Dr. Saifur Rahman

Dr. Saifur Rahman Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Dr. Saifur Rahman, Nutritionist, Sylhet.

ভারত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শুধু ক্রিকেটের জন্য হারে না। ক্রিকেটের পাশাপাশি বড় ভূমিকা পালন করে কালচার, ইতিহাস, শিক্ষাব্যবস...
23/10/2025

ভারত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শুধু ক্রিকেটের জন্য হারে না। ক্রিকেটের পাশাপাশি বড় ভূমিকা পালন করে কালচার, ইতিহাস, শিক্ষাব্যবস্থা ও সাইকোলজি। ক্রিকেট থেকে শেখার কিছু নাই, আবার অনেক কিছু আছেও।

শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েই বলি। শুধু ক্রিকেট না, আমাদের উপমহাদেশের দেশগুলোর প্রায় সব জায়গায় ব্যর্থতার অন্যতম কারন হল শিক্ষাব্যবস্থা। অস্ট্রেলিয়াসহ পাশ্চাত্যের দেশগুলোর স্কুলে ব্যক্তিগত মেধাকে কিভাবে টিমওয়ার্কে কাজে লাগানো যায় তা প্র‍্যাক্টিকালি, হাতে-কলমে শেখানো হয়। কোন অঙ্কনের প্রতিযোগিতায় কেউ যদি তার টিম থেকে বের হয়ে পিকাসোর মতও কিচ্ছু এঁকে ফেলে সেটাকে তারা খুব বেশি এপ্রিশিয়েট করে না। টিমওয়ার্ক তাদের কাছে এতটুকু গুরুত্বপূর্ণ। খুব স্বাভাবিক ব্যাপার মনে হলেও অল্প বয়সে এগুলো শেখার ফলে পুরো জীবনব্যাপী তা প্রয়োগ করা সহজ হয়।

সম্পূর্ণ স্কুল ভবন আগুনে পুড়ে যাচ্ছে এমন পরিস্থিতিতে কী কী করতে হবে, ঠান্ডা মাথায় কিভাবে শৃঙ্খলার সাথে বের হতে হবে, কিভাবে প্যানিক না হয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করবে - এগুলো তাদের ২য় বা ৩য় শ্রেণীর বাচ্চাদের শেখানো হয়। আমাদের কোন ভার্সিটি ভবনে আগুন লাগলেও শুধু পদদলিত হয়ে মারা যাবে কয়েক ডজন ছাত্র। বিপর্যয়ের সময় আতঙ্কিত না হয়ে কিভাবে এগিয়ে যেতে হবে প্রাইমারিতে সেই অর্জিত শিক্ষা প্রাপ্তবয়সে যাওয়ার পর শুধু ক্রিকেট ও ফুটবল নয়, বরং প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা আমাদের চেয়ে ভালভাবে প্রয়োগ করতে সক্ষম হয়।

২০২৩ বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে অজি ক্যাপ্টেন প্যাট কামিন্স তার মোবাইল ক্যামেরা দিয়ে পিচের ছবি তোলার দৃশ্যটি খুব আলোচিত হয়েছিল। আমরা সবাই ক্রিকেটীয় ট্যক্টিক্সের অংশ হিসেবেই ভেবেছিলাম, তবে সম্ভবত তার চেয়ে বেশি ছিল মানসিক প্রস্তুতির একটা অংশ। কামিন্স ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি সিডনিতে বিজনেসে ব্যাচেলর করেছেন এলিট এথলেট প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে। তার এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন তার একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইনফরমেশন প্রসেসিং ও বিশ্লেষণে সর্বোচ্চ সাহায্য করেছে। যেখানে আমাদের কোন ছেলের ক্রিকেটে ন্যাচারাল ট্যালেন্ট দেখলে একাডেমিক সংশ্লিষ্টতার আর প্রয়োজনবোধ করি না।

অস্ট্রেলিয়ায় যে পরিমাণ ক্রিকেটার আছে ভারতে অন্তত তার কয়েক হাজারগুণ বেশি আছে। এমনকি বর্তমান ভারত দলের প্রতিটি ক্রিকেটার ব্যক্তিগতভাবে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের থেকে অনেক মেধাবী। তবুও বড় টুর্নামেন্টগুলোতে কেন বারবার তাদের বিপক্ষে হারতে হয় আমরা দেখে আশ্চর্য হই। আমরা আশ্চর্য হই মাত্র ৫০ লক্ষ জনসংখ্যার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দেড়শ কোটির ভারতের পরপর দুই বিশ্বকাপে পরাজয় দেখে, যেখানে ক্রিকেট তাদের ২য় বা ৩য় জনপ্রিয় খেলা আর অন্যদিকে ভারতে ক্রিকেটকে পূজা করা হয়। আসলে এটা মোটেও আশ্চর্যের বিষয় নয়।

কেন আশ্চর্যের বিষয় নয় তার আরেকটা উদাহরণ দেই। উন্নত দেশগুলোতে ক্রীড়া শুধু বিনোদনের অংশ নয়, এটা তাদের পাঠ্যপুস্তকের অংশ। এটা রুটিন। বিজ্ঞান কিংবা সাহিত্যের ক্লাসের পর স্পোর্টস এর ক্লাস থাকবে। বিজ্ঞানের ক্লাসের মত সেখানেও উপস্থিত থাকতে হবে। গুরুত্বেও কোন কম বা বেশি নাই। স্পোর্টসকে তারা কমিউনিকেশন, লিডারশিপ, টিম ইথিক্স ও রেজিলিয়েন্স গড়ার উপকরণ হিসেবে দেখে। যেখানে আমাদের বেশিরভাগ স্কুলগুলোর ক্যাম্পাসে একটা মাঠও থাকে না। এখানেই শেষ নয়, তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ফলাফলের সময় স্পোর্টসের জন্য আলাদা ক্রেডিট যোগ হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের লিগগুলো আমাদের পেশাদার লিগগুলো থেকেও বেশি সুসজ্জিত থাকে।

অর্থাৎ আমাদের প্লেয়াররা জাতীয় দলে আসার পর যা শেখে, তারা হাই স্কুল লেভেলেই তা আয়ত্ত করে ফেলে। আমাদের স্পোর্টসের স্কিল কোন ক্ষেত্রে বেশি হতে পারে, তবে তাদের জাতীয় দলে সদ্য সুযোগ পাওয়া প্লেয়ার আমাদের চেয়ে মানসিকভাবে অনেক বেশি সুগঠিত ও পরিপক্ব থাকে। চাপের মুখে বা বিপর্যয়ে কী করতে হবে তা সে খেলা শেখারও অনেক আগে শিখে এসেছে। টিমওয়ার্ক সে প্রাইমারি থেকেই শিখে এসেছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় তার মস্তিষ্কের নিউরনগুলো ছোটবেলা থেকেই ওয়েয়ার্ড-আপ থাকে।

তাই তাদের শিক্ষাব্যবস্থা পরিপূর্ণ দক্ষতাসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তুলে, স্পোর্টস কিংবা স্পোর্টসের বাইরে।

ডা. সাইফুর রহমান
২৩.১০.২৫

21/07/2025

যুক্তরাষ্ট্র জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় সর্বোচ্চ উন্নত, প্রতি বছর তাদের নতুন নতুন আবিষ্কার এবং নোবেল প্রাইজের প্রতিটি ফিল্ডে তাদের নাম থাকা যেন অনিবার্য। তাদের শিক্ষাব্যবস্থা কিভাবে চলছে তা জানার আগ্রহ থেকে তাদের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিদদের কিছু বই অর্ডার করলাম।

বইগুলো পড়ার উদ্দেশ্য ছিল তাদের সাথে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার পার্থক্যগুলো কী, এবং আমরা কোন জায়গায় ভুল করছি তা জানা। কিন্তু পড়তে গিয়ে দেখি তাদের শিক্ষাবিদরা প্রতিটি বইয়ে প্রতিনিয়ত তাদের শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটি ধরছে। বইগুলো পড়লে মনে হবে যেন যুক্তরাষ্ট্রের মত বাজে অবস্থা আর কোথাও নাই।
প্রতিটি পরতে পরতে তাদের উন্নতি করার যে ক্ষুধা, কোন উন্নতিই যে পর্যাপ্ত না এই চিন্তাচেতনা এবং সময়ের সাথে সিস্টেমকে প্রতিনিয়ত হালনাগাদ রাখার যে স্পৃহা - এগুলোর মাধ্যমে বাকি বিশ্বের সাথে তারা ব্যাপক পার্থক্য তৈরি করে ফেলেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ২০০১ সালে NCLB (No child left behind) এক্টের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের স্ট্যান্ডার্ডাইজড টেস্ট ও স্কোরিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং স্কুল ও শিক্ষকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও দায়বদ্ধতা তৈরি করে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে চেয়েছিল। কিন্তু সকল শিক্ষাবিদরা এই পদ্ধতির তুমুল সমালোচনা করল। বিশেষ করে তাদের সাইকায়াট্রিস্ট ও সাইকোলজিস্টরা প্রেসিডেন্ট বুশকে ধুয়ে দিল। কঠোর নিয়ম ও স্বাধীনতা হরণের কারনে বাচ্চাদের সৃষ্টিশীলতা নষ্ট হবে বলে তারা আশঙ্কা করল। অবশেষে ২০১৫ সালে ওবামার আমলে এই পদ্ধতির পরিবর্তন হল।

একটা ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হল যে আমেরিকার প্রায় সকল শিক্ষাবিদরা হলেন সাইকোলজিস্ট, সাইকায়াট্রিস্ট এবং নিউরোসাইন্স বিশেষজ্ঞ। যে পেশাগুলো আমাদের দেশে শুধু রোগী দেখার জন্য বরাদ্দ। আমাদের শিক্ষাবিদরা হলেন ক্ষমতাসীনদের আস্থাভাজন কলামিস্ট, লেখক কিংবা বেকার টকশোজীবী। খুব আশ্চর্যের ব্যাপার হলেও সত্য, এদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় একজন শিক্ষাবিদ ছিলেন বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখক কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার।
অনেক শিক্ষিত হলেই তিনি শিক্ষাবিদ হতে পারবেন - এই ফর্মুলায় তারা সিলেক্টেড হোন। অথচ দেশের শিক্ষা নিয়ে সরকারকে পরামর্শ দেয়ার কথা ছিল যারা মানুষের মস্তিষ্ক বিষয়ে এক্সপার্ট এবং যারা শিক্ষা নিয়ে গবেষণা করে।

গবেষণা তো এমনিতেই আমাদের অপশনার বিষয়। গবেষণা আমাদের ভাল লাগে না। অন্তত কপি তো করতে পারতাম। এখানে লজ্জার কিছু না, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিক্ষা ব্যবস্থার অধিকারী ফিনল্যান্ড মূলত যুক্তরাষ্ট্রকে কপি করে, সামান্য মডিফাই করে আজ তারা যুক্তরাষ্ট্রকেও ছাড়িয়ে গেছে। অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তারতম্যের কারনে আমরা সরাসরি তাদেরকে কপি করে হয়তো পারব না, কিন্তু অনেক বিষয় মডিফাই করে এনে চাইলেই বসানো যায়। কিন্তু আমরা হাঁটছি ঠিক উলটো পথে। যেসব পদ্ধতি বাচ্চাদের মেধাকে ধ্বংস করে দেয় সেইসব পদ্ধতি আমরা প্রয়োগ করছি।

রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার বানানো শুরু হয়ে গেছে। দেশ গড়ার মূল উপকরণ তথা শিক্ষাকে ইশতেহারের তলদেশেও কেউ জায়গা দেবে বলে এখনো মনে হচ্ছে না।
দিন দিন আমাদের শিক্ষা একটা স্ক্যামে পরিণত হচ্ছে।
শিক্ষা নিয়ে মোটেও কেউ ভাবছে না। এমনকি ভাবার মত যোগ্য মানুষদেরও সুযোগ দেয়া হচ্ছে না।

আপনার বাচ্চার ভবিষ্যৎ ও ক্যারিয়ারের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় হচ্ছে তার মধ্যে ক্রিটিকাল থিংকিংয়ের বিকাশ ঘটানো। ...
20/07/2025

আপনার বাচ্চার ভবিষ্যৎ ও ক্যারিয়ারের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় হচ্ছে তার মধ্যে ক্রিটিকাল থিংকিংয়ের বিকাশ ঘটানো। শেষ কয়েক দশকে বাচ্চাদের ক্রিটিকাল থিংকিং দ্রুত কমে যাচ্ছে, তার প্রধান কারন আধুনিক সমাজের কিছু পরিবর্তন ও শিক্ষা কারিকুলাম।
আমি কয়েকটা কারন তুলে ধরছি যেগুলোর জন্য আমাদের বাচ্চাদের ক্রিটিকাল থিংকিং নষ্ট হচ্ছে।

১) অতিরিক্ত তথ্য দিয়ে বাচ্চাকে ওভারলোড করে রাখা 🚫
" 'কী চিন্তা করবে' তা না বলে 'কিভাবে চিন্তা করবে' তা বাচ্চাকে শেখান। তাহলে তার মধ্যে আগ্রহ ও অনুসন্ধানের মানসিকতা তৈরি হবে।" - এলিসন গপনিক & এরিকা ক্রিস্তাকিস।

২) অতিরিক্ত দৃঢ় ও কঠোর নিয়মে ঠাসা প্যারেন্টিং 🚫
কঠোরতা না দেখিয়ে কোন নিয়মের কারন কী ও শৃঙ্খলার উপকারিতা কি সেটা বলুন। স্বাধীনতা হরণ না করে তার মস্তিষ্কের নিউরনকে আন্দোলিত করুন।

৩) কম বয়সে স্কুলের চাপ ও লেখাপড়ার বোঝা 🚫
একাডেমিক চাপ নির্বাহী কার্যক্ষমতা (executive functions) যথা বিচার, বিশ্লেষণ, পরিকল্পনা, সৃজনশীলতা বিকল করে দেয়। (The Harvard Center on Developing Child)

৪) স্ক্রিনটাইম: মোবাইল-ফোন, টিভি, ট্যাব।
প্যাসিভ স্ক্রিনটাইম (বাচ্চার হাতে ডিভাইস ও তার নিয়ন্ত্রণ) ❌
সীমিত সময়ের জন্য ইন্টারেক্টিভ স্ক্রিনটাইম ✅
প্যাসিভ স্ক্রিনটাইম মস্তিষ্কে ডোপামিন এডিকশন তৈরি করে যা মনোযোগ, ফোকাস ও চিন্তাশক্তি নষ্ট করে ফেলে।

৫) প্রশ্ন করাকে নিরুৎসাহিত করা 🚫
'কেন?' হল ক্রিটিকাল থিংকিংয়ের ভিত্তি। এখান থেকেই জটিল চিন্তাভাবনা তৈরির শুরু। বাচ্চা যখন 'কি' এবং 'কেন' প্রশ্ন করছে তখন তার মস্তিষ্কে নিউরোনাল সংযোগ তৈরি করছে।
যেসকল বাচ্চাকে প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করা হয় তাদের এগজিকিউটিভ ফাংশন, মেটাকগনিশন (নিজের চিন্তা নিয়ে চিন্তা করা), প্রবলেম-সলভিং ও STEM পারফর্মেন্স (সাইন্স, টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যাথস) উন্নত হয়ে থাকে।
(Stanford, MIT, University of Chicago)

৬) প্রতিনিয়ত বাচ্চাকে সংশোধন করে দেয়া, শুদ্ধ করে দেয়া ও পারফেশনিস্ট বানানোর চেষ্টা 🚫
সব সময় বাচ্চাকে শুদ্ধ করে দিলে সে ঝুঁকি নিবে না এবং নতুন কিছু শিখবে না।
তার প্রচেষ্টা ও সৃজনশীলতার প্রশংসা করুন।

৭) ওভারশিডিউল ও কর্তৃত্ব 🚫
বাচ্চাকে কঠোর রুটিনে ব্যস্ত রাখলে সে উন্মুক্ত চিন্তা ও স্বাধীনভাবে অনুসন্ধান করতে পারবে না।
তার নিজস্ব কল্পনাশক্তি বিকশিত হওয়ার সময়, সুযোগ ও স্বাধীনতা দিন।

ইন্টারেস্টিং বিষয় হল এই যে ভুলগুলো তুলে ধরলাম এগুলো আজকাল সবচেয়ে শিক্ষিত ও শহুরে প্যারেন্টদের দ্বারা বেশি হয়। ওভারশিডিউলিং, একাডেমিক চাপ, স্ক্রিনটাইম ও পারফেকশনিজম আমাদেরকে প্রতিভাহীন একটা প্রজন্ম 'উপহার' দিতে যাচ্ছে আগামীতে।

24/06/2025

আমাদের প্রিন্ট মিডিয়া ও সোশাল মিডিয়া যেভাবে মিথ্যা অনুপ্রেরণা ও সফলতার গল্প দিয়ে শিক্ষার উদ্দেশ্যকে বিকৃতভাবে তরুণদের মাথায় গেঁথে দিচ্ছে তা দেশের অগ্রগতির জন্য সুদূরপ্রসারী ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে।

আমাদের সফলতার গল্পগুলো প্রধানত সরকারি চাকুরিতে যোগদান, বিসিএস ক্যাডার হওয়া, দরিদ্র পরিবার থেকে ঢাকা মেডিকেলে সুযোগ পাওয়া - এই ধাঁচের হয়ে থাকে। এই গল্পগুলো সত্যিকারের অনুপ্রেরণার চেয়ে আবেগনির্ভর বেশি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ক্যারিয়ার বিষয়ক জনপ্রিয় কন্টেন্টগুলো হল আপস্কিলিং, ড্রপ-আউট সাকসেস, টেক ক্যারিয়ার, স্টার্টআপ ফাউন্ডার ইত্যাদি।
এই যে তরুণদের স্বপ্ন দেখানোর জায়গাটাতেই আমরা এত পিছিয়ে, যার ফলে সফলতার সংজ্ঞাটা আমাদের সংস্কৃতিতে এত বাজেভাবে বদ্ধমূল হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তুলনাটা হয়তো অসম হয়ে গেছে বলবেন। একই ভৌগলিক অঞ্চলের সিংগাপুরের কথা বলি। তাদের সরকারি চাকুরির উদ্দেশ্য যেখানে বৈশ্বিক প্রস্তুতি ও ব্যক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া, সেখানে আমাদের সরকারি চাকুরির উদ্দেশ্য হল পরিবারের মান রক্ষা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা। আমরা মাল্টিনেশনাল কোম্পানিতে উচ্চ বেতনের চাকুরির স্বপ্ন দেখি আর তারা প্রযুক্তিতে গ্লোবাল লিডার হতে চলেছে।

আমি নবম ও দশম শ্রেণিতে যখন পড়তাম, নিয়মিত প্রথম আলোর লেখাপড়া বিষয়ক পাতা থেকে পেপার কাটিং করে সংরক্ষণ করতাম। সেই পাতার মূল ফোকাস ছিল পরীক্ষায় ভাল ফলাফল। কি ধরণের প্রশ্ন আসতে পারে, কিভাবে উত্তর লিখলে বেশি মার্ক পাওয়া যাবে। অর্থাৎ আমাদের জাতীয় পর্যায়ের সর্বোচ্চ শিক্ষিতরাও সঠিক পথ দেখাতে পারছে না। কার সন্তান কত উন্নত স্কুলে পড়ছে আর কার সন্তান পরীক্ষায় কত ভাল ফলাফল করেছে এটাই আমাদের গর্বের প্রধান বিষয়বস্তু। সারাদেশের ১% ছাত্রছাত্রীও তাদের লেখাপড়ার উদ্দেশ্য কী, তা জানে কিনা যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

দায়ীদের মধ্যে অনেক কিছু থাকলেও বর্তমান যুগের প্রেক্ষাপটে ডিজিটাল ও প্রিন্ট মিডিয়ার প্রভাব অনেক বেশি। আজকের পত্রিকা খোলে দেখেন, সরকারি চাকুরির ফলাফল ও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি হল সবচেয়ে জনপ্রিয় টপিক।
বাচ্চা লালনপালন করেও কোন ছাত্রী পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুযোগ পেয়েছে, দরিদ্র বাবার সন্তান আজ ঢাবিতে ভর্তি হয়েছে - এই ধরনের আবেগী গল্পগুলো শোনতে সুন্দর লাগলেও এগুলো তরুণদের সাইকোলজিকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করছে।

১০০ বছর আগে আমরা বিশ্বমানের বিজ্ঞানী উৎপাদন করেছি আজ ২০২৫ সালে এসে এসব ভুয়া সফলতার গল্প জাতিকে খাওয়ানোর জন্য? আজকের উন্নত বিশ্বের ছাত্রদের চিন্তাভাবনা দেখলেও অবাক লাগে। কে কিভাবে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে নিজের স্থানকে আরো টেকসই করবে এই প্রতিযোগিতায় সবাই, আর এই একই বয়সে আমাদের ছাত্রছাত্রীরা চাকুরির জন্য গাইড কিনে প্যারাগ্রাফ মুখস্ত করছে।

বাচ্চার মাথায় যত বেশি তথ্য (ইনফরমেশন) দিব বাচ্চার মেধা ও প্রতিভা তত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।আমাদের দেশে বহুদিন ধরে একটা ধারণা আম...
30/05/2025

বাচ্চার মাথায় যত বেশি তথ্য (ইনফরমেশন) দিব বাচ্চার মেধা ও প্রতিভা তত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আমাদের দেশে বহুদিন ধরে একটা ধারণা আমরা পোষণ করে আসছি যে, যে বাচ্চা বেশি জানে সেই বাচ্চা মেধাবী। স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগেই আমরা তাদেরকে এত বেশি জিনিস শিখাই যে তা প্রতিনিয়ত তার সৃষ্টিশীলতাকে বাধাগ্রস্থ করছে।

ঢাকার বেশিরভাগ বাচ্চারা নাকি ৫ বছর বয়সে লিখতে, পড়তে জানে। এই বয়সে নাকি তারা পরীক্ষা দিয়ে স্কুলে চান্স পেতে হয়! বাচ্চাদের পড়ালেখার জন্য মা বাবারা বিভিন্ন ফেসবুক ও হোয়াটস আপ গ্রুপেও খুব এক্টিভ থাকেন। কোমল মস্তিষ্কগুলো কত ভয়ঙ্করভাবে অঙ্কুরে নষ্ট করা হচ্ছে। বাচ্চাদের মস্তিষ্ক কিভাবে কাজ করে যদি তা জানত আমি নিশ্চিত তারা এগুলোর পেছনে দৌড়াত না। আমার মাঝেমধ্যে মনে হয় ঢাকার বাচ্চারা এই বয়সে যতটুকু পড়ালেখা করে ও জানে পৃথিবীর কোন দেশের বাচ্চারাও এতটুকু জানে না। অথচ আমরাই জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় পিছিয়ে।

৬ বছর বয়স পর্যন্ত বাচ্চারা অনুসন্ধান, কাজ, প্রশ্ন, চেষ্টা, বারবার ব্যর্থ হওয়া, আবিষ্কার ইত্যাদির মাধ্যমে শিখবে। আপনার সরাসরি ইনপুট তার মস্তিষ্ককে অকেজো করে দিচ্ছে। এটা শতভাগ প্রতিষ্ঠিত স্টাডি যে, যেসব দেশে যত কম বয়সে ফরমাল স্টাডি ইন্ট্রডিউস করা হয় সেইসব দেশের বাচ্চারা তত কম সৃজনশীল। আমাদের শিক্ষাবিদ ও আইনপ্রণেতারা এগুলো নিয়ে একেবারেই ভাবেন না।

প্রতিনিয়ত তথ্য প্রদান করে আমরা বাচ্চাদের নিজস্ব চিন্তাশক্তিকে সীমিত করে ফেলছি৷ আপনার বাচ্চা 'এ' ফর আপল, 'বি' ফর বল থেকে 'জেড' ফর জিব্রা পর্যন্ত বললেই সে মেধাবী হয়ে যায় নি। সে যদি মাটি দিয়ে একটা আপেল বানাতে পারে তাহলে সেটার জন্য অধিক খুশি হোন; সে যদি বলে "আম্মু বি ফর বল কেন বলল, বার্ডও তো হয়" তাহলে বুঝে নিন তার চিন্তাশক্তি কাজ করছে। কিংবা সে ফোনেটিক জানেই না, 'বি' দিয়ে বল হয় না ক্যাট হয় জানে না। কিন্তু বল, ঘনক, ত্রিভুজ ইত্যাদি আকৃতিগুলো সে আলাদাভাবে সর্টিং করতে পারে, তাহলে বুঝে নিন তার মস্তিষ্কের নিউরনগুলো ভালভাবেই নেটওয়ার্ক সৃষ্টি করছে, ফলে সে সক্রিয়ভাবে চিন্তা ও কাজ করতে পারছে।
বাচ্চার মস্তিষ্ককে ইনফরমেশন দিয়ে ব্যস্ত না রেখে তাকে প্রকৃতি দিন, খেলনা দিন, এবং সাথে স্বাধীনতা। তাকে না শিখিয়ে কৌতুহলী করে তুলুন। তার ফলে হয়তো শহরের সবচেয়ে নামীদামী স্কুলে ভর্তির সুযোগ পাবে না, কিন্তু এর ফল ভবিষ্যতে পাবেন, তা নিশ্চিত।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজিস্ট এলিসন গপনিক যিনি তার জীবনের বড় একটা অংশ কাটিয়েছেন বাচ্চাদের কগনিটিভ ডেভেলপমেন্ট নিয়ে গবেষণা করে, তিনি একবার টেড টকে বলেছিলেন, "বাচ্চারা খালি পাত্র নয় যে আপনি ইনফরমেশন ও ফ্যাক্ট দিয়ে তাকে পূর্ণ করবেন। বরং তারা সক্রিয় শিক্ষানবিশ। তারা এক্সপ্লোরেশন ও ইন্টারেকশনের মাধ্যমে নিজে জ্ঞান তৈরি করে।"
আপনি তার হাতে সিলেবাস তুলে দিলে সে তার চিন্তাভাবনা বন্ধ করে দিবে। রোবটের মত সিলেবাস থেকে ইনপুট নিবে আর আউটপুট দিয়ে আপনাকে ও আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে খুশি করবে। এই রোবটিক আউটপুট দিয়ে শুধু পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া যায়, জাতির পরিবর্তন সম্ভব হয় না।

৫ বছর বয়স পর্যন্ত বাচ্চাদের মস্তিষ্কের ৯০% নিউরনের আর্কিটেকচার পূর্ণ হয়ে যায়। তাই ৫ বছর বয়সী মস্তিষ্কের উপর নির্ভর করে এই মানুষ তার বাকি জীবনে কী করবে। আর এই নিউরনের জাল তৈরি হয় পড়ালেখার মাধ্যমে নয়, বরং স্বাধীনভাবে খেলাধুলা, অনুসন্ধান ও চিন্তাভাবনার মাধ্যমে।

বন্ধুবান্ধব বেশিরভাগের বাচ্চা-কাচ্চারা প্রমিত ভাষায় (শুদ্ধ ভাষা হিসেবে যেটাকে চিনি আমরা। যদিও পৃথিবীর সব ভাষাই শুদ্ধ) কথ...
05/02/2025

বন্ধুবান্ধব বেশিরভাগের বাচ্চা-কাচ্চারা প্রমিত ভাষায় (শুদ্ধ ভাষা হিসেবে যেটাকে চিনি আমরা। যদিও পৃথিবীর সব ভাষাই শুদ্ধ) কথা বলে। পরিচিত বা আত্মীয়দের মধ্যে যারা 'শিক্ষিত শ্রেণী' হিসেবে পরিচিত তারা প্রায় সবাই বাচ্চাকে প্রমিত তথা 'শুদ্ধ ভাষা' ও ইংরেজি শিখিয়েছেন। ব্যাপারটা দেখে আমারও ইচ্ছা জেগেছিল বাচ্চাদের সাথে প্রমিত ভাষায় কথা বলব। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পরেই সিদ্ধান্ত বদলালাম। তার কারনগুলো একটা সংক্ষেপে বলার চেষ্টা করি।

ভাষা ও bilingualism বিষয়ে আমি কোন এক্সপার্ট না। তাই এক্সপার্টদের কিছু বই জোগাড় করে লেখাপড়া শুরু করলাম এবং তাদের গবেষণা ও জরিপগুলো ঘাটাঘাটি করলাম। জানতে পারলাম যে বাচ্চাদের মস্তিষ্ক কোন বাড়তি চাপ ছাড়াই একইসাথে ৪-৫টা ভাষা শিখতে পারে। এতে বাচ্চাদের মস্তিষ্কে কোন খারাপ প্রভাব পড়ে না। অর্থাৎ আমি চাইলে আমার বাচ্চা প্রমিত বাংলা, সিলেটি ও ইংরেজি ভাষা সবগুলোই একসাথে শিখতে পারবে। অনেক ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিলাম দুই বছর বয়স পর্যন্ত শুধুমাত্র সিলেটি ভাষায় কথা বলব। দুই বছর বয়স থেকে শুধু ভোকাবুলারি দিয়ে ইংরেজি এক্সপোজার শুরু করব। এবং তিন বছর বয়স থেকে টুকটাক ইংরেজি কথা বলা শুরু করব। আর স্কুলে যাওয়ার পরে প্রমিত বাংলা।

এই পরিকল্পনার কারন কী?
বাচ্চাদের মস্তিষ্ক বিকাশে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হল ইমোশনাল বন্ডিং। নতুন একটা ভাষা শেখানোর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল কমিউনিকেশন শেখানো। যেকোন সময় বাচ্চা ভাষা শিখতে পারবে, কিন্তু ইমোশনাল বন্ডিং দরকার একেবারে শুরু থেকে। আপনার আশেপাশের লোকজন যে ভাষায় কথা বলে সেই ভাষা না শিখিয়ে আপনি তার আগেই দ্বিতীয় একটি ভাষা শিখিয়ে ফেললে উচ্চ শিক্ষিতদের কোন ইভেন্টে সে হয়তো কিছুটা স্মার্ট দেখাবে কিন্তু তার সোশাল ডেভেলপমেন্ট-এ একটা গ্যাপ থাকবেই, যা সুদূরপ্রসারী তাকে ভোগাবে।

এক্সপার্টদের গবেষণা আমি কিছু বাস্তব সিনারিওর সাথে মেলানোর চেষ্টা করলাম। বেশিরভাগ প্রবাসী পরিবারগুলোর বাচ্চারা তাদের মা বাবাদের মাতৃভাষায় ঠিকমত কথা বলতে পারে না। সম্ভবত মা বাবারা একটু আতঙ্কে থাকেন যে স্কুলে গিয়ে যদি বাচ্চা ঠিকমত খাপ খাওয়াতে না পারে। তাদের সাথে দাদা-দাদি ও নানা-নানিদের যোগাযোগ খুব দুর্বল। বাংলা বুঝে কিন্তু উত্তর দেয়ার সময় পুরোপুরি মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে না। এটা যথার্থ বিকাশের জন্য অবশ্যই একটা অন্তরায়। বিদেশে প্রাইমারি শিক্ষক ও প্যারেন্টিং এক্সপার্টরা বাসায় বাবাদের মাতৃভাষায় বাচ্চাদের সাথে কথা বলার জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকে। সম্প্রতি আমার এক আত্মীয়র বাচ্চাকে দেখতে পেলাম দেশের সব আত্মীয়দের সাথে খুব সুন্দরভাবে কথা বলছে, সবার সাথে মিশছে, উপভোগ করছে। তাদের মা বাবার সাথে কথা বলে জানলাম যে তারা তাদের বড় সন্তানের এক স্কুল শিক্ষকের পরামর্শে ছোট বাচ্চার সাথে সব সময় মাতৃভাষায় কথা বলেছেন। ফলে সে উভয় কালচারে খুব স্মার্ট একটা বাচ্চা। এই বাচ্চা কখনো স্বার্থপর হবে না, আত্মীয়দের সাথে যোগাযোগ রাখবে, সবাইকে ভালবাসবে।

আমি শুরুতে কেন প্রমিত বাংলা শেখাচ্ছি না?
বাংলা-ইংরেজির ক্ষেত্রে যদি শতভাগ প্রভাব পড়ে তাহলে প্রমিত-সিলেটির ক্ষেত্রে অন্তত ৫০% প্রভাব পড়বে আমি এটা বিশ্বাস করি। আর বাচ্চারা যেখানে প্রকৃতিগতভাবে মাল্টিলিঙ্গুয়াল, সেখানে আমি বাড়তি দুশ্চিন্তা করে লাভ কী। তাই সে বড় হোক দাদু, ফুপু ও চাচ্চুদের ভাষায় কথা বলে। স্কুলে গেলে এমনিতেই প্রমিত ভাষা শিখে ফেলবে। একাডেমিক দিক দিয়ে একটুও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা নাই। আমি নিজে একটাও ইতালিয়ান শব্দ না শিখে স্কুলে ভর্তি হয়েছিলাম, কিন্তু এক বছরের মাথায় আমি পুরোপুরি ইতালিয়ান ভাষায় কথা বলেছি। শতভাগ ভিন্ন ভাষা যদি আমি এক বছরে শিখতে পারি তাহলে আমার বাচ্চাও নতুন একসেন্ট ও ডায়ালেক্ট ধারণ করতে পারবে।

প্যারেন্টিং জিনিসটা আসলে খুব সহজ। আমরা বাড়তি চিন্তা করে জটিল বানিয়ে ফেলি। আমি পরামর্শ দেয়ার মত প্যারেন্টিং এক্সপার্ট না, তবুও ছোট একটা পরামর্শ প্রায়ই মানুষকে দিয়ে থাকি। নতুন ভাষা শেখানোতে এত শ্রম না দিয়ে বাচ্চাকে কথা বলার টোন শেখান, কখন কিভাবে কথা বলতে হয়। 'শেখানো'র চেয়ে অধিক উপযুক্ত শব্দ হবে 'দেখান'। আপনাকে দেখে সে নিজেই শিখবে। সবার সাথে মিশতে দিন। রোবট না বানিয়ে আবেগ, সহমর্মিতা, ভালবাসায় পরিপূর্ণ মানুষ গড়ে তুলুন।
আমার স্ত্রী প্রায়ই বাচ্চার মুখে অনুপযুক্ত শব্দ শোনলে চিন্তিত হয়ে পড়েন। আমি বলি, "সবার সাথে মিশলে ভাল খারাপ দুইটাই শিখবে এটা স্বাভাবিক। এই সুযোগে তুমি তাকে ভাল ও খারাপ কথার মধ্যে পার্থক্য শিখিয়ে দাও। এটাকে তুমি শেখানোর সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করো।"

ছেলের জন্য বই কিনতে গিয়েছিলাম রাজা ম্যানশন একটা দোকানে। দোকানদার জানতে চাইলেন বাচ্চার বয়স কত। খুব অস্বস্তি লাগছিল উত্তর ...
03/02/2025

ছেলের জন্য বই কিনতে গিয়েছিলাম রাজা ম্যানশন একটা দোকানে। দোকানদার জানতে চাইলেন বাচ্চার বয়স কত। খুব অস্বস্তি লাগছিল উত্তর দিতে, কারন ঐপাশের রিয়েকশনটা আমার জানা আছে। বললাম, দেড় বছর (যদিও তখন বয়স এক বছর হয়েছে কিছুদিন আগে)। প্রত্যাশিত রিয়েকশনটাই পেলাম। "দেড় বছরের বাচ্চা এসবের কী বুঝবে? আপনি বরং রঙিন ছবির বই নিয়ে নেন।"

তখন অনিচ্ছা সত্ত্বেও কিছু একটা বলতে হয়। "আমার বাচ্চা বইয়ের লেখা বুঝবে না আমি ভাল করেই জানি৷ বই কেনার উদ্দেশ্য হল আমি তাকে পড়ে শোনাব।"

৩-৪ মাসের বাচ্চাকে বই পড়ে শোনানোর ধারণাটা আমাদের দেশে এখনো হাস্যকর পর্যায়ে রয়ে গেছে। অথচ সারা বিশ্বে এটা অনেক পুরাতন প্রতিষ্ঠিত ও গবেষণালব্ধ একটা কনসেপ্ট। সদ্য প্রয়াত আমেরিকান শিক্ষাবিদ জিম ট্রিলিজের বিশদ গবেষণা রয়েছে এ বিষয়ে। তার লেখা বই 'The read-aloud handbook' পড়ে পুরো বইটির সারাংশ আমার স্ত্রীকে বুঝালাম। কারন কনসেপ্টটা বুঝতে পারলে তা অনুশীলনে আগ্রহ বাড়ে। জিম ট্রিলিজের কাছে মানুষ জানতে চাইল কোন বয়স থেকে বাচ্চাকে রিড এলাউড করব। তিনি উত্তর দিলেন, আমরা বাচ্চাকে কোন বয়স থেকে কথা শুনাই? আমরা কি অপেক্ষা করি যে বাচ্চা কথা বলা শিখবে তারপর তার সাথে কথা বলব? নাকি প্রথম দিন থেকেই কথা বলি? হ্যা, ঠিক একইভাবে আমরা রিড এলাউডও প্রথম দিন থেকেই করব।

জিম ট্রিলিজ তার দীর্ঘ গবেষণায় রিড এলাউডের সাথে বাচ্চার ভবিষ্যৎ লেখাপড়া ও ক্যারিয়ারের কতটুকু সংযোগ ও প্রভাব রয়েছে তা জরিপসহ তুলে ধরেছেন। তিনি বারবার বলেছেন, বাচ্চাকে ৬-৭ বছরের আগে পড়া শেখাবেন না, শুধু পড়ে শোনাবেন। আমাদের দেশে ঠিক উলটো কাজটা আমরা করি। পড়ে শুনাই না, পড়া শিখিয়ে ফেলি। অথচ কম বয়সে পড়া শিখিয়ে ফেলাটা বাচ্চাদের মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর। অর্থাৎ সোজাসাপ্টা করে যদি বলি তাহলে ব্যাপারটা এমন দাঁড়ায় যে আমাদের দেশে কিন্ডারগার্টেনগুলো বাচ্চাদের মস্তিষ্ক নষ্ট করছে।

আমার বড় ছেলের জন্মের কয়েক দিন আগে একটা হাই কনট্রাস্ট (সাদা-কালো) ফেব্রিক্স বই অনলাইন থেকে অর্ডার দিয়ে আনলাম। নবজাতক বাচ্চারা ৩০সে.মি এর অধিক দূরত্বের জিনিস দেখতে পায় না এবং সাদা কালো ব্যতীত অন্য রঙ বুঝতে পারে না। তাই হাই কনট্রাস্ট ছবি কাছে এনে ধরলে সেটা তারা উপভোগ করে। সত্যি বলতে ব্যাপারটা আমি নিজেই এত বেশি উপভোগ করেছি। ফেব্রিক্স থেকে ধীরে ধীরে হার্ডবোর্ড, প্লাস্টিক এবং এখন কাগজের বইয়ে নিয়ে এসেছি। এখন আর তাকে বই পড়ার বিষয়ে উপদেশ দেয়া লাগে না। সে-ই আমাদেরকে উপদেশ দেয়া শুরু করে দিয়েছে। আজকে বিকালে বই পড়ানোর ফাঁকে একবার হাতে মোবাইল ফোন নিয়েছিলাম, সে বলে উঠল "তুমি মোবাইল নিলে কিন্তু আমিও মোবাইল দেখা শুরু করব, ধরো বই থেকে আমাকে স্পাইডারের গল্পটা শোনাও।" প্রায়ই তার মাকে বলে, "আম্মা মোবাইল দেখা তো ভাল না, তুমি মোবাইল দেখো কেন?"
এই যাত্রাটা মোটেও মসৃণ ছিল না। কিন্তু দীর্ঘ অনুশীলনের পর এখন আমরা সত্যি খুব উপভোগ করছি।

বাচ্চাদের মস্তিষ্কের মত নমনীয় ও মোলায়েম বস্তু আর পৃথিবীতেও নাই। তাকে 'শেখানো'র চেয়ে বেশি জরুরি হল 'দেখানো'।

সারা জীবন দেশেই অতিবাহিত করার পরিকল্পনা। দেশেই বাচ্চারা লেখাপড়া করবে, বড় হবে। তাই বাচ্চাদের নিয়ে খুব ভাবি, চিন্তা করি। আত্মীয়স্বজনদের আমি যতটা না ডাক্তারি পরামর্শ দেই তার চেয়ে বেশি দেই প্যারেন্টিং পরামর্শ।

বাচ্চাদের মস্তিষ্ক নিয়ে স্টাডি করি, বই সংগ্রহ করি, আশেপাশের মানুষকে সাহায্য করার চেষ্টা করি। কারন আমরা যত বেশি দেরি করব ব্যাপারগুলো তত কঠিন হয়। এই সুন্দর নিষ্পাপ প্রাণগুলো জাতির আগামীকে সুন্দর করবে। তাই আমার মতে প্যারেন্টিংয়ের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আর একটিও নেই।

আমার বড় ছেলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে রাতে মোবাইল হাতে নিতে পারি না। ঘুমানোর সময় ডিভাইস দূরে রেখে তাকে বই পড়ে শুনাই। প্রথমে খু...
15/01/2025

আমার বড় ছেলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে রাতে মোবাইল হাতে নিতে পারি না। ঘুমানোর সময় ডিভাইস দূরে রেখে তাকে বই পড়ে শুনাই। প্রথমে খুব উৎফুল্ল থাকে, বই দেখে দেখে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে থাকে, তারপর ধীরে ধীরে চোখে ঘুম নেমে আসে। রুটিনটায় এতই অভ্যস্ত হয়েছি যে প্রায় সময় একইসাথে আমারও ঘুম চলে আসে।
সপ্তাহে একদিন হাসপাতালে থাকতে হয়। আজ সেই দিন। একটু আগে খবর নিয়ে জানলাম সে এখনো বিছানায় খেলনা নিয়ে ব্যস্ত। আমি ঘরে থাকলে এতক্ষণে ঘুমিয়ে পড়ত।
আমরা ছোটবেলায় মোবাইল ফোন পাই নি, খুব বেশি খেলনাও পাই নি। ঘুমানোর সময় কেউ একজন গল্প শোনাত বা গুনগুন করে গান শোনাত। আমাদের কল্পনার রাজ্য ছিল বিশাল। এখন বাচ্চারা কল্পনা করার সময়ই পায় না, রঙিন পর্দার সামনে সবকিছু ভেসে উঠে। ডিভাইস কল্পনাশক্তিকে কেড়ে নিয়েছে।

আইনস্টাইনের খুব বিখ্যাত একটা উক্তি "কল্পনা হল জ্ঞানের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ।"
মা বাবা হিসেবে বাচ্চাদের চিন্তা করার শক্তি, কল্পনা করার শক্তি বৃদ্ধি করা আমাদের সবচেয়ে বড় একটি দায়িত্ব।

আমরা ছোটবেলা যখন 'তিন গোয়েন্দা' পড়তাম তখন পঠিত প্রতিটি ঘটনা কল্পনায় ভেসে উঠত। এই কল্পনা অনেক শক্তিশালী ছিল। মুভি দেখার চেয়েও অধিক স্পষ্ট ছিল কল্পনার দৃশ্যগুলো। মুভিতে আমরা সেটাই দেখতে বাধ্য থাকতাম যা ডিরেক্টর বানায়, আর কল্পনায় আমরা নিজেরাই একেকজন ডিরেক্টর।

আমি আমার ছেলের মাকে একটা কথা প্রায়ই বলে থাকি, "স্ক্রিনটাইম হল আকর্ষণীয় চোখের খাদ্য। আর মস্তিষ্কের খাদ্য হল চিন্তা ও কল্পনা। বাচ্চাকে চোখের খাদ্য দিয়ে ব্যস্ত রাখলে মস্তিষ্ক তার পর্যাপ্ত খাদ্য পাবে না।"

মিডিয়া লিটারেসির অভাবে আমাদের উপমহাদেশ অদূর ভবিষ্যতে খুব সঙ্কটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাবে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা থেকে গৃহ...
18/09/2024

মিডিয়া লিটারেসির অভাবে আমাদের উপমহাদেশ অদূর ভবিষ্যতে খুব সঙ্কটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাবে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা থেকে গৃহযুদ্ধ কিছুই বাকি থাকবে না। আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা কারিকুলামে ছোট একটা অধ্যায় যোগ করলেই এই সমস্যাটা রোধ করা সম্ভব হত।

পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক শিক্ষা কারিকুলাম হল ফিনল্যান্ডের। ফিনল্যান্ডের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মিডিয়া লিটারেসি খুব গুরুত্ব দিয়ে শেখানো হয়। তাদের শিক্ষকগণ ফেইক নিউজ ও ফেইক সিনারিও বানিয়ে পাওয়ারপয়েন্টে তা উপস্থাপন করেন। ছাত্রছাত্রীরা সেগুলো দেখে সনাক্ত করে থাকে কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যা। কোনটা কেন সত্য বা মিথ্যা তার ব্যাখ্যাও দিতে হয়। ফিনল্যান্ডের বাচ্চাদের খুব ছোট বয়স থেকেই নিরাপদ ইন্টারনেট ও যথাযথ সোশাল মিডিয়ার ব্যবহার শেখানো হয়। ফলে তারা গুজব ও প্রোপাগান্ডা চিহ্নিত করতে পারে, স্টেরিওটাইপ চিন্তাভাবনাগুলো আলাদা করতে পারে এবং অন্যের বিশ্বাস ও অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শিখে।

এই শিক্ষার ঘাটতির একটা প্রকৃষ্ট উদাহরণ হল ২০১২'র রামু তাণ্ডব। সোশাল মিডিয়ায় কিছু দেখলে আমরা যাচাই করার জন্য সময় নেই না। এ,আই দিয়ে বানানো ছবিতে লিখি মাশা'আল্লাহ, অমত হলে দেই গালি, আর মাঝেমধ্যে গুজবের উপর ভিত্তি করে ঘটে বিশাল তাণ্ডব। সম্প্রতি আওয়ামী সরকার পতনের পর ভারতের মত বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু ইস্যুতে যে পরিমাণ গুজব রটানো হয়েছে তা থেকে আরো স্পষ্ট আমাদের উপমহাদেশে মিডিয়া লিটারেসির কি ভয়ঙ্কর মাত্রার ঘাটতি, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও সঙ্কট তৈরি করতে পারে।

বিগত সরকারের সময় আইসিটি বিষয়টা কারিকুলামে যোগ করা হয়েছিল। ইন্টারনেট ও প্রযুক্তি বিষয়ে অনেক কিছু শেখানো হয়েছে, কিন্তু ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনে ইন্টারনেট ব্যবহারের শিক্ষা দেয়া হয় নি। বেসিক জ্ঞানের ব্যাপারে আমরা সব সময়ই পিছিয়ে থাকি। তাই আইসিটি বিশেষজ্ঞ হয়েও অনেকের সোশাল মিডিয়ায় অবিশ্বাস্য রকমের ইনএপ্রোপ্রিয়েট কর্মকাণ্ড আমরা দেখতে পাই। ইন্টারনেট হাতে তুলে দেয়ার আগে তাই মিডিয়া লিটারেসি বিষয়ে পাঠদান খুব জরুরি।

ফিনল্যান্ড মিডিয়া লিটারেসিকে তাদের নাগরিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান মনে করে থাকে। হ্যাপিনেস ইনডেক্সে শীর্ষে থাকা এই দেশটি তাই পৃথিবীর অন্যতম শান্তিপূর্ণ একটা দেশ৷ আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার অবনতির সাথে ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারসাম্য আনয়ন না করলে আগামীতে বিপদ অবশ্যম্ভাবী।

শিক্ষা ব্যবস্থা দুই দিনে পরিবর্তন হয়ে যাবে তার জন্য অপেক্ষা বা আশা করে লাভ নাই। তাই আপনার সন্তানকে আপনি নিজ উদ্যোগে মিডিয়া লিটারেট করে তুলুন। পর্যাপ্ত ম্যাটারিয়াল সংগ্রহ করে আপনার সন্তানকে ইন্টারনেট-নির্ভর পৃথিবীর জন্য প্রস্তুত করে ফেলুন।

ডা. সাইফুর রহমান
১৮/০৯/২৪

শিশুর মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ সম্পর্কে সামান্য জ্ঞান আমাদের প্যারেন্টিং বিষয়ে পুরো ধারণা পালটে দিতে পারে। আমাদের প্যারেন্...
21/08/2024

শিশুর মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ সম্পর্কে সামান্য জ্ঞান আমাদের প্যারেন্টিং বিষয়ে পুরো ধারণা পালটে দিতে পারে। আমাদের প্যারেন্টিংয়ে এনে দিতে পারে এক অনন্য নতুনত্ব। আজকে আমরা মস্তিষ্কের ছোট একটি অংশ 'আমিগডালা' সম্পর্কে জানব। এবং জানব মস্তিষ্কের ঊর্ধ্বাংশ ও নিম্নাংশ কিভাবে তাদের আচার-ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।

বিষয়টা বুঝানোর সুবিধার্থে মস্তিষ্ককে আমরা দুই তলা একটি ঘরের সাথে তুলনা করি। আমাদের ঘরে যেমন নিচ তলায় অপরিহার্য জিনিসগুলো থাকে, তেমনই মস্তিষ্কের নিচ তলা শ্বাসপ্রশ্বাস, আবেগ, আত্মরক্ষা ইত্যাদি অপরিহার্য বিষয়গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে।
অপরদিকে উপর তলা উন্নত চিন্তাগুলোকে প্রক্রিয়া করে। যেমন সঠিক সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা গ্রহণ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ, আত্মউপলব্ধি, নৈতিকতা, সহমর্মিতা ইত্যাদি উন্নত বিষয়গুলো প্রস্তুত করা হল এই অংশের কাজ।

মস্তিষ্কের নিচতলা জন্মগতভাবে পরিপূর্ণ। আর অপরিপক্ব উপরতলা বয়সের সাথে ধীরে ধীরে বিকশিত হতে থাকে, এবং তা পরিপূর্ণতা লাভ করে বিশের দশকের মধ্যভাগে। অপরিপক্ব উপরতলার কারনে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি উন্নত চিন্তার অংশটা বাচ্চাদের ক্ষেত্রে কিছুটা দুর্বল থাকে। এই বাস্তবতাটা অনুধাবন করে বাচ্চাদের কাছ থেকে অভিভাবকদের একেক বয়সে একেক রকমের প্রত্যাশা নির্ধারণ করা উচিত। সঠিক মাত্রার প্রত্যাশা নির্ধারণ করতে পারলে তা বাচ্চার মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়ক হবে।

মস্তিষ্কের নিচতলার ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ হল আমিগডালা। মস্তিষ্কের দায়িত্ববান এই পাহারাদার আপদকালীন সময়ে আমাদেরকে রক্ষা করে। গাড়ি চালানোর সময় হঠাৎ সামনে কোন বিপদ দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিক গতি পরিবর্তনের কাজ করে এই আমিগডালা। সাপ দেখলে আপনি দৌড় দেন, তখন সাপটি বিষধর না নির্বিষ তা চিন্তা করেন না, আগে জীবন বাঁচান। এই কাজটি করে থাকে আমিগডালা।

আমিগডালা উপরতলা মস্তিষ্কের সাথে সংযোগ সিড়ি হিসেবে কাজ করে। যখনই আপনার বাচ্চার আমিগডালা ক্ষিপ্ত থাকে অর্থাৎ এই সংযোগ সিড়ি যখন বাধাগ্রস্ত হয় তখন তার উপরতলা মস্তিষ্ক তথা উন্নত চিন্তার অংশটা ঠিকমত কাজ করে না। নিচতলা মস্তিষ্ক উপরতলাকে কব্জা করে ফেলে। তাই নিচতলার আদেশেই তখন সে পরিচালিত হয়। উপরতলার উন্নত চিন্তার সাথে সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় তখন সে ভুল ও অপরিপক্ব কাজটি করে থাকে। ফ্রিজে অরেঞ্জ পপসিকল শেষ হওয়া সত্ত্বেও আপনার বাচ্চা এই মুহূর্তেই তা চাইছে, অন্য ফ্লেভার দিয়েও কাজ হচ্ছে না, হাতের সামনে যা পায় তাই ছুড়ে মারছে। কারন তার আমিগডালা বা সংযোগ সিড়িটা বাধাগ্রস্ত ফলে নিচতলা মস্তিষ্ক তার সম্পূর্ণ শক্তি নিয়ে কাজ করছে। উপরতলা মস্তিষ্ক এই মুহূর্তে বিচ্ছিন্ন, তাই আপনি যাই যুক্তি দেখান সে তা বুঝতে পারবে না।

এরকম পরিস্থিতিতে আপনার কাজ কী? আপনি এখন কঠোরতা অবলম্বন করলে তার সংযোগ সিড়ি আরো বেশি বাধাগ্রস্ত হবে। আপনার একমাত্র কাজ হল এই সিড়িটা উন্মুক্ত করা যাতে উপর ও নিচ তলার সংযোগ পুনরুদ্ধার হয়। বাচ্চাকে তার মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে আদর যত্ন করে তাকে শান্ত করবেন। তার পছন্দের অন্যকিছুর দিকে ধাবিত করার চেষ্টা করবেন। এভাবে তাকে শান্ত করার ফলে সংযোগ সিড়িটা বাধামুক্ত হয়ে যাবে এবং উপরতলা মস্তিষ্ক এভেলেবল হবে। এখন আপনি কিছু বুঝিয়ে বললে সে তা গ্রহণ করার সম্ভবানা বেশি থাকবে।

ভয়-ভীতির ক্ষেত্রে আমিগডালার ব্যাপক ভূমিকা। ভীতসন্ত্রস্ত বাচ্চার আমিগডালা ক্ষিপ্ত থাকে ফলে উপরতলা মস্তিষ্ক ঠিকমত কাজ করে না। তাই আপনার সাত বছর বয়সী ছেলে সাইকেল চালানো শিখতে রাজি না কারন তার অতীত অভিজ্ঞতা এক রকমের ভীতি সৃষ্টি করে রেখেছে। আপনি তার ক্ষিপ্ত আমিগডালা শান্ত করার জন্য তাকে অভয় দিবেন, আপনার নিজের ভয়গুলো শেয়ার করবেন এবং নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্য পুরস্কারের মাধ্যমে তাকে উৎসাহিত করবেন। নিচতলা মস্তিষ্ককে শান্ত ও উপরতলা মস্তিষ্ককে কাজের জন্য এভেলেবল করতে না পারলে আপনার বাচ্চা নতুন কোন স্কিল অর্জন করতে পারবে না।

বয়সের সাথে সাথে আপনার বাচ্চার উপরতলা মস্তিষ্ক ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়তে থাকবে। আবার পরিস্থিতি ভেদে তা ব্যবহারের মাত্রার মধ্যেও তফাৎ থাকবে। আপনি যত বেশি অনুশীলন করাবেন তত বেশি সে তা ব্যবহারে পারদর্শী হয়ে উঠবে। অপরদিকে আপনি উপরতলা মস্তিষ্ক ব্যবহারের অনুশীলন না করিয়ে যদি সব সময় কঠোরতা ও উপেক্ষার মাধ্যমে আমিগডালাকে ক্ষিপ্ত রাখেন, তাহলে উন্নত চিন্তা বিকাশে সে অদক্ষ ও অপরিপক্ব থেকে যাবে।

আপনার বাচ্চার বয়সের ভিত্তিতে উপযুক্ত প্রত্যাশা নির্ধারণ করতে পারলে এবং তার মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশের নির্দিষ্ট চাহিদা অনুসারে উপযুক্ত সময়ে উপযুক্ত রেস্পন্স দিতে পারলে সে হয়ে উঠবে উচ্চ চিন্তাশক্তি সম্পন্ন ও ধৈর্যশীল একজন মানুষ।

ডা. সাইফুর রহমান
২১.০৮.২৪

বাচ্চাদেরকে উন্নত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাল হল বর্তমান। সম্ভবত আমরা ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রয়োজনের চেয়ে একট...
04/05/2024

বাচ্চাদেরকে উন্নত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাল হল বর্তমান। সম্ভবত আমরা ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রয়োজনের চেয়ে একটু বেশিই চিন্তিত থাকি।
বাচ্চার উচ্চশিক্ষার জন্য এখন থেকে ফিক্সড ডিপোজিট করতে হবে; বাচ্চাকে বিয়ে দেয়ার জন্য, বাচ্চার ক্যারিয়ার গড়ার জন্যও টাকা সঞ্চয় করতে হবে; সন্তানের বাকি জীবন অতিবাহিত করার জন্য সিকিউরিটি হিসেবে পর্যাপ্ত পরিমাণ সম্পদ রেখে যেতে হবে। এই দুষ্ট চক্র মা-বাবাদেরকে বাচ্চার সাথে বসবাস করতে দেয় না, মা-বাবা বাস করে বাচ্চার ভবিষ্যৎ কালে আর বাচ্চারা একা পড়ে থাকে বর্তমানে। ভবিষ্যতকে তৈরি করার জন্য প্রতিনিয়ত এই ছুটে চলা, এই অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততা সন্তানের শৈশবকে করে তুলে স্মৃতিহীন আর মা-বাবাদেরকে দেয় অনুপভোগ্য প্যারেন্টিং অভিজ্ঞতা।

বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করা অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ একটা দায়িত্ব, কিন্তু প্রয়োজনের চেয়ে বেশি নয়। ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তাভাবনার চেয়ে বর্তমানকে কিভাবে সমৃদ্ধ করা যায় সেদিকে বেশি মনোযোগ দেয়া উচিত। বাচ্চাকে বয়সভিত্তিক ডেভেলপমেন্টাল খেলনা কিনে দিন। এডুকেশনাল ও ক্রিয়েটিভ টয়ের পাশাপাশি কিছু আনস্ট্রাকচার্ড টয় দিন। সঞ্চয়ের অজুহাতে এগুলো থেকে বাচ্চাকে বঞ্চিত করবেন না।

অতিরিক্ত স্ক্রিন-টাইমের বদলে বাচ্চাকে নিয়মিত প্রকৃতির সাথে পরিচয় করিয়ে দিন। সবুজ, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ ইত্যাদি যতবেশি এক্সপ্লোর করাবেন তত বেশি তার মস্তিষ্ক উদ্দীপিত হবে। এটা এক্সপেরিমেন্ট দ্বারা প্রমাণিত যে সমৃদ্ধ পরিবেশের চেয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশ বাচ্চার মস্তিষ্কের জন্য বেশি উপকারী। ('Einstein never used flash cards' by Roberta Michnick Golinkoff)

বাচ্চার সাথে সুন্দর সুন্দর কিছু স্মৃতি তৈরি করুন। হাসি, আনন্দ, এডভেঞ্চার ইত্যাদি ব্রেইন স্টিমুলেশনের উপাদানগুলো বাচ্চাদের খুব বেশি প্রয়োজন।

দিনের নির্দিষ্ট একটা সময় রিড-এলাউড এর জন্য রাখুন। ঘুমানোর আগে বাচ্চাকে বই পড়ে শোনানোর অভ্যাস করুন। এতে বই-ভীতি তৈরি হবে না এবং সারা জীবনের জন্য বইয়ের প্রতি তার ভালবাসা সৃষ্টি হবে।

খাওয়ার সময়টাকে ফ্যামিলি টাইম বানিয়ে ফেলুন। খাওয়ার সময়টুকু শুধু খাওয়ার জন্য নয়। না খেলেও টেবিলে আসতে হবে। বাচ্চারা অনুকরণপ্রিয়। আপনি যা খাবেন, যেভাবে খাবেন তা-ই তার ভবিষ্যৎ খাদ্যাভ্যাসে অন্তর্ভুক্ত হবে।

বাচ্চার সাথে খেলাধুলা করুন, সামনাসামনি বসে তার সাথে কথা বলুন। এতে তার কগনিটিভ ও মটর ডেভেলমেন্ট বিলম্ব হবে না। বাচ্চার ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বিকশিত করার জন্য বাচ্চাকে মা বাবার পর্যাপ্ত সময় দেয়ার কোন বিকল্প নাই। এই ভিত্তিটা তৈরি না করে যদি আপনি উচ্চশিক্ষার জন্য সঞ্চয়ের চিন্তায় সারাক্ষণ বিভোর থাকেন তাহলে কোন লাভ হওয়ার কথা না।
বাচ্চার বর্তমানে বসবাস করুন। প্যারেন্টিং উপভোগ করুন। সমৃদ্ধ বর্তমান একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলে। তাই বর্তমানকে বঞ্চিত করবেন না। আর বাচ্চাদেরকে মা বাবা থেকে বঞ্চিত করবেন না।

মা বাবাদের চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ হল খাওয়াদাওয়া সম্পর্কিত। এমন মা-বাবা খুব কম আছেন যারা তাদের বাচ্চাদের খাবারের ব...
29/12/2023

মা বাবাদের চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ হল খাওয়াদাওয়া সম্পর্কিত। এমন মা-বাবা খুব কম আছেন যারা তাদের বাচ্চাদের খাবারের বিষয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট। 'আমার বাচ্চা কেন খায় না, কীভাবে খাওয়াব, কী করলে তার খাওয়ার রুচি বাড়বে?' এই প্রশ্নগুলো আমরা ডাক্তারদের সবচেয়ে বেশি শোনতে হয়। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি প্রায় সব প্যারেন্টই রুচি বাড়ানোর ঔষধ বা ভিটামিন প্রেসক্রাইব করলে খুশি হোন। পুরো পদ্ধতি পরিবর্তন না করে তারা শর্টকাট ঔষধভিত্তিক সমাধানে বেশি আগ্রহী। আমি আজকে বাচ্চাকে খাওয়ানো বিষয়ে খুব বেসিক কিছু কথা অতি সংক্ষেপে বলার চেষ্টা করব।

প্রথমেই বলে নিই, বাচ্চার স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস তৈরির জন্য কোন শর্টকাট পদ্ধতি নাই।

বাচ্চা কেন খায় না - প্রথমবার যখন আমরা এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছি ইতিমধ্যেই আমরা অনেক দেরি করে ফেলেছি। বাচ্চার খাদ্যাভ্যাস তৈরির প্রথম ধাপ হল গর্ভাবস্থায় মায়ের খাদ্যাভ্যাস। মা যে খাদ্য গ্রহণ করেন তার বাচ্চা জরায়ুর এম্নিওটিক ফ্লুইড থেকে একই খাদ্যের স্বাদ গ্রহণ করতে পারে। বিশেষ করে শেষ তিন মাস ভ্রূণ এম্নিওটিক ফ্লুইড গিলার মাধ্যমে মায়ের ডায়েটের সাথে পরিচিত হয়। মা যদি কোমল পানীয় ও ফাস্ট ফুড খেয়ে থাকেন তাহলে ভ্রূণ একই জিনিসের স্বাদ পায়। গবেষণায় দেখা যায় ৩-৪ বছর বয়সেও সেই বাচ্চার কোমল পানীয় ও ফাস্ট ফুডের প্রতি আগ্রহ অব্যাহত থাকে। তাহলে বোঝা গেল গর্ভাবস্থা থেকেই আপনি আপনার বাচ্চার টেস্ট বাড তৈরি করছেন। আপনি যেভাবে চাচ্ছেন সেভাবেই তৈরি করছেন। পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতে।

গর্ভাবস্থায় যাদের অস্বাস্থ্যকর ডায়েট ছিল তাদের জন্য কি খুব হতাশাজনক তথ্য বলা হয়ে গেল? হতাশার কিছু নাই, সব সময় বিকল্প উপায় থাকে। গর্ভাবস্থায় আপনার ডায়েট অস্বাস্থ্যকর হয়ে থাকলে বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়টাতে ডায়েট পরিবর্তন করে ফেলুন। এক পরীক্ষায় গর্ভবতী এক মাকে গর্ভের শেষ তিন মাস ও স্তন্যপানের ছয় মাস অধিক পরিমাণ গাজর খাওয়ানোর পর দেখা গেছে ৬ মাস বয়সের পর বাচ্চার মধ্যে গাজর খাওয়ার প্রতি অধিক আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়েছে। তাই স্তন্যপানের সময়টুকু মোটেও অবহেলা করা যাবে না।

এবার বাচ্চার বয়স ৬ মাস হল। এখন বাচ্চাকে কিভাবে খাওয়াবেন? আমরা শুরুতেই বাচ্চার খাওয়ানোর সময়টাকে তাদের জন্য ভীতিময় করে তুলি। খাওয়ানো বলতে আমরা বুঝি গিলানো। বাচ্চাকে খাবার গিলালে তাৎক্ষণিক হয়তো কিছু খাবে, কিন্তু সুদূরপ্রসারী খারাপ প্রভাব পড়বে এবং খাবারের প্রতি তারা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়বে।
🔴 ৫টি ইন্দ্রিয় দিয়ে বাচ্চাকে তার খাদ্য অনুভব করতে দিন 🔴
চোখ, কান, নাক, ত্বক ও জিহ্বা হল আমাদের ৫টি ইন্দ্রিয়। খাবারটা প্রথমেই জিহ্বায় দিয়ে পুরো পদ্ধতিটা আমরা কঠিন করে ফেলি। ইন্দ্রিয়ের ক্রম অনুসরণ করা খুব জরুরি। প্রথমে আমরা বাচ্চাকে খাবারটা দেখাব (চোখ), খাবার সম্পর্কে বলার চেষ্টা করব (কান), তারপর আরেকটু কাছে নিব যাতে সে আরো ভালভাবে দেখতে পারে ও তার ঘ্রাণ নিতে পারে (নাক), তারপর তাকে খাবারটা ধরার সুযোগ দিব (ত্বক)। ধরার সুযোগ দিতে আমরা সবচেয়ে বেশি কার্পণ্য করি। কাপড় নষ্ট করে ফেলবে, খাবার ফেলে দিবে ইত্যাদি অজুহাতে আমরা এই ইন্দ্রিয় থেকে তাদের বঞ্চিত রাখি। এই ৪টা ইন্দ্রিয় যখন খাবার সম্পর্কে ভাল ধারণা পাঠাবে তার মস্তিষ্কে, তখনই সে খাবারটা মুখে দিবে (জিহ্বা)।

বাচ্চাকে খাওয়ানোর প্রক্রিয়াটা অতিরিক্ত পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন রাখতে গিয়ে আমরা সুদূরপ্রসারী অমসৃণ এক যাত্রার আবির্ভাব ঘটাই। বাচ্চা খাবার ছুড়ে মারবে, শরীরে মাখবে, কাপড় নষ্ট করবে এগুলো খুবই স্বাভাবিক বিষয়। এগুলোকে বেশি ভয় পাওয়ার কারনে মা বাবারা বাচ্চাকে খাবার শুধু গিলাতে চান। বাচ্চার খাবারের সুন্দর একটা পরিবেশ গড়ে তুলুন, তার খাওয়ার সময়টা আলাদা না করে আপনাদের খাওয়ার সময়ে তাকে হাই চেয়ারে বসিয়ে তার প্লেটে খাবার রাখুন। আলাদা সময়ে খাওয়ালে হাই চেয়ারে বসিয়ে তার সামনাসামনি বসুন। তার হাতে একটা চামচ দিন, সে তার মত খাবার নিয়ে খেলা করুক, আপনি অন্য একটা চামচ নিয়ে এর মধ্যেই খাওয়ানোর কাজ চালিয়ে যান। এক বছর বয়স থেকে বাচ্চারা খুব স্বাধীনতা চায়। খাওয়ানোর সময় তাদেরকে সেই স্বাধীনতা দিলে পুরো প্রক্রিয়াটা অনেক সহজ হবে এবং খাওয়ার প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়বে।

খাওয়ার সঠিক অভ্যাস তৈরির জন্য সবচেয়ে জরুরি খাওয়ার সঠিক পরিবেশ। টিভির সামনে খাওয়ানো, মোবাইল ফোন বা যেকোন ডিভাইস, এমনকি বই হাতে দিয়ে খাওয়ানো পরিহার করা উচিত। খাওয়ানোর সময় তার শতভাগ মনোযোগ রাখা উচিত খাবারের উপর। এতে সে খাওয়ার সাথে খাবারকে অনুভবও করতে পারবে। ডাইনিং টেবিলের পাশে বাচ্চার হাই চেয়ার রাখুন। হাই চেয়ার আপনার জন্য অনেক জিনিস খুব সহজ করে তুলবে। বাচ্চাকে শেখানোর প্রয়োজন খুব কম, বাচ্চারা অনুসরণ করে নিজ থেকে শিখে। লাঞ্চ ও ডিনারকে মূল্যবান ফ্যামিলি টাইম হিসেবে প্রস্তুত করুন। বাচ্চা হাই চেয়ারে বসে বসে পরিবারের সবাইকে দেখবে ও অনুসরণ করবে।

আবারো মনে করিয়ে দিই, বাচ্চার স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস তৈরির জন্য কোন শর্টকাট পদ্ধতি নাই।

Address

Sylhet

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. Saifur Rahman posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share