14/04/2026
এক ছোট ভাই সেক্স চ্যাটিং এর চাকরি নিয়েছে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স সংক্রান্ত কাজে মেটা (ফেসবুকে )। এ-আই মডেল গুলো যাতে সেক্স চ্যাট করে মেটাকে বিপদে না ফেলে এইটা দেখা তার টিমের দায়িত্ব ।
কালকে ভাইয়ের সাথে কথা হচ্ছিল
সে বললো তার একটু বিশেষ সমস্যা হয় রোজার মাসে।
ব্যাপারটা ইন্টারেষ্টিং । আমাদের তো রিয়্যাল মানুষের সাথে আকাম করতে বাধা দেওয়া আছে ধর্মে । যেহুতু চ্যাট বট রিয়্যাল মানুষ না, তাইলে এইখানে পাপ কি একই রকম হবে?
সিরিয়াস আলাপে ফেরত যাই।
৩৬ বছরের এক আমেরিকান লোক, গুগলের নতুন ভাবে রিলিজ করা চ্যাট বট জেমিনির সাথে কথা বলতে বলতে গার্ল ফ্রেন্ড বানায় ফেলসিল মনে মনে।
তার চ্যাট লগ এখন গুগলের বিরুদ্ধে কোর্ট কেইস হিসেবে রিলিজ হয়েছে।
চ্যাট লগে দেখা যাচ্ছে লোকটার আসল বৌ এর সাথে ডিভোর্স এর পরে, সে জেমিনির কাছে গিয়ে নানা ধরণের প্রশ্ন করতো। সুখে দুঃখের আলাপ করতো।
জেমিনিতে কন্টিনিউয়াস কথা বলার একটা অপশন আছে, ঐটা অন করে দিলে একটা আসল মানুষের মতো কথা বলতে থাকে সারাদিন গুগলের রোবট।
এই দুর্ভাগা জেমিনির সাথে কথা বলতে বলতে এক পর্যায়ে জেমিনির প্রেমে পরে যায়।
জেমিনিকে নিজের "রানী বা কুইন" ডাকা শুরু করে। জেমিনিও একটু হালকা ফ্লার্ট করে, বাট প্রফেশনালি।
এক পর্যায়ে জেমিনি লোকটাকে মোট ১২ বার বলেছিল যে তার প্রফেশনাল , মানসিক সাহায্য দরকার। কিন্তু সেই লোক ডাক্তার দেখায় নাই, সে বরং আরো বেশি বেশি করে জেমিনির সান্যিধ্য চাইতে থাকে।
এক পর্যায়ে লোকটা আত্ম্ হত্যা করে।
এখন গুগল বলছে তারা ডাক্তার দেখাতে রিকুয়েস্ট শুধু না, এমন পেশেন্ট ভবিষ্যতে আবার পেলে সরাসরি ইন্টারভিন করার ট্রাই করবে অন্য কোন উপায়ে। সেইটা হবে আবার আরেক বিপদ, মানে গুগল আবার বাসায় প্রফেশনাল পাঠায় দেয় নানী সাইকো কাউকে পেলে ভবিষ্যতে এইটা নিয়ে এখন সাইকোদের চিন্তা করতে হবে।
গুগল এর বাইরে , এখন বেশ কিছু এপ্স এসে গেছে রোবট - গার্ল ফ্রেন্ডের। একদম মানুষের মতো দেখতে মেয়ে ক্যারেক্টার গুলো সারা দিন কথা বলবে মাসে ২০ ডলার দিলেই।
মেয়ে গুলো দেখতে অসম্ভব সুন্দর হয় , বেশ রিয়ালিস্টিক চেহারা, এবং নতুন নতুন সিচুয়েশন থেকে ফোন করে কথা বলে নাকি।
ধরেন সে একটা দোকান থেকে আপনাকে ফোন দিলো , এমন ভাব শপিং করতেছে। আপনার রিয়্যাল পার্টনার যেমন করে, একদম মনে হবে রিয়্যাল মানুষ।
বাড়তি সুবিধা হচ্ছে এই এআই মেয়ে গুলোকে যা ইচ্ছা করতে বললে সে তা করবে ফোনের স্ক্রিনে। কোন কোন এপে মার্কেটিং করার সময় উল্লেখ করছে যে তারা কোন রেস্ট্রিকশন রাখে নাই ফ্যান্টাসির বেলায় । বি : দ্রঃ আমি এই ইস্যু নিয়ে পড়া শুনা করছি , প্রোডাক্টের এড দেখেছি , তবে ব্যবহার করে দেখিনি এখনো। করলে পরে একদিন রিভিউ দিবো।
এখন কথা হলো, গুগলের জেমিনি তো জাস্ট কথা বলে, আর এই সব এপ অলরেডি রিয়্যাল লাইফের গার্ল ফ্রেন্ডের মতো এক্টিং শুরু করে দিয়েছে।
পোলাপান তো আগেও পর্ন দেখছে , কিন্তু পর্নের ক্যারেক্টার মানুষের বেশে এসে অনলাইনে কথা বলতো না , যেটা তারা এখন বলবে।
হয়তো রিয়্যাল পর্ন ক্যারেক্টার বা নায়িকারা তাদের এ-আই বানিয়ে ভাড়া দিবে মাসে ২০ টাকায়।
অনেক ইউজার ইতোমধ্যে বলছে যে কিছু দিন ব্যবহার করার পরে নাকি তারা ভুলেই যায় যে এ-আই এপের মেয়ে গুলো রিয়্যাল না। কারণ রিয়্যাল মেয়েকে অনলাইনে দেখা আর ফেইক মেয়েকে দেখার মধ্যে তো আসলে পার্থ্যক্য এমনিতেই কম ---- যেহুতু হাত দিয়ে ছোঁয়া তো কাউকেই যাচ্ছে না। বরং এ-আই মেয়ে গুলোকে অন্তত যা করতে বলা হচ্ছে তারা সেগুলো করছে।
এই জিনিসের সামাজিক ইমপ্লিকেশন কি হবে চিন্তা করেন।
ভাবীদের এখন বরকে মধ্য রাতে মেয়ে মানুষের সাথে ভিডিও চ্যাট করতে দেখলে জিজ্ঞেস করতে হবে তার সতীন এ-আই কিনা।
আর সেয়ানা ভাইয়েরা রিয়্যাল কোন ভাবীর সাথে কথা বলে ধরা খেলে বৌকে বলতে পারবে , "আরে জান্টুস , আমি একটা এ-আই এপ এই জাস্ট ৩ দিনের জন্যে ট্রায়াল ডাউনলোড করেছি , পরশু দিনই আনইনস্টল করে ফেলবো। "