কথাকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করা ছাড়া আর কোনো পথ থাকে না।

সুতরাং, একজন যাচাইযোগ্য মানুষের সাহায্য আর এক অদৃশ্য ও রহস্যময় সত্তার সাহায্যের তুলনা করাটা একটি সুস্পষ্ট গোঁজামিল।

#ভণ্ডদের দ্বিচারিতা: কেন শুধু চিকিৎসার ক্ষেত্রেই জিনেরা পারদর্শী?

একটি বিষয় লক্ষ্য করলে ভণ্ডামি স্পষ্ট হয়ে যায়। কথিত জিন-হুজুর ও কবিরাজরা দাবি করেন, তাদের জিনেরা রোগ নির্ণয় করতে পারে, যা মানুষের জন্য প্রায় অসম্ভব।

কিন্তু সুলাইমান (আঃ)-এর জিনেরা তো দালান বানাতো, সাগর থেকে মুক্তা আনতো। আজকের জিনেরা কেন তাদের হুজুরদের জন্য একটি বিল্ডিং বানিয়ে দেয় না? কেন তারা মাটি খুঁড়ে সোনা এনে দেয় না বা তাদের মনিবের জন্য ডুব দিয়ে মুক্তা নিয়ে আসে না?

এইসব দৃশ্যমান ও বৈধ কাজে তারা অক্ষম, কিন্তু অদৃশ্য ও যাচাই করার সুযোগ নেই এমন চিকিৎসার ক্ষেত্রেই তাদের সব ক্ষমতা! এর কারণ হলো, এখানে তাদের প্রতারণা ধরার কোনো সুযোগ নেই। এই দ্বিচারিতাই প্রমাণ করে যে, "ডাল মে কুচ কালা হ্যায়"।

#শিরকের গোপন ফাঁদ এবং ইসলামের সুস্পষ্ট সমাধান

১/ এটি শিরকের একটি গোপন দরজা

জিনের সাহায্য নেওয়ার বিষয়টি কেবল জায়েজ বা নাজায়েজের মাস'আলা নয়, এটি সরাসরি ঈমান ও আকিদার সাথে জড়িত। জিনকে বশ করার জন্য বা তার সাহায্য পাওয়ার জন্য কবিরাজদের প্রায়ই আল্লাহ্‌র সাথে শিরক করতে হয়। যেমন: জিনের নামে পশু জবাই করা, নাপাক স্থানে কুরআনের আয়াত লেখা, অশ্লীল ও ফাহেশা কাজের মত কবিরা গুনাহের মধ্যে লিপ্ত হওয়া যেমন: জিনা করা। এবং নিষিদ্ধ মন্ত্র পাঠ করা ইত্যাদি। এই কাজগুলো একজন মানুষকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়।

২/ ইস্তিদরাজ (শয়তানি সফলতা): অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন, "তাহলে কিছু কবিরাজের কথা ফলে যায় কীভাবে?" ইসলামী পরিভাষায় একে 'ইস্তিদরাজ' বলা হয়। অর্থাৎ, আল্লাহ তা'আলা কোনো পাপী বা পথভ্রষ্ট ব্যক্তিকে সাময়িকভাবে কিছু সফলতা দেন, যাতে সে তার গোমরাহিতে আরও গভীরে ডুবে যায় এবং তার বিরুদ্ধে আল্লাহ্‌র প্রমাণ চূড়ান্ত হয়। জিনদের দেওয়া কিছু আংশিক সত্য তথ্য এই ইস্তিদরাজের অংশ, যা দেখে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হয়।

৩/ ইসলামের পরিপূর্ণ সমাধান: #রুকইয়াহ শারইয়াহ

ইসলাম আমাদের কোনো সমস্যার ক্ষেত্রেই সমাধানহীন রাখেনি। যাদু, বদনজর বা জিন সংক্রান্ত সমস্যার জন্য ইসলাম আমাদের "রুকইয়াহ শারইয়াহ"-এর বিধান দিয়েছে, যা সরাসরি কুরআন ও হাদিস থেকে নেওয়া দোয়া ও পদ্ধতির মাধ্যমে করা হয়। যেখানে আল্লাহ নিজেই একটি পবিত্র, শক্তিশালী ও নিরাপদ সমাধান দিয়েছেন, সেখানে জিনের মতো একটি অদৃশ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ সত্তার কাছে সাহায্য চাওয়ার প্রয়োজন কেন হবে?

#শেষ ও চূড়ান্ত কথা হিসেবে যা বলতে চাই:

উপরের বিস্তারিত আলোচনা থেকে এটি অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয় যে:

১. সুলাইমান (আঃ)-এর ঘটনা একটি বিশেষ মু'জিজা, যা সাধারণ মানুষের জন্য দলিল নয় এবং এতে জিনের সাহায্য নিয়ে চিকিৎসা বৈধ হওয়ার কোনো প্রমাণও নেই।

২. আমাদের নবী (ﷺ) নিজে বিপদে পড়ে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও জিনের সাহায্য নেননি, আর এটাই আমাদের জন্য একমাত্র অনুসরণীয় পথ।

৩. চিকিৎসার নামে জিনের সাহায্য চাওয়ার দাবিটি প্রতারণামূলক, ঝুঁকিপূর্ণ এবং হারাম, কুফর ও শিরকের সাথে জড়িত।

সুতরাং, চিকিৎসার জন্য জিনের সাহায্য নেওয়া ইসলামে সম্পূর্ণরূপে হারাম ও নিষিদ্ধ।

অসুস্থ হলে আমাদের করণীয় হলো: ধৈর্যধারণ করা, আল্লাহ্‌র কাছে দোয়া করা, অভিজ্ঞ রাকীর নিকট থেকে রুকইয়াহ শারইয়াহ এর মাধ্যমে চিকিৎসা গ্রহণের পাশাপাশি প্রয়োজনে সৎ ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ডাক্তারের পরামর্শ ও তার নিকট থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করা। এটাই নিরাপদ, বরকতময় এবং একমাত্র সঠিক পথ।
Raqi Abdul Malek

18/09/2025

রিজিকে বাধা যাদুর লক্ষণ ও প্রতিকার।

রিজিকে (রোজগার/আর্থিক অবস্থা) বাধা সৃষ্টিকারী যাদুর কিছু সাধারণ লক্ষণ ইসলামি আলেমদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী এভাবে বর্ণনা করা হয়:

রিজিকে বাধা যাদুর লক্ষণ

1. অকারণ ক্ষতি ও ব্যর্থতা – ব্যবসা ভালো চললেও হঠাৎ করে ক্ষতির মুখে পড়া, বিনা কারণে কাজ ভেস্তে যাওয়া।

2. অস্বাভাবিক বাধা – ভালো সুযোগ সামনে এসেও শেষ মুহূর্তে নষ্ট হয়ে যাওয়া বা কেউ অন্যায়ভাবে সুযোগ কেড়ে নেওয়া।

3. অর্থ আটকে যাওয়া – পরিশ্রম করলেও হাতে টাকা জমে না, কোথাও না কোথাও চলে যায়।

4. বারবার দেনা-পাওনা সমস্যা – অকারণে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়া, টাকা ফেরত না পাওয়া বা অন্যকে দিতে গিয়ে চাপে পড়া।

5. হঠাৎ চাকরি বা ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়া – কোন বৈধ কারণ ছাড়াই কাজ নষ্ট হওয়া।

6. অতিরিক্ত অস্থিরতা ও মানসিক চাপ – কাজের মধ্যে মনোযোগ না থাকা, সবসময় উদ্বিগ্ন থাকা।

7. অপরের সাথে সম্পর্ক খারাপ হওয়া – সহকর্মী, ব্যবসায়িক পার্টনার বা গ্রাহকের সাথে হঠাৎ করে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়া।

8. স্বপ্নে অশান্তি দেখা – বারবার অশুভ স্বপ্ন দেখা, বিশেষ করে সাপ, অন্ধকার, ভাঙা টাকা ইত্যাদি।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:

👉 সবসময় মনে রাখতে হবে, প্রতিটি সমস্যা যাদু নয়। আল্লাহ্ পরীক্ষা করেন, কখনো মানুষের নিজস্ব ভুল সিদ্ধান্ত বা গাফলতির কারণেও রিজিকে সংকট আসে। তাই আগে আত্মসমালোচনা করা জরুরি।
👉 যদি যাদুর সন্দেহ হয়, তবে রুকইয়াহ শর’ইয়াহ (কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী ঝাড়ফুঁক) করা উত্তম, পাশাপাশি সালাত, দোয়া, যিকির ও তাওয়াক্কুল দৃঢ় করা জরুরি।

প্রতিকার সমুহ 🌸

---

🔹 রিজিক বৃদ্ধির আমল

1. সালাত ও ইস্তেগফার

পাঁচ ওয়াক্ত সালাত জামাতে পড়া।

বেশি বেশি ইস্তেগফার করা।

> আয়াত: "…আর তোমরা তোমাদের প্রভুর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন কর; তিনি তোমাদেরকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সুন্দর ভোগ-সম্ভার দিবেন।"(হুদ 11:3)

2. সূরা ওয়াকিয়া পড়া

প্রতিদিন রাতে সূরা ওয়াকিয়া পড়া রিজিক বৃদ্ধির জন্য সহিহ হাদিসে বর্ণিত আমল।

3. সকালে ও সন্ধ্যায় যিকির

"বিসমিল্লাহি লা ইয়াদুররু মা'আসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামা ই ওয়া হুয়াস সামিউল আলীম" (৩ বার)।

4. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা (সিলাতুর রহিম)

হাদিসে এসেছে: “যে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে, তার রিজিক বৃদ্ধি পায় এবং আয়ু বৃদ্ধি হয়।” (বুখারি ও মুসলিম)

---

🔹 যাদু ও বদনজর থেকে সুরক্ষার আমল

1. আয়াতুল কুরসি

প্রতিটি সালাতের পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে পড়ুন।

2. তিন কুল (সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস)

সকালে ও সন্ধ্যায় ৩ বার করে, এবং ঘুমানোর আগে ৩ বার করে পড়া ও দেহে ফুঁ দিয়ে মুছে নেওয়া।

3. সূরা বাকারা তিলাওয়াত

বাড়িতে নিয়মিত সূরা বাকারা পড়া।

রাসূল ﷺ বলেছেন: “যে বাড়িতে সূরা বাকারা পড়া হয়, সেখানে শয়তান প্রবেশ করতে পারে না।” (মুসলিম)

4. দোয়া ও রুকইয়াহ শরইয়াহ

হাদিসে প্রমাণিত দোয়া:

> আউযু বি কালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক।

---

🔹 কিছু বাস্তব করণীয়

✅ হারাম থেকে বিরত থাকা (সুদ, ঘুষ, প্রতারণা)।
✅ দান-সদকা করা, বিশেষ করে গোপনে।
✅ সকালবেলা তাড়াতাড়ি কাজ শুরু করা। রাসূল ﷺ বলেছেন:

> “হে আল্লাহ, আমার উম্মাহর সকালকে বরকতময় করুন।” (তিরমিজি)
---

Raqi Nurul Islam Arabi
01879-066129

17/09/2025

আপনি যদি চারটি স্বপ্ন বারবার দেখেন তাহলে বুঝতে পারবেন আপনি হত্যা বা অসুস্থতার যাদুতে আক্রান্ত।
এক. রক্ত দেখা,
দুই. পিন যুক্ত পুতুল দেখা,
তিন. নাপাক জিনিস দেখা,
চার. কুকুর দেখা।

Raqi Nurul Islam Arabi
01879-066129

11/09/2025

বর্তমান সময়ে শরিয়াহ না থাকার কারণে জ্বীন যাদুর যে রমরমা অবস্থা চলছে প্রত্যেকটি পরিবারের জন্য একজন করে পার্সনাল রাক্বী থাকা খুব জরুরী।

গতকাল এলাকার একজন বড় ভাই আসলেন বিভিন্ন সমস্যার জন্য কথা বলতে।বলতে গিয়ে বলেন ভাই আমি কি করবো কোন দিকে যাবো এতটাই সমস্যা...
09/09/2025

গতকাল এলাকার একজন বড় ভাই আসলেন বিভিন্ন সমস্যার জন্য কথা বলতে।
বলতে গিয়ে বলেন ভাই আমি কি করবো কোন দিকে যাবো এতটাই সমস্যার মধ্যে জীবন যাচ্ছে যা যহ্য করতে পারছি না। বিভিন্ন হুজুরের কাছে গিয়েও কোনো সমাধান পাচ্ছি।
এর মধ্যে আমি ওনাকে জিজ্ঞেস করি আপনার কাছে কি কোনো তাবিজ আছে?
উত্তরে তিনি এই তাবিজটি দেন খুলে দেখি এই অবস্থা জ্বিনদের বাদশার কাছে সাহায্য চাচ্ছেন, সাথে কুরআনের আয়াতও আছে।
বললাম কোন হুজুর দিল তিনি পরিচিত একজন হুজুরের নাম বলে বলতেছে হুজুর বলল এই তাবিজ না রাখলে নাকি ক্ষতি হবে।
রুকইয়াহতে আমরা আল্লাহর সাহায্য চাই আর তদবীরে জ্বিনের বাদশার কাছে সাহায্য চান তারা।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের হেফাজত করুন।
Raqi Nurul Islam Arabi
01879-066129

বদনজর (Evil Eye / নজর লাগা)🔹 বদনজর কি?ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে বদনজর হলো মানুষের হিংসা, ঈর্ষা, বা আশ্চর্যবোধ থেকে সৃষ্ট এক...
08/09/2025

বদনজর (Evil Eye / নজর লাগা)

🔹 বদনজর কি?
ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে বদনজর হলো মানুষের হিংসা, ঈর্ষা, বা আশ্চর্যবোধ থেকে সৃষ্ট একটি অদৃশ্য ক্ষতিকর প্রভাব। কারও সৌন্দর্য, রূপ, সম্পদ, সাফল্য বা ভালো কিছু দেখে যখন মানুষ মনে হিংসা, কষ্ট বা লোভ অনুভব করে, তখন তার দৃষ্টির মাধ্যমে অন্যের উপর ক্ষতি নেমে আসতে পারে। এটাকেই বদনজর বলা হয়।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“বদনজর বাস্তব, যদি কোনো কিছু তাকদীরের আগে অতিক্রম করতে পারত, তবে বদনজরই তা অতিক্রম করত।”
(সহীহ মুসলিম, হাদিস: 2188)

---

🔹 বদনজর কেন হয়?
বদনজর মূলত মানুষের মনের অভ্যন্তরীণ অবস্থার কারণে হয়। যেমন:

1. হিংসা (Hasad): অন্যের ভালো দেখে মনে কষ্ট হওয়া।

2. ঈর্ষা (Jealousy): অন্যের উন্নতি দেখে তা হারানোর কামনা করা।

3. অতিরিক্ত প্রশংসা: কখনও কারও সৌন্দর্য, সন্তান বা সম্পদ দেখে বিস্ময় প্রকাশ করলে, আল্লাহর নাম না নিলে বদনজর লাগতে পারে।

4. আধ্যাত্মিক দুর্বলতা: আল্লাহর জিকির কম করা, সুরা ও দোয়া না পড়া বদনজরের প্রভাব বাড়ায়।

---

🔹 বদনজরের লক্ষণসমূহ:

হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়া (কারণ না থাকা সত্ত্বেও)।

অতিরিক্ত মাথা ব্যথা বা শরীর দুর্বল লাগা।

শিশুদের হঠাৎ কান্না করা বা খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া।

ব্যবসা বা কাজে হঠাৎ ক্ষতি বা অগ্রগতি থেমে যাওয়া।

মানসিক অস্থিরতা ও অশান্তি।

---

🔹 কিভাবে বাঁচা যায়?

আল্লাহর জিকির ও দোয়া বেশি পড়া।

সকালে-সন্ধ্যায় সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস ও দরুদ শরীফ পড়া।

কোনো ভালো কিছু দেখলে বলতে হবে:
ما شاء الله، تبارك الله (মাশা’আল্লাহ, তাবারাকাল্লাহ)

হিংসা থেকে বাঁচা ও অন্যের জন্য ভালো কামনা করা।

---

Raqi Nurul Islam Arabi
01879-066129

07/09/2025

শরীরের যাদুর বিভিন্ন গিট।

Address

Kutuberhat, Senbagh, Noakhali
Senbag
3862-KUTUBERHAT

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Raqi Abu Ayesha posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram